আমিরবাই কর্ণটকি

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
আমিরবাই কর্ণটকি
আমিরবাই কর্ণটকি.jpg
প্রাথমিক তথ্য
স্থানীয় নামಅಮೀರಬಾಯಿ ಕರ್ನಾಟಕಿ
জন্ম১৯০৬
বাগলকোট, কর্ণাটক, ব্রিটিশ ভারত
মৃত্যু৩ মার্চ ১৯৬৫(1965-03-03) (বয়স ৫৮–৫৯)
ভারত
ধরননেপথ্য সঙ্গীত
পেশাগায়িকা, অভিনেত্রী
বাদ্যযন্ত্রসমূহকণ্ঠ
কার্যকাল১৯৩৫–৬১

আমিরবাই কর্ণাটকি (১৯০৬ - ৩শে মার্চ ১৯৬৫) প্রারম্ভিক হিন্দি চলচ্চিত্রের একজন বিখ্যাত অভিনেত্রী এবং নেপথ্য সঙ্গীতশিল্পী ছিলেন। তিনি কন্নড় কোকিলা নামে বিখ্যাত ছিলেন। মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী তাঁর বৈষ্ণব জন তো গানের প্রবল ভক্ত ছিলেন।[১]

ব্যক্তিগত জীবন[সম্পাদনা]

আমিরবাই কর্ণাটকি ১৯০৬ সালে ভারতের কর্ণাটকের বাগলকোট জেলার বিলগি শহরের একটি মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন।[২] তাঁর পাঁচ বোনের মধ্যে দ্বিতীয় আমিরবাই এবং তাঁর বড় বোন গৌহরবাই বেশ খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। আমিরবাই ম্যাট্রিক পাশ করেন এবং পনের বছর বয়সে বোম্বে চলে যান।

কর্মজীবন[সম্পাদনা]

আমিরবাই একজন প্রতিভাবান গায়িকা এবং অভিনেত্রী ছিলেন, তিনি কন্নড় (তাঁর মাতৃভাষা) এবং গুজরাতি ভাষায় বেশ দক্ষ ছিলেন। রণরকদেবী চলচ্চিত্রের "মাহরে তে গামরে এক বার আওজো" (এই গানটির সুরকার ছিলেন অবিনাশ ব্যাস) গানটি তাঁর অন্যতম বিখ্যাত একটি গুজরাতি গান। এইচএমভি লেবেল সংগীত সংস্থার একজন প্রতিনিধি তাঁর গানের প্রতিভা দেখে এতটাই মুগ্ধ হয়েছিলেন যে, তিনি তাঁকে দিয়ে একটি কাওয়ালী গাওয়ালেন, যা খুব জনপ্রিয় হয়েছিল। এই কাওয়ালী গানটি চলচ্চিত্র নির্মাতা-পরিচালক শওকত হুসেন রিজভীর জিনাত (১৯৪৫) চলচ্চিত্রের জন্য ছিল।[৩] তাঁর বড় বোন গৌহরবাই একজন অভিনেত্রী ছিলেন এবং আমিরবাইকে ১৯৩৪ সালে বিষ্ণু ভক্তি নামক চলচ্চিত্রের একটি চরিত্রে অভিনয় করতে সহায়তা করেছিলেন।

প্রথমদিকে, আমিরবাই চলচ্চিত্রে গান গেয়েছিলেন, তবে তিনি যথেষ্ট সাফল্য অর্জন করতে পারেন নি। ১৯৪৩ সালে, বোম্বে টকিজের কিসমত প্রকাশের সাথে সাথে তিনি জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন। কিসমেতের গানগুলো খুব তাড়াতাড়ি জনপ্রিয় হয়ে উঠে, যার ফলস্বরূপ আমিরবাই খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। তাঁর সাফল্যের পিছনে যে মানুষটি ছিলেন, তিনি হলেন সুরকার অনিল বিশ্বাস। তিনি প্রথমদিকে একজন সাধারণ গায়িকা হিসাবে পরিচিত ছিলেন, তবে সংগীত জীবনের অবসানের দিকে তিনি নেপথ্য সঙ্গীতশিল্পী হিসেবে পরিচিত হয়েছিলেন। তিনি ১৯৪৭ সালে তাঁর খ্যাতির শীর্ষে পৌঁছেছিলেন।

১৯৪৭-এর পরে লতা মঙ্গেশকর একজন উদীয়মান তারকা হয়ে ওঠেন, তাই আবারও আমিরভাই অভিনয় জগতে প্রবেশ করেছিলেন।[২] তার পরবর্তী বছরগুলোতে, তিনি বেশিরভাগ পার্শ্বচরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। ওয়াহাব পিকচার্সের চলচ্চিত্র শেহনাজ (১৯৪৮)-এর জন্যও আমিরবাই সংগীত রচনা করেছিলেন। একই বছরে তিনি গুজরাতি এবং মাড়োয়ারি চলচ্চিত্রের জন্য হিন্দি চলচ্চিত্র জগত প্রায় ছেড়ে দিয়েছিলেন।[২] "ফিল্ম ইন্ডিয়া" নামে একটি বিখ্যাত চলচ্চিত্র পত্রিকা তার একটি নিবন্ধে উল্লেখ করেছিল যে, ২০শ শতাব্দীতে সেই সময় অন্যান্য গায়করা একটি গান গাওয়ার জন্য ৫০০ টাকা পেতেন, কিন্তু আমিরবাই একটি গান গাওয়ার জন্য ১,০০০ টাকা পেতেন।

মৃত্যু[সম্পাদনা]

১৯৬৫ সালে তিনি পক্ষাঘাতগ্রস্থ হয়ে মাত্র চার দিন পরে মারা যান। তাকে তাঁর নিজের শহরেই কবরস্থ করা হয়। এখনও তাঁর পরিবার বিজয়পুরা (বিজাপুর) শহরে অবস্থিত একটি সিনেমা হল "আমির টকিজ" কে চালান।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Ganesh, Deepa (২০১৫-০২-২৭)। "She was the love song"The Hindu (ইংরেজি ভাষায়)। আইএসএসএন 0971-751X। সংগ্রহের তারিখ ২০১৮-০১-১৯ 
  2. Profile of Amirbai Karnataki on womenonrecord.com website ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ১৬ আগস্ট ২০১৮ তারিখে Retrieved 4 July 2019
  3. Soundtrack of Amirbai Karnataki on IMDb website Retrieved 4 July 2019

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]