কেনেথ এন্ডারসন

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
Jump to navigation Jump to search
কেনেথ এন্ডারসন
Photograph of Kenneth Anderson.jpg
কেনেথ এন্ডারসন
জন্ম ১৯১০
ব্রিটিশ উপনিবেশিক ভারত।
মৃত্যু ১৯৭৪
জাতীয়তা ব্রিটিশ।
বিষয় বন্যপ্রাণী, শিকার, দক্ষিণ ভারত।
সন্তান কন্যা জুন ও পুত্র ডোনাল্ড এন্ডারসন।

কেনেথ এন্ডারসন (১৯১০ - ১৯৭৪) একজন প্রখ্যাত ব্রিটিশ শিকারি ও লেখক। তিনি দক্ষিণ ভারতের বিভিন্ন বনে দীর্ঘকাল ধরে বহু মানুষখেকো বাঘ ও চিতা শিকার করে ইতিহাসের পাতায় অমর হয়ে রয়েছেন। দক্ষিণ ভারতের বিভিন্ন বনে দীর্ঘকাল শিকারের অভিজ্ঞতার আলোকে এন্ডারসন শিকার ও এডভেঞ্চার বিষয়ক বহু গ্রন্থও লিখেছেন।

শিকারি হয়ে উঠার পিছনের কাহিনী[সম্পাদনা]

কেনেথ এন্ডারসনের বাবা ডাগলাস স্টুয়ার্ট এন্ডারসন এফসিএমএ (পুনা, মহারাষ্ট্র) এর সুপারিটিন্ডেন্ট ছিলেন। সেখানে তিনি সেনাবাহিনীর বেতন প্রদানের কাজ করতেন এবং তাঁর পদবী ছিল ক্যাপ্টেন (অনারারি)। ডাগলাসের একটি রাইফেল ছিল যেটি দিয়ে তিনি প্রায়ই ওয়াটার ফাউল (নদীর চারিধারে বাস করে এমন একধরনের পাখি।) শিকার করতেন। ডাগলাসের যদিও মানুষখেকো বাঘ বা চিতা শিকারের অভিজ্ঞতা ছিল না কিন্তু বাবা ডাগলাসই পরবর্তী সময়ে কেনেথ এন্ডারসনের শিকারি হয়ে উঠার পিছনে প্রধান অনুপ্রেরণা ছিলেন।

শিক্ষা, কর্মজীবন ও পরিবার[সম্পাদনা]

এন্ডারসন বিশপ কটন বয়েস স্কুল থেকে পাশ করে ব্যাঙ্গালুরুস্থ সেইন্ট জোসেফ কলেজে অধ্যয়ন করেন। শিক্ষাজীবন শেষে তিনি ব্যাঙ্গালুরুস্থ তৎকালীন ব্রিটিশ এয়ারক্রাফট ফ্যাক্টরিতে ফ্যাক্টরি ম্যানেজার (প্ল্যানিং) পদে চাকরী করেন। এন্ডারসন তাঁর লিখিত বইয়ে কর্ণাটক, হায়দারাবাদতামিলনাড়ু এলাকায় তাঁর প্রায় ২০০ একর জমি ছিল বলে উল্লেখ করেন। তিনি এক কন্যাসন্তান, জুন (জন্ম ১৯৩০) ও এক পুত্রসন্তান, ডোনাল্ডের (১৯৩৭) জনক। কন্যা জুন এখন পূর্ব অস্ট্রেলিয়ায় বসবাস করেন বলে জানা যায়। পুত্র ডোনাল্ড এন্ডারসনও পরবর্তীকালে পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করে শিকারি হয়ে উঠেন এবং ব্যাঙ্গালোর, ভারতে অনেক শিকার করেন।

এন্ডারসন বেশ কিছু দক্ষিণ ভারতীয় ভাষায় কথা বলতে পারতেন। তিনি কানাড়া ভাষায় দক্ষ ছিলেন। কানাড়া ভাষা ছাড়াও তিনি তামিল ও তৎকালীন ব্যাঙ্গালোরের স্থানীয় ভাষায়ও কথা বলতে পারতেন। তাঁর লিখিত বহু গল্পে তিনি তাঁর প্রিয় স্টুডিবেকার গাড়ি ও .৪৫০ বোরের উইনচেষ্টার রাইফেলের (১৮৯৫ মডেল) কথা উল্যেখ করেছেন। এন্ডারসন শিকার করা ছাড়াও দক্ষিণ ভারতের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন। নিজের লেখা বহু গল্পে তিনি অহেতুক বাঘ বা অন্যান্য বন্যপ্রাণী হত্যার বিরোধিতা করেছেন। তাঁর লিখিত ফিকশনে তিনি একটি বাঘের মানুষখেকো হয়ে উঠার পিছনের কারণগুলো অত্যন্ত প্রামান্য আকারে, যুক্তিগ্রাহ্যরুপে তুলে ধরেছেন ও বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এর পিছনে চোরা শিকারিদের দ্বায়ি করেছেন।

প্রকৃতি ও বন্য প্রাণীর জন্য এন্ডারসনের ছিল অপরিসীম ভালবাসা। তাঁর "টেলস ফ্রম দি ইন্ডিয়ান জাঙ্গাল" বইয়ের শুরুতে তিনি লিখেছেন,

“এখানেই তাঁর (এন্ডারসনের নিজের) বাড়ি এবং এখানেই তিনি মৃত্যুবরণ করতে চান। জঙ্গলই তাঁর জন্মভূমি, স্বর্গ এবং চির বিশ্রামের স্থল যখন সব কিছু শেষ হয়ে যাবে।"

শিকার জীবন[সম্পাদনা]

এন্ডারসন প্রায়ই নিরস্ত্র অবস্থায় জঙ্গলে চলে যেতেন বলে তাঁর বইয়ে উল্লেখ করেছেন। সেখানে যেয়ে বন্দুকের ট্রিগার টানার চাইতে ক্যামেরার শাটার টেপাই এন্ডাসনের বেশি পছন্দ ছিল। এন্ডারসন একজন দক্ষ ট্র্যাকার ছিলেন। তিনি নিজ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানুষখেকো বাঘ বা চিতার পায়ের ছাপ অনুসরণ করে প্রচুর মানুষখেকো হত্যা করেছেন। তাঁর বিখ্যাত কিছু শিকারের মধ্যে রয়েছে মাইসরের শ্লথ ভাল্লুক, জওয়ালাগিরির মানুষখেকো বাঘ, সেগুরের মানুষখেকো বাঘ, মুন্ডাচিপাল্লামের মানুষখেকো বাঘ ইত্যাদি।

এন্ডারসন অফিসিয়ালি অন্তত ৮টি মানুষখেকো চিতা এবং ৭টি মানুষখেকো বাঘ শিকারের কথা রেকর্ড করেছেন। চিতাগুলোর মধ্যে অন্তত ৭টি মদ্দা ও ১টি মাদী বাঘ ছিল। আর বাঘগুলোর মধ্যে ৫টি ছিল মদ্দা বাঘ এবং ২টি মাদী বাঘ। সরকারী নথি অনুযায়ী এন্ডারসন শিকারগুলো করেন ১৯৩৯ সাল থেকে ১৯৫৫ সালের মধ্যে। সরকারী দলিলের হিসেবের বাইরেও এন্ডারসন ১৮ থেকে ২০টি মানুষখেকো চিতা ও ১৫ থেকে ২০টি মানুষখেকো বাঘ শিকার করেছেন বলে কথিত আছে। বাঘ, চিতা ও ভাল্লুক ছাড়াও এন্ডারসন কিছু ক্ষতিকর হয়ে ওঠা হাতিও শিকার করেছেন।

স্থানীয় আদিবাসীদের সাথে সম্পর্ক[সম্পাদনা]

কেনেথ এন্ডারসন লিখিত বিভিন্ন গল্পে স্থানীয় আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষদের সাথে তাঁর সুসম্পর্কের কথা উল্লেখ করেছেন। এইসব আদিবাসীদের অনেককে তিনি তাঁর বন্ধু বলে উল্যেখ করেছেন। এদের মধ্যে পুজারি উপজাতির বীরা ও শোলাগা উপজাতির চোরাশিকারি রাঙ্গার কথা তাঁর বেশ কয়েকটি গল্পে উল্লেখ আছে।

লেখালেখি[সম্পাদনা]

কেনেথ এন্ডারসনের লেখা ছিল সাদাসিধে, বর্ণনা মূলক ও বন্যপ্রাণী বিষয়ক তথ্যে পরিপূর্ণ। যদিও বেশির ভাগ লেখাই ছিল মানুষখেকো বাঘ ও চিতা বিষয়ক তথাপি তিনি অন্যান্য বন্যপ্রাণী যেমন হাতি, ভাল্লুক, বাইসন প্রভৃতি বন্যপ্রাণী ও অন্য শিকারির অভিজ্ঞতা নিয়েও অনেক নিবন্ধ অনেক লিখেছেন। শিকার ও শিকারি ছাড়াও কেনেথ এন্ডারসন বন্য কুকুর, হায়েনা, সাপ, বিভিন্ন ধরণের পাখি ও বন্য প্রকৃতি নিয়ে প্রচুর লিখেছেন।

বন্য প্রাণী ও প্রকৃতি ছাড়াও এন্ডারসনের লেখায় তৎকালীন ভারতের পাহাড়ি দারিদ্র পীড়িত মানুষের জীবনযাত্রা তাদের অর্থনৈতিক অবস্থা, রীতিনীতি, সংস্কৃতি, ধর্মবিশ্বাস, কুসংস্কার প্রভৃতি বিষয় অত্যন্ত নিখুঁত ও বিশ্বাসযোগ্য ভাবে ফুটে উঠেছে। তৎকালীন ভারতের রুগ্ন যোগাযোগ ব্যাবস্থা ও দুর্বল স্বাস্থ্যসেবার কথা তাঁর লেখায় বহুবার উল্যেখিত হয়েছে।

মৃত্যু[সম্পাদনা]

এন্ডারসন ১৯৭৪ সালের ৩০ই আগস্ট প্রোস্টেট ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। এসময় তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৪ বছর।

বাংলা অনুবাদ[সম্পাদনা]

বাংলাদেশপশ্চিম বঙ্গের বেশ কিছু প্রকাশনা সংস্থা থেকে কেনেথ এন্ডারসনের বেশ কিছু বইয়ের বাংলা অনুবাদ বেরিয়েছে। বাংলাদেশে সেবা প্রকাশনী, প্রজাপতি প্রকাশনী ইত্যাদি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান থেকে অনুবাদের পাশাপাশি রূপান্তরিত (অনুলিখিত) বেশ কিছু শিকারের গল্প সংকলন বেরিয়েছে। কেনেথ এন্ডারসন, জিম করবেট, জন হান্টার, পচাব্দি গাজী প্রমুখ শিকারির শিকার গল্প বাংলাদেশ সহ পশ্চিম বঙ্গে বেশ পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছে।

গ্রন্থ সমূহ[সম্পাদনা]

শিকার বিষয়ক বই

  • নাইন ম্যান ইটারস এন্ড ওয়ান ড়োগ। প্রকাশকাল, ১৯৫৪।
গল্প সমূহঃ দি ম্যান ইটারস অফ জওলাগিরি, দি স্পটেড ডেভিল অফ গুম্মালাপুর, দি স্ট্রিপড টেরর অফ চামালা ভ্যালি, দি হসদুর্গা-হলালকেরে ম্যান ইটার, দি ড়োগ এলিফেন্ট অফ পানাপাট্টি, দি ম্যান ইটার অফ সেগুর, দি ম্যান ইটার অফ ইয়েম্মাডোড্ডি, দি কিলার অফ জালাহাল্লি, দি হেরমিট অফ ডেভারায়াদুর্গা, বিরা দি পুজারি, দি টাইগারস অফ টাগার্থি।
গল্প সমূহঃ দি মার্ডারার অফ কেম্পেকারাই, আলাম বাক্স অ্যান্ড বিগ ব্ল্যাক বিয়ার, দি মামান্দুর ম্যান-ইটার, দি ক্রসড-টুস্কার অফ গেরহেট্টি, দি সাঙ্গাম প্যান্থার, দি রামাপুরাম টাইগার, দি গ্রেট প্যান্থার অফ মুদিইয়ানপুর, দি মাউলার অফ রাজনাগারা।
  • দি ব্ল্যাক প্যান্থার অফ শিভানিপাল্লি অ্যান্ড আদার অ্যাডভেঞ্চারস অফ দি ইন্ডিয়ান জাঙ্গল। প্রকাশকাল, ১৯৫৯।
গল্প সমূহঃ এ প্যান্থার ওয়ে, ম্যান ইটিং প্যান্থার অফ দি ইয়েল্লাগিরি হিলস, ওল্ড মুনুসোয়ামি অ্যান্ড দি প্যান্থার অফ মাগাদি, স্নেকস অ্যান্ড আদার জাঙ্গাল ক্রিয়েচারস, দি কিলার ফ্রম হায়দারাবাদ, দি বিগ বুল বাইসন অফ জেডেসাল, দি ম্যান্ড টাইগার অফ চর্দি, দি ম্যান ইটার অফ পেগেপালইয়াম।
  • দি কল অফ দি ম্যান ইটার। প্রকাশকাল, ১৯৬১।
গল্প সমূহঃ দি কল অফ দি ম্যান ইটার, দি এভিল ওয়ান অফ আম্বালমেরু, এ নাইট বাই দি ক্যাম্প ফায়ার, এ ব্ল্যাক ড়োগ অফ দি ময়ার ভ্যালি, জাঙ্গাল ডেস অ্যান্ড নাইটস, দি ক্রিয়েচারস অফ দি জাঙ্গাল, দি সুলেকুন্তা প্যান্থার, ফ্রম মাউলার টু ম্যান ইটার।
  • দিস ইস দি জাঙ্গাল। প্রকাশকাল, ১৯৬৪।
গল্প সমূহঃ দিস ইস দি জাঙ্গাল, দি ম্যান ইটার অফ দি ক্রিসেন্ট মাউন্টেইনস, ঘোমিং বাই নাইট অ্যান্ড ট্রাকিং বাই ডে, দি সোয়ামি অফ ভালাইথোথু, বাঘ দি টাইগার, দি ভিলেইন অফ উইন্ডি ভ্যালি, দি লোনলি প্যান্থার অফ কুপ্পা গুড্ডা হিল, দি ওয়ান-লেগড ডাচম্যান অফ ওয়াইল্ড হেরিটেজ।
  • দি টাইগার রোয়েরস। প্রকাশকাল, ১৯৬৭।
গল্প সমূহঃ দি নোভিস অফ মাঞ্চি, দি লেইম হরর অফ পেড্ডাচেরুভু, দি কুইর সাইড অফ থিংস, দি ডাম্ব ম্যান-ইটার অফ তালাভাদি, দি কিলার অফ দি ওয়ানাদ, দি ম্যান-ইটার অফ তালাইনোভু, শের খান অ্যান্ড দি বেট্টামুগালাম ম্যান-ইটার।
  • টেলস ফ্রম দি ইন্ডিয়ান জাঙ্গাল। প্রকাশকাল, ১৯৭০।
গল্প সমূহঃ ঘুমিং অ্যাট ডাউন, দি বেল্লুনডুর ওগরি, দি অ্যারিস্টক্র্যাট অফ আম্লিগোলা, দি লাক্কাভাল্লি ম্যান-ইটার, হোয়াট দি থান্ডারস্টর্ম ব্রট।
  • জাঙ্গল লং অ্যাগো। প্রকাশকাল, ১৯৭৬।
গল্প সমূহ ইন্ট্রডাকশান, এ নাইট ইন স্পাইডার ভ্যালি, দি মেডিক্যাল লোর অফ ইন্ডিয়া, অকাল্ট লোর অ্যান্ড আদার ম্যাটারস, সাম ইন্ডিয়ান গেইম স্যাংকচুরিস, দি আনাইবিদ্দাহাল্লা টাইগ্রেস, ইন এ জাঙ্গাল লং অ্যাগো।
  • জঙ্গাল টেলস ফর চিল্ড্রেন

অন্যান্য বই

  • দি ফায়ার অফ প্যাশন, প্রকাশকাল ১৯৬৯।

অমনিবাস সমূহ

  • কেনেথ এন্ডারসন অমনিবাস ভলিউম ১।
গল্প সমূহ টেলস ফ্রম ইন্ডিয়ান জাঙ্গালস, ম্যান-ইটারস অ্যান্ড জাঙ্গাল কিলারস, কল অফ দি ম্যান ইটারস।
  • কেনেথ এন্ডারসন অমনিবাস ভলিউম ২।
গল্প সমূহ দি ব্ল্যাক প্যান্থার অফ সিভানিপাল্লি, দি টাইগার রোয়েরস, জাঙ্গাল লং অ্যাগো।

কেনেথ এন্ডারসনের লিখিত বইগুলোর মধ্যে "জাঙ্গাল লং অ্যাগো" বইটি তাঁর মৃত্যুর পরে প্রকাশিত হয় ও "ফায়ারস অফ প্যাশন" বইটি তিনি মূলত ভারতে বিশেষ করে দক্ষিণ ভারতে অভিবাসী স্কটিশদের অবস্থা বর্ণনা করেন।[১]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Hunters Tales, Frontline Onnet