কাতার–যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
কাতার – যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক
মানচিত্র কাতার এবং যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান নির্দেশ করছে

কাতার

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র

কাতার–যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক হল কাতার এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক। কাতার এবং যুক্তরাষ্ট্র কৌশলগতভাবে মিত্র।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

১৯৭৩ সাল মার্চ মাসে দোহায় মার্কিন দূতাবাস যাত্রা শুরু করে। এরপর থেকেই দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষীয় সম্পর্ক গড়ে ওঠে।[১] জুলাই, ১৯৭৪ সালে প্রথম মার্কিন রাষ্ট্রদূত আসেন। কাতার এবং যুক্তরাষ্ট্র একত্রে মধ্যপূর্ব অঞ্চলের কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেয়, যেন পারস্য উপসাগরের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত থাকে। দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সংযোগও ছিল, বিশেষ কএ হাইড্রোকার্বন ক্ষেত্রে।[২] কাতার মধ্যপূর্বের বাজার ধরতে আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চালু করে। কাতার তাদের দেশে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সুবিধাও দিয়ে থাকে।[৩]

শিক্ষা[সম্পাদনা]

বহু কাতারি শিক্ষার্থী যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করে। কাতারের এডুকেশন সিটি কমপ্লেক্সে যুক্তরাষ্ট্রের ছয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ক্যাম্পাস রয়েছে। এগুলো হল: ভার্জিনিয়া কমনওয়েলথ ইউনিভার্সিটি স্কুল অব আর্টস ইন কাতার (ভিসিইউকিউ), ওয়েইল কর্নেল মেডিকেল কলেজ ইন কাতার (ডব্লিউসিএমসি-কিউ), টেক্সাস এঅ্যান্ডএম ইউনিভার্সিটি অ্যাট কাতার (টিএএমইউকিউ), কার্নেজি মেলন বিশ্ববিদ্যালয়, কাতার (সিএমইউ-কিউ), জর্জটাউন ইউনিভার্সিটি স্কুল অব ফরেইন সার্ভিস ইন কাতার (এসএফএস-কাতার)[৪] এবং নর্থওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়[৫]

কূটনৈতিক বিনিময়[সম্পাদনা]

কূটনৈতিক সফর[সম্পাদনা]

আমির তামিম বিন হামাদ আল থানি ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ সালে সর্বশেষ ওয়াশিংটন সফর করেছিলেন।[৬] রাষ্ট্রপতি জর্জ ডব্লিউ. বুশ ২০০৩ সালে কাতার সফর করেন এবং সেখানে নিয়োজিত সামরিক বাহিনীর সাথে কথা বলেন।[৭] ডোনাল্ড রামস্ফেল্ড ২০০২ সালে কাতারে সফর করেন। তিনি ২০০১ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত প্রতিরক্ষাসচিব হিসেবে দায়িত্বপালন করেন।[৮] পররাষ্ট্রসচিব হিলারি ক্লিনটন ২০১০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে কাতারে সফর করেন,[৯] এবং জন কেরি ২০১৩ সালের মার্চ মাসে কাতারে সফর করেন।[১০]

আবাসিক কর্মকর্তা[সম্পাদনা]

প্রধান মার্কিন কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন:

কাতারের দোহায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি দূতাবাস রয়েছে।[১৩]

সামরিক বাহিনী[সম্পাদনা]

১৯৯২ সালের শুরুর দিকেই কাতার যুক্তরাষ্ট্রের সাথে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সন্ধি তৈরি করে। বর্তমানে সেখানে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের সদর দপ্তর এবং যৌথ বিমানঅভিযান কেন্দ্র রয়েছে।

২০১৫ সাল পর্যন্ত, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি রয়েছে:

২০০৩ সালে, মার্কিন সামরিক ঘাঁটি দোহা আন্তর্জাতিক এয়ার বেজ (ক্যাম্প স্নুপি নামেও পরিচিত) বন্ধ করা হয়।[১৪]

২০১৪-এর চুক্তি[সম্পাদনা]

২০১৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র কাতারের কাছে ১১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের অস্ত্র বিক্রি করে। অস্ত্রের মধ্যে এএইচ-৬৪ অ্যাপাচি, যুদ্ধ হেলিকপ্টার, প্যাট্রিয়ট এবং জ্যাভেলিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা - প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।[১৫] কাতার আরো ঘোষণা দিয়েছে যে তারা ২.৭৬ মার্কিন ডলারে এনএইচ ইন্ডাস্ট্রিজ থেকে এনএইচ৯০ হেলিকপ্টার ক্রয় করবে।[১৬]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Background Note: Qatar" (ইংরেজি ভাষায়)। U.S. Department of State। ১৯ জানুয়ারি ২০১২। সংগ্রহের তারিখ ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১২ 
  2. "The Importance of Qatar to the US Economy" (ইংরেজি ভাষায়)। Arab-American Business। ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১২ 
  3. "Military Bases in Qatar" (ইংরেজি ভাষায়)। Military Bases। সংগ্রহের তারিখ ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১২ 
  4. "School of Foreign Service in Qatar: Georgetown University" (ইংরেজি ভাষায়)। ৬ এপ্রিল ২০০৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৪ জানুয়ারি ২০১৯ 
  5. "Northwestern University in Qatar" (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৮ নভেম্বর ২০০৮ 
  6. "Obama, Qatar's Amir Tamim After Their Meeting" (ইংরেজি ভাষায়)। U.S. Department of State। ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৫। সংগ্রহের তারিখ ২০ এপ্রিল ২০১৫ 
  7. "George W. Bush - Remarks to Troops - Sayliyah, Qatar" (ইংরেজি ভাষায়)। Presidential Rhetoric। ৫ জুন ২০০৩। সংগ্রহের তারিখ ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১২ 
  8. Wolf Blitzer (১১ ডিসেম্বর ২০০২)। "Rumsfeld secures cooperation in the Gulf" (ইংরেজি ভাষায়)। CNN। ২০১০-১০-১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৮ নভেম্বর ২০০৮ 
  9. "Public Liaison E-newsletter" (PDF) (ইংরেজি ভাষায়)। U.S. Department of State। ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১০। ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৫ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০ এপ্রিল ২০১৫ 
  10. "Kerry, Qatari Prime Minister Hamad in Doha, Qatar" (ইংরেজি ভাষায়)। U.S. Department of State। ৫ মার্চ ২০১৩। সংগ্রহের তারিখ ২০ এপ্রিল ২০১৫ 
  11. "Chief of Mission" (ইংরেজি ভাষায়)। U.S. Department Of State। ১৭ এপ্রিল ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০ এপ্রিল ২০১৫ 
  12. "Deputy Chief of Mission" (ইংরেজি ভাষায়)। U.S. Department Of State। ১৭ এপ্রিল ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০ এপ্রিল ২০১৫ 
  13. "Embassy of the United States in Doha, Qatar" (ইংরেজি ভাষায়)। ২১ এপ্রিল ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১২ 
  14. "U.S. downsizing in Gulf, quitting Camp Snoopy" (ইংরেজি ভাষায়)। World Tribune। ১৩ মে ২০০৩। সংগ্রহের তারিখ ৩ আগস্ট ২০১৫ 
  15. "Qatar buying US helicopters, missiles in multi-billion dollar deal" (ইংরেজি ভাষায়)। বিজনেস লাইন। ১৫ জুলাই ২০১৪। সংগ্রহের তারিখ ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৪ 
  16. "Qatar spends big on American choppers and missiles" (ইংরেজি ভাষায়)। The Washington Post। ১৪ জুলাই ২০১৪। সংগ্রহের তারিখ ৪ সেপ্টেম্বর ২০১৫ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

টেমপ্লেট:যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক সম্পর্ক