আর্থার সি. গাইটন

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
আর্থার সি. গাইটন
Arthur Clifton Guyton (1980).jpg
পারিবারিক ছবি, সন ১৯৮০
জন্ম (১৯১৯-০৯-০৮)সেপ্টেম্বর ৮, ১৯১৯
অক্সফোর্ড, মিসিসিপি
মৃত্যু এপ্রিল ৩, ২০০৩(২০০৩-০৪-০৩) (৮৩ বছর)
মিসিসিপি
জাতীয়তা আমেরিকান
কর্মক্ষেত্র শারীরবিদ্যা
প্রতিষ্ঠান মিসিসিপি বিশ্ববিদ্যালয়

আর্থার ক্লিফটন গাইটন (৮ সেপ্টেম্বর, ১৯১৯ – এপ্রিল ৩, ২০০৩) ছিলেন একজন আমেরিকান শারীরতত্ত্ববিদ যিনি পরবর্তীতে মিসিসিপি বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল স্কুলের ডীন হন।

বর্তমানে গাইটন সর্বাধিক পরিচিত তাঁর ‘’টেক্সটবুক অফ মেডিকেল ফিজিওলজি’’র জন্য যা খুব অল্প সময়ে মেডিকেল স্কুল গুলোতে এ বিষয়ের আদর্শ বইয়ের মর্যাদা পায়। ১৯৫৬ সালে বইটির প্রথম সংস্করণ, ২০০০ সালে ১০ম সংস্করণ প্রকাশিত হয় যা তাঁর মৃত্যুর পূর্বে শেষ সংস্করণ, ২০১০ সালে ১২তম সংস্করণ প্রকাশিত হয়। বর্তমানে বইটির ১৩তম সংস্করণ চলছে। এটি পৃথিবীর সর্বাধিক পঠিত শারীরবিদ্যা গ্রন্থ এবং এপর্যন্ত কমপক্ষে ১৫টি ভাষায় অনুবাদ হয়েছে।.[১][২]

টেক্সটবুক অফ মেডিকেল ফিজিওলজি[সম্পাদনা]

টেক্সটবুক অফ মেডিকেল ফিজিওলজি পৃথিবীর সর্বাধিক পঠিত শারীরবিদ্যা গ্রন্থ এবং এপর্যন্ত কমপক্ষে ১৩টি ভাষায় অনুবাদ হয়েছে (টেক্সটবুক স্মরণিকা মতে ১৩ কিন্তু [২] অনলাইন স্মরণিকা মতে কমপক্ষে ১৫ টি ভাষা। [১])

নবম সংস্করণ থেকে জন ই. হল সহকারী লেখক হিসেবে যুক্ত হন। তবে ১৯৯১-এর অষ্টম সংস্করণ পর্যন্ত সবগুলো সংস্করণ গাইটন একাই লিখেন।[৩] পরবর্তী সংস্করণ থেকে সর্বশেষ সংস্করণ ‘’গাইটন এন্ড হল টেক্সটবুক অফ মেডিকেল ফিজিওলজি’’ শিরোনামে তাঁর অবদান ধারণ করে।[৪]

কার্ডিয়াক আউটপুটের শারীরবিদ্যা[সম্পাদনা]

গাইটন সবচেয়ে বেশি বিখ্যাত ১৯৫০-এর দিকে তাঁর গবষণাগুলোর জন্য যেগুলো কার্ডিয়াক আউটপুট এবং পেরিফেরাল সার্কুলেশনের সাথে এর সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করে (দেখুন গাইটন ১৯৭৬-এর ২৩তম অধ্যায়[৫] অথবা গাইটন ১৯৯১[৩] এবং গাইটন এন্ড হল উভয়েরই ২০তম অধ্যায় ।[২][৪])

এটাই হচ্ছে সেই গবেষণা যা হৃদপিণ্ডকে কার্ডিয়াক আউটপুটের নিয়ন্ত্রক ভাবার প্রথাগত ধারণা পাল্টে দেয়। গাইটন দেখান যে, এটা আসলে দেহ কলা গুলোর অক্সিজেন চাহিদা যা কার্ডিয়াক আউটপুটের নিয়ন্ত্রক। "গাইটন বক্ররেখা" গুলো রক্ত প্রবাহের ভিত্তি পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে ডান অলিন্দ চাপ এবং কার্ডিয়াক আউটপুটের মধ্যে সম্পর্ক প্রকাশ করে। গাইটনের বইয়ে এই বিষয়ে বিশদ বিবরণ দেয়া আছে (যেমন গাইটন ১৯৭৬;[৫] গাইটন ১৯৯১;[৩] গাইটন এবং হল ২০০৬ [২]) মূল প্রকাশনার উদ্ধৃতি সহ।

জীবনী[সম্পাদনা]

গাইটনের জন্ম অক্সফোর্ড, মিসিসিপি-তে, ডঃ বিলী এস. গাইটন, একজন প্রসিদ্ধ চোখ, নাক, কান ও গলা বিশেষজ্ঞ এবং কেট স্মলউড গাইটনের ঘরে যিনি গণিত ও পদার্থবিদ্যার শিক্ষিকা এবং বিয়ের পূর্বে চীনে একজন মিশনারি ছিলেন। [২][১] গাইটন প্রথমে হৃৎপিণ্ডের শল্য চিকিৎসক (কার্ডিওভাস্কুলার সার্জন) হতে চেয়েছিলেন কিন্তু পোলিও-তে আক্রান্ত হয়ে আংশিক অবশ হয়ে পড়েন। ১৯৪৬ সালে তাঁর রেসিডেন্সি ট্রেনিং এর চূড়ান্ত বর্ষে তিনি এই সংক্রমণে আক্রান্ত হন। ডান পা, বাম বাহু এবং উভয় কাঁধে অবশ নিয়ে সুস্থতা অর্জনের জন্য তিনি জর্জিয়ার ওয়ার্ম স্প্রিংসে নয় মাস অতিবাহিত করেন এবং তাঁর সৃজনশীল বুদ্ধি কাজে লাগিয়ে “জয় স্টিক” দ্বারা নিয়ন্ত্রণযোগ্য প্রথম মোটর যুক্ত হুইলচেয়ার, রোগী বহন করার জন্যএকটি মোটর যুক্ত উত্তোলক ( hoist), বিশেষায়িত পা সহায়ক (leg braces) এবং পঙ্গু রোগীদের জন্য সহায়তাকারী যন্ত্র তৈরি করেন। এসমস্ত আবিষ্কারের জন্য তিনি প্রেসিডেনশিয়াল সাইটেশন লাভ করেন।[২][১]

শারীরিক অক্ষমতা সত্ত্বেও তিনি ১০ সন্তানের পিতা হন যারা প্রত্যেকে পরবর্তীতে প্রসিদ্ধ চিকিৎসক হন, যাদের মধ্যে ছিলেন অপথ্যালমলজির অধ্যাপক, শল্যবিদ্যার অধ্যাপক, মেডিসিন অধ্যাপক, কার্ডিওথোরাসিক সার্জন, একজন রিউমেটালজিস্ট, দুইজন এনেস্থিওলজিস্ট এবং দুইজন অর্থোপেডিক সার্জন। তাঁর আটজন সন্তান হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলে লেখাপড়া করেন।[২][১]

তাঁর শারীরিক অক্ষমতার জন্য তিনি শল্য চিকিৎসক হওয়ার পরিকল্পনা বাদ দেন। এর পরিবর্তে তিনি শারীরবিদ্যার গবেষণায় মনোনিবেশ করেন এবং মিসিসিপি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিজিওলজি এন্ড বায়োফিজিক্স বিভাগের প্রধান হন। ১৯৮৯ সালে তিনি এই পদ থেকে অবসর নেন কিন্তু ২০০৩ সালের ৩ এপ্রিল সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি এমেরিটাস প্রফেসর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

তাঁর সম্পর্কে লেখালেখি[সম্পাদনা]

গাইটন সম্পর্কে বলা হয় “অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বইয়ের মত না, যেগুলোর ১০-২০ জন লেখক থাকতেন”, প্রথম আটটি সংস্করণ “গাইটন একাই লিখেছেন এবং প্রায় চল্লিশ বছর ধরে সময়মত সেগুলো প্রকাশিত হয়েছে। এই অর্জন যেকোনো শারীরবিদ্যা বা মেডিকেল গ্রন্থের জন্য এর আগে ঘটে নি। মেডিকেল প্রকাশনার ইতিহাসে তাঁর গ্রন্থ তুলনাহীন”।[১][৬]

পোলিওর উপর তাঁর বিজয় নিয়ে লেখা:

তাঁর বিশেষ যোগ্যতা ছিল তাঁর অদম্য উদ্যম দিয়ে মানুষকে আশাবাদী করে তোলার এবং দুঃসময়ে তাঁর মনোবল আমাদের মাঝে শ্রদ্ধার অনুভূতি জাগায়। তিনি পোলিওর অবশকারী প্রভাবের কাছে হার মানেন নি। কোন মেরামতকারী দেখা সাক্ষাৎ ছাড়া অন্য কারণে তাঁর বাড়ির দরজা অতিক্রম করেছে এমনটা হয়নি কোনদিন। তিনি আর তাঁর সন্তানেরা শুধু বাড়ী তৈরি করেন নি, যেকোনো গৃহ সামগ্রী ও যন্ত্রের যাবতীয় ত্রুটি মেরামত করেছেন তা সেটা যতই কঠিন বা শারীরিকভাবে যত প্রতিকূলতাই থাকুক না কেন। তিনি একটি উত্তোলক (hoist) তৈরি করেন যা তাঁকে নিচু করে বাড়ির নিচের “গর্তে” নিয়ে গিয়েছিল চুলা (furnace) এবং সেপটিক লাইন মেরামত করতে যখন একজন মেরামতকারী ডাকা অনিবার্য মনে হয়েছিল তাদের কাছে যারা তাঁকে ভালমত চিনতেন না। কোন সাক্ষাতে যাওয়ার জন্য তিনি এয়ারপোর্ট টার্মিনালের বিশাল পথ হাঁটতেন যেখানে হুইলচেয়ারের ব্যবহার অনেক ব্যাপারটা সহজসাধ্য করত। চেয়ার থেকে উঠে পোডিয়ামে (ভাষণের মঞ্চ) যাওয়ার জন্য তাঁর চেষ্টা মর্মস্পর্শী হলেও দর্শকমণ্ডলী সর্বদা বেশি অভিভূত তখন হতেন যখন তিনি দৃঢ়ভাবে তাঁর চমৎকার ধারণাগুলো প্রকাশ করতেন।[১]

দ্য ফিজিওলজিস্ট জার্নালে তাঁর সম্পর্কে বর্ণনা এবং তাঁর বইয়ের একাদশ সংস্করণের স্মরণিকা প্রায় একই, যেমন নিচের লেখাটি:

৬০০ এর বেশি বৈজ্ঞানিক পত্র এবং ৪০ এর উপর বই সহ তাঁর গবেষণার অবদান এক অনন্য দৃষ্টান্ত এবং এগুলো তাঁকে কার্ডিওভাস্কুলার ফিজিওলজির ইতিহাসে অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিবর্গের মাঝে স্থান দিয়েছে। তাঁর গবেষণা আপাতভাবে কার্ডিওভাস্কুলার নিয়ন্ত্রণের সবগুলো ক্ষেত্র স্পর্শ করেছে এবং অসংখ্য প্রভাবশালী ধারণার সূত্রপাত করেছে যেগুলো বর্তমানে কার্ডিওভাস্কুলার ত্রুটি যেমন হাইপারটেনশন, হার্ট ফেইলিউর এবং ইডিমা বোঝার জন্য অবিচ্ছেদ্য বিষয়বস্তু। কার্ডিয়াক আউটপুট এবং ভেনাস রিটার্ন, নেগেটিভ ইন্টারস্টিশিয়াল ফ্লুইড প্রেসার, টিস্যু ফ্লুয়িড ভলিউড এবং ইডিমা, কোষ কলায় রক্তপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণ এবং সম্পূর্ণ দেহে রক্ত প্রবাহের স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণ, রেনাল প্রেসার ন্যাটরিউরেসিস এবং রক্ত-প্রবাহের দীর্ঘ মেয়াদী নিয়ন্ত্রণ বুঝতে হলে গাইটনের ধারণাগুলো বাদ দেয়া যাবে না।[১][৭]

টেক্সটবুক স্মরণিকা এরপর বলে: "যথার্থই, কার্ডিওভাস্কুলার নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কে তাঁর ধারণা আপাতভাবে শারীরবিদ্যার সকল গুরুত্বপূর্ণ পাঠ্যবইয়ে আপাতভাবে পাওয়া যায়। এগুলো এতটাই প্রচলিত যে কখনো কখনো এদের উৎস ভুলে যাওয়া হয়।

পাদটীকা[সম্পাদনা]

  • উপরে গাইটনের জীবনী সংক্রান্ত লেখার প্রাথমিক উৎস হচ্ছে Physiologist ম্যাগাজিনে তাঁর উপর প্রকাশিত লেখনী এবং Textbook of Medical Physiology বইয়ের একাদশ সংস্করণে জন ই. হল কর্তৃক রচিত স্মরণিকা ও মুখপত্র। উভয় উৎসই সাদৃশ্যমূলক বক্তব্য রেখেছে, কখনো সম্পূর্ণ, কখনো প্রায় একই লেখা।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Hall, John E.; Cowley, Allen W. Jr.; Bishop, Vernon S.; Granger, D. Neil; Navar, L. Gabriel; Taylor,, Audrey E. (জুন ২০০৩)। "Obituary as published in"The Physiologist 46 (3): 122 124। আসল থেকে ২০০৫-০৩-১৭-এ আর্কাইভ করা। 
  2. Guyton, Arthur C.; Hall, John E. (২০০৬)। Guyton and Hall Textbook of Medical Physiology with Student Consult Online Access (11th সংস্করণ)। Philadelphia: Elsevier Saunders। আইএসবিএন 0-7216-0240-1 
  3. Guyton, Arthur C. (১৯৯১)। Textbook of Medical Physiology (8th সংস্করণ)। Philadelphia: W.B. Saunders। আইএসবিএন 0-7216-3994-1 
  4. Hall, John E. (২০১১)। Guyton and Hall Textbook of Medical Physiology with Student Consult Online Access (12th সংস্করণ)। Philadelphia: Elsevier Saunders। আইএসবিএন 978-1-4160-4574-8  see Table of Contents link
  5. Guyton, Arthur C. (১৯৭৬)। Textbook of Medical Physiology (5th সংস্করণ)। Philadelphia: W.B. Saunders। আইএসবিএন 0-7216-4393-0 
  6. Guyton, Arthur C., & Hall, John E (2006) p.ix (the textbook memoriam is almost verbatim of the online citation, with only minor variations)
  7. Guyton, Arthur C., & Hall, John E (2006) p.vii

আরও পড়ুন[সম্পাদনা]