ইফ্‌ফাত আরা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
ইফ্‌ফাত আরা
Shamsun-Nahar-Iffat-Ara-2006.jpg
২০০৬ এ তোলা ইফ্‌ফাত আরা এর ছবি
জন্ম
শামসুন নাহার ইফ্‌ফাত আরা

১৯৩৯
নাগরিকত্ব ব্রিটিশ ভারত (১৯৪৭ সাল পর্যন্ত)
 পাকিস্তান (১৯৭১ সালের পূর্বে)
 বাংলাদেশ
শিক্ষামাষ্টার্স (বাংলা ভাষা ও সাহিত্য)
মাতৃশিক্ষায়তনআনন্দমোহন কলেজ
পেশা
  • কবি
  • ঔপন্যাসিক
  • প্রাবন্ধিক
  • সমাজকর্মি
  • সাহিত্যে সংগঠক
দাম্পত্য সঙ্গীএ্যাডভোকেট আবদুল লতিফ তালুকদার
সন্তান৩ জন (২ ছেলে ও ১ মেয়ে)

শামসুন নাহার ইফ্‌ফাত আরা, ইফ্‌ফাত আরা নামে পরিচিত, একই সাথে লেখক, সমাজকর্মী ও বাংলা সাহিত্যের অন্যতম সংগঠক। প্রথাগতভাবে তার সাহিত্যের কর্মজীবন শুরু করেন ১৯৫০-এর শেষের দিকে দেশের অন্যতম প্রসিদ্ধ পত্রিকাগুলিতে ছোটগল্প প্রকাশের মধ্যদিয়ে। মাসিক আজাদ তাদের মধ্যে অন্যতম ছিল।

প্রারম্ভিক জীবন[সম্পাদনা]

ইফ্‌ফাত আরা কিশোরগঞ্জ শহরে ১৯৩৯ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম মৌলভী কাজী আবদুল হাকিম এবং মাতা হাফিজা খানম।[১] প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার জন্যে ছোটবেলা থেকেই তাকে সংগ্রাম করে চলতে হয়েছে। কোরআন শরীফ পাঠ শিক্ষা নেবার জন্যে নিজ বাসগৃহে আরবি ভাষা থেকেই তার শিক্ষা জীবন শুরু। তিনি ময়মনসিংহ মুসলিম বালিকা বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ করেন এবং তাকে বিদ্যালয় থেকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয় কারণ তৎকালীন সময়ে মেয়েদের উচ্চ শিক্ষাকে অপ্রয়োজনীয় হিসাবে দেখা হতো [১]

ইফ্‌ফাত আরা বিদ্যাময়ী সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হন। তার মাধ্যমিক শিক্ষা শেষ হবার আগেই বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। পরবর্তীতে তৎকালীন মেট্রিক (এস এস সি এর সমমান) পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন এবং উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন মুমিনুন্নিসা সরকারি মহিলা কলেজ থেকে। একই প্রতিষ্ঠান থেকে তিনি ১৯৬৬ সালে স্মাতক ডিগ্রি লাভ করে ময়মনসিংহ মহিলা শিক্ষক প্রশিক্ষণ মহাবিদ্যালয় হতে ১৯৬৯ সালে বি এড (ব্যচেলর অব এডুকেশন) সম্পুর্ণ করেন। পরবর্তীতে ১৯৭৯ সালে আনন্দমোহন কলেজ থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে এম এ (মাষ্টার্স ইন আর্টস) ডিগ্রি অর্জন করেন।

কর্মজীবন[সম্পাদনা]

ইফ্‌ফাত আরা ১৯৬৮ সালে নাসিরাবাদ বালিকা বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষিকা হিসাবে যোগদান করেন এবং একই প্রতিষ্ঠান থেকে ১৯৭২ সালে প্রধান শিক্ষিকা হিসাবে অবসর গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে ময়মনসিংহ হতে প্রকাশিত সাপ্তাহিক বাংলার দর্পন এর মহিলা পাতার সম্পাদিকা হিসাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৭৩ সালে একই প্রকাশনা যখন মাসিক চন্দ্রাকাশ মহিলা পত্রিকা প্রকাশের উদ্দোগ নেয় তাকে সেখানে প্রধান সম্পাদক হিসাবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। চন্দ্রকাশে তিনি ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত সক্রিয় ছিলেন।

নারী আন্দোলন[সম্পাদনা]

ময়মনসিংহে নারী স্বাধীনতা বা নারী আন্দোলনের প্রধান রূপকার ইফ্‌ফাত আরা[তথ্যসূত্র প্রয়োজন], ১৯৬০ সাল থেকে তিনি তৎপর। ১৯৬৬ সালে তিনি অল পাকিস্তান ওমেনস এ্যসোসিয়েশনস এর সদস্যপদ প্রাপ্তির পর থেকে সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে আরো সক্রিয় হয়ে উঠেন। ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের জন্মলগ্নেই তিনি সমমনা কয়েকজনের সাথে মিলিত হন তাদের মধ্যে লেখিকা হেলেনা খান, সুফিয়া করিম, রাজনীতিবিদ মরিয়ম হাসিমুদ্দিন উল্লেখযোগ্য এবং মহিলা সমিতি গঠনের উদ্যোগ নেন। তার হাত ধরেই ময়মনসিংহে জাতীয় মহিলা সংস্থার অধ্যায়ের সূচনা হয় যা পরবর্তীতে সরকারী পৃষ্ঠপোষকতা পায়। ময়মনসিংহ শহরে ১৯৮৮ সালে উদয়ন উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠোয় তিনি ভূমিকা পান করেন।

প্রকাশনা[সম্পাদনা]

ইফ্‌ফাত আরার নিজ নামে নয়টি বই প্রকাশ হয়েছে, সেগুলি উপন্যাস, ছোটগল্প সমগ্র ও শিশুদের জন্যে সাধারণ জ্ঞান ও প্রবন্ধ। তিনি বাংলাদেশের জনপ্রীয় কবিতা নামে সংকলিত কাব্যগ্রন্থ সম্পাদনা করেন যেখনে মূলতঃ ১৮০০ শতকের পরবর্তী বাংলা কবিতার সংকলন করা হয়।[২] মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের জন্যে তার সাধারণ জ্ঞান বিষয়ক বই শোনা আছে জানা নাই এক অনবদ্য অবদান ১৯৯০ হতে নিয়মিত এর হালনাগাদ সংস্করন প্রকাশ হচ্ছে এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে তথ্যসূত্র হিসাবে ব্যবহৃত হয়। ২০০০ সালে তার উপন্যাস সুখ যখন শেষ বেলায় প্রকাশিত হয়। বর্তমানে তিনি কিশোরদের জন্যে ছোট গল্পসমগ্র এর কাজ করছেন।

দ্বিতীয় চিন্তা প্রকাশনা[সম্পাদনা]

১৯৮৬ সালে নিজ বাসগৃহে একখানা ছাপাখানা মেশিন বসান এবং চিন্তা নামে মাসিক সাহিত্য বিষয়ক পত্রিকা প্রকাশ করেন পরবর্তীতে ১৯৮৮ সালে পত্রিকাটি দ্বিতীয় চিন্তা নামে পরিবর্তিত হয়। দ্রুত তার গৃহ সেনবাড়ী রোডের ইফফাত ম্যানসন পত্রিকা প্রকাশের স্থান হয়ে উঠে ময়মনসিংহ এর সাহিত্যচর্চার কেন্দ্রস্থল হয়ে উঠে। ১৯৯৯ সালের কবি জীবনানন্দ দাশ এর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে দ্বিতীয় চিন্তা এক বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ করে যা সৃজনশীল পরিকল্পনা, উচ্চমানের সম্পাদনা ও সংকলন এর অসামান্য নিদর্শন। দ্বিতীয় চিন্তায় স্থানীয় লেখক ও সাহিত্যিক ছাড়াও অনেক প্রসিদ্ধ সাহিত্যিকের নিবন্ধ ও কবিতা ছাপা হয়।[১][৩]

ব্যক্তিগত জীবন[সম্পাদনা]

ইফ্‌ফাত আরা ১৯৫৫ সালে আইনজীবি ও রাজনীতিবিদ আবদুল লতিফ তালুকদারের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। শিক্ষার প্রতি আগ্রহ থেকে স্বামীর সহযোগীতায় বৈবাহিক জীবনের দশ বছর পরেও পুনবার শিক্ষায় ফিরে আসেন এবং স্মাতক, বি এড ও স্মাতকোত্তর ‍ডিগ্রি লাভে সমর্থ হন। ব্যক্তিগত জীবনে এই দম্পতির দুই ছেলে এবং এক মেয়ে রয়েছে।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "ইফ্‌ফাত আরা - একজন মার্জিত লেখক" (ইংরেজি ভাষায়)। দ্যা ডেইলি ষ্টার। ফেব্রুয়ারি ০৩, ২০০৭। সংগ্রহের তারিখ 8 ডিসেম্বর 2016  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |তারিখ= (সাহায্য)
  2. লেখক অভিধান। ঢাকা: বাংলা একাডেমী। ১৯৯৯। 
  3. "সাহিত্যের আড্ডা থেকে আবির্ভাব"। দৈনিক কালের কণ্ঠ। ৮ অক্টোবর ২০১৬। সংগ্রহের তারিখ ৮ ডিসেম্বর ২০১৬