গুপ্ত জমিদার বাড়ি

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
গুপ্ত জমিদার বাড়ি
বিকল্প নামপদুয়া জমিদার বাড়ি
গুপ্ত এস্টেট
গুপ্ত রাজবাড়ি
সাধারণ তথ্য
ধরনবাসস্থান
অবস্থানলোহাগাড়া উপজেলা
ঠিকানাপদুয়া
শহরলোহাগাড়া উপজেলা, চট্টগ্রাম জেলা
দেশবাংলাদেশ
খোলা হয়েছেআনুমানিক ১৭০০ শতকের দিকে
স্বত্বাধিকারীরামমোহন গুপ্ত
কারিগরী বিবরণ
পদার্থইট, সুরকি ও রড

গুপ্ত জমিদার বাড়ি বাংলাদেশ এর চট্টগ্রাম জেলার লোহাগাড়া উপজেলার পদুয়া গ্রামে অবস্থিত এক ঐতিহাসিক জমিদার বাড়ি[১]

ইতিহাস[সম্পাদনা]

জমিদার বাড়িটি প্রায় তিনশত বছর আগে জমিদার রামমোহন গুপ্তের হাত ধরে সৃষ্টি। মূলত এই জমিদার বংশধররা ময়মনসিংহ জেলা থেকে চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় এসে বসতি স্থাপন করেন। তখন এই এলাকাটি আরকান রাজ্যের অধীনে ছিল এবং এখানে একচেটিয়া আদিবাসিদের অর্থাৎ মং, চাকমা ইত্যাদি জনগোষ্ঠীর বসবাস ছিল। তখন তারা বাঙালিদের উপর অত্যাচার করত। তাই মং, চাকমা ও অন্যান্য আদিবাসিদের এই এলাকা ছাড়ার জন্য রামমোহন গুপ্ত হিন্দু ও মুসলমান বাঙালি জাতিকে নিয়ে আদিবাসি খেদাও আন্দোলন গড়ে তোলেন। যার পরিপ্রেক্ষিতে তারা এই এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়। এরই ধারাবাহিকতায় রামমোহন গুপ্ত হিন্দু ও মুসলমান বাঙালি জাতির কাছে একজন প্রিয় ব্যক্তিত্ব হয়ে উঠেন এবং সকলের বিপদআপদে সাড়া দিতেন। তার সাথে একসময় এক মুসলিম মহিলার সাথে পরিচয় হয়। যার সাথে তিনি ধর্মবোনের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। হঠাৎ একদিন ঐ মহিলা স্বপ্নের মাধ্যমে গুপ্তধনের সন্ধান পান। তখন তিনি তার ধর্মভাই রামমোহনকে নিয়ে উক্ত গুপ্তধন উদ্ধার করেন। তবে তার তেমন কোনো আপন কেউ না থাকাতে ধর্মভাই রামমোহনকে সকল সম্পদ দান করেন। আর এই বিশাল সম্পদ দিয়ে রামমোহন গুপ্ত তার এই জমিদারীর সূচনা করেন। এরপর তিনি ও তার বংশধররা জমিদারী প্রথা বিলুপ্তির আগ পর্যন্ত জমিদারী পরিচালনা করতে থাকেন। রামমোহন গুপ্ত ছিলেন অত্যান্ত প্রজাহিতৈষী জমিদার। তিনি তার প্রজাদের জন্য অনেক উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন। অনেক মসজিদ, মন্দির ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তৈরি করেছেন। জমিদার রামমোহন গুপ্ত তার ধর্মবোন মারা গেলে তার জন্য প্রতি বছর তিনি একই রঙের প্রায় আটটি গরু জবাই করে মেহমানদারির আয়োজন করতেন। জমিদার রামমোহন গুপ্ত মারা যাওয়ার পর পরবর্তী জমিদাররা আস্তে আস্তে রামমোহনের ধর্মবোনেরর জন্য করা মেহমানদারি বন্ধ করে দেন।

অবকাঠামো[সম্পাদনা]

প্রায় ১০ একর জায়গার উপর ১২০ কক্ষ বিশিষ্ট্য একটি ভবন, কাছারিঘর, নাচঘর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মন্দিরসহ অনেককিছু এখানে তৈরি করা হয়েছে।

বর্তমান অবস্থা[সম্পাদনা]

১২০ কক্ষের বাড়িটিতে এখন মাত্র ২০টি কক্ষ অবশিষ্ট রয়েছে। এখানে এখনো জমিদার বংশের উত্তরসূরীরা বসবাস করতেছেন। তবে এখন আর তাদের সেই জমিদারী জৌলুস নেই। এখন কষ্টে ও অনাহারে তাদের দিন কাটাতে হয়।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]