উইন্ডোজ ও লিনাক্সের মধ্যে তুলনা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

মাইক্রোসফট উইন্ডোজলিনাক্স কম্পিউটার অপারেটিং সিস্টেমের মধ্যে তুলনা সব সময়ই এই দুটির ব্যবহারকারীদের মাঝে একটি অন্যতম আলোচনার বিষয় হয়ে থাকে। বর্তমানে ডেস্কটপ ব্যবহারকারীর দিক থেকে উইন্ডোজ বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও বহুল ব্যবহৃত অপারেটিং সিস্টেম। অপরদিকে লিনাক্স হচ্ছে সবচেয়ে উন্নত, এবং মুক্ত অপারেটিং সিস্টেম। কম্পিউটার হার্ডওয়্যার নির্মাতারা এখন লিনাক্সের জন্যেও বিভিন্ন ড্রাইভার সফটওয়্যার তৈরি করেন। দুটি অপারেটিং সিস্টেমই শুধুমাত্র ডেস্কটপ ও পার্সোনাল কম্পিউটারের ক্ষেত্রে নয়, সার্ভার ও এমবেডেড সিস্টেম বাজারেও যথেষ্ট গুরুত্বের সাথে প্রতিযোগিতা করছে।

এই তুলনাটি উইন্ডোজের তিনটি পরিবারের অপারেটিং সিস্টেমের সাথে সংশ্লিষ্ট, যদিও এটি মূলত এনটি পরিবার কেন্দ্রিক। এদের প্রত্যেকেরই নিজস্ব কোডবেইজ ও নকশা রয়েছে। এই পরিবারগুলো হচ্ছে:

লিনাক্স বিভিন্ন প্রকার সিপিইউ-এর জন্যই প্রযোজ্য। এর মধ্যে আছে আইএ-৩২ (আই৩৮৬ এবং পরবর্তী প্রজন্মের কম্পিউটার প্রসেসর), এক্স৮৬-৬৪ (ইন্টেল প্রসেসরসহ ৬৪ বিটের কম্পিউটার), আইটেনিয়াম, এমআইপিএস, পাওয়ারপিসি, এআরএম, এবং অন্যান্য। যদিও বর্তমান কালের উইন্ডোজ কার্নেল মূলত জোর দেয় প্রথম তিনটির ওপর। কারণ সিপিইউ ধরনের প্রযোজ্যতার ক্ষেত্রে লিনাক্স এখন ডেস্কটপ, ও সার্ভারসহ, রাউটার, সেট-টপ বক্স, পিডিএ, মোবাইল ফোন ইত্যাদি বিভিন্ন যন্ত্রাংশে ব্যবহৃত হচ্ছে। উইন্ডোজ এমবেডেড ঐতিহাসিকভাবে তাদের বাজার শুরু করেছিলো পস (POS) টার্মিনালগুলোতে ডস অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহারের মাধ্যমে। বর্তমান কালে উইন্ডোজ সিই কার্নেল এক মেগাবাইট মেমরির নিচেও চলতে পারে।[১] উইন্ডোজ সিই অপারেটিং সিস্টেম প্লাটফর্ম ব্যবহার করে উইন্ডোজ অটোপিসি, উইন্ডোজ মোবাইল, পোর্টেবল মিডিয়া সেন্টার, এবং অনেক কলকারখানার যন্ত্রাংশ, ও এমবেডেড সিস্টেম চালাচ্ছে। এমন কী ড্রিমকাস্টের কিছু গেইম চালাতেও মাইক্রোসফট উইন্ডোজ সিই অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করছে।

মাইক্রোসফটের উইন্ডোজের বাজার বিশ্বের ডেস্কটপ কম্পিউটার, ও পার্সোনাল কম্পিউটারের ক্ষেত্রে একক আধিপত্য বিস্তার করে আছে। ডেস্কটপ মার্কেট শেয়ারের প্রায় ৯০% মাইক্রোসফটের দখলে, এবং ২০০৭ সালের হিসাব অণুযায়ী ৬৬% সার্ভার কম্পিউটারের কাছে মাইক্রোসফটের অপারেটিং সিস্টেম বিক্রি হয়েছে (যদিও সব ক্ষেত্রে তা ব্যবহৃত হয়েছে এমন প্রমাণ পাওয়া যায় নি)।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন] সার্ভারের ক্ষেত্রে আয়ের পরিমাণ ২০০৭ সালের কিউ৪-এর এক জরিপ অণুসারে মাইক্রোসফটের দখলে ৩৬.৩% ও লিনাক্সের দখলে ১২.৭%।[২] ২০০৯ সালের জুন পর্যন্ত চালিত এক হিসাবে দেখা যায়, বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাশালী সুপার কম্পিউটারগুলোর ৮৮.৬% লিনাক্স ভিত্তিক অপারেটিং সিস্টেম দ্বারা চালিত হয়।[৩] ২০০৮ সালের ডিসেম্বরের এক জরিপে দেখা যায় বিশ্বের প্রধান দশটি ইন্টারনেট হোস্টিং কোম্পানি লিনাক্স দ্বারা চালিত, যেখানে তুলনামূলকভাবে একটি উইন্ডোজ দ্বারা চালিত।[৪]

লিনাক্স ও উইন্ডোজের মধ্যে দর্শনগত, মূল্য, ব্যবহারের সীমা, ক্ষমতা, স্থিতিশীলতার দিক দিয়ে পার্থক্য আছে। যদিও দুক্ষেত্রই তাদের নিজেদের দূর্বলতম দিকগুলো চিহ্নিত করে তা থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছে। তূলনামূলকভাবে তাদের ইতিহাস, উৎপত্তি, ব্যবহাকারী, বিপণন ব্যবস্থা প্রভৃতির মধ্যেও পার্থক্য রয়েছে। লিনাক্সের ক্ষেত্রে একটি সাধারণ দুর্বলতা হচ্ছে ব্যবহারে ক্ষেত্রে বন্ধুভাবাপন্নতায় ঘাটতি ও জটিলতা,[তথ্যসূত্র প্রয়োজন] যেখানে মাইক্রোসফট উইন্ডোজের প্রধানতম সমস্যা হচ্ছে ভাইরাস এবং ম্যালওয়্যার[৫]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Windows Embedded Technical Specification"। ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১০ 
  2. "Worldwide Server Market Experiences Modest Growth in Fourth Quarter as Market Revenues Reach Seven-Year High in 2007, According to IDC"IDC। ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০০৮। ২০০৮-০৫-০৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০০৮-০৩-০৮ 
  3. "Operating system Family share for 6/2009"। ১৪ নভেম্বর ২০১১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১০ 
  4. "New York Internet and WestHost are the Most Reliable Hosting Companies in December 2008"। Netcraft। ২০০৯-০১-০২। সংগ্রহের তারিখ ২০০৯-০৭-১৮ 
  5. Kalkuhl, Marcus; Preuss, Marco (২০০৯-০৮-১৪)। "MalwareBeyondVistaandXP"Viruslist.com। Kaspersky Lab। সংগ্রহের তারিখ ২০০৯-১২-১৭ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]