ইউখারি গোভহার আগা মসজিদ
| ইউখারি গোভহার আগা মসজিদ | |
|---|---|
২০২৪ সালে পুনঃসংস্কারকৃত মসজিদ | |
| ধর্ম | |
| অন্তর্ভুক্তি | শিয়া ইসলাম |
| অবস্থান | |
| অবস্থান | শূষা |
| দেশ | আজারবাইজান |
আজারবাইজানে মসজিদের অবস্থান | |
| স্থানাঙ্ক | ৩৯°৪৫′৩৬″ উত্তর ৪৬°৪৫′০৯″ পূর্ব / ৩৯.৭৬০০° উত্তর ৪৬.৭৫২৬° পূর্ব |
| স্থাপত্য | |
| স্থপতি | কারবালাই সাফিখান কারাবাখি |
| ধরন | মসজিদ স্থাপত্য |
| স্থাপত্য শৈলী | ইসলামী স্থাপত্য |
| প্রতিষ্ঠাতা | ইব্রাহিম খালিল খান |
| ভূমি খনন | হিজরি 1182 (১৭৬৮/১৭৬৯) |
| সম্পূর্ণ হয় | ১৮৮৫ |
| মিনার | ২ |
ইউখারি গোভহার আগা মসজিদ (আজারবাইজানি: Yuxarı Gövhər Ağa Məscidi), যাকে মাঝে মাঝে বড় গোভহার আগা জামে মসজিদ (আজারবাইজানি: Böyük Cümə Gövhər Ağanın Məscidi) বলা হয়, আজারবাইজানের শূষা শহরে অবস্থিত একটি শিয়া মসজিদ।[১]
ইতিহাস
[সম্পাদনা]"ইউখারি" অর্থ "উচ্চ" — মসজিদটি শূষা শহরের উপরের অংশে অবস্থিত, যেখানে এর নামকরণ থেকে আশাঘি (নিচের) গোভহার আগা মসজিদ থেকে পার্থক্য করা হয়েছে। উভয় মসজিদই শূষার প্রতীক এবং প্রাচ্য স্থাপত্যের শ্রেষ্ঠ নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত হয়।[২]
মসজিদটি ইব্রাহিম খালিল খান-এর আদেশে হিজরি 1182 (১৭৬৮/১৭৬৯) সালে নির্মাণ শুরু হয়েছিল, তবে তা দীর্ঘ সময় থেমে ছিল। পরবর্তীতে তাঁর কন্যা গোভহার আগা-এর নির্দেশে কারবালাই সাফিখান কারাবাখি মসজিদটির নির্মাণ কাজ ১৮৮৩–১৮৮৫ সালের মধ্যে শেষ করেন।[৩]
স্থাপত্য
[সম্পাদনা]মসজিদের নামাজঘরটি তিনটি নাভ বিশিষ্ট বর্গাকার কক্ষ (১৯০ বাই ১৮৫ মিটার (৬২৩ বাই ৬০৭ ফুট)), যা ছয়টি পাথরের স্তম্ভ দ্বারা বিভক্ত। উত্তরের দিকে একটি তিন-মুখী বারান্দা (২৬.৫ বাই ২১.৫ মিটার (৮৭ বাই ৭১ ফুট)) রয়েছে। মসজিদের দুটি মিনার রয়েছে, যা সম্মুখভাগে অবস্থিত। নারীদের জন্য নির্ধারিত উপরের গ্যালারিও ছিল। মসজিদের মূল কাঠামো পাথর দ্বারা নির্মিত, কিন্তু মিনার দুটি ইট দিয়ে তৈরি। মিনারগুলি নলাকার আকৃতির এবং দৃষ্টিনন্দন ইটের বিন্যাসে নির্মিত হয়েছে—যা কারাবাখ অঞ্চলে কারবালাই সাফিখান নির্মিত অন্যান্য মসজিদেও দেখা যায়।[১]
বর্তমান অবস্থা
[সম্পাদনা]সোভিয়েত যুগে মসজিদটি বন্ধ করে একটি জাদুঘরে রূপান্তরিত করা হয়েছিল। ১৯৮৮ সালে তা আবার চালু হয়। কিন্তু ১৯৯২ সালের শূষা যুদ্ধের পর মসজিদে নামাজ বন্ধ হয়ে যায়।[৪]
২০০৮–২০০৯ সালের মধ্যে ছাদ সংস্কারসহ কিছু মেরামতের কাজ শুরু হয়। পরে নাগোর্নো-কারাবাখ প্রশাসনের উদ্যোগে ইরানি বিশেষজ্ঞদের দিয়ে সংস্কার কাজ শুরু হয়। আজারবাইজানি কর্তৃপক্ষ এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে, তাদের মতে এটি ছিল দখলকৃত অঞ্চলে আজারবাইজানি সংস্কৃতি মুছে ফেলার প্রচেষ্টা।[৫]
২০১৯ সালের ১৪ অক্টোবর মসজিদ, সংলগ্ন মাদ্রাসা ও পার্ক পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। এটি আর্মেনিয়ান ও ইরানি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছিল, যেখানে আজারিদের ইতিহাসের উল্লেখ ছিল না।[৬]
২০২০ সালের ১৩ নভেম্বর, ২৮ বছর পর মসজিদে প্রথম জুমার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়, আজারবাইজানি সেনাদের অংশগ্রহণে।[৭]
২০২১ সালের শেষ দিকে হেইদার আলিয়েভ ফাউন্ডেশনের আর্থিক সহায়তায় মসজিদের পূর্ণ সংস্কার কাজ শুরু হয়।[৮]
গ্যালারি
[সম্পাদনা]- ২০১০ সালে মসজিদ
- ২০১৪ সালের দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে দৃশ্য
- ২০১৫ সালে
- একটি পুনঃসংস্কারকৃত মিনার
- ২০১৯ সালে দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে দৃশ্য
- স্থাপত্য পরিকল্পনা
- আজারবাইজানের ডাকটিকিটে মসজিদ
আরও দেখুন
[সম্পাদনা]তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- 1 2 "Shusha State Historical & Architectural Reserve"। ৪ অক্টোবর ২০১০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২০ জুলাই ২০১০।
- ↑ "PACE – Urgency to prevent the destruction of cultural monuments in the Armenian-occupied town of Shusha of Azerbaijan"। সংগ্রহের তারিখ ২০ জুলাই ২০১০।
- ↑ Avalov, Elturan (১৯৭৭)। Архитектура города Шуши и проблемы сохранения его исторического облика (রুশ ভাষায়)। Baku: Elm। পৃ. ৫৪।
- ↑ "Human Rights group"। ২৬ জুলাই ২০১১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৩ জুলাই ২০১০।
- ↑ "Azerbaijan reacts to Iranian company restoring mosque in Shusha"। ৩ আগস্ট ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২ আগস্ট ২০১৭।
- ↑ "Karabakh's contentious mosque restoration"। Eurasianet (ইংরেজি ভাষায়)।
- ↑ "İyirmi səkkiz ildən sonra Şuşada cümə namazı qılındı"। ১৩ নভেম্বর ২০২০। ২০ নভেম্বর ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২ জুন ২০২৫।
- ↑ "Yukhary Govhar Agha Mosque"। Heydar Aliyev Foundation। ২০২৪। সংগ্রহের তারিখ ২৩ ডিসেম্বর ২০২৪।
বহিঃসংযোগ
[সম্পাদনা]টেমপ্লেট:আজারবাইজানের মসজিদসমূহ টেমপ্লেট:শূষা ঐতিহাসিক ও স্থাপত্য সংরক্ষণ এলাকা