ক্রেডিট কার্ড

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
একটি সাধারণ ক্রেডিট কার্ডের সম্মুখভাগ:
  1. ইস্যু করাব্যাংকের লোগো
  2. এএমভি চিপ
  3. হলোগ্রাম
  4. ক্রেডিট কার্ডের নম্বর
  5. কার্ড ব্র্যান্ডের লোগো
  6. এক্সপায়ারি ডেট
  7. কার্ডধারীর নাম
একটি সাধারণ ক্রেডিট কার্ডের পশ্চাৎভাগ:
  1. তরিৎ - চৌম্বকীয় ফিতা
  2. স্বাক্ষর ফালা
  3. কার্ডের নিরাপত্তা কোড

ক্রেডিট কার্ড হল একটি বিশেষ ধরনের পরিশোধ ব্যবস্থার অংশ হিসেবে ব্যবহৃত প্লাস্টিক কার্ড, যা ওই পরিশোধ ব্যবস্থার ব্যবহারকারীদেরকে ইস্যু করা হয়। এই কার্ডের বাহক পণ্য ও সেবা ক্রয় করতে পারেন এবং মূল্য পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দেন।[১] সাধারণত স্থানীয় ব্যাংক বা ক্রেডিট ইউনিয়ন ভোক্তাদের কাছে এই কার্ডগুলি ইস্যু করে থাকে। ক্রেডিট কার্ডগুলির আকার-আকৃতি আইএসও/আইইসি ৭৮১০ আইডি-১ আদর্শ মেনে চলে।

চার্জ কার্ড ও ক্রেডিট কার্ডের মধ্যে পার্থক্য হলো চার্জ কার্ডে প্রত্যেক মাস বা প্রত্যেক চক্রের শেষে পুনরায় টাকা ভরতে হয় যা ক্রেডিট কার্ডে হয় না। বরং ক্রেডিট কার্ডে ব্যবহারকারীদের ঋণ নেওয়ার ব্যবস্থা থাকে যা সুদসহ পরিশোধযোগ্য। ক্রেডিট কার্ড ক্যাশ কার্ডের চেয়েও ভিন্ন কেননা ক্যাশ কার্ডের মতো একে টাকা বা অর্থের বিনিময়ে ব্যবহার করা হয় না। ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারে একটি তৃতীয় পক্ষ কাজ করে যারা বিক্রেতাদের অর্থ দেয় এবং ক্রেতাদের অর্থ পরিশোধ করে। ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১.১১২ বিলিয়ন ক্রেডিট কার্ডের প্রচলন ছিলো।[১]

বিস্তারিত বিবরণী[সম্পাদনা]

অধিকাংশ ক্রেডিট কার্ডের আকার ৮৫.৬০ * ৫৩.৯৮ মিলিমিটার (৩ ৩⁄৮ ইঞ্চি× ২ ১⁄৮ ইঞ্চি) এবং প্রান্তের কোণাগুলি ২.৮৮-৩.৪৮ মিলিমিটার (৯⁄৮০–১১⁄৮০ ইঞ্চি) বিশিষ্ট ব্যাসার্ধের বৃত্তাকৃতির। [২] ISO/IEC 7810 ID-1 এর নীতিমালা অনুযায়ী ক্রেডিট কার্ডের আকৃতি ডেবিট কার্ড বা এটিএম কার্ডের সমআকৃতির।

ISO/IEC 7812 [৩] এর আদর্শ নাম্বারিং পদ্ধতি অনুযায়ী ক্রেডিট কার্ডগুলোতে ব্যাংক কার্ড নাম্বার যুক্ত করা থাকে। কার্ড নাম্বারের শুরুর অংশটিকে ব্যাংক আইডেনটিফিকেশন নাম্বার (বি আই এন নাম্বার)[৪] হিসেবে গণ্য করা হয়।

আইগ্রাহক[সম্পাদনা]

বাংলাদেশ[সম্পাদনা]

২০১৯ সালের নভেম্বর মাস অনুযায়ী বাংলাদেশে ১২ লাখেরও বেশি ক্রেডিট কার্ড গ্রাহক ছিল।বাংলাদেশ ব্যাংকের মতে, অনলাইনে জুয়া খেলা, বৈদেশিক লেনদেন, ক্রিপ্টো কারেন্সি, লটারির টিকেট কেনা কিংবা বিদেশী প্রতিষ্ঠানের ভাগাভাগি কেনাবেচায় ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করা যায় না। [২]

ভারত[সম্পাদনা]

ভারতে কবে প্লাস্টিকের টাকা এল তার ইতিহাস ও প্রবৃদ্ধি হিসেবে কোনো সাহিত্য পাওয়া যায় না। ১৯৬১ সালে, দিনার ক্লাব নিয়ে এসে ছিলেন মিঃ কালী মোডি। তিনি ভারতে ক্রেডিট কার্ডের ব্যবস্থা প্রথম নিয়ে আসেন। মদি তার ক্রেডিট কার্ড সংস্থাটি শ্যাম সুন্দর আগরওয়ালকে ১৯৭৬ সালে বিক্রি করে দেন। ১৯৮০ সাল পর্যন্ত ভারতে ক্রেডিট কার্ডের বাজার অপ্রতিযোগিতামূলক ছিল। ১৯৮০ সালে ভারতের সেন্ট্রাল ব্যাংক 'সেন্ট্রাল কার্ড' চালু করে, এটি ভারতের প্রথম ব্যাংক ক্রেডিট কার্ড। পরে ভিসা এবং মাস্টারকার্ড উভয়ের সাথে সেন্ট্রাল কার্ডের অধিভুক্তির সাথে প্রতিযোগিতা আরও বেড়ে যাই। তারপরে ১৯৮১ সালে অন্ধ্র ব্যাংক 'আন্ধ্রা কার্ড' চালু করেছিল যা ভিসার সাথেও যুক্ত ছিল।[৩]

ভারতে ক্রেডিট কার্ড ব্যবসায় ব্যাংকগুলির নাম, প্রবর্তনের বছর এবং যোগ্যতার মানদণ্ড[৪][সম্পাদনা]

ক্রমিক সংখ্যা ব্যাংকের নাম কার্ডের নাম প্রবর্তনের বছর যোগ্যতার আয় (₹)
অন্ধ্র ব্যাংক অন্ধ্র ভিসা কার্ড

অন্ধ্র গোল্ড

১৯৮১

১৯৮৮

৩৬০০০

১০০০০০

এ এন জেড গ্রিন্ডলেস ব্যাংক এ এন জেড গ্রিন্ডলেস ভিসা কার্ড ১৯৮৮ ১০০০০০
ব্যাঙ্ক অফ বরোদা ব্যাঙ্ক অফ বরোদা কার্ড এক্সক্লুসিভ

ব্যাঙ্ক অফ বরোদা কার্ড

১৯৯২

১৯৮৫

১০০০০০

৫০০০০

সেন্ট্রাল ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া সেন্ট্রাল কার্ড ১৯৮০ ৪০০০০
ক্যানারা ব্যাংক ক্যানকার্ড ১৯৮৭ ৬০০০০
সিটি ব্যাংক সিটিআই মাস্টার / ভিসা কার্ড

ডিনার 'স ক্লাব

১৯৯০ ৩০০০০

৫০০০০

এইচএসবিসি ব্যাংক হংকং ক্লাসিক ১৯৯২ ৬০০০০
ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া ইন্ডিয়া কার্ড ১৯৮৮ ৫০০০০
ব্যাঙ্ক অফ মহারাষ্ট্র ক্যানকার্ড ১৯৯১ ৩৬০০০
১০ করপোরেশন ব্যাংক ক্যানকার্ড ১৯৯১ ৬০০০০
১১ দেনা ব্যাঙ্ক ক্যানকার্ড ১৯৯১ ৬০০০০
১২ ইন্ডিয়ান ওভারসিজ ব্যাঙ্ক ক্যানকার্ড ১৯৯১ ৬০০০০
১৩ সারস্বত সমবায় ব্যাংক লিমিটেড ক্যানকার্ড ১৯৯১ ৬০০০০
১৪ সিন্ডিকেট ব্যাঙ্ক ক্যানকার্ড ১৯৯১ ৬০০০০
১৫ ইউনিয়ন ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া ক্যানকার্ড ১৯৯১ ৬০০০০
১৬ বিজয়া ব্যাঙ্ক মাস্টারকার্ড ১৯৮৮ ৩৬০০০
১৭ ভাইস্যা ব্যাংক লিমিটেড সিটি কার্ড ১৯৯২ ৩০০০০
১৮ স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক গোল্ড কার্ড

এক্সিকিউটিভ কার্ড ক্লাসিক কার্ড

১৯৯৩ ১২০০০০

৯০০০০ ৬০০০০

সুবিধা[সম্পাদনা]

  • দ্রুত লেনদেন করা যায়।
  • পুরস্কার পয়েন্ট সুবিধা পাওয়া যায়।
  • নগদ অর্থ বহনের ঝুঁকি থেকে মুক্তি
  • বর্তমানে প্রচলিত ডেবিট কার্ডের চেয়ে ক্রেডিট কার্ডের সুরক্ষা অনেক বেশি৷[২]

অসুবিধা[সম্পাদনা]

  • ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করলে ঋণের ফাঁদে পড়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।
  • লুক্কায়িত ব্যয় হয়।
  • ভুল কার্ডে ঋণের বোঝা বাড়ার আশঙ্কা থাকে৷ [২]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

১, ক্রেডিট কার্ডের সকল প্রকার ফী

২, ক্রেডিট কার্ডে কত প্রকার ফী আছে?

  1. Sullivan, arthur (২০০৩)। Economics: Principles in action। Upper Saddle River, New Jersey 07458: Prentice Hall। পৃষ্ঠা 261। আইএসবিএন 0-13-063085-3 
  2. "ক্রেডিট কার্ড: বাংলাদেশের গ্রাহকরা কী কী কাজে ব্যবহার করতে পারেন, কী কাজে পারেন না-বিবিসি বাংলা"। সংগ্রহের তারিখ ২১ নভেম্বর ২০১৯ 
  3. "HISTORY AND GROWTH OF CREDIT CARDS IN INDIA" (PDF) 
  4. "The Economic Times Market Watch, Vol. ১ No.৩,"। The Economic Times Market Watch। May - June ১৯৯২।  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |তারিখ= (সাহায্য)