কেশব চন্দ্র নাগ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
কেশব চন্দ্র নাগ
Replace this image male bn.svg
কেশব চন্দ্র নাগ
জন্ম শ্যাম
(১৮৯৩-০৭-১০)১০ জুলাই ১৮৯৩
নাগপাড়া, গুড়াপ, হুগলী, ব্রিটিশ ভারত
মৃত্যু ফেব্রুয়ারি ৬, ১৯৮৭(১৯৮৭-০২-০৬) (৯৩ বছর)
কলকাতা, ভারত
জাতীয়তা ভারতীয়
জাতিসত্তা বাঙালি
নাগরিকত্ব ভারতীয়
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
পেশা কলকাতার মিত্র ইনস্টিটিউশনে গণিতের শিক্ষক ও পরে প্রধান শিক্ষক। গণিতের পাঠ্যপুস্তক প্রণেতা।
সন্তান দেবীপ্রসাদ নাগ, ??

কেশব চন্দ্র নাগ যিনি কে. সি. নাগ নামে বেশি পরিচিত। বাংলাভাযায় তর্কসাপেক্ষে গণিতের সর্বাধিক প্রচলিত বিদ্যালয়স্তরের পাঠ্যপুস্তকের রচয়িতা।

জন্ম ও শিক্ষা[সম্পাদনা]

১৮৯৩ সালের ১০ জুলাই, রথযাত্রার দিন হুগলির গুড়াপের নাগপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন কেশব চন্দ্র নাগ। পিতা রঘুনাথ নাগ ও মাতা ক্ষীরোদাসুন্দরী। শৈশবেই পিতৃহারা হন। মা ক্ষীরোদাসুন্দরীই সন্তানদের মানুষ করার দায়িত্ব পালন করেন। পড়াশোনা শুরু হয় গুড়াপের একমাত্র বাংলা বিদ্যালয়ে। সপ্তম শ্রেণী থেকে বাড়ি থেকে তিন মাইল দূরের ভাস্তাড়া যজ্ঞেশ্বর উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়াশোনা। নবম শ্রেণীতে আবার বিদ্যালয় পরিবর্তন, কিষেণগঞ্জ হাইস্কুল। এখান থেকেই ১৯১২ সালের প্রবেশিকা পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হন।[১] প্রবেশিকা উত্তীর্ণ হয়ে তিনি কলকাতায় এসে ১৯১৪ সালে রিপন কলেজ ( অধুনা সুরেন্দ্রনাথ কলেজ) থেকে আইএসসি প্রথম বিভাগে পাশ করেন।

কর্মজীবন[সম্পাদনা]

তিনি মহাবিদ্যালয়ে পড়ার সময়ে গৃহশিক্ষকতার শুরু করেন। ভাস্তাড়া যজ্ঞেশ্বর উচ্চ বিদ্যালয়ে থার্ড মাস্টার হিসাবে কর্মজীবনের শুরু। কিছুদিনের মধ্যেই সংসারের দায়িত্ব সামলেও চাকরি ছেড়ে অঙ্ক ও সংস্কৃত নিয়ে বিএ পাশ করেন। এরপর অঙ্কের শিক্ষক হিসাবে কিষেণগঞ্জ হাইস্কুল যোগ দিলেন। পরবর্তীতে বহরমপুর কৃষ্ণনাথ কলেজিয়েট স্কুলে যোগ দেন। অঙ্কের শিক্ষক হিসাবে তাঁর সুখ্যাতি স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের কানে আসলে তিনিই কেশবচন্দ্রকে ভবানীপুরের মিত্র ইনস্টিটিউশনে অঙ্কের শিক্ষক হিসাবে নিয়ে আসেন। সুদীর্ঘ কর্মজীবন শেষে এখান থেকেই তিনি প্রধানশিক্ষক হিসাবে অবসর গ্রহণ করেন।[১]

কলকাতায় প্রথমদিকে রসা রোডে মেসে ভাড়া থাকতেন। পরে ১৯৬৪ সাল থেকে থাকতে শুরু করেন দক্ষিণ কলকাতার গোবিন্দ ঘোষাল লেনে নিজস্ব বাড়িতে। [১]

অঙ্কের বই[সম্পাদনা]

মিত্র ইনস্টিটিউশনে কেশবচন্দ্রের সহকর্মী কবিশেখর কালিদাস রায়ের বাড়িতে বসত সাহিত্যিকদের আড্ডা রসচক্র সাহিত্য সংসদশরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায়, জলধর সেনের মতো দিকপাল সাহিত্যিকরা সেখানে নিয়মিত আসতেন। কেশবচন্দ্রও সেখানে অন্যতম সদস্য হয়ে ওঠেন। সম্ভবতঃ কবিশেখর কালিদাস রায়ের প্রধান অনুপ্রেরণায় তিরিশের দশকের মাঝামাঝি প্রকাশক ইউ এন ধর অ্যান্ড সন্সের মাধ্যমে প্রকাশিত হল নব পাটীগণিত। কিছুদিনের মধ্যেই পঞ্চম-ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে অসম্ভব জনপ্রিয় হয়ে পড়ে বইটি। পাঠ্যপুস্তক হিসাবেও স্বীকৃত হয়। ১৯৪২ সাল নাগাদ ক্যালকাটা বুক হাউসের পরেশচন্দ্র ভাওয়ালের আগ্রহাতিশয্যে কেশবচন্দ্রের বাঁধানো অঙ্কের খাতা প্রকাশিত হয় অঙ্কের সহায়িকা ম্যাট্রিক ম্যাথমেটিক্স নামে। বইটি বিশাল জনপ্রিয় হয়।

একে একে আরও অঙ্কের বই প্রকাশিত হয়। ধীরে ধীরে ইংরেজি, হিন্দি, নেপালি, উর্দু ইত্যাদি ভাষায় অনুদিত হয় তাঁর বই।

গণিতের বইয়ের অসম্ভব জনপ্রিয়তা দেখে ১৯৫৫ সালে তিনি নাগ পাবলিশিং হাউস নামে নিজের প্রকাশনা সংস্থা খোলেন।[২] তাঁর বই বিক্রি থেকে পাওয়া রয়্যালটির টাকার একটা বড় অংশ দেয়া হয় দুটি চ্যারিটি ফান্ডে; একটি তাঁর নিজের নামে, অন্যটি তাঁর স্ত্রী লক্ষ্মীমণির নামে।

অন্যান্য[সম্পাদনা]

কেশবচন্দ্র ছিলেন শ্রী শ্রী সারদা মায়ের প্রত্যক্ষ শিষ্য। ১৯২৫ থেকে ১৯৮০ পর্যন্ত নিয়মিত ডায়েরি লিখেছেন। নাম দিয়েছিলেন রত্ন-বেদী। এতে রয়েছে বহু কবিতা, ভক্তিমূলক গান। আবার একই সঙ্গে রয়েছে নানা ধরনের রসিকতার কথাও। ধর্ম, ইতিহাস, দর্শন, সাহিত্য যেখানে যে মন্তব্যটি মনে ধরেছে, টুকে রেখেছেন এই খাতায়। আর খাতার উপরে লিখে রেখেছেন বিনা অনুমতিতে পাঠ নিষেধ। এছাড়া অনুবাদকের ভূমিকায় তিনি স্বামী অভেদানন্দের বহু ইংরাজি বক্তৃতা ও ভগিনী নিবেদিতার লেখা অনুবাদ করেছেন।

স্বাধীনতা আন্দোলনেও সক্রিয় অংশ নিয়েছিলেন কেশবচন্দ্র। মহাত্মা গান্ধীর ভারত ছাড় আন্দোলনে যোগ দিয়ে কারাবরণও করেন। গান্ধীজীর 'অস্পৃশ্যতা দূরীকরণ' আন্দোলনেও যোগ দিয়েছিলেন জাতীয়তাবাদী এই শিক্ষাবিদ। ভারতের স্বাধীনতা লাভের পর স্বয়ং শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের কাছ থেকে সক্রিয় রাজনীতিতে অংশগ্রহণের জন্য পাওয়া সনির্বন্ধ অনুরোধ ফিরিয়ে দেন। কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় তাকে বলতেন 'গণিত শিল্পী'।

খেলাধুলাতে তার প্রবল উৎসাহ ছিলো। তিনি আজীবন মোহনবাগান ক্লাবের সদস্য ছিলেন।

মৃত্যু[সম্পাদনা]

১ ফেব্রুয়ারি ১৯৮৫ কানপুরে অনুষ্ঠিত ভারত-ইংল্যান্ড টেস্টের ধারাবিবরণী শুনতে শুনতে উত্তেজনায় সেরিব্রাল স্ট্রোক হয়। আর দু’বছর পর ৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮৭ কেশবচন্দ্র মারা যান।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. চৌধুরী, সুস্নাত (১৪ জুলাই ২০১৩)। "কে সি নাগ"আনন্দবাজার পত্রিকা। সংগৃহীত ২৬ আগস্ট ২০১৩ 
  2. "নাগ পাবলিশিং হাউস"। সংগৃহীত ১৮ ডিসেম্বর ২০১৩