গৌর চক্রবর্তী

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
গৌর চক্রবর্তী
Gaur Chakraborty the Maoist Spokesperson.jpg
গৌর চক্রবর্তী
স্থানীয় নাম
গৌরনারায়ণ চক্রবর্তী
জন্ম
বাসস্থানমদনপুর
জাতীয়তাভারতীয়
পেশাভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মাওবাদি) দলের প্রাক্তন মুখপাত্র
প্রতিষ্ঠানভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মাওবাদী)
পরিচিতির কারণবামপন্থী রাজনীতি
আন্দোলনসিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম জমি আন্দোলন
লালগড় আন্দোলন

গৌর চক্রবর্তী বা গৌরনারায়ন চক্রবর্তী ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মাওবাদী) দলের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটির প্রথম প্রকাশ্য মুখপাত্র ছিলেন। তিনি ভারতের বেআইনি কার্যক্রম (প্রতিরোধ) আইন বা UAPA তে গ্রেপ্তারকৃত অন্যতম প্রবীন রাজনীতিবিদ।

রাজনৈতিক জীবন[সম্পাদনা]

প্রথম জীবনে গৌর চক্রবর্তী বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন ও রেলওয়ে হকার ইউনিয়নের সাথে যুক্ত ছিলেন। ১৯৬৭ এর আগে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগ দেন, পরে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্ক্সবাদী) দলের মদনপুর শাখার সদস্য হিসেবে কাজ করতেন নদীয়ামুর্শিদাবাদ জেলায়। দীর্ঘ তিন দশক বামপন্থী রাজনীতি করাকালীন তার সাথে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী-লেনিনবাদী)দলের বিভিন্ন গনসংগঠনের সাথে যোগাযোগ হয়। মানবাধিকার আন্দোলন ও নানা সামাজিক সংগঠনে যুক্ত ছিলেন গৌর। বামফ্রন্ট পরিচালিত সরকারের শাসনে সিঙ্গুর - নন্দীগ্রাম জমি অধিগ্রহনবিরোধী আন্দোলনে এবং লালগড় আন্দোলনের সময় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। জঙ্গলমহলে আদিবাসী অধ্যুষিত তিনটি জেলায় মাওবাদী সংগঠন গড়ে তুলতে তিনি বড় রকমের ভূমিকা রেখেছিলেন।[১]

গ্রেপ্তার[সম্পাদনা]

তদানীন্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মাওবাদি)কে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে নিষিদ্ধ ঘোষনা করার অব্যবহিত পরে গৌর চক্রবর্তীকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২০০৯ সালের ২৩ জুন কলকাতা পুলিশ একটি বেসরকারী টিভি চ্যানেলের স্টুডিওতে সাক্ষাতকার দেওয়ার পরেই তাকে গ্রেপ্তার করে ও তার বিরুদ্ধে আনলফুল একটিভিটিস প্রিভেনশন আইনের ২০ নং ধারায় অভিযুক্ত করে।[২] রাষ্ট্রদ্রোহীতা ও অন্যান্য অভিযোগে তাকে প্রেসিডেন্সী জেলে পাঠানো হয়। বয়েসের কারনে তিনি জেলের ভেতর একাধিকবার অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছিল।[৩]

মুক্তি[সম্পাদনা]

তার বিরুদ্ধে আনা রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ প্রমান না হওয়ায় কলকাতার ব্যাংকশাল (সিটি সেশন কোর্ট) তাকে বেকসুর খালাস দেয় ১৯ জুলাই, ২০১৭। দীর্গ সাত বছর কারান্তরালে থাকার পর ৭৮ বছর বয়েসে তিনি মুক্তি পান।[৪] বর্তমানে তিনি নাগরিক আন্দোলনের সাথে যুক্ত আছেন।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Bengal follows India: Maoists banned,top leader held"indianexpress.com। ২৩ জুন ২০০৯। সংগ্রহের তারিখ ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৭ 
  2. "৭ বছর পর মুক্ত ভারতের প্রবীণ মাওবাদী গৌর চক্রবর্তী"banglatribune.com। সংগ্রহের তারিখ ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৭ 
  3. "রাষ্ট্রদ্রোহীতা থেকে মুক্ত"eisamay.indiatimes.com। সংগ্রহের তারিখ ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৭ 
  4. "সাত বছর পর বেকসুর খালাস মাওবাদী নেতা গৌর চক্রবর্তী"abpananda.abplive.in। সংগ্রহের তারিখ ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৭