জালালি কবুতর

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

জালালি কবুতর
Columba livia
Paloma bravía (Columba livia), Palacio de Nymphenburg, Múnich, Alemania01.JPG
পূর্ণবয়স্ক C. l. intermedia, ভারত
বৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
জগৎ: অ্যানেমেলিয়া
পর্ব: কর্ডাটা
শ্রেণী: পক্ষী
বর্গ: Columbiformes
পরিবার: Columbidae
গণ: Columba
প্রজাতি: C. livia
দ্বিপদী নাম
Columba livia
Gmelin, 1789[২]
Columba livia distribution map.png
গাঢ় লাল: আনুমানিক আদি আবাস; গোলাপি: অবমুক্তায়ন অঞ্চল
Columba livia

জালালি কবুতর (বৈজ্ঞানিক নাম: Columba livia ), জালালী কৈতর বা গোলা পায়রা কলাম্বিডি গোত্র বা পরিবারের অন্তর্গত কলাম্বা গণের অন্তর্গত অতি পরিচিত একটি পাখি।[৩][৪][৫] ইংরেজিতে এই পাখির নাম রক ডাভ [৬] বা রক পিজিয়ন । সব ধরনের রেসিং কবুতর, ফ্যান্সি কবুতর ও বুনো কবুতরের পূর্বপুরুষ মনে করা হয় এ প্রজাতিটিকে।[৭]

গঠন[সম্পাদনা]

চাল ও অন্যান্য দানা খেতে ব্যস্ত এক জালালি কবুতর

জালালী কবুতরকে ইংরেজিতে বলা হয় Rock Pigeon বা Feral Pigeon। [৮]এরা মূলত বন্য কবুতর। কলাম্বিডি গোত্রের অন্তর্গত এই পাখিটিকে অঞ্চলভেদে জালালি কৈতর বা গোলা পায়রা হিসাবেও সম্বোধন করা হয়। পৃথিবীর সকল পোষা কবুতর মূলত এই কবুতর থেকে উৎপত্তি হয়েছে। জালালি কবুতর সাধারনত দুই রঙের হয়,ধূসর ছাই রঙয়ের তবে ডানায় দুটি করে ঘাড় রঙের স্পট (বার থাকে) যাকে ব্লু বার বলে। জালালি কবুতর ব্লাক চেকার বা মাকসি রঙয়েরও হয়ে থাকে। এদের দেহগঠন মাঝারি আকারের চোখ লালচে-কমলা বর্ণের ও মণির রঙ কালো হয়। চোখের আকৃতি ও আইরিশ এবং ঠোটের গঠন ঘুঘু পাখির মত। পায়ের রঙ হয় লালচে গোলাপি।

নামকরণ[সম্পাদনা]

বাংলাদেশে শত শত বছরের ঐতিহ্য নিয়ে জালালি কবুতর টিকে আছে বাংলাদেশের সিলেটের হযরত শাহ জালাল (র)-এর মাজারে। ধর্মপ্রাণ সিলেটের মানুষের বিশ্বাস- এই কবুতর হারিয়ে যেতে পারে না। তাই প্রায় ৭০০ বছর ধরে কবুতরের এই বিশেষ প্রজাতির ওড়াউড়িতে মুখরিত শাহজালাল (র)-এর মাজার। হযরত শাহ জালাল এর নামের সাথে মিল রেখে এই কবুতরটির নামকরণ করা হয়েছে জালালি কবুতর

হযরত শাহজালালকে (র) নিয়ে দিল্লির নিজামউদ্দীন আউলিয়ার কাছে তার এক শিষ্য কুৎসা রটনা করলে তিনি তাকে দরবার থেকে বিতাড়িত এবং শাহজালাল (র) সালাম পাঠায়, তখন শাহজালাল (র) একটি বাক্সে প্রজ্বালিত অঙ্গারের সঙ্গে কিছু তুলা পাঠান, যা ছিল একটি আধ্যাত্মিক নিদর্শন। এর পর তাদের সাক্ষাৎ হয় এবং শাহজালাল (র) ফিরে আসার সময় ভালোবাসার নিদর্শনস্বরূপ নিজামুদ্দীন আউলিয়া তাকে একজোড়া সুরমা রঙের কবুতর উপহার দেন,[৯] যা আজকের জালালি কবুতর বা জালালি কইতর নামে পরিচিত। [১০]

ইতিহাস[সম্পাদনা]

১৩০৩ সালে (৭০৩ হিজরী) ৩২ বছর বয়সে তিনি সিলেটে আসার পথে দিল্লীর আউলিয়া নিজামুদ্দীনের সাথে সাক্ষাত করেছিলেন। সাক্ষাতের বিদায়কালে প্রীতির নিদর্শন স্বরূপ নিজামুদ্দীন হজরত শাহ্ জালাল কে এক জোড়া সুরমা রঙের কবুতর উপহার দিয়েছিলেন। এই কবুতর নিয়েই তিনি সিলেটে এসেছিলেন। সেই থেকে সিলেটে এই কবুতরের ব্যাপকতা দেখা যায়। হযরত শাহ্ জালাল (রহ.) ৩৬০ জন আউলিয়া নিয়ে ১৩০৩ সালে তৎকালীন আসামের অন্তর্ভুক্ত সিলেট (শ্রীহট্ট) জয় করে উড়িয়ে দিয়েছিলেন সেই কবুতরজোড়া । [১১] এরপর সারাদেশে এর বংশ বিস্তার লাভ করে।

আবাস্থল[সম্পাদনা]

জালালি কবুতরের বৈজ্ঞানিক নামের অর্থ নীলচে-ধূসর পায়রা (লাতিন: columba = পায়রা, liveus = নীলচে-ধূসর)।[৪] এর আদি আবাস ইউরোপ, এশিয়াআফ্রিকায় হলেও অস্ট্রেলিয়া, উত্তর আমেরিকাদক্ষিণ আমেরিকার বড় বড় শহর ও গ্রামাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। পৃথিবীর ১ লাখ ৭৪ লাখ বর্গকিলোমিটার জুড়ে এর আবাসস্থল। বিশ্বে এদের সংখ্যা ২৬ কোটি হলেও বাংলাদেশে এদের সংখ্যা কত তা কারো জানা নেই। [১২]

বর্তমান অবস্থা[সম্পাদনা]

ব্যাপকভাবে বিস্তৃত বলে আই. ইউ. সি. এন. প্রজাতিটিকে ন্যূনতম বিপদগ্রস্ত বলে ঘোষণা করেছে।[১] বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী আইনে এ প্রজাতিটিকে সংরক্ষিত ঘোষণা করা হয়েছে।[৪] [১৩]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Columba livia"The IUCN Red List of Threatened Species। সংগ্রহের তারিখ ১৮ আগস্ট ২০১৩ 
  2. "Columba livia"ইন্টিগ্রেটেড ট্যাক্সোনোমিক ইনফরমেশন সিস্টেম। সংগ্রহের তারিখ ২০০৮-০২-২৩ 
  3. রেজা খান (২০০৮)। বাংলাদেশের পাখি। ঢাকা: বাংলা একাডেমী। পৃষ্ঠা ১৪৮–৪৯। আইএসবিএন 9840746901 
  4. জিয়া উদ্দিন আহমেদ (সম্পা.) (২০০৯)। বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষ: পাখি, খণ্ড: ২৬। ঢাকা: বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। পৃষ্ঠা ১৩৩–৩৪। 
  5. Gibbs, David। Pigeons and Doves: A Guide to the Pigeons and Doves of the World। United Kingdom: Pica Press। পৃষ্ঠা 624। আইএসবিএন 1-873403-60-7  অজানা প্যারামিটার |coauthors= উপেক্ষা করা হয়েছে (|author= ব্যবহারের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে) (সাহায্য)
  6. ENGLISH NAME UPDATES - IOC Version 2.9 (July 10, 2011), IOC World Bird List
  7. Blechman, Andrew (২০০৭)। Pigeons-The fascinating saga of the world's most revered and reviled bird.। St Lucia, Queensland: University of Queensland Press। আইএসবিএন 978-0-7022-3641-9 
  8. "Rock Pigeon Columba livia"BirdLife International। ২০১৩-১১-২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১৩-০৮-০২ 
  9. "হুমকির মুখে জালালি কবুতর"Barta24 (ইংরেজি ভাষায়)। 
  10. "সিলেটের জালালি কবুতর"Jugantor 
  11. "৭০০ বছর একই ঠিকানায়"m.prothomalo.com 
  12. মনোনেশ দাস (২০১৬-১২-০২)। "আবাস সংকটে শাহ জালালের জালালি কবুতর"DhakaTimes24। সংগ্রহের তারিখ ২০২২-০৪-১৪ 
  13. Rich, T.D.; Beardmore, C.J.; Berlanga, H.; Blancher, P.J.; Bradstreet, M.S.W.; Butcher, G.S.; Demarest, D.W.; Dunn, E.H.; Hunter, W.C.; Inigo-Elias, E.E.; Martell, A.M.; Panjabi, A.O.; Pashley, D.N.; Rosenberg, K.V.; Rustay, C.M.; Wendt, J.S.; Will, T.C. 2004. Partners in flight: North American landbird conservation plan. Cornell Lab of Ornithology, Ithaca, NY.

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]