আসগর খান

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
২০০০-এর দশকের শেষের দিকে আসগর

আসগর খান (১৭ জানুয়ারী ১৯২১ - ৫ জানুয়ারী ২০১৮)[১] পাকিস্তান বিমান বাহিনীর একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ছিলেন, এছাড়াও তিনি একজন রাজনীতিবিদ এবং বই লেখক হিসেবে জীবন যাপন করেছেন বিমান বাহিনী থেকে ১৯৬০-এর দশকে অবসরপ্রাপ্তির পর। ১৯৬৮ সালে তিনি 'তেহরিক-এ-ইশতিকলাল' নামের একটি মধ্যমপন্থী রাজনৈতিক দল গড়ে তুলেছিলেন যে দলটিকে তিনি ২০১১ সালে সাবেক ক্রিকেট খেলোয়াড় ইমরান খানের রাজনৈতিক দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের সঙ্গে মিলিত করে দেন।[২]

১৯২১ সালে জম্মু এবং কাশ্মীরে জন্মগ্রহণ করেছিলেন আসগর। ১৯৩৮ সালে আসগর ভারতীয় সামরিক একাডেমীতে যোগ দিলেও তিনি ওখান থেকে বাদ পড়ে যান, তার ইচ্ছে ছিলো ব্রিটিশ ভারতীয় সেনাবাহিনীতে চাকরি করার কারণ তার বাবা এবং এক ভাই সেনাতে ছিলেন। আসগর যদিও পরে ১৯৪১ সালে রাজকীয় ভারতীয় বিমান বাহিনীতে যোগ দেন ক্যাডেট (বৈমানিক প্রশিক্ষণার্থী) হিসেবে। ১৯৪১ সালেই মাত্র নয় মাসে তিনি তার মৌলিক বিমান বিষয়ক উড্ডয়ন প্রশিক্ষণ শেষ করেন কারণ তখন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলছিলো তাই খুব দ্রুত প্রশিক্ষণার্থী বৈমানিকদের কমিশন দেওয়া হচ্ছিলো। কমিশন পেয়ে তিনি নং ৯ স্কোয়াড্রন-এ বৈমানিক হিসেবে যোগ দেন। তিনি বিমান উড্ডয়ন করেন, বিমান থেকে গোলা বর্ষণ করেন এবং কয়েক বছরের মধ্যেই নং ১১ স্কোয়াড্রনে বদলী হন এবং ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট অর্জন সিংহের সঙ্গে তার পরিচয় হয়, এই অর্জন সিংহ ১৯৬০-এর দশকে ভারতীয় বিমান বাহিনীর প্রধান কর্মকর্তা ছিলেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বার্মা অভিযানে লড়াই করে আসগর ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্রে বাস করবেন বলে সিদ্ধান্ত নেন, তখন তার পদবী ছিলো স্কোয়াড্রন লিডার এবং নব রাষ্ট্র পাকিস্তানের রাজকীয় পাকিস্তান বিমান বাহিনীতে তিনি উইং কমান্ডার হয়ে যান রাতারাতি; এরপরের পদবীগুলো - গ্রুপ ক্যাপ্টেন এবং এয়ার কমোডোরও আসগর খুব দ্রুত পেয়েছিলেন, তখন পাকিস্তান বিমান বাহিনী নবগঠিত ছিলো এবং লোকবল কম ছিলো। পাকিস্তান রাষ্ট্রের জনক মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ, ইস্কান্দার মীর্জা এবং সেনাপ্রধান (পরে রাষ্ট্রপতি) জেনারেল আইয়ুব খান সহ পঞ্চাশের দশকের সব রাজনীতিকদের সঙ্গে আসগরের ছিলো খুব ভালো সম্পর্ক এবং আসগর ১৯৫৭ সালে এয়ার ভাইস মার্শাল পদবীতে পাকিস্তান বিমান বাহিনী প্রধান পদে আসীন হন মাত্র ৩৬ বছর বয়সে এবং আইয়ুব রাষ্ট্রপতি হলে এয়ার মার্শাল হন, ১৯৬৫ সালের ২২শে জুলাই তারিখ পর্যন্ত আসগর বিমান বাহিনীতে চাকরি করেছিলেন এবং কর্মজীবনে তিনি পাকিস্তান বিমান বাহিনীর আধুনিকায়নে অনেক মনোযোগ দিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র বিমান বাহিনীর অনেক বিমান পাকিস্তানে আনা হয়েছিলো ১৯৬৫ সালের পাক-ভারত যুদ্ধের জন্য, পাকিস্তান বিমান বাহিনীর বহরে তখনকার দূর্ধ্বর্ষ লড়াকু বিমান এফ-৮৬ ভারতের সঙ্গে যুদ্ধ করেছিলো।[৩]

২০১৮ সালে ৯৭ বছর বয়সে বার্ধক্যজনিত নানান সমস্যায় ভুগে রাওয়ালপিন্ডির সামরিক হাসপাতালে আসগর মারা যান।[১]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Webdesk, staff (৬ জানুয়ারি ২০১৮)। "Air Marshal Asghar Khan laid to rest"thenews.com.pk (ইংরেজি ভাষায়)। News International, 2018। News International। সংগ্রহের তারিখ ১১ এপ্রিল ২০১৮ 
  2. "Imran greets Asghar as Tehrik-e-Istaqlal, PTI merge"Dunyanews.tv। সংগ্রহের তারিখ ৫ জানুয়ারি ২০১৮ 
  3. Alvi, Mumtaz (২১ অক্টোবর ২০১১)। "Asghar Khan claims Pakistan attacked India four times since 1947"The News International, October 2011। ৩১ মার্চ ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৫ মার্চ ২০১২ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]