আমাদের ছোট রাসেল সোনা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
আমাদের ছোট রাসেল সোনা
আমাদের ছোট রাসেল সোনা.jpg
লেখকশেখ হাসিনা
প্রচ্ছদ শিল্পীমাসুক হেলাল
দেশবাংলাদেশ
ভাষাবাংলা
বিষয়ইতিহাস, রাজনীতি
ধরনজীবনী
প্রকাশিত২০১৯
প্রকাশকবাংলা একাডেমি
মিডিয়া ধরনমুদ্রিত (হার্ডকভার)
পৃষ্ঠাসংখ্যা১০৪

আমাদের ছোট রাসেল সোনা শেখ মুজিবুর রহমানের ছোট ছেলে শেখ রাসেলের জীবন কাহিনীর ওপর লেখা বই। ২০১৯ সালে বইটি প্রকাশিত হয়।[১] এটি লিখেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা[২]

পটভূমি[সম্পাদনা]

শেখ হাসিনা ছোটদের উপযোগী করে গল্প আকারে বইটি লিখেছেন। সহজ-সরল ভাষায় লেখায় শিশুদের মধ্যে গ্রন্থটি সাড়া জাগিয়েছে। বইতে শেখ রাসেলের শিশুকাল থেকে শুরু করে পুরো জীবনের একাধিক ঘটনাপ্রবাহ, মা-বাবা, ভাই-বোনদের সাথে তার সময় কাটানো, লেখাপড়া কারা জীবন ও সর্বশেষ নিজ বাস খুন হওয়ার বিষয়গুলো আলোকপাত হয়েছে। [২] বইটির ২১ নং পৃষ্ঠায় কারাগারে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যাওয়ার গল্প প্রকাশ হয়েছে। সেখানে লেখক বলেন ‘আব্বার সঙ্গে প্রতি ১৫ দিন পর আমরা দেখা করতে যেতাম। রাসেলকে নিয়ে গেলে ও আর আসতে চাইত না। খুবই কান্নাকাটি করত। ওকে বোঝানো হয়েছিল যে, আব্বার বাসা জেলখানা আর আমরা আব্বার বাসায় বেড়াতে এসেছি। আমরা বাসায় ফেরত যাব। বেশ কষ্ট করেই ওকে বাসায় ফিরিয়ে আনা হতো। আর আব্বার মনের অবস্থা কী হতো, তা আমরা বুঝতে পারতাম। বাসায় আব্বার জন্য কান্নাকাটি করলে মা ওকে বোঝাতেন এবং মাকে আব্বা বলে ডাকতে শেখাতেন। মাকেই আব্বা বলে ডাকতো।[৩]

রাসেল, রাসেল তুমি কোথায়? রাসেলকে মা ডাকে, আসো,খাবে না, খেতে আসো। মা মা মা, তুমি কোথায় মা? মা যে কোথায় গেল–মাকে ছাড়া রাসেল যে ঘুমাতে চায় না ঘুমের সময় মায়ের গলা ধরে ঘুমাতে হবে। মাকে ও মা বলে যেমন ডাক দিত, আবার সময় সময় আব্বা বলেও ডাকত। আব্বা ওর জন্মের পরপরই জেলে চলে গেলেন।৬ দফা দেওয়ার কারণে আব্বাকে বন্দি করল পাকিস্তানি শাসকরা। রাসেলের বয়স তখন মাত্র দেড় বছরের কিছু বেশি। কাজেই তার তো সব কিছু ভালোভাবে চেনার বা জানারও সময় হয়নি। রাসেল আমাদের সবার বড় আদরের; সবার ছোট বলে ওর আদরের কোনও সীমা নেই। ও যদি কখনও একটু ব্যথা পায় সে ব্যথা যেন আমাদের সবারই লাগে। আমরা সব ভাইবোন সব সময় চোখে চোখে রাখি, ওর গায়ে এতটুকু আঁচড়ও যেন না লাগে। কী সুন্দর তুলতুলে একটা শিশু। দেখলেই মনে হয় গালটা টিপে আদর করি। ১৯৬৪ সালের ১৮ অক্টোবর রাসেলের জন্ম হয় ধানমণ্ডি ৩২ নম্বর সড়কের বাসায় আমার শোয়ার ঘরে। দোতলা তখনও শেষ হয়নি। বলতে গেলে মা একখানা করে ঘর তৈরি করেছেন। একটু একটু করেই বাড়ির কাজ চলছে। নিচতলায় আমরা থাকি। উত্তর-পূর্ব দিকের ঘরটা আমার ও কামালের। সেই ঘরেই রাসেল জন্ম নিল রাত দেড়টায়। আব্বা নির্বাচনী মিটিং করতে চট্টগ্রাম গেছেন। ফাতেমা জিন্নাহ প্রেসিডেন্ট প্রার্থী। সর্বদলীয় ঐক্য পরিষদ আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে একটা মোর্চা করে নির্বাচনে নেমেছে। প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে সব রাজনৈতিক দল। তখনকার দিনে মোবাইল ফোন ছিল না। ল্যান্ডফোনই ভরসা। রাতেই যাতে আব্বার কাছে খবর যায় সে ব্যবস্থা করা হয়েছে। রাসেলের জন্মের আগের মুহূর্তগুলো ছিল ভীষণ উৎকণ্ঠার। আমি, কামাল, জামাল, রেহানা ও খোকা কাকা বাসায়। বড় ফুফু ও মেজ ফুফু মার সাথে। একজন ডাক্তার এবং নার্সও এসেছেন। সময় যেন আর কাটে না। জামাল আর রেহানা কিছুক্ষণ ঘুমায় আর জেগে ওঠে। আমরাও ঘুমে ঢুলঢুলু চোখে জেগে আছি নতুন অতিথির আগমনবার্তা শোনা যায়.এভাবেই শেখ রাসেলের জন্মগ্রহণ থেকে শুরু করে তাঁর জীবনকাহিনী এবং ঘাতকের হাতে নির্মমভাবে নিহত হওয়ার ঘটনাপ্রবাহ বইটিতে তুলে ধরা হয়েছে।

বাংলাদেশ শিশু একাডেমি থেকে বইটি সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কনিষ্ঠভ্রাতা শেখ রাসেল ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুসহ পরিবারের অন্যান্য সসদ্যদের সঙ্গে ঘাতক খুনীদের হাতে নিহত হন।বইটি বিশ্বের সকল শিশুদের উৎসর্গ করে গ্রন্থকার শেখ হাসিনা লিখেছেন ‘বিশ্বের সকল শিশুদের প্রতি ভালোবাসা।’বইটি প্রকাশক শিশু একাডেমির পরিচালক আনজীর লিটন। শোভন প্রচ্ছদটি এঁকেছেন শিল্পী মাসুক হেলাল। ৫৬ পৃষ্ঠার বইটি অফসেট কাগজে ছাপা হয়েছে। প্রথম পাতায় পিতা জাতিরজনক বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে রাসেলের একটি ছবি দিয়ে বইয়ের শুরুটা হয়েছে। পুরো বইতে মা, বাবা, বোন ও ভাইসহ পরিবারের সদস্যদের সাথে ২৪টি ছবি প্রকাশিত হয়েছে। বইটির মূল্য হচ্ছে ১৫০ টাকা।বইয়ের প্রকাশক আনজীর লিটন বলেন, বইটি ইতোমধ্যে দেশের শিশুদের মাঝে খুবই গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। বিপুল সংখ্যক কপি বিক্রি হয়েছে। এখনও বিক্রি চলছে। যারা বইটি সংগ্রহ করতে চান, ঢাকায় শিশু একাডেমির বিক্রয়কেন্দ্রে বইটি পাওয়া যাবে।

আরো দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "'আমাদের ছোট রাসেল সোনা' প্রকাশিত"দৈনিক ইত্তেফাক। সংগ্রহের তারিখ ১০ জুন ২০১৯ 
  2. "শেখ হাসিনার নতুন বই 'আমাদের ছোট রাসেল সোনা' প্রকাশিত"দৈনিক যুগান্তর। ১০ জুন ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ১০ জুন ২০১৯ 
  3. "আমাদের ছোট রাসেল সোনা - শেখ হাসিনা"বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট। ১৬ জুলাই ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১০ জুন ২০১৯