আহমেদ ইলিয়াস

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
আহমেদ ইলিয়াস
জন্ম১৯৩৪[১]
জাতীয়তাবাংলাদেশি
পেশাসাহিত্যিক, মানবাধিকার কর্মী, সাংবাদিক

আহমেদ ইলিয়াস হলেন একজন উর্দুভাষী বাংলাদেশি, যিনি উর্দু ভাষায় সাহিত্যচর্চা করে থাকেন ও বিহারিদের মানবাধিকার নিয়ে কাজ করে থাকেন। তিনি বেসরকারি সংস্থা আল ফালাহ বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক।[২][৩] সংস্থাটি বাংলাদেশে বসবাসকারী উর্দুভাষীদের মানবাধিকার নিয়ে কাজ করে থাকে।[৪] তিনি উর্দু সাহিত্যিক ফয়েজ আহমেদ ফয়েজের লায়েল উন নাহার নামের সাপ্তাহিক সংবাদপত্রে কাজ করেছেন।[৫]

জীবনী[সম্পাদনা]

আহমেদ ইলিয়াস ১৯৩৪ সালে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন। জন্মের পর মাকে হারান তিনি। জন্মের কিছু বছর পর তার বাবা সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন।

দেশ ভাগের পর ১৯৫৩ সালে তিনি পাকাপাকিভাবে ঢাকায় চলে আসেন। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন তাকে আকৃষ্ট করেছিল।[১] তৎকালীন পাকিস্তান সরকার রবীন্দ্রসঙ্গীত নিষিদ্ধ করলে তিনি এর বিরুদ্ধে অবস্থান নেন।[৬]

তার কর্মজীবন শুরু হয় জিওলজিকাল সার্ভে অব পাকিস্তানে। প্রগতিশীল ধ্যানধারণার অধিকারী হবার দরুন তিনি চাকরিটি ছেড়ে দেন ও জাতীয় প্রেস ক্লাবে চাকরি নেন। ১৯৬৪ সালে তিনি উর্দু ভাষার সংবাদপত্র পাশবন এ যোগ দেন। তিনি উর্দু সাহিত্যিক ফয়েজ আহমেদ ফয়েজের লায়েল উন নাহার নামের সাপ্তাহিক সংবাদপত্রের ঢাকা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেছেন।[৫] ১৯৭০ সালে তিনি পত্রিকাটির সম্পাদনা পর্ষদে যুক্ত হন।[১]

১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর তিনি এদেশ ত্যাগ করেন নি। ১৯৭২ সালে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত বিশ্ব উর্দু সম্মেলনে বাংলাদেশের একমাত্র প্রতিনিধি ছিলেন তিনি।[৬] ১৯৭৩ সালে তিনি হিড বাংলাদেশ নামের এক বেসরকারি সংস্থায় যোগ দেন।[১] সংস্থাটি আটকে পড়া পাকিস্তানীদের অধিকার নিয়ে কাজ কর‍ত। ১৯৮১ সালে তিনি আল ফালাহ বাংলাদেশ নামের একটি বেসরকারি সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন।[১]

আহমেদ ইলিয়াস বাঙালি-অবাঙালি, সব ধরনের যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের স্বপক্ষে।[১] তিনি বিহারিদের বাংলাদেশি ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তিকরণ ও তাদের বাংলাদেশি নাগরিকত্ব লাভে অবদান রেখেছেন। তার তত্ত্বাবধায়নে দশজন বিহারি যুবক উচ্চ আদালতে তাদের ভোটাধিকার ও নাগরিকত্ব অধিকার লাভের জন্য গিয়েছিল।[১] সেই ধারাবাহিকতায় আটকে পড়া পাকিস্তানীরা এদেশের নাগরিকত্ব ও ভোটাধিকার লাভ করে।

এছাড়াও, তিনি বাংলাদেশে উর্দু ভাষা ও সাহিত্য পুনরুজ্জীবিত করতে কাজ করছেন। তিনি তার এই কাজে সাথে পেয়েছেন কামাল লোহানীআসাদ চৌধুরীর মত ব্যক্তিদের।[১]

এপর্যন্ত ৬ টি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে তার।[৬] তিনি আটকে পড়া পাকিস্তানীদের নিয়ে বিহারি:ইন্ডিয়ান এমিগ্রিস ইন বাংলাদেশ নামের একটি গবেষণা গ্রন্থ রচনা করেন। তার রচিত কাব্যগ্রন্থে বাংলাদেশে আটকে পড়া পাকিস্তানীদের দুর্দশার কথা ফুটে উঠেছে। দরিদা, আয়নে-রেয প্রভৃতি কাব্যগ্রন্থে এর নজির দেখা যায়।[৫]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "In Pursuit of Cultural Pluralism in Bangladesh"The Daily Star। ১৯ জুলাই ২০১৪। সংগ্রহের তারিখ ২৬ জুন ২০১৯ 
  2. "AL-FALAH BANGLADESH"www.alfalah.com.bd 
  3. "A Place to Call Home"The Daily Star। সংগ্রহের তারিখ ২৬ জুন ২০১৯ 
  4. "Urdu-speaking community marginalised, but reconciling"The Daily Star। ৯ সেপ্টেম্বর ২০১৫। সংগ্রহের তারিখ ২৬ জুন ২০১৯ 
  5. "বাংলাদেশের উর্দুভাষী মানুষ ও কবির আর্তি"প্রথম আলো। ২৬ জুন ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ২৬ জুন ২০১৯ 
  6. "বাংলাদেশে বিহারি ডায়াসপোরা সাহিত্য"বিডিনিউজ২৪.কম। ১৪ নভেম্বর ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ২৬ জুন ২০১৯