কিয়োতো প্রশাসনিক অঞ্চল

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
কিয়োতো প্রশাসনিক অঞ্চল
京都府
প্রশাসনিক অঞ্চল
জাপানি প্রতিলিপি
 • জাপানি 京都府
 • রোমাজি Kyōto-fu
কিয়োতো প্রশাসনিক অঞ্চল পতাকা
পতাকা
কিয়োতো প্রশাসনিক অঞ্চল অফিসিয়াল লোগো
কিয়োতো প্রশাসনিক অঞ্চলের প্রতীক
কিয়োতো প্রশাসনিক অঞ্চল অবস্থান
স্থানাঙ্ক: ৩৫°১′১৮″ উত্তর ১৩৫°৪৫′২০.২″ পূর্ব / ৩৫.০২১৬৭° উত্তর ১৩৫.৭৫৫৬১১° পূর্ব / 35.02167; 135.755611স্থানাঙ্ক: ৩৫°১′১৮″ উত্তর ১৩৫°৪৫′২০.২″ পূর্ব / ৩৫.০২১৬৭° উত্তর ১৩৫.৭৫৫৬১১° পূর্ব / 35.02167; 135.755611
দেশ জাপান
অঞ্চল কান্‌সাই
দ্বীপ হোনশু
রাজধানী কিয়োতো
আয়তন
 • মোট ৪৬১৩.২৬ কিমি (১৭৮১.১৯ বর্গমাইল)
এলাকার ক্রম ৩১শ
জনসংখ্যা (১লা অক্টোবর, ২০১৫)
 • মোট ২৬,১০,৩৫৩
 • ক্রম ১৩শ
 • ঘনত্ব ৫৬৬/কিমি (১৪৭০/বর্গমাইল)
আইএসও ৩১৬৬ কোড JP-26
জেলা
পৌরসভা ২৬
ফুল কাঁদুনে চেরি ফুল (প্রুনাস স্প্যাকিয়ানা)
গাছ কিতায়ামা সুগি (ক্রিপ্টোমেরিয়া জাপোনিকা)
পাখি ডোরাকাটা শিয়ারওয়াটার (ক্যালোনেক্ট্রিস লিউকোমেলাস)
ওয়েবসাইট www.pref.kyoto.jp

কিয়োতো প্রশাসনিক অঞ্চল (京都府? কিয়োতো ফু) হল জাপানের মূল দ্বীপ হোনশুর কান্‌সাই অঞ্চলের অন্তর্গত একটি প্রশাসনিক অঞ্চল[১] এর রাজধানী কিয়োতো নগর।[২]

ইতিহাস[সম্পাদনা]

মেইজি পুনর্গঠনের আগে পর্যন্ত কিয়োতো প্রশাসনিক অঞ্চল য়ামাশিরো প্রদেশ নামে পরিচিত ছিল।[৩]

ইতিহাসের অধিকাংশ জুড়ে কিয়োতো নগর জাপান সাম্রাজ্যের রাজধানী ছিল। ষষ্ঠ শতাব্দী থেকে এই নগরের ইতিহাস নথিবদ্ধ আছে। ৫৪৪ খ্রিঃ ভাল ফলন ও সুন্দর আবহাওয়ার জন্য প্রার্থনা করতে কিয়োতোয় আওই মাৎসুরি বা নীল উৎসব পালিত হয়।

সম্রাট শোওমু।

জাপানের প্রথম রাজধানী ছিল নারা। ৭৪১ খ্রিঃ সম্রাট শোওমু অল্প কিছুদিনের জন্য নারা ও কিয়োতোর মধ্যবর্তী কুনিকিয়ো স্থানে রাজধানী সরিয়ে নিয়ে যান। কুনিকিয়ো এখন কিয়োতো প্রশাসনিক অঞ্চলেরই অন্তর্গত। ৭৮৪ খ্রিঃ কিয়োতো প্রশাসনিক অঞ্চলের মধ্যে আরও একটি স্থান নাগাওকাকিয়ো-তে রাজধানী স্থাপন হয়। ৭৯৪ খ্রিঃ সম্রাট কাম্মু হেইয়ান-কিও নগরে রাজধানী পাকাপাকিভাবে সরিয়ে নিয়ে যান। এই নগরই বর্তমান কিয়োতো নগরের আদিরূপ। এমনকি এখনও পর্যন্ত কিয়োতোর প্রাচীন রাস্তা, দোকান, মন্দির ও তীর্থগুলি সম্রাট কাম্মুর সময় যেমন ছিল, তেমনই আছে।

১১৯২ খ্রিঃ কামাকুরা শোগুনতন্ত্রের প্রতিষ্ঠার ফলে প্রকৃত রাজনৈতিক ক্ষমতার কেন্দ্র কামাকুরা নগরে সরে যায়, কিন্তু কিয়োতো দেশের রাজধানীর মর্যাদা ধরে রাখে, কারণ ক্ষমতাহীন হলেও সম্রাট ও রাজসভা এই নগরেই অধিষ্ঠান করতে থাকেন। ১৩৩৩ খ্রিঃ কেন্‌মু পুনর্গঠনের মাধ্যমে সম্রাটের ক্ষমতার সাময়িক পুনরুদ্ধার হলেও মাত্র তিন বছর পরে আরেকটি সামুরাই পরিবার খোদ কিয়োতো নগরেই আরেকটি শোগুনতন্ত্র গঠন করে ফেলে।

১৪৬৭ খ্রিঃ ওনিনের গৃহযুদ্ধে কিয়োতো নগরের অধিকাংশ ভস্মীভূত হয়ে যায় এবং এই ঘটনা পরোক্ষে গৃহযুদ্ধময় সেন্‌গোকু যুগের অনুঘটক হয়ে ওঠে। ১৬০৩ খ্রিঃ তোকুগাওয়া ইয়েআসু এদো নগরে এক শক্তিশালী শোগুনতন্ত্র গঠন করেন।

পঞ্চদশ শতাব্দীতে শোগুনরা ফিলিপাইন দ্বীপপুঞ্জ থেকে কিয়োতোর উজি অঞ্চলে চায়ের জার নিয়ে আসেন। এই জারগুলি জাপানি চা অনুষ্ঠানের অঙ্গ হয়ে যায়।[৪]

১৮৬৮ খ্রিঃ মেইজি পুনর্গঠনের মাধ্যমে জাপানে সম্রাটের প্রকৃত ক্ষমতার পুনঃপ্রতিষ্ঠা হয়। পরের বছর সম্রাট মেইজি টোকিওতে স্থায়ী আবাসে চলে যান। তখন থেকে টোকিও নগরেই জাপানের রাজধানী স্থাপিত হয়েছে। ১৮৬৮ তে ফুহাংকেন সাঞ্চিসেইয়ের সময় কিয়োতো প্রশাসনিক অঞ্চলটি ‘ফু’ অনুসর্গ লাভ করে। এর পর পূর্বতন প্রদেশসমূহের পুনর্বিন্যাস প্রক্রিয়ার সময় তাংগো প্রদেশ, য়ামাশিরো প্রদেশ এবং তান্‌বা প্রদেশের পূর্বাংশের সংযুক্তির মাধ্যমে কিয়োতো প্রশাসনিক অঞ্চল তার বর্তমান আকৃতি লাভ করে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় মার্কিন বোমারু বিমান জাপানের অন্যান্য নগরে বোমাবর্ষণ করলেও প্রাচীন রাজধানী কিয়োতোয় হামলা করেনি। যুদ্ধ পরবর্তী জাপান অধিগ্রহণের সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর ষষ্ঠ বিভাগ এখানে ঘাঁটি গেড়েছিল।

ভূগোল[সম্পাদনা]

ৎসুতেঙ্কো হ্রদ, রুরিকেই, ১৯৭৫।

কিয়োতো প্রশাসনিক অঞ্চলের আয়তন ৪৬১২.৭১ বর্গ কিমি। এর উত্তরে রয়েছে জাপান সাগরফুকুই প্রশাসনিক অঞ্চল, দক্ষিণে ওসাকানারা প্রশাসনিক অঞ্চল, পূর্বে মিয়েশিগা এবং পশ্চিমে হিয়োগো প্রশাসনিক অঞ্চল। এর মাঝ বরাবর তান্‌বা পর্বতমালা পূর্ব-পশ্চিমে বিস্তৃত, ফলে উত্তর ও দক্ষিণে জলবায়ুর স্পষ্ট তারতম্য চোখে পড়ে।

২০১৬ এর ১৫ই এপ্রিলের হিসেব অনুযায়ী কিয়োতো প্রশাসনিক অঞ্চলের ২১ শতাংশ এলাকা সংরক্ষিত বনাঞ্চল। এর মধ্যে আছে সানিন কাইগান জাতীয় উদ্যান; বিওয়াতো, কিয়োতো তাম্বা কোগেন, তাংগো-আমানোহাশিদাতে-ওওয়েয়ামা ও ওয়াকাসা ওয়ান উপ-জাতীয় উদ্যান এবং রুরিকেই প্রশাসনিক আঞ্চলিক উদ্যান।[৫]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Nussbaum, Louis-Frédéric. (2005). "Kyoto-fu" in গুগল বইয়ে Japan Encyclopedia, p. 587, পৃ. 587,; "Kansai" in গুগল বইয়ে Japan Encyclopedia, p. 477, পৃ. 477,.
  2. Nussbaum, "Kyoto" in গুগল বইয়ে Japan Encyclopedia, pp. 565-587, পৃ. 585,.
  3. Nussbaum, "Provinces and prefectures" in গুগল বইয়ে p. 780, পৃ. 780,.
  4. [১]
  5. "General overview of area figures for Natural Parks by prefecture" (জাপানি ভাষায়)। Ministry of the Environment। ১৫ এপ্রিল ২০১৬। সংগৃহীত ১২ জুন ২০১৬