এ বি এম গোলাম মোস্তফা (কুমিল্লার রাজনীতিবিদ)

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
এ বি এম গোলাম মোস্তফা
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী
কাজের মেয়াদ
১৯৮৮ – ১৯৯১
কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য
দায়িত্বাধীন
অধিকৃত কার্যালয়
২০০৮ - ২০১৪
পূর্বসূরীমঞ্জুরুল আহসান মুন্সী
উত্তরসূরীরাজী মোহাম্মদ ফখরুল
ব্যক্তিগত বিবরণ
জন্ম (1934-02-02) ২ ফেব্রুয়ারি ১৯৩৪ (বয়স ৮৭)
বড়শালঘর গ্রাম, দেবিদ্বার, কুমিল্লা, বেঙ্গল প্রেসিডেন্সি, ব্রিটিশ ভারত
(বর্তমান বাংলাদেশ)
রাজনৈতিক দলবাংলাদেশ আওয়ামী লীগ
জাতীয় পার্টি
সন্তান৬ ছেলে এবং দুই মেয়ে
পিতামাতামফিজউদ্দীন আহমদ
প্রাক্তন শিক্ষার্থীঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

এ বি এম গোলাম মোস্তফা একজন বাংলাদেশী রাজনীতিবিদ, সাবেক সচিব, মন্ত্রী ও সাংসদ। কুমিল্লা-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য। তিনি ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত সংসদ সদস্য।[১][২]

জন্ম ও প্রাথমিক জীবন[সম্পাদনা]

এবিএম গোলাম মোস্তফা (আবুল বশার মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা) ০১-০২-১৯৩৪ খ্রিষ্টাব্দে মফিজ উদ্দিন আহম্মেদ ও নুরুন্নাহার বেগমের ঐরসে তৎকালীন ভারতবর্ষের ছোট্ট ছিম-ছাম ও পরিস্কার পরিচ্ছন্নতায় প্রসিদ্ধ আর শিক্ষানগরী হিসাবে সু-পরিচিত ত্রিপুরা ( বর্তমান কুমিল্লা) জেলা সদরের চর্থা এলাকার নানা নুর মিয়া সাহেবের বাড়িতে জন্মগ্রহন করেন। শৈশব এবং শিক্ষা জীবনের শুরুটিও হয় এখান থেকেই উনার এক খালার হাতে-খড়ির মাধ্যমে। মাত্র ৫ বছর বয়সে ১৯৩৯ খ্রিষ্টাব্দে কুমিল্লা শহরের গিড়িধারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণীতে ভর্তি হন এবং কৃতিত্বের সহিত বার্ষিক পরিক্ষায় প্রথম হয়ে দ্বিতীয় শ্রেনীতে উত্তির্ণ হন। কুমিল্লা জিলা স্কুলে ভর্তি হয়ে তৃতীয় শ্রেণীতে রোল নং ১ হওয়ার কারনে তিনি ক্লস ক্যাপ্টেন নির্বচিত হন এবং মুলত সেই থেকেই নেতৃত্ব প্রদানের প্রাথমিক চর্চা ও মানষিক প্রস্ততি শুরু হয় উনার মাঝে। ১৯৪৪ খ্রিষ্টাব্দে ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে কুমিল্লা জিলা স্কুলে অধ্যায়নকালে পিতার কর্মস্থল পরিবর্তনের কারনে কলকাতার বালিগঞ্জ হাই স্কুলে ভর্তি হন। এবিএম গোলাম মোস্তফা তৃতীয় শ্রেণী থেকে নবম শ্রেণী প্রতি ক্লাসেই প্রথমস্থান অধিকার করেন এবং ১৯৪৯ খ্রিষ্টাব্দে কুমিল্লা জিলা স্কুল থেকে ৪বিষয়ে লেটার মার্ক নিয়ে মেট্রিকে (এসএসসি) পুর্ব পাকিস্থানের মধ্যে মেধা তালিকায় ৫ম স্থান দখল করে নেন। ১৯৫১ খ্রিষ্টাব্দে পুর্ব পাকিস্থানের মধ্যে মেধা তালিকায় দ্বিতীয় হয়ে ইন্টার মেডিয়েট (এইচএসসি) পাশ করেন। ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি বিষয় নিয়ে এই বিভাগে প্রথম স্থান দখল করে নেন। ১৯৫৫ খ্রিষ্টাব্দে একই বিষয়ে মাষ্টার্স কমপ্লিট করে ১৯৫৬ খ্রিষ্টাব্দে পাকিস্তান সেন্ট্রাল সুপরিয়র সার্ভিস ( সিএসপি) মেরিট কোটায় পাকিস্তান সিভিল সার্ভিসে আগ্রহ দেন। এবিএম গোলাম মোস্তফা শিক্ষা জিবনের প্রতিটি স্তরে কৃতিত্ব আর মোধার এক অপুর্ব সমন্বয় ঘটিয়ে স্থাপন করেছেন এক বিরল দৃষ্টান্তের। বালিগঞ্জ হাই স্খুলে অধ্যায়নকালে স্কুল থেকে হিন্দু ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্যোগে স্বরস্বতী পুজা উদজাপন করা হত,তারই ধারাবাহিকতায় এবিএম গোলাম মোস্তফা’র নেতৃত্বে আরো কয়েকজন মুসলিম ছাত্র সর্ব প্রথম ঐতিহ্যবাহী বালিগঞ্জ হাই স্কুলে মিলাদ-মাহফিলের আয়োজন করার অনুমতি আদায় করে তা বাস্তবায়ন করতে আর্থীক সহয়তার জন্য কলকাতার তৎসময়ের বৃহৎ বস্্র বিপনি ওয়াসেক মোল্লা এবং কমলা বস্রালয় থেকে সহযোগীতা নেন এবং তৎকালীন পুর্ব পাকিস্তানের ডেপুটি স্পিকার মোহাম্মদ আলী (বগুড়া) থেকেও কিছু চাদা আদায় করে নেন। পিতা তৎকালীন সময়ের মন্ত্রী থাকা সত্বেও নিজ স্কুলশ্রেণীর ধনি-গরিব সকল শিক্ষার্থীদের সাথেই ছিলেন বন্ধুত্ব সুলভ ও নিরাহংকারী হিসাবে সামাদৃত। স্কুলের বাড়ির কাজ যথাসময়ে সম্পাদনা এবং স্কুলের প্রতিটি শিক্ষকের শিক্ষাদানের সময় মনোযোগীতা শিক্ষকদের কাছেও তিনি হয়ে ওঠেছিলিন প্রিয় ছাত্র। শিক্ষা জিবনের কোথাও কোন হোচট বা বাধা প্রাপ্তি না ঘটায় এবং ধারাবাহিক কৃতিত্বের সহিত মাত্র ১৮ বছরেই প্রতিষ্ঠানিক শিক্ষার সমাপ্তি ঘটিয়ে ঢুকে পড়েন একটি অনবদ্য ও বর্নিল কর্মজিবনে। এবিএম গোলাম মোস্তফা শিক্ষায় যেমনি মেধার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন ঠিক তেমনি উনার কর্মময় ও রাজনৈতিক এবং জনসোবামুলক কর্মকান্ডের প্রতিটি স্তরেই সাফলতা আর দুরদর্শীতা একই সুত্রে গাথা। একটি সফল গুনি মানুষের জিবণকে যতগুলি কৃতিত্বময় উপাদানে বিশেষায়ীত করা যায় তার কোন একটিরও ঘাটতি নেই এই সফল ব্যাক্তির সাফল্য আর জননন্দিত কর্মময়-বর্ণময় জনবান্ধব কর্মকান্ডের ঝুড়িতে। আর তাই উনার কর্মময় ও রাজনৈতিক জিবনের প্রতিটি স্তরেই শিক্ষার উপর গুরুত্বারোপ করেছেন সবচাইতে বেশী। পারিবারিক ঐতিহ্য এবং নিজস্ব কৃতিত্ব এই দুয়ের সমন্বয়ে নিজের জন্মভুমি তথা পৌত্রিক ভিটে-মাটি দেবিদ্বারের মানুষের কাছে একজন সাদা মনের আলোকিত মানুষ হিসাবে একনামে পরিচিত এবিএম গোলাম মোস্তফা- #সম্পাদনাঃ সাংবাদিক মোঃ শাহিদুল ইসলাম।

রাজনৈতিক ও কর্মজীবন[সম্পাদনা]

এ বি এম গোলাম মোস্তফা ১৯৫৬ সালে পাকিস্তান সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা শেষ করে পাকিস্তানের সিভিল সার্ভিসে বেশ কয়েকটি পদে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তিনি বাংলাদেশের প্রথম বেতন কমিশনের সদস্য সহ তিনি ১৬ বছর ৭ টি মন্ত্রনালয়ে সচিব হিসেবে দায়িক্ত পালন করেন।[৩]

জাতীয় পর্টিতে যোগ দিয়ে তিনি ১৯৮৮ সালে জ্বালানি ও প্রাকৃতিক সম্পদ মন্ত্রী এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও পানি সম্পদ মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন।[৩]

তিনি ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি। [৪][৫][৬]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Comilla AL faction blames local MP for vandalising party office"New Age (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২ এপ্রিল ২০১৯ 
  2. "৯ম জাতীয় সংসদে নির্বাচিত মাননীয় সংসদ-সদস্যদের নামের তালিকা"জাতীয় সংসদবাংলাদেশ সরকার। ২০১৬-১১-২৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-১০-৩০ 
  3. "খান সাহেব ছিলেন প্রকৃত দেশপ্রেমিক নাগরিক, যা বর্তমানে বড় অভাব: এবিএম গোলাম মোস্তফা"দৈনিক আমাদের সময়। ১৭ মে ২০১৮। ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  4. "Board of Directors"afc-capital-limited (ইংরেজি ভাষায়)। ২ এপ্রিল ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২ এপ্রিল ২০১৯ 
  5. "Two former ministers join AL"bdnews24.com। সংগ্রহের তারিখ ২ এপ্রিল ২০১৯ 
  6. "Those who get AL ticket"The Daily Star। সংগ্রহের তারিখ ২ এপ্রিল ২০১৯