ওরে সালেকা ওরে মালেকা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
"ওরে সালেকা ওরে মালেকা"
ঢাকা রেকর্ড হতে প্রকাশিত ওরে সালেকা গানের গ্রামোফোন
একক সংগীত অ্যালবাম থেকে
আজম খান কর্তৃক সঙ্গীত
ভাষাবাংলা
মুক্তিপ্রাপ্ত১৯৭৩
বিন্যাসগ্রামোফোন ৩৩ আরপিএম ভিনাইল লিপি
রেকর্ডকৃত১৯৭৩
স্টুডিওঢাকা রেকর্ডিং স্টুডিও
স্থানইন্দিরা রোড,ফার্মগেট,বাংলাদেশ
ধারাবাংলা পপ, ব্যান্ড, চলচ্চিত্র সংগীত
দৈর্ঘ্য০৩:৫০
লেবেলঢাকা রেকর্ড, বাংলাদেশ গ্রামোফোন কোম্পানি লিমিটেড
গান লেখকআজম খান
সুরকারআজম খান
প্রযোজকউচ্চারণ
সঙ্গীত ভিডিও
ইউটিউবে "১৯৭৩ সালের সংস্করণ"
সঙ্গীত ভিডিও
ইউটিউবে গডফাদার চলচ্চিত্রে 'ওরে সালেকা'

‘ওরে সালেকা ওরে মালেকা’ ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত বাংলাভাষায় রচিত একটি জনপ্রিয় একক পপ সংগীত। এই সংগীত বা গানটি বাংলাদেশের একুশে পদক প্রাপ্ত[১], প্রখ্যাত পপ সংগীত শিল্পী আজম খানের প্রথম রেকর্ড করা ও প্রকাশিত গান।[২][৩] বাংলাদেশের স্বাধীনতা পূর্ব সময়ে এই গানের গীতি ও সুর তৈরী করা হয়। আজম খান নিজেই এই গানের গীতিকার ও সুরকার ছিলেন। গানটির সংগীত আয়োজন করে আজম খানের ব্যান্ড উচ্চারণ।

পটভূমি[সম্পাদনা]

আজম খানের পরিবার বাংলাদেশের স্বাধীনতা পূর্ব সময় হতে ঢাকার কমলাপুরের জসীমউদ্দিন রোডে থাকতেন।[৪] জসীম উদ্দিন রোডে একটি নির্মাণাধীন হোটেলের দোতলায় আজম খান তার বন্ধুদের নিয়ে আড্ডা দিতেন। এমনই এক আড্ডায় তার বন্ধু (পরবর্তীতে উচ্চারণ ব্যান্ডের গিটারিস্ট) নিলু জলাধারের ঢাকনাকে বাশেঁর কঞ্চি দিয়ে একই তালে আঘাত করে একটি সুর তুলছিলেন। এই সুরের সাথে তাল মিলিয়ে কোন পূর্ব পরিকল্পনা ছাড়াই আজম খান ‘ওরে সালেকা ওরে মালেকা’ গানের মুখরা গেয়ে ওঠেন।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন] বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিনি এই গানটির গীতি ও সুরের পূর্নাঙ্গ রূপ দেন।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]

সংগীত ধারণ[সম্পাদনা]

১৯৭৩ সালে স্পন্দন শিল্পী গোষ্ঠীর’র গায়ক ফিরোজ সাঁই, ফেরদৌস ওয়াহিদের সাথে আজম খানের পরিচয় করিয়ে দেন।[২] এ সময় ফেরদৌস ওয়াহিদ তার বন্ধু ইশতিয়াক, ল্যারি, ইদুকে নিয়ে একটি ইংরেজি গান পরিবেশনের দল গড়েছিলেন যারা হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে গান পরিবেশন করতেন। ফেরদৌস ওয়াহিদ তখন নিয়মিত বাংলা গান গাইতেন না। আজম খানের সাথে পরিচয়ে ফেরদৌস ওয়াহিদ আজম খানের বাংলা গান শুনে মুগ্ধ হন এবং নিজের বাংলা গান সহ আজম খানের গান রেকর্ড করার পরিকল্পনা করেন।[২][৩]

ফিরোজ সাঁইয়ের উৎসাহে ফেরদৌস ওয়াহিদ ও তার বন্ধু সাইদ সিদ্দিকী রুমী (ক্যাটস আই-এর প্রতিষ্ঠাতা), বাবব ও শামীমের মিলিত প্রয়াসে ফার্মগেটের ইন্দিরা রোডে অবস্থিত ঢাকা রেকর্ডিং স্টুডিও অর্ধ দিনের জন্য ২৬০ টাকার বিনিময়ে ভাড়া নিয়েছিলেন। এসময় চারটি গান ধারণ করা হয়েছিল। আজম খানের ‘ওরে সালেকা ওরে মালেকা’ ছাড়াও ‘হাই কোর্টের মাজারে’ গানও ধারণ করা হয়েছিল।[৫] এছাড়া ফেরদৌস ওয়াহিদের গাওয়া ‘চাঁদ জাগে তারা জাগে’ ও ‘দুনিয়াটা কত যে মজার’ গান দুইটিও ধারণ করা হয়েছিল। গানগুলি আজম খানের মেঝো ভাই প্রখ্যাত সংগীত পরিচালক আলম খানের তত্বাবধানে ধারণ করা হয়েছিল।[২][৩][৬][৭]

মুক্তিলাভ, গ্রহণযোগ্যতা ও জনপ্রিয়তা[সম্পাদনা]

মজার ব্যাপার হলো, আজম নিজেও জানত না, তার রেকর্ড বের হয়েছে। মজিদ খান আমার হাতে আজমের রেকর্ডটি দিলেন এবং আমি সেটা লুকিয়ে নিয়ে তার বাসায় গেলাম। আমরা মোট নয়জন ছিলাম। তাকে বললাম, আগে ভরপেট খাওয়া। আমার স্পষ্ট মনে আছে, আজম মোট ৪৬ টাকা খরচ করে শিঙাড়াসহ অনেক কিছু খাওয়াল। এরপর আজমকে আমি রেকর্ডটি দিলাম। সে এত খুশি হলো...তার সেই উচ্ছল মুখ আমার এখনো মনে পড়ে।

—সুমনা শারমিনের প্রতি ফেরদৌস ওয়াহিদ[৭]

গান ধারণের পর ঢাকা রেকর্ডিং স্টুডিও'র কর্ণধার মজিদ খানের উদ্যোগে এবং ফেরদৌস ওয়াহিদের উৎসাহে আজম খানের গানগুলি ভিনাইল লিপির ৩৩ আরপিএম গ্রামোফোন রেকর্ড (নং ১২১০৩৯) আকারে ঢাকা রেকর্ডের ব্যানারে প্রকাশিত হয়। ১৯৭৩ সালে প্রত্যেক কপি রেকর্ডের দাম সাত টাকা পঞ্চাশ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছিল।[৭] সাবিনা ইয়াসমিনের গাওয়া ‘সে যে কেন এলো না’ গানটির জন্য ১৯৭৩ সালের চলচ্চিত্র রংবাজ চলচ্চিত্রের গানের এ্যালবাম ৭-৮ হাজার কপি বিক্রি হয়েছিল।[৩] 'ওরে সালেকা' গান প্রকাশের পর অভাবনীয় জনপ্রিয়তা পায় এবং রংবাজ ছায়াছবির গানের চেয়ে বেশি বিক্রয় হয়।[৩] গানটি দীর্ঘমেয়াদে শ্রোতাদের গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করে।[৮] এই গান প্রকাশের পর ফেরদৌস ওয়াহিদ, ইশতিয়াক আহমেদ 'উচ্চারণ' ব্যান্ডে যোগ দেন।[২] পরবর্তীতে আজম খান এই গানটি বেশ কয়েকবার নতুন সংগীত আয়োজনে গেয়েছেন।

পুনঃউৎপাদন[সম্পাদনা]

গানটি বেশ কয়েকবার নতুন করে ভিন্ন ভিন্ন এলবামের জন্য রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-

  • ১৬ জুন, ২০০৫ তারিখে লেজার ভিশন হতে প্রকাশিত সালেকা মালেকা (রিমিক্স)[৯]
  • ৭ জুলাই, ২০১৫ তারিখে মুঠোফোন সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান গ্রামীণফোন তাদের সংগীত বিষয়ক 'অনলাইন স্ট্রিমিং সেবা' জিপি মিউজিক হতে ''আজম খান গোল্ডেন কালেকশনস' এ্যালবামে গানটি প্রকাশ করে।[১০]
  • প্রিন্স মাহমুদের সংগীত পরিচালনায় সাউন্ডটেক হতে প্রকশিত অভিমানী এ্যালবাম। এই এ্যালবামটি সাউন্ডটেকের অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে ১৮ আগস্ট, ২০১৬ তারিখে অবমুক্ত করা হয়।[১১]

চলচ্চিত্রে ব্যবহার[সম্পাদনা]

২০০৩ সালে আজম খান অভিনীত গডফাদার চলচ্চিত্রে এই গানটি ব্যবহার করা হয়। গানের চিত্রায়নে আজম খান অভিনয় করেন।[১২][১৩] ইমন সাহা চলচ্চিত্রের সংস্করণে গানটির সংগীত পরিচালনা করেন।[১৪] চলচ্চিত্রের সংস্করণটি ইগল মিউজিকের অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে ৬ ফেব্রুয়ারি,২০১৮ তারিখে[১৪] এবং জি-সিরিজ তাদের ইউটিউব চ্যানেল হতে ৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ তারিখে অবমুক্ত করে[১৫]

তথ্যসুত্র[সম্পাদনা]

  1. "অবশেষে একুশে পদক পেলেন আজম খান | banglatribune.com"Bangla Tribune। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০৯-৩০ 
  2. "আজম বলেছিল, গান চালিয়ে যা"প্রথম আলো। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০৯-৩০ 
  3. "ফিরোজ সাঁইয়ের কারণে আজ আমি শিল্পী ফেরদৌস ওয়াহিদ"jugantor.com। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০৯-৩০ 
  4. "আজ গুরুর চলে যাওয়ার দিন"প্রথম আলো। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০৯-৩০ 
  5. Haque, Maqsoodul Haque a k a Mac। "History of Bangladesh Rock : The Legacy of Azam Khan"New Age (ইংরেজি ভাষায়)। 
  6. "আজমের শেষ কথা – আলোকিত বাংলাদেশ"www.alokitobangladesh.com। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০৯-৩০ 
  7. "গানের বাপ-বেটা"archive.prothom-alo.com। ২০১২-০৮-১৭। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০৯-৩০ 
  8. "খান, আজম - বাংলাপিডিয়া"bn.banglapedia.org। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০৯-৩০ 
  9. "Saleka Maleka (Remix) — Azam Khan"Last.fm (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০৯-৩০ 
  10. "আজম খান গোল্ডেন কালেকশনস"banglanews24.com। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০৯-৩০ 
  11. "Ajam Khan - Ovimani - Full Audio Album" 
  12. "ভালো থেকো প্রিয় আজম খান"Jugantor। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০৯-৩০ 
  13. "Azam Khan | Ore Saleka Ore Maleka | Bangla Movie Song | Godfather" 
  14. "Azam Khan | Ore Saleka Ore Maleka | Bangla Movie Song | Godfather" 
  15. "Ore Saleka Ore Maleka | ওরে সালেকা ওরে মালেকা | Azam Khan | Emon Saha | Godfather | Bangla Song 2019" 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]