আলাপ:গৃহকর্মী সুরক্ষা ও কল্যাণ নীতি ২০১৫

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

নিবন্ধ সম্প্রসারণের জন্য কিছু টেকস্ট[সম্পাদনা]

আগ্রহী উইপিডিয়ানরা যাতে সহজেই নিবন্ধ সম্প্রসারণ করতে পারেন সেই লক্ষ্যে কিছু টেকস্ট নিচে সংরক্ষণ করা হলো: [১]
মহিলা ও পুরুষ গৃহকর্মীদের শ্রমিক হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে একটি নীতিমালা অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। ‘গৃহকর্মী সুরক্ষা ও কল্যাণনীতি’র মাধ্যমে দেশের প্রায় ২৫ লাখেরও বেশি গৃহশ্রমিক তাদের কাজের জন্য সরকারি স্বীকৃতি পাবেন। একই সঙ্গে স্ব-বেতনে চার মাসের মাতৃত্বকালীন ছুটি ছাড়াও অন্য ছুটি ভোগ করতে পারবেন গৃহকর্মীরা।

অনুমোদিত ‘গৃহকর্মী সুরক্ষা ও কল্যাণনীতি, ২০১৫’-এ বলা হয়েছে, প্রত্যেক মাসের ৭ তারিখের মধ্যে বেতন পরিশোধ, চাকরি অপসারণের ক্ষেত্রে এক মাস আগে না জানালে ৩০ দিনে মজুরি প্রদান, নারী গৃহকর্মীর মাতৃত্বকালীন সময়ে স্ব-বেতন ১৬ সপ্তাহ ছুটি এবং কর্মক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণসহ শ্রম আইন অনুযায়ী সুবিধা পাবেন গৃহকর্মীরা। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের বলেন, এ নীতিমালা অনুমোদন পাওয়ায় শ্রম আইন অনুযায়ী গৃহকর্মীরা বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পাবেন। সর্বনিম্ন ১৪ বছরের কাউকে গৃহকর্মী নিয়োগ দেয়া যাবে। তবে ১২ বছর বয়সের কাউকে গৃহকর্মী রাখতে হলে তার আইনানুগ অভিভাবকের সঙ্গে তৃতীয় কোনো পক্ষের উপস্থিতিতে নিয়োগকারীকে আলোচনা করতে হবে। গৃহকর্মীদের শ্রম ঘণ্টা এবং বেতন আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে ঠিক করতে হবে। এ নীতিমালা অনুমোদনের ফলে গৃহকর্ম শ্রম হিসেবে স্বীকৃত পাবে এবং চার মাসের মাতৃত্বকালীন ছুটি পাবেন গৃহকর্মীরা। নীতিমালায় গৃহকর্মীদের বিশ্রামের পাশাপাশি বিনোদনের সময় দেয়ারও নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। গৃহকর্মী নির্যাতনের বহু অভিযোগের প্রেক্ষাপটে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, নির্যাতন করলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী সরকার ব্যবস্থা নেবে। তবে, গৃহকর্মীদের সুনির্দিষ্ট বেতন কাঠামো নিয়ে কোনো কথা এ খসড়া নীতিমালায় নেই। এ ক্ষেত্রে গৃহকর্মী ও নিয়োগকর্তা পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে আলোচনা সাপেক্ষে বেতন নির্ধারণ করবেন। একই সঙ্গে শ্রম ঘণ্টার বিষয়টিও নিয়োগকর্তা এবং গৃহকর্মী আলোচনা সাপেক্ষে ঠিক করবেন। নীতিমালায় সাপ্তাহিক বা মাসিক ছুটির কথাও উল্লেখ করা হয়নি। দেশে কতজন গৃহকর্মী আছেন তার কোনো হিসাব সরকারের কাছে নেই। কিন্তু, এ নীতিমালা অনুযায়ী গৃহকর্মীদের জন্য আলাদা তথ্যভাণ্ডার গড়ে তুলবে সরকার। গৃহশ্রমিকদের নিয়ে কাজ করা ‘গৃহশ্রমিক অধিকার প্রতিষ্ঠা নেটওয়ার্ক’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের তথ্য মতে, বাংলাদেশে ২০ লাখের বেশি গৃহশ্রমিক রয়েছেন। অনুমোদিত নীতিতে গৃহকর্মীর সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, গৃহকর্মী বলতে এমন কোনো ব্যক্তিকে বোঝাবে যিনি নিয়োগকারীর গৃহে মৌখিক বা লিখিতভাবে খণ্ডকালীন বা পূর্ণকালীন নিয়োগের ভিত্তিতে গৃহকর্ম সম্পাদন করেন। এ ক্ষেত্রে মেস বা ডরমিটরিও গৃহ হিসেবে বিবেচিত হবে।

গৃহকর্মীদের সুবিধা

খসড়া নীতি অনুযায়ী গৃহকর্মীদের জন্য শোভন কাজ ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা, বিশ্রাম, বিনোদন এবং ছুটির অধিকার দান, একজন শ্রমিক হিসেবে যা যা দরকার একজন গৃহকর্মীকে তার সব সুবিধা দিতে হবে নিয়োগকর্তাকে।

মহিলা গৃহকর্মীরা মাতৃত্বকালীন সময়ে প্রসবের আগে চার সপ্তাহ এবং পরে ১২ সপ্তাহ মিলিয়ে মোট ১৬ সপ্তাহ স্ববেতন ছুটি কাটাতে পারবেন। ১২ বছর বয়সীদের আইনানুগ অভিভাবকের সঙ্গে আলোচনাক্রমে গৃহকর্মী হিসেবে নিয়োগ করা যাবে। তবে, ১৮ বছরের আগ পর্যন্ত তাদের হাল্কা কাজের দায়িত্ব দিতে হবে।

গৃহকর্মীদের কর্মঘণ্টা বিন্যাসে পর্যাপ্ত ঘুম, বিশ্রাম, চিত্তবিনোদন এবং প্রয়োজনীয় ছুটির ব্যবস্থা রাখতে হবে। অসুস্থ গৃহকর্মীকে নিয়োগকর্তা নিজের দায়িত্বে চিকিৎসা করাবেন। গৃহকর্মী ধর্মীয় স্বাধীনতা ভোগ করবেন এবং কর্মক্ষেত্রে গৃহকর্মীর কোনো ক্ষতি হলে তার ক্ষতিপূরণ দিতে হবে মালিককে।

নিয়োগকর্তার দায়িত্ব

খসড়া নীতিমালা অনুযায়ী গৃহকর্মীর প্রতি মানবিক আচরণ করবেন। অশালীন আচরণ, দৈহিক আঘাত বা মানসিক নির্যাতন করা যাবে না। গৃহকর্তাকে নীতিমালায় উল্লিখিত সকল সুযোগ-সুবিধা গৃহকর্মীকে প্রদান করবেন। তিনি সার্বজনীন মানবাধিকার এবং সংবিধানে স্বীকৃত মৌলিক মানবাধিকার নিশ্চিত করবেন। প্রয়োজনীয় কাজের জন্য গৃহকর্মীকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার ব্যবস্থা করবেন নিয়োগকর্তা।

গৃহকর্মীর দায়িত্ব

নীতিমালায় গৃহকর্মীদের দায়িত্বের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, গৃহকর্মী নিয়োগকর্তার বিশ্বাসভাজন থাকবেন। অন্যায় কাজে যুক্ত হবেন না। শিশু, বৃদ্ধ এবং অসুস্থ ব্যক্তির প্রতি যত্নশীল হবেন। ইচ্ছাকৃতভাবে কর্তব্যে অবহেলা বা কোনো মালের ক্ষতি করবেন না। একই সঙ্গে, নিয়োগকর্তাকে না জানিয়ে বাড়ি ত্যাগ করবেন না।

সরকারের দায়িত্ব

গৃহকর্মীর ওপর যে কোনো ধরনের হয়রানি বা নির্যাতনের বিরুদ্ধে সুবিচার নিশ্চিত করতে প্রচলিত আইন অনুযায়ী সরকার ব্যবস্থা নেবে। গৃহকর্মীদের অধিকারের বিষয়ে স্বরাষ্ট্র, শ্রম এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় বিশেষ উদ্যোগ নিবে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, সিটি করপোরেশনগুলোর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় বা প্রধান নির্বাহীর কার্যালয়, সেনানীবাস এলাকায় ক্যান্টনমেন্ট এক্সিকিউটিভ অফিসারের কার্যালয় এবং উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় এ নীতির আলোকে গৃহকর্মী সুরক্ষা ও কল্যাণ নিশ্চিতের লক্ষ্যে কাজ করবে।

এ ছাড়া স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন সকল পৌরসভার মেয়র ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কার্যালয় গৃহকর্মীদের তথ্য সংরক্ষণ এবং নীতিমালার আলোকে গৃহকর্মী সুরক্ষা ও কল্যাণের লক্ষ্যে দায়িত্ব পালন করবে।

শ্রমিক কল্যান ফাউন্ডেশন গৃহকর্মীদের সুযোগ-সুবিধাগুলো তত্ত্বাবধান করবে। এটি সরকারি প্রতিষ্ঠান। গৃহকর্মীরা যাতে তাদের অধিকার রক্ষায় প্রণীত হতে যাওয়া এ সব বিষয় জানতে পারেন সেজন্য সরকার সচেতনতামূলক কার্যক্রম গ্রহণ করবে। তাদের জন্য হেল্প লাইনও চালু করবে সরকার।

নীতিমালায় বলা আছে, প্রত্যেক গৃহকর্মীর কর্মঘণ্টা এমনভাবে বিন্যস্ত করতে হবে, যাতে তিনি পর্যাপ্ত ঘুম, বিশ্রাম, চিত্তবিনোদন ও প্রয়োজনীয় ছুটির সুযোগ পান। অসুস্থ অবস্থায় কোনো গৃহকর্মীকে দিয়ে কাজ করানো যাবে না এবং নিয়োগকারীকেই নিজের অর্থে তাঁর চিকিৎসা করাতে হবে। এ ছাড়া গৃহকর্মীকে তাঁর নিজের ধর্ম পালনের সুযোগ দিতে হবে। কর্মরত অবস্থায় কেউ দুর্ঘটনার শিকার হলে চিকিৎসাসহ দুর্ঘটনা ও ক্ষতির ধরন অনুযায়ী নিয়োগকারীকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। গৃহকর্মী যদি কর্মরত পরিবারের শিশু, অসুস্থ ও বৃদ্ধ ব্যক্তিসহ কোনো সদস্যের সঙ্গে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন বা পীড়াদায়ক আচরণ করেন, তবে নিয়োগকারী তাঁর নিয়োগ বাতিল করে তাঁর বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পারবেন। কাউকে না জানিয়ে গৃহকর্মী চলে গেলে নিয়োগকারী সংশ্লিষ্ট থানার জিডি করতে পারবেন। তবে অর্থ বা মালামাল নিয়ে গৃহকর্মী চলে গেলে সে ক্ষেত্রে আইনের আশ্রয় নিতে পারবেন নিয়োগকারী। এ ছাড়া সিটি করপোরেশন এলাকায় আঞ্চলিক বা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং জেলা-উপজেলায় যথাক্রমে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে সভাপতি করে মনিটরিং সেল গঠন করা হবে বলেও নীতিমালায় উল্লেখ রয়েছে। বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন আইন, ২০০৬ অনুযায়ী প্রতিষ্ঠিত শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন তহবিল থেকে গৃহকর্মীদের যৌক্তিক সুবিধা প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে সরকার উদ্যোগ নেবে বলেও ওই নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়। মন্ত্রিসভার আরও সিদ্ধান্ত: গতকালের বৈঠকে জাতীয় সংসদে ২০১৬ সালের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের খসড়ার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রাইভেটাইজেশন কমিশন ও বিনিয়োগ বোর্ড একীভূত করে গঠিত ‘বাংলাদেশ বিনিয়োগ কর্তৃপক্ষ আইন’-এর খসড়াও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। ১৯৫৭ সালে প্রণীত বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প করপোরেশন আইনটিকে বাংলায় অনুবাদ করে সেটির খসড়া অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এ ছাড়া এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক আইনের খসড়ায় নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

  1. [১]