গনোম

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
(গ্নোম থেকে পুনর্নির্দেশিত)
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
গনোম
Gnomelogo.svg
GNOME v3.22 -- running Clocks, Evince, gThumb, GNOME Files.png
গ্নোম ৩.২২ এর স্ক্রিনশট
উন্নয়নকারীগ্নোম প্রকল্প
প্রাথমিক সংস্করণমার্চ ৩, ১৯৯৯; ১৯ বছর আগে (১৯৯৯-০৩-০৩)
লেখা হয়েছেসি, সি++, ভালা, পায়থন, জাভাস্ক্রিপ্ট
অপারেটিং সিস্টেমইউনিক্স-সদৃশ
উপলব্ধ৩৮ ভাষা
ধরণডেস্কটপ এনভায়রনমেন্ট
লাইসেন্সজিপিএল সংস্করণ ২+[১]
ওয়েবসাইটwww.gnome.org

গনোম (ইংরেজি: GNOME)[২][৩] পরিপূর্ণ ফ্রি ও ওপেন সোর্স সফটওয়্যারের সম্মিলনে নির্মিত ইউনিক্স-সদৃশ অপারেটিং সিস্টেমসমূহের জন্যে একটি ডেস্কটপ এনভায়রনমেন্ট[৪]

"গ্নু নেটওয়ার্ক অবজেক্ট মডেল এনভায়রনমেন্ট"-এর সংক্ষিপ্ত রূপ হিসেবে গ্নোম নামটি আসে। কিন্তু পরবর্তীতে গ্নোমের নতুন দর্শনের সাথে মিল না থাকার কারণে, এ পূর্ণরূপ ত্যাগ করা হয়।[৫]

গ্নু প্রকল্পের অংশ হিসেবে গ্নোম প্রকল্প দ্বারা গ্নোম উন্নয়ন করা হয়।[৬] দ্য গ্নোম প্রজেক্ট সেচ্ছাসেবী ও বেতনভূক্ত কর্মচারী উভয়ের সমন্বয়েই গঠিত।[৭][৮]সফটওয়্যার উন্নয়নের জন্যে সফটওয়্যার ফ্রেমওয়ার্ক উন্নয়নের লক্ষ্যে গঠিত গ্নোম প্রকল্প একটি আন্তর্জাতিক প্রকল্প।

বিভিন্ন প্রধান লিনাক্স ডিস্ট্রোর ডিফল্ট ডেস্কটপ পরিবেশ গ্নোম, যে তালিকায় নাম আছে ফেডোরা, ডেবিয়ান, উবুন্টু, সুয্যে লিনাক্স, রেড হ্যাট এন্টারপ্রাইজ লিনাক্স, কালি লিনাক্সসহ অনেক জনপ্রিয় অপারেটিং সিস্টেমের। সোলারিস, ইউনিক্সেরও এটি ডিফল্ট ডেস্কটপ পরিবেশ

উদ্দেশ্য[সম্পাদনা]

গ্নোম প্রকল্প মূলত দুইটি দিক নিয়ে কাজ করে। একটি হলো ডেস্কটপ কম্পিউটার ব্যবহারকারীকে একটি আকর্ষণীয় ও কার্যকর গ্নোম ডেস্কটপ এনভায়রনমেন্ট দেওয়া। আর অন্যটি হচ্ছে ডেস্কটপের অন্যান্য কাজের অ্যাপ্লিকেশন তৈরির লক্ষ্যে বর্ধিত ফ্রেমওয়ার্কের জন্য গ্নোম ডেভলপমেন্ট প্ল্যাটফর্ম সরবরাহ করা।
 
— গ্নোম ওয়েবসাইট[৯]

গ্নোম মূলত সরলতা, ব্যবহারযোগ্যতা এবং সহজে কাজ করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে। এই প্রকল্পের অন্যান্য উদ্দেশ্য হচ্ছে:

  • স্বাধীনতা: মুক্ত সফটওয়্যার লাইসেন্সের আওতায় উন্মুক্ত সোর্স কোডের ডেস্কটপ পরিবেশ তৈরি করা যা ব্যবহারকারীর পরবর্তনের স্বাধীনতা থাকবে।
  • ব্যবহার উপযোগিতা—কারিগরি দক্ষতাহীন বা শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরাও যাতে ডেস্কটপ ব্যবহার করতে পারে, সেটি নিশ্চিত করা।
  • আন্তর্জাতিকায়ন ও স্থানীয়করণ: বিভিন্ন ভাষায় ডেস্কটপ পরিবেশ ব্যবহার করা। বর্তমানে ১০০টিরও বেশি ভাষায় গ্নোম ব্যবহৃত হচ্ছে।[১০]
  • নির্মাতা-সহায়ক: ডেস্কটপের জন্য সহজে সফটওয়্যার তৈরি করা এবং প্রোগ্রামিং ভাষা নির্বাচনে নির্মাতাদের সহায়তা করা।
  • সংগঠন: নিয়মিত সংস্করণ প্রকাশ ও সুশৃঙ্খল কম্যুনিটি সিস্টেম গড়ে তোলা।
  • সহায়তা: গ্নোম কম্যুনিটির অন্যান্য সংস্থাকে সহায়তা প্রদান করা।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

১৯৯৬ সালে মুক্ত সফটওয়্যার হিসেবে কেডিইর যাত্রা শুরু হলেও গ্নু প্রকল্পের সাথে জড়িতরা কেডিইতে কিউটি উইজেট টুলকিট ব্যবহারকে সন্দেহের চোখে দেখছিলেন কারণ কিউটি মুক্ত সফটওয়্যারের আওতায় পড়ে না। ১৯৯৭ সালের আগস্টে দুটি প্রকল্পের কাজ শুরু হয়, একটি হচ্ছে কিউটি লাইব্রেরির উন্মুক্ত বিকল্প হারমোনি এবং দ্বিতীয়টি হলো গ্নোম যেটি কিউটি ব্যবহার করে না, কিন্তু ফ্রি সফটওয়্যারে বহুলভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। [১১] গ্নোম প্রকল্পের প্রাথমিক পর্যায়ে নেতৃত্ব দেন মিগুয়েল ডি কাজা এবং ফেডেরিকো মেনা।

কিউটি টুলকিটের বদলে গ্নোম ডেস্কটপের জন্য জিটিকে+ বেছে নেওয়া হয়। জিটিকে+ গ্নু লেসার জেনারেল পাবলিক লাইসেন্সের (এলজিপিএল) আওতায় একটি মুক্ত সফটওয়্যার যেটি জিপিএল নয় এমন সফটওয়্যারগুলোর সাথে প্রোগ্রামের সংযোগ ঘটাতে পারে। গ্নোম প্রকল্পের অংশ হিসেবে গ্নোম ডেস্কটপকে এলজিপিএল এবং জিপিএল লাইসেন্সের আওতায় আনা হয়। গ্নোম প্যাকেজের টুলকিট এবং লাইব্রেরিকে এলজিপিএল লাইসেন্সের আওতায় আনার ফলে গ্নোমের জন্য স্বত্বসংরক্ষিত সফটওয়্যারসহ নানা ধরনের অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করা সহজ হয়ে পড়ে।[১২]

গ্নোম ১, ১৯৯৯

১৯৯৮ সালে কিউটি মুক্ত সোর্সের আওতায় আসে। যেহেতু কিউটি কিউপিএল এবং জিপিএল উভয় লাইসেন্সের আওতায় কাজ করে, সুতরাং স্বত্বসংরক্ষিত সফটওয়্যারগুলোকে কোনো খরচ ছাড়াই জিটিকে+-এর সাথে যুক্ত করার বিষয়টি কিউটিতে আলাদাভাবে দেখা হয়। এলজিপিএল-এর আওতায় আসা সফটওয়্যারগুলো আসলে মুক্ত সফটওয়্যার দর্শনের বিপরীতে কাজ করে যা সফটওয়্যার নির্মাতাদের জন্য যথেষ্ট অসুবিধাজনক। অন্যদিকে জিপিএল লাইসেন্সের আওতায় লাইব্রেরিগুলো সফটওয়্যার নির্মাতাদের উন্মুক্ত ব্যবহারের সুবিধা দেয়, যেটা স্বত্ত্বকৃত সফটওয়্যার নির্মাতারা পায় না।[১৩] ২০০০ সালের শেষ দিকে হারমোনি প্রকল্প বন্ধ করে দিতে হয়। অপরদিকে মুক্ত সোর্স লাইব্রেরি ব্যবহারের কারণে কেডিই প্রজেক্ট বন্ধ করতে হয় নি। অন্তত ২০০৯ সাল পর্যন্ত গ্নোম প্রজেক্ট বন্ধ হবে না।

কিউটির জন্য এলজিপিএল লাইসেন্সের মেয়াদ আপাতত ২০০৯ সালে মার্চ মাস পর্যন্ত রয়েছে।

নাম[সম্পাদনা]

অবজেক্ট অ্যাকটিভেশন ফ্রেমওয়ার্ক এবং অরবিটের অন্যতম লেখক এলিয়ট লি গ্নু নেটওয়ার্ক অবজেক্ট মডেল এনভায়রনমেন্টের সংক্ষিপ্তরূপ হিসেবে গ্নোম (GNOME) নামটি প্রস্তাব করেন। এটি বুঝায় যে গ্নোমের মূল উদ্দেশ্য মাইক্রোসফটের ওএলইর মতো একটি অবজেক্ট ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি করা।[১৪] তবে উপর্যুক্ত উদ্দেশ্য মূল গ্নোম প্রকল্পের ওপর খুব একটা প্রভাব ফেলতে পারে নি। যে কারণে গ্নোম তার মূল উদ্দেশ্য নিয়ে ভালোভাবেই চলছে। উদ্দেশ্য অনুযায়ী নামকরণের জন্য বর্তমানে গ্নোমের কিছু সদস্য গ্নোমের নাম পরিবর্তন করে গ্নোমের (GNOME) বদলে গ্নোম (Gnome) রাখার পক্ষপাতী। [১৫]

গ্যালারি[সম্পাদনা]

গ্নোম ৩-এর ব্যবহারকারী ইন্টারফেস ডিজাইনে মডার্ন এপ্রোচ এবং নিচের এপ্লিকেশনগুলো রয়েছে:

প্রকল্পের গঠন[সম্পাদনা]

অন্যান্য মুক্ত সফটওয়্যার প্রকল্পের মতো গ্নোম প্রকল্পও চলে ধীরগতিতে। সদস্যরা সাধারণ মেইলিং লিস্টের মাধ্যমে এ সম্পর্কিত আলাপ-আলোচনা চালায়।[১৬]

২০০০ সালের আগস্টে গ্নোম ফাউন্ডেশন গঠিত হয় যার মূল কাজ প্রশাসনিক কাজ সম্পন্ন করা এবং যে সমস্ত সংস্থা বা সংগঠন গ্নোম সফটওয়্যার উন্নয়নে কাজ করতে চায় তাদের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপন করা। গ্নোমের কারিগরি বিষয়গুলো নিয়ে কাজ না করলেও ফাউন্ডেশন গ্নোমের সংস্করণ এবং প্রজেক্টের কোন কোন বিষয় বা উপাদান গ্নোমের অংশ হতে পারে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। যারা এই প্রজেক্টের উদ্দেশ্য অনুসারে কাজ করেন তাদের যে কেউ ফাউন্ডেশনের সদস্য হতে পারেন।[১৭] প্রতি বছরের নভেম্বর ফাউন্ডেশনের সদস্যরা নিজেদের মধ্য থেকে ফাউন্ডেশন পরিচালনার জন্য একটি পরিচালক বোর্ড নির্বাচিত করেন।

এছাড়া গ্নোমের বর্তমান অবস্থা এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে আলোচনার জন্য প্রতি বছর সদস্য এবং ব্যবহারকারীরা সাধারণ সভায় মিলিত হয় যেটিকে GUADEC বলা হয়ে থাকে।[১৮] গ্নোম প্রায়ই freedesktop.org থেকে নিজেদের জন্য প্রয়োজনীয় স্ট্যান্ডার্ডগুলো গ্রহণ করে থাকে। পাশাপাশি এটি অন্যদের সাথে সহযোগিতা ও প্রতিযোগিতাকেও উৎসাহিত করে যাতে কাজের মান উন্নত হয়।

গুরুত্বপূর্ণ উপপ্রকল্প[সম্পাদনা]

বিভিন্ন ধরনের প্রজেক্ট বা প্রকল্প থেকেই গ্নোম তৈরি করা হয়েছে। সেগুলোর কয়েকটির নাম এখানে উল্লেখ করা হলো:

  • বনবু – একটি কম্পাউন্ড ডকুমেন্ট প্রযুক্তি ।
  • GConf – অ্যাপ্লিকেশন সেটিংস ঠিক রাখার জন্য।
  • GVFS – একটি ভার্চুয়াল ফাইল সিস্টেম।
  • গ্নোম কিরিঙ – এনক্রিপ্টেড কি এবং নিরাপত্তা সম্পর্কিত তথ্য জমা করে রাখার জন্য।
  • গ্নোম অনুবাদ প্রকল্প – বিভিন্ন ভাষায় ডকুমেন্ট ও অ্যাপ্লিকেশন অনুবাদ করার জন্য।
  • জিটিকে+ – বিভিন্ন গ্র্যাফিক্যাল অ্যাপ্লিকেশন তৈরির জন্য ব্যবহৃত হয়। জিটিকে+ ব্যবহারে বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশনের থিম বদলানো যায় এবং সেগুলো সাবলীলভাবে ব্যবহার করা যায়। এর উপপ্রকল্পগুলো অবজেক্ট ওরিয়েন্টেড প্রোগ্রামিঙে সহায়তা দিয়ে থাকে এবং আন্তর্জাতিক ক্যারেক্টার সেট ও টেস্ট লে-আউট (Pango) এবং আ্যাকসেসিবিলিটি (এটিকে) বিষয়ক সহায়তা প্রদান করে থাকে। এছাড়া জিটিকে+গ্নোম অ্যাপ্লিকেশনগুলো থেকে উইন্ডোজ বা ম্যাক ওএসে চালানোর ক্ষেত্রেও সহায়তা করে থাকে, বিশেষ করে এ সম্পর্কিত কাজ কমিয়ে দেয়।
  • হিউম্যান ইন্টারফেস গাইডলাইন (এইচআইজি) – গ্নোম অ্যাপ্লিকেশন তৈরিতে গবেষণা ও ডকুমেন্টেশনের জন্য।
  • লিবএক্সএমএল – এক্সএমএল লাইব্রেরি।
  • অরবিট – একটি কোবরা ওআরবি।

অ্যাপ্লিকেশন লেখার জন্য সি++ (জিটিকেএমএম), জাভা (জাভা-গ্নোম), রুবি (রুবি-গ্নোম২), সি#, (জিটিকে#), পায়থন (পাইজিটিকে), পার্ল (জিটিকে২-পার্ল) এবং আরো অন্যান্য প্রোগ্রামিং ভাষা রয়েছে। তবে বর্তমানে গ্নোম ডেস্কটপের জন্য সি, সি# এবং পায়থন অফিসিয়ালি ব্যবহার করা হচ্ছে।[১৯]

গ্নোমের বহির্দৃশ্য[সম্পাদনা]

কম্পিউটারের প্রচলিত ডেস্কটপ পরিবেশকে প্রাধান্য দিয়ে গ্নোম ডিজাইন করা হয়েছে। এটি অন্যান্য অপারেটিং সিস্টেমের মতোই উইন্ডোজ, অ্যাপ্লিকেশন এবং বিভিন্ন ফাইলের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে। এতে একটি লাঞ্চার আছে যা দিয়ে বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশন বা ফাইল দ্রুত খোলা যায় কিংবা কোনো ড্রাইভ বা লোকেশনে খুব তাড়াতাড়ি যাওয়া যায়। এর টাস্কবারটি সাধারণত উপরে বা নিচে থাকে, যেখানে বিভিন্ন প্রোগ্রাম বা অ্যাপ্লিকেশন একসাথে পাওয়া যায়। তবে ব্যবহারকারী ইচ্ছে করলে টাস্কবার বা অন্যান্য অ্যাপ্লিকেশন কোথায় থাকবে তা নিজের মতো করে সাজিয়ে নিতে পারেন। পাশাপাশি কোন অ্যাপ্লিকেশন থাকবে, বা কোনটি থাকবে না, সেগুলোও ব্যবহারকারীর প্রয়োজনমতো সাজিয়ে নিতে পারেন। তাছাড়া কোনো প্রোগ্রাম বা অ্যাপ্লিকেশন বাদ দিতে হলে বা নতুনভাবে যুক্ত করতে হলেও সেটা এখানে করা সম্ভব।

ডিফল্ট উইন্ডো ম্যানেজার হিসেবে গ্নোম মূলত মেটাসিটি ব্যবহার করে থাকে। থিম, আইকন, উইন্ডো ম্যানেজ বর্ডার বা জিটিকে+ থিম ইঞ্জিন ও প্যারামিটার ইত্যাদি সবই ব্যবহারকারী বদলে নিতে পারেন। বর্তমানে ব্লুকার্ভ ও ক্লিয়ারলুকস (ডিফল্ট থিম) সবচাইতে বেশি ব্যবহৃত দুটো জনপ্রিয় জিটিকে+ থিম।

গ্নোম মূলত ব্যবহারকারী যাতে সহজে ব্যবহার করতে পারে সেদিকে গুরুত্ব দেয়। গ্নোম ইন্টারফেস বা অ্যাপ্লিকেশনগুলো কীভাবে সহজ-সাধারণ হবে, এ বিষয়ে গ্নোমের নির্মাতারা এইআইজি থেকে সাহায্য পেয়ে থাকে।

ব্যবহারযোগ্যতা[সম্পাদনা]

গ্নোম ২.০ সংস্করণ পর্যন্ত এই প্রজেক্টের একটি বড় লক্ষ্য ছিলো ব্যবহারযোগ্যতা বাড়ানো। যে কারণে গ্নোম হিউম্যান ইন্টারফেস গাইডলাইন (এইচআইজি) তৈরি করা হয়েছিলো যেটি অ্যাপ্লিকেশনগুলোর গুণগত মান, জিইউআই প্রোগ্রামের স্থিতি ও স্থায়িত্ব, সহজে ব্যবহার এবং পিক্সেলভিত্তিক লেআউটের ব্যবহার নিশ্চিত করার কাজে ব্যবহৃত হতো।

গ্নোম ২.০ সংস্করণটি যখন তৈরি করা হচ্ছিলো, তখন দেখা গেলো অনেক সেটিংসই খুব কম ব্যবহৃত হয় এবং অধিকাংশ ব্যবহারকারীর কাছে সেগুলোর কোনো গুরুত্ব নেই। ফলে সেগুলো বাদ দেওয়া হয়। যেমন, প্যানেলের প্রেফারেন্স সেকশনটিকে ছোট করা হয় সেখানকার ছয়টি ট্যাবের বদলে দুটি ট্যাব রেখে। ফ্রি সফটওয়্যার ইউআই-এর লেখক হ্যাভক পেনিংটন মনে করেন, প্রত্যেক প্রেফারেন্সের একটি মূল্য বা গুরুত্ব রয়েছে। ফলে সেখানকার সফটওয়্যারগুলো ভেঙে সেখানে নতুন করে ইউআই প্রেফারেন্স যুক্ত করা উচিত। [২০]

এটা কাউকে আহত করে? অবশ্যই। এটা কিছু খরচপাতির কথা মনে করিয়ে দেয়। অবশ্যই যখন আপনি কোনো কিছুর পেছনে খরচ করবেন, তখন সেটির মূল্য সম্পর্কেও সজাগ থাকবেন আপনি। কিন্তু গ্রাহকেরা আসলে এখানে খরচ করেও সে অনুযায়ী সেটির মূল্যমান বুঝতে পারছে না বা উপভোগ করতে পারছে না।

কেউ কেউ মনে করেন গ্নোমের আরও ফাংশনাল হওয়া উচিত। তাঁদের একজন হলেন লিনাক্স কার্নেল-এর জনক লিনুস তোরভাল্দ্‌স। গ্নোমের ব্যবহার সংক্রান্ত মেইলিং লিস্টের আলোচনায় তিনি এ মন্তব্য করেন।[২১]

গ্নোমের 'ব্যবহারকারীরা আসলে বোকা' মনে করার মানসিকতাটা আসলে একটা রোগ। কেউ যদি মনে করে তার পণ্যের ব্যবহারকারীরা বোকা, তাহলে শুধু বোকারাই এটা ব্যবহার করবে। আমি গ্নোম ব্যবহার করি না। কারণ এটা সহজ করার জন্য দীর্ঘ সময় লাগছে এবং আমাদের চাহিদাও তারা বুঝতে পারছে না। মানুষকে বরং কেডিই ব্যবহার করতে বলুন।

যদিও, সাম্প্রতিককালে লিনুস তোরভাল্দ্‌স কেডিই এর ৩য় সংস্করণ থেকে সংস্করণ ৪.০ এ আপগ্রেড করতে অনীহা প্রকাশ করেন , এবং পুনরায় গ্নোম ব্যবহার করতে শুরু করেন।E:[২২]

আমি কেডিই ব্যবহার করলেও কেডিই ৪.০-কে পছন্দ হয় নি। ফলে এখন গ্নোম ব্যবহার করছি।

সংস্করণ[সম্পাদনা]

গ্নোম প্রজেক্টের প্রতিটি অংশের নিজস্ব সংস্করণ নম্বর রয়েছে। প্রতি ছয় মাস অন্তর এর আপডেট রিলিজ হয়।

নিচের টেবিলের সংস্করণগুলোর প্রতিটিই স্ট্যাবল বা দৃঢ়.

সংস্করণ তারিখ তথ্য
আগস্ট ১৯৯৭[২৩] গ্নোম তৈরির ঘোষণা
১.০ মার্চ ১৯৯৯[২৪] গ্নোমের প্রথম পূর্ণ সংস্করণ প্রকাশ
১.০.৫৩ অক্টোবর ১৯৯৯[২৫] "অক্টোবর"
১.২ মে ২০০০[২৬] "বঙ্গো"
১.৪ এপ্রিল ২০০১[২৭] "ট্রাঙ্কুয়ালিটি"
২.০ জুন ২০০২[২৮] জিটিকে২-ভিত্তিক ব্যাপক পরিবর্তন আসে। হিউম্যান ইন্টারফেস গাইডলাইনস-এর যাত্রা শুরু।
২.২ ফেব্রুয়ারি ২০০৩[২৯] মাল্টিমিডিয়া এবং ফাইল ম্যানেজারের উন্নয়ন।
২.৪ সেপ্টেম্বর ২০০৩[৩০] "তেমুজিন": এপিফ্যানি, অ্যাকসেসিবিলিটি সহায়তা।
২.৬ মার্চ ২০০৪[৩১] নটিলাস পরিবর্তিত হয়ে স্পেশিয়াল ফাইল ম্যানেজার এবং নতুন জিটিকে+ ফাইল ডায়লগ -এর প্রকাশ।
২.৮ সেপ্টেম্বর ২০০৪[৩২] বহনযোগ্য ডিভাইস-সম্পর্কিত সহায়তা। ইভল্যুশন সফটওয়্যার যুক্ত।
২.১০ মার্চ ২০০৫[৩৩] পারফরম্যান্সের উন্নতি ঘটনো হয়েছে এবং কম মেমোরিতে চালানোর উপযোগী করা হয়েছে। নতুন প্যানেল অ্যাপলেট (মডেম কন্ট্রোল, ড্রাইভ মাউন্টার এবং ট্র্যাশক্যান) যুক্ত করা হয়েছে এবং টোটেমসাউন্ড জুসার অ্যাপ্লিকেশন যুক্ত করা হয়েছে।
২.১২ সেপ্টেম্বর ২০০৫[৩৪] নটিলাসের উন্নয়ন করা হয়েছে। বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশন ও ফ্রিডেস্কটপের মধ্যকার কাট/পেস্ট সিস্টেমেরও সমন্বয় করা হয়েছে। এভিন্স পিডিএফ ভিউয়ার, ডিফল্ট থিম হিসেবে ক্লিয়ারলুকস, মেনু এডিটর, কিরিং ম্যানেজার এবং অ্যাডমিন টুলস যুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া ক্যারিও সাপোর্টসহ জিটিকে+২.৮ যুক্ত করা হয়েছে।
২.১৪ মার্চ ২০০৬[৩৫] পারফরম্যান্সের লক্ষণীয় উন্নতি, কোনো কোনো ক্ষেত্রে ১০০% পর্যন্ত। জিএসস্ট্রিমার ০.১০ মাল্টিমিডিয়া ফ্রেমওয়ার্ক যুক্ত করা হয়েছে। একিজা ভিডিউ কনফারেন্সিং অ্যাপ্লিকেশন যুক্ত করা হয়েছে এবং ডেস্কবার সার্চ টুল, ফার্স্ট ইউজার সুইচিং ও সাবায়ন সিস্টেম অ্যাডমিনিস্ট্রেশন টুল যুক্ত করা হয়েছে।
২.১৬ সেপ্টেম্বর ২০০৬[৩৬] টমবয় নোটটেকিং অ্যাপ্লিকেশন, বাওবাব ডিস্ক ব্যবহার অ্যানালাইজার, ওরকা স্ক্রিন রিডার, ল্যাপটপ ব্যাটারি লাইফ বাড়াতে গ্নোম পাওয়ার ম্যানেজার, টোটেমের উন্নয়ন, নটিলাস, নতুন আইকন থিম, জিটিকে।২.১০ ভিত্তিক নতুন প্রিন্ট ডায়ালগের উন্নতি করা হয়েছে এই সংস্করণে।
২.১৮ মার্চ ২০০৭[৩৭] সিহর্স জিপিজি সিকিউরিটি অ্যাপ্লিকেশন, ইমেইল ও লোকাল ফাইলের এনক্রিপশন, বাওবাব ডিস্ক ইউজ অ্যানালাইজার, এভিন্সের আপগ্রেড, এপিফানি, গ্নোম পাওয়ার ম্যানেজার, ভলিউম কন্ট্রোল, নতুন গেমস- সুডকো ও গ্লিচেস, এমপিথ্রি ও এএসি অডিও এনকোডিং সুবিধা দেওয়া হয়েছে এই সংস্করণে।
২.২০ সেপ্টেম্বর ২০০৭[৩৮] দশম বর্ষপূর্তি। ইভল্যুশন ব্যাকআপ সুবিধা, এপিফানির উন্নয়ন, ইওজি, গ্নোম পাওয়ার ম্যানজের, কিরিং, ফাইল ম্যানেজার ডায়লগের মধ্যেই সার্চের সুবিধা, স্বয়ংক্রিয়ভাবে মাল্টিমিডিয়া কোডেক ইনস্টলের সুবিধা ছিলো এই সংস্করণে।
২.২২ মার্চ ২০০৮[৩৯] চেস, ওয়েবক্যামের ব্যবহার, রিমোট ডেস্কটপ ভিউয়ার, মেটাসিটি, জিভিএফএস, ডিভিভি প্লেব্যাক সাপোর্টের উন্নতি, ইউটিউব, মিথটিভি, টোটেম মিডিয়া প্লেয়ার, আন্তর্জাতিক ঘড়ি অ্যাপলেট, ইভল্যুশন-এর সাথে গুগল ক্যালেন্ডার ও মেসেজিং সুবিধা, এভিন্সের উন্নতি, টমবয়, সাউন্ড জুসার ও ক্যালকুলেটরের সুবিধা যুক্ত করা হযেছে এই সংস্করণে।
২.২৪ সেপ্টেম্বর ২০০৮[৪০] এমপ্যাথি ইনস্ট্যান্ট ম্যানেজার, একিগা ৩.০, নটিলাস (ফাইল ম্যানেজার), একাধিক স্ক্রিন ও ডিজিটাল সাপোর্ট যুক্ত হয়েছে এই সংস্করণে।

ভবিষ্যৎ উন্নতি[সম্পাদনা]

গ্নোম প্রজেক্টের আওতায় অনেকগুলো উপপ্রকল্প রয়েছে। তবে সবগুলোই বর্তমান গ্নোম রিলিজের আওতায় আসে নি। কিছু কিছু পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে বা এমন অবস্থায় রয়েছে যেগুলো শিগগিরই গ্নোমে যুক্ত হবে। কিছু কিছুর উন্নতি করা হচ্ছে।

গ্নোম ৩.০[সম্পাদনা]

২০০৮ সালের জুলাই মাসে ইস্তাম্বুলে জিইউএডিইসি কনফারেন্স থেকে সর্বশেষ গ্নোম সংস্করণটি উন্মুক্ত করা হয়। এটি ২০১০ সাল পর্যন্ত চলবে। তবে এ সময়ে ডেস্কটপ এনভায়রনমেন্ট নিয়ে ব্যাপক পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হলেও এতে খুব একটা পরিবর্তন আসবে না। [৪১]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "GNOME License"। সংগ্রহের তারিখ ২০১৭-১২-০৮ 
  2. Sandler, Karen (মার্চ ২৬, ২০১৪)। "উচ্চারণ হবে গ্নোম"গ্নোম প্রকল্প (video)। ইউটিউব। সংগ্রহের তারিখ জুলাই ২, ২০১৪ 
  3. Clinton, Jason (এপ্রিল ২, ২০১১)। "GNOME 3: Fewer interruptions"The GNOME Project (video)। YouTube। সংগ্রহের তারিখ এপ্রিল ৭, ২০১১ 
  4. Clasen, Matthias (ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০১৪)। "Portability of the GNOME desktop environment"। সংগ্রহের তারিখ মার্চ ১৮, ২০১৪ 
  5. ক্ল্যাপার, এন্দ্রে (এপ্রিল ৬, ২০১০)। "রি: গ্নোম -> গ্নোম"গ্নোম মার্কেটিং তালিকা (মেইলিং তালিকা)। সংগ্রহের তারিখ আগস্ট ৭, ২০১৮ 
  6. "গ্নু সফটওয়্যার"ফ্রি সফটওয়্যার ফাউন্ডেশন। সংগ্রহের তারিখ আগস্ট ৭, ২০১৮ 
  7. গ্নোম সেনসাস (পিডিএফ), নিয়ারি .
  8. "স্টেয়ারিং ইনটু দ্য এবিস"। গ্নোম। জুলাই ২৭, ২০১২। সংগ্রহের তারিখ আগস্ট ৭, ২০১৮ 
  9. "গ্নোন সম্পর্কে"। সংগ্রহের তারিখ ২০০৫-০৯-০৮ 
  10. "GNOME Languages"। সংগ্রহের তারিখ ২০০৮-০১-২০ 
  11. Richard Stallman (২০০০-০৯-০৫)। "Stallman on Qt, the GPL, KDE, and GNOME"। সংগ্রহের তারিখ ২০০৫-০৯-০৯ 
  12. "GNU Lesser General Public License - Free Software Foundation"। সংগ্রহের তারিখ ২০০৮-০১-২০ 
  13. "Why you shouldn't use the Lesser GPL for your next library"। সংগ্রহের তারিখ ২০০৮-০৯-১১ 
  14. Pennington, Havoc (১৯৯৯)। "GTK+ / Gnome Application Development"। সংগ্রহের তারিখ ২০০৬-০৯-০৮ 
  15. "Desktop Development mailing list"। সংগ্রহের তারিখ ২০০৬-০৫-০৭ 
  16. "GNOME mailing lists, rules and FAQs" 
  17. "Membership of the GNOME foundation"। সংগ্রহের তারিখ ২০০৫-০৯-০৮ 
  18. "About GUADEC" 
  19. Newren, Elijah (২০০৬-০৪-২০)। "Mono bindings a blessed dependency? [Was: Tomboy in 2.16]"desktop-devel (মেইলিং তালিকা)। সংগ্রহের তারিখ ২০০৭-০৯-২০ 
  20. ""Free Software UI""। সংগ্রহের তারিখ ২০০৭-০৩-০৮ 
  21. Linus Torvalds (২০০৫-১২-১২)। "Printing dialog and GNOME"। সংগ্রহের তারিখ ২০০৭-১২-১৩ 
  22. [[লিনুস তোরভাল্দ্‌স]] (২০০৯-০১-২২)। "Linux founder Linus Torvalds talks about open-source identity"। সংগ্রহের তারিখ ২০০৯-০১-২৬ 
  23. de Icaza, Miguel। "The story of the GNOME project" 
  24. GNOME press release for version 1.0
  25. Lee, Elliot (১৯৯৯-১০-১২)। ""October GNOME" release now available"gnome-announce (মেইলিং তালিকা)। সংগ্রহের তারিখ ২০০৭-০৯-২০ 
  26. GNOME press release for version 1.2
  27. GNOME press release for version 1.4
  28. Waugh, Jeff (২০০২-০৬-২৭)। "GNOME 2.0 Desktop and Developer Platform Released!"desktop-devel (মেইলিং তালিকা)। সংগ্রহের তারিখ ২০০৭-০৯-২০ 
  29. GNOME press release for version 2.2
  30. Waugh, Jeff (২০০৩-০৯-১১)। "Announcing the GNOME 2.4.0 Desktop & Developer Platform"gnome-announce (মেইলিং তালিকা)। সংগ্রহের তারিখ ২০০৭-০৯-২০ 
  31. Sobala, Andrew (২০০৪-০৩-৩১)। "Announcing the GNOME 2.6.0 Desktop & Developer Platform"gnome-announce (মেইলিং তালিকা)। সংগ্রহের তারিখ ২০০৭-০৯-২০ 
  32. GNOME press release for version 2.8
  33. GNOME press release for version 2.10
  34. GNOME press release for version 2.12
  35. GNOME press release for version 2.14
  36. Newren, Elijah (২০০৬-০৯-০৬)। "Celebrating the release of GNOME 2.16!"gnome-announce (মেইলিং তালিকা)। সংগ্রহের তারিখ ২০০৭-০৯-২০ 
  37. Newren, Elijah (২০০৭-০৩-১৪)। "Celebrating the release of GNOME 2.18!"gnome-announce (মেইলিং তালিকা)। সংগ্রহের তারিখ ২০০৭-০৯-২০ 
  38. "GNOME 2.20 officially released"Ars Technica। ২০০৭-০৯-১৯। সংগ্রহের তারিখ ২০০৭-০৯-২০ 
  39. Untz, Vincent (২০০৮-০৩-১২)। "Celebrating the release of GNOME 2.22!"gnome-announce-list (মেইলিং তালিকা)। সংগ্রহের তারিখ ২০০৮-০৩-১২ 
  40. Untz, Vincent (২০০৮-০৯-২৪)। "Celebrating the release of GNOME 2.24!"gnome-announce-list (মেইলিং তালিকা)। সংগ্রহের তারিখ ২০০৮-০৯-২৭ 
  41. "GNOME 3.0 officially announced... and explained"। সংগ্রহের তারিখ ২০০৮-০৮-০২ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]