কর্ণেলিয়া শোরাবজী

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
কর্ণেলিয়া শোরাবজী
জন্ম(১৮৬৬-১১-১৫)১৫ নভেম্বর ১৮৬৬
মৃত্যু৬ জুলাই ১৯৫৪(1954-07-06) (বয়স ৮৭)
লন্ডন, যুক্তরাজ্য
যেখানের শিক্ষার্থীবোম্বে বিশ্ববিদ্যালয়
সমারভিল কলেজ, অক্সফোর্ড
পেশাআইনজীবী, সমাজ সংস্কারক, লেখক

কর্ণেলিয়া শোরাবজী (১৫ই নভেম্বর ১৮৬৬ – ৬ই জুলাই ১৯৫৪) একজন ভারতীয় মহিলা, যিনি বোম্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম মহিলা স্নাতক, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন অধ্যয়নে প্রথম মহিলা,[১][২] ভারতে প্রথম মহিলা উকিল,[৩] এবং ভারত ও ব্রিটেনের ওকালতি করা প্রথম মহিলা।

২০১২ সালে, লন্ডনের লিংকন'স ইনএ তার একটি মূর্তির আবরণ উন্মোচিত হয়।[৪] গুগল ডুডল ১৫ই নভেম্বর ২০১৭ সালে তার জন্মের ১৫১তম বর্ষ উদযাপন করে।[৫]

প্রাথমিক জীবন এবং শিক্ষা[সম্পাদনা]

Letter by Mary Hobhouse, published in দ্য টাইমসএ প্রকাশিত মেরী হবহাউসের চিঠি, ১৩ই এপ্রিল ১৮৮৮ শোরাবজী

দেওলালির এক পারসি পরিবারে তার জন্ম হয়।[৪] নয় সন্তানের মধ্যে তিনি একজন ছিলেন। তার মাতামহী, লেডি কর্নেলিয়া মারিয়া ডার্লিং ফোর্ডের সম্মানে, তার নামকরণ করা হয়। তার পিতা, রেভারেন্ড শোরাবজী কারসেদজী, একজন খ্রিস্টান ধর্মপ্রচারক ছিলেন, এবং শোরাবজি বিশ্বাস করতেন যে বোম্বে বিশ্ববিদ্যালয়কে তিনিই প্রত্যয় দিয়েছিলেন, তারা যাতে স্নাতক পর্যায়ে কোন মহিলাকে ভর্তি করে।[৬] তার মা, ফ্রান্সিনা ফোর্ডকে, বারো বছর বয়সে এক ব্রিটিশ দম্পতি দত্তক নেন এবং বড় করে তোলেন। তারা পুণায় (এখন পুনে) বেশ কয়েকটি বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করতে সাহায্য করেছিলেন।[৭] সমাজে তার প্রতিপত্তির কারণে, স্থানীয় মহিলারা প্রায়ই ফোর্ডের কাছে উত্তরাধিকার এবং সম্পত্তির অধিকার নিয়ে পরামর্শ নিতেন। শোরাবজীর পরবর্তী শিক্ষা ও কর্মজীবনের সিদ্ধান্তগুলি তার মায়ের দ্বারা ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হয়েছে।

কর্নেলিয়া শোরাবজির পাঁচজন বোন ও এক ভাই বেঁচে ছিলেন, এবং আরো দুই ভাই শৈশবেই মারা যান।[৮] প্রাথমিকভাবে তার শৈশব কাটে বেলগাউমে এবং পরে পুনেতে। তিনি বাড়িতে এবং মিশন স্কুলে উভয় জায়গায় শিক্ষালাভ করেছেন। তিনি ডেকান কলেজে ভর্তি হন, ফাইনাল ডিগ্রী পরীক্ষায় পুরো প্রেসিডেন্সিতে প্রথম হন, এর ফলে তিনি ইংল্যান্ডে আরও পড়াশোনা করার জন্য সরকারি বৃত্তির অধিকারী হন। শোরাবজির মতে, তাকে বৃত্তি দেওয়া হয়নি, এর পরিবর্তে তিনি গুজরাতে একটি ছেলেদের কলেজে ইংরাজির অস্থায়ী অধ্যাপক পদে যোগ দেন।[৯]

বোম্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম মহিলা স্নাতক হবার পর, শোরাবজী ১৮৮৮ সালে ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশনকে তার শিক্ষা সমাপ্ত করতে সাহায্য করার জন্য লেখেন। এটি সমর্থন করেন মেরী হবহাউস (যাঁর স্বামী আর্থার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়ার সদস্য ছিলেন) এবং অ্যাডিলেড ম্যানিং। অ্যাডিলেড ম্যানিং, ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল, স্যার উইলিয়াম ওয়েডারবার্ণ এবং আরো অনেকে তহবিল তৈরীতে সাহায্য করেছিলেন। ১৮৮৯ সালে শোরাবজি ইংল্যান্ডে পৌঁছোলেন এবং ম্যানিং ও হবহাউসের সঙ্গে থাকতে শুরু করলেন।[১০] ১৮৯২ সালে, তার ইংরেজ বন্ধুদের অনেকের আবেদনপত্রের ভিত্তিতে, ডিক্রি দ্বারা তাকে বিশেষ অনুমতি দেওয়া হয়, প্রথম মহিলা হিসাবে অক্সফোর্ডের সমারভিল কলেজ থেকে নাগরিক আইনে স্নাতক পরীক্ষা দেবার জন্য। [৪]

১৮৯০ সালে স্যার উইলিয়াম অ্যানসনের আমন্ত্রণে, অক্সফোর্ডের অল সোলস কলেজের কোডিংটন লাইব্রেরীতে পাঠক হিসেবে ভর্তি হওয়া প্রথম নারী হলেন শোরাবজি।[১১]

আইনি পেশা[সম্পাদনা]

লিংকন'স ইনএ কর্নেলিয়া শোরাবজির আবক্ষ মূর্তি, ২০১২ গ্রেশ্যাম বিশেষ বক্তৃতার সময় নেওয়া

১৮৯৪ সালে ভারতে ফিরে আসার পর, শোরাবজি পরদা নাশিন (নারী, যাদের বাইরের পুরুষ সমাজের সাথে যোগাযোগ নিষিদ্ধ)দের পক্ষ থেকে সামাজিক ও উপদেশমূলক কাজ শুরু করেন। অনেক ক্ষেত্রেই, এই মহিলাদের মালিকানাধীন প্রচুর সম্পত্তি ছিল, কিন্তু তা রক্ষা করার জন্য প্রয়োজনীয় আইনি দক্ষতা পাবার কোন উপায় তাঁদের ছিলনা। তাঁদের পক্ষ থেকে আবেদন দাখিলের জন্য শোরাবজীকে বিশেষ অনুমতি দেওয়া হয়েছিল কাথিয়াওয়াড় এবং ইন্দোরের ব্রিটিশ এজেন্টদের সামনে দাঁড়ানোর। কিন্তু তিনি আদালতে তাঁদের প্রতিরক্ষা করতে পারেননি কারণ, মহিলা হিসাবে, ভারতীয় আইনী ব্যবস্থায় তার কোন পেশাদারি অবস্থান ছিলনা। এই পরিস্থিতির প্রতিকার করার আশায়, শোরাবজী ১৮৯৭ সালে বোম্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের এলএলবি পরীক্ষায় এবং ১৮৯৯ সালে এলাহাবাদ হাইকোর্টে আইনজীবীর পরীক্ষায় বসেন। তবুও, তার সাফল্য সত্ত্বেও, শোরাবজিকে ব্যারিস্টার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হ্তনা। ১৯২৩ সালে মহিলাদের আইন ব্যবসা করার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা উঠে যাবার আগে পর্যন্ত এই অবস্থাই চলছিল।[৩]

শোরাবজি ১৯০২ সাল থেকেই ইন্ডিয়া অফিসে আবেদন শুরু করলেন, প্রাদেশিক আদালতে নারী ও অপ্রাপ্তবয়স্কদের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য, মহিলা আইন উপদেষ্টা হিসাবে। ১৯০৪ সালে, বাংলার তত্বাবধায়ক আদালতে তিনি মহিলা সহকারী নিযুক্ত হন। ১৯০৭ সালের মধ্যে এই ধরণের উপস্থাপনার প্রয়োজনীয়তা দেখে শোরাবজী বঙ্গ, বিহার, ওড়িশা, এবং আসামে কাজ শুরু করেন। তার পরের ২০ বছরের কর্মজীবনে, শোরাবজি আনুমানিক ৬০০ মহিলা ও অনাথকে আইনি লড়াইয়ে সহায়তা করেছিলেন, কোন কোন সময়ে বিনামূল্যে। তিনি পরে তার লেখা বিট্যুইন দ্য ট্যুইলাইটস এবং তার দুই আত্মজীবনীতে এই সব অনেক মামলার কথা লিখে রেখেছেন। ১৯২৪ সালে, ভারতে, মহিলাদের আইনকে পেশা হিসাবে নেবার দরজা খুলে গিয়েছিল, এবং শোরাবজি কলকাতায় কাজ করা শুরু করেন। যাইহোক, পুরুষ পক্ষপাত এবং বৈষম্যের কারণে, মামলায় সওয়াল করার বদলে, তাকে শুধু মতামত প্রস্তুত করতে দেওয়া হত।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]

১৯২৯ সালে শোরাবজি হাইকোর্ট থেকে অবসর গ্রহণ করেন, এবং লন্ডনে বসবাস শুরু করেন, শীতকালে তিনি ভারত সফরে আসতেন। তিনি ৬ই জুলাই ১৯৫৪ সালে, ৮৭ বছর বয়সে, ম্যানর হাউস, লন্ডনের গ্রিন লেনের নর্দামবারল্যান্ড হাউসে নিজের বাড়িতে মারা যান।[১২]

গ্রন্থ-পঞ্জী[সম্পাদনা]

সামাজিক সংস্কারক ও আইনী কর্মী হিসাবে তার কাজ ছাড়াও, শোরাবজি অনেক বই, সংক্ষিপ্ত গল্প এবং নিবন্ধ লিখেছেন।

  • ১৯০১: লাভ অ্যান্ড লাইফ বিয়ন্ড দ্য পর্দা (লন্ডন: ফ্রেম্যান্টেল অ্যান্ড কো.) [জেনানা (নারীজীবনের গার্হস্থ্য চত্বর) নিয়ে ছোট গল্প, পাশাপাশি ঔপনিবেশিক শাসনের অধীনে ভারতের অন্যান্য দিকের জীবন]
  • ১৯০৪: সান-বেবিজ: স্টাডিজ ইন দ্য চাইল্ড লাইফ অফ ইন্ডিয়া (লন্ডন: জন মারে)
  • ১৯০৮: বিট্যুইন দ্য ট্যুইলাইটস: বিইং স্টাডিজ অফ ইন্ডিয়া উইমেন বাই ওয়ান অফ দেমসেলভস (অনলাইন) (লন্ডন: হার্পার) [তত্বাবধায়ক আদালতের জন্য কাজ করার সময় তার অনেক আইনি মামলার বিবরণ
  • ১৯১৬: ইন্ডিয়ান টেলস অফ দ্য গ্রেট ওয়ানস অ্যামং মেন, উইমেন অ্যান্ড বার্ড পিপল (বোম্বে: ব্ল্যাকি) (কিংবদন্তী এবং লোক কাহিনী)
  • ১৯১৭: দ্য পরদানাশিন (বোম্বে: ব্ল্যাকি) (পরদানশীন মহিলাদের উপর লেখা)
  • ১৯২৪: দেয়ারফোর: অ্যান ইমপ্রেশন অফ অফ শোরাবজী কারসেদজী লঙ্গরানা অ্যান্ড হিস ওয়াইফ ফ্রান্সিনা (লন্ডন: অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস, হামফ্রে মিলফোর্ড, ১৯২৪) [তার বাবা-মায়ের জীবনের একটি স্মৃতি]
  • ১৯৩০: গোল্ড মোহর: টাইম টু রিমেম্বার (লন্ডন: আলেকজান্ডারমর্নিং) (একটি নাটক)
  • ১৯৩২: সুসি শোরাবজি, খ্রীষ্টান-পার্সি এডুকেশনিস্ট: এ মেমোয়ার (লন্ডন: অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস) (তার শিক্ষাবিদ বোনের জীবনী, সুসি শোরাবজি)

আরো দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "First lady – Moneylife"। ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ 
  2. "University strengthens ties with India"Cherwell। ১৩ ডিসেম্বর ২০১২। ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা 
  3. S B Bhattacherje (২০০৯)। Encyclopaedia of Indian Events & Dates। Sterling Publishers। পৃষ্ঠা A-118। আইএসবিএন 9788120740747। ২৭ মার্চ ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা 
  4. "UK honours Cornelia Sorabji"Hindustan Times। ২৫ মে ২০১২। ২৮ মে ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। 
  5. "Google's Doodle honours Cornelia Sorabji, India's first woman advocate"The Hindu। ১৫ নভেম্বর ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৫ নভেম্বর ২০১৭ 
  6. Sorabji, Cornelia (১৯৩৪)। India Calling: The Memories of Cornelia Sorabji। London: Nisbet & Co। পৃষ্ঠা 2। 
  7. Rappaport, p. 659
  8. Sorabji, Cornelia (১৯৩৪)। India Calling: The Memories of Cornelia Sorabji। London: Nisbet & Co. Ltd.। পৃষ্ঠা 6। 
  9. Sorabji, Cornelia। India Calling: The Memories of Cornelia Sorabji। London: Nisbet & Co.। পৃষ্ঠা 20। 
  10. Mary Hobhouse ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৫ তারিখে, Open University, Retrieved 26 July 2015
  11. Pauline Adams (১৯৯৬)। Somerville for women: an Oxford college, 1879-1993Oxford University Press। পৃষ্ঠা 114। আইএসবিএন 978-0199201792 
  12. "Cornelia Sorabji" ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ১৯ ডিসেম্বর ২০১৩ তারিখে Making Britain Database The Open University; accessed 11 April 2015.1

আরও পড়ুন[সম্পাদনা]

  • Blain, Virginia, et al.,The Feminist Companion to Writers in English: Women Writers from the Middle Ages to the Present (New Haven : Yale University Press, 1990)
  • Burton, Antoinette, At The Heart of the Empire: Indians and the Colonial Encounter in Late-Victorian Britain (Berkeley: University of California Press, 1998)
  • Matthew, H.C.G and Brian Harrison, ed., Oxford Dictionary of National Biography (Oxford : Oxford University Press, 2004)
  • Mossman, Mary Jane, The First Women Lawyers: A Comparative Study of Gender, Law and the Legal Professions (Toronto: Hart Publishing, 2007)
  • Rappaport, Helen, Encyclopedia of Women Social Reformers (Santa Barbara : ABC CLIO, 2001)
  • Sorabji, Richard, Opening Doors: The Untold Story of Cornelia Sorabji (2010)
  • Soranji, Cornelia, India Calling: Memories of Cornelia Sorabji (London: Nisbet & Co., 1934)
  • Zilboorg, Caroline, ed. Women's Firsts (New York : Gale, 1997)
  • Innes, C.L. 'A History of Black and Asian Writers in Britain' (Cambridge: Cambridge University Press, 2008). Contains a Chapter on Cornelia and Alice Pennell Sorabji.

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]