খন্দকার ফারুক আহমদ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

খন্দকার ফারুক আহমদ (১ জানুয়ারি ১৯৪০ - ১১ জুলাই ২০০১) ছিলেন একজন প্রথিতযশা বাংলাদেশি সংগীতশিল্পী।

জন্ম ও প্রারম্ভিক জীবন[সম্পাদনা]

খন্দকার ফারুক আহমদ ১৯৪০ খ্রিস্টাব্দের ১ জানুয়ারি বগুড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা একজন পুলিশ কর্মকর্তা ছিলেন। তিনি বগুড়া জিলা স্কুল, রাঙ্গামাটি জিলা স্কুলজগন্নাথ কলেজে লেখাপড়া করেন। তার প্রিয় সংগীতশিল্পী ছিলেন মান্না দে। ওস্তাদ মিথুন দের কাছ থেকে শাস্ত্রীয় সংগীতেও তিনি দীক্ষা গ্রহণ করেন।[১]

শিল্পীজীবন[সম্পাদনা]

জগন্নাথ কলেজে অধ্যয়ন শেষে খন্দকার ফারুক আহমদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন। তার বন্ধু পারভীন বেগম তার অনন্য সংগীতপ্রতিভা আবিষ্কার করেন এবং তাকে দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষ্ঠানে গান গাওয়ান। এরই মাধ্যমে তিনি কণ্ঠশিল্পী আনোয়ার উদ্দীন খানের নিকট হতে সংগীতজগতে প্রবেশের আশীর্বাদ লাভ করেন। নাট্যশিল্পী নাজমুল হুদাও তাকে অনুপ্রেরণা দেন। মুম্বাইয়ের এক অনুষ্ঠানে গান গাইতে গেলে শচীন দেববর্মণ তার গানের বিশেষ প্রশংসা করেন।[২]

১৯৬১ সালে ঢাকা রেডিওতে অডিশন দিয়ে তিনি পাস করেন। ১৯৬৭ সালে নারায়ণ ঘোষ মিতা পরিচালিত চলচ্চিত্র "চাওয়া পাওয়া"-তে কণ্ঠ দিয়ে তিনি আলোচনায় আসেন। আবির্ভাব, এতটুকু আশা, দীপ নেভে নাই, নীল আকাশের নীচে, জীবন সাথী, আলোর মিছিল, স্বপ্ন দিয়ে ঘেরা, অশিক্ষিত সহ অসংখ্য চলচ্চিত্রে গান গেয়েছেন তিনি।[১]

মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী কোথায় যেন দেখেছি ছবিতে "রিকশাওয়ালা বলে তুমি কারে আজ ঘৃণা কর" গানটির জন্য জনসম্মুখে খন্দকার ফারুক আহমেদকে স্বর্ণপদক পরিয়ে দেন। গানটি শ্রমজীবীদের মধ্যে খুবই জনপ্রিয়তা লাভ করেছিল।[৩]

উল্লেখযোগ্য গান[সম্পাদনা]

  • নীল আকাশের নিচে আমি রাস্তা চলেছি একা
  • আমি নিজের মনে নিজেই যেন গোপনে ধরা পড়েছি
  • নীল নীল আহা কত নীল
  • রিকশাওয়ালা বলে কারে তুমি আজ ঘৃণা করো

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "প্রথিতযশা কন্ঠশিল্পী খন্দকার ফারুক আহমদ-এর আজ ১৯তম মৃত্যুবার্ষিকী - নিরাপদ নিউজ"www.nirapadnews.com 
  2. "খন্দকার ফারুক আহমেদ : শুধুই স্মৃতি"www.shomoyeralo.com 
  3. "কিংবদন্তি শিল্পী খন্দকার ফারুক আহমদ"। দৈনিক আজাদী। ১১ জুলাই ২০১৯।