আবু মো. দেলোয়ার হোসেন

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
আবু মো. দেলোয়ার হোসেন
জন্ম (1960-01-10) ১০ জানুয়ারি ১৯৬০ (বয়স ৬১)
জাতীয়তাবাংলাদেশ বাংলাদেশী
শিক্ষাপিএইচডি
মাতৃশিক্ষায়তনঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
পেশাঅধ্যাপক, ইতিহাসবিদ
পুরস্কারবাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০১৪
রোটারি ক্লাব সম্মাননা ২০০৮

আবু মো. দেলোয়ার হোসেন একজন বাংলাদেশী ইতিহাসবিদ। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক এবং কলা অনুষদের বর্তমান ডিন। মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য ২০১৪ সালে তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন।[১][২]

প্রারম্ভিক জীবন[সম্পাদনা]

আবু মো. দেলোয়ার হোসেন ১৯৬০ সালের ১০ জানুয়ারি ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা মো. রমজান হোসেন এবং মা আনোয়ারা খাতুন।[৩]

শিক্ষাজীবন[সম্পাদনা]

দেলোয়ার হোসেন মোহাম্মদপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৭৭ সালে মাধ্যমিক ও ঢাকা কলেজ থেকে ১৯৭৯ সালে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগ থেকে ১৯৮২ সালে স্নাতক (সম্মান) ও ১৯৮৩ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০০২ সালে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।[৪]

কর্মজীবন[সম্পাদনা]

আবু মো. দেলোয়ার হোসেন ৭ম বিসিএস পরীক্ষায় বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারে মনোনীত হলেও সিভিল সার্ভিসে যোগ না দিয়ে ১৯৮৭ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক হিসেবে যোগদানের মাধ্যমে শিক্ষকতাকে পেশা হিসেবে বেছে নেন। ১৯৯০ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগে প্রভাষক পদে যোগ দেন। ১৯৯৩ সালে তিনি একই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক, ২০০২ সালে সহযোগী অধ্যাপক, ২০০৮ সালে অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতি লাভ করেন।[৩][৫][৬]

কর্মজীবনে অধ্যাপনা ও গবেষণার পাশাপাশি তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের প্রাধ্যক্ষ, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ গবেষণা কেন্দ্র এবং ভাষা শহিদ আবুল বরকত জাদুঘর ও সংগ্রহশালার পরিচালক, বিভাগীয় প্রধান, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট, সিন্ডিকেট ও একডেমিক কাউন্সিলের সদস্য, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরসহ মুক্তিযুদ্ধচর্চার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন।[৪][৬]

দেলোয়ার হোসেন ২০১৭ সাল থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।[৭]

বীরাঙ্গনা সহায়তা কার্যক্রম[সম্পাদনা]

আবু মো. দেলোয়ার হোসেন সামাজিক সহায়তা উদ্যোগ (বীরাঙ্গনা সহায়তা কার্যক্রম) এর মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধে নির্যাতিত নারীদের নিয়ে গবেষণা, তাদের সহায়তা ও পুনর্বাসন এবং রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।[৮]

গবেষণাকর্ম ও প্রকাশনা[সম্পাদনা]

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস, বঙ্গবন্ধু, স্থানীয় ইতিহাস, বাংলাদেশের সাথে বহির্বিশ্বের সম্পর্ক প্রভৃতি তার গবেষণার মূল ক্ষেত্র। তিনি ৩০টির অধিক বইয়ের লেখক, সহলেখক ও সম্পাদক। বাংলাদেশ শিশু একাডেমি কর্তৃক প্রকাশিত বঙ্গবন্ধু কোষ গ্রন্থের সহযোগী সম্পাদক তিনি। এছাড়াও দেশী-বিদেশী জার্নালে তার অর্ধশতাধিক গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে।

আবু মো. দেলোয়ার হোসেনের একক ও যৌথভাবে লিখিত এবং সম্পাদিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে:[৪][৯]

একক গ্রন্থ[সম্পাদনা]

  • জেনারেল ওসমানী (১৯৮৪)
  • ভাবনায় মুক্তিযুদ্ধ চেতনায় মুক্তিযুদ্ধ (১৯৯৮)
  • বাংলাদেশের ইতিহাস ১৯০৫-১৯৭১ (২০০৮)
  • মুক্তিযুদ্ধের গ্রন্থপঞ্জি (২০১২)
  • বঙ্গবন্ধু বিষয়ক গ্রন্থপঞ্জি (২০১২)
  • বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও মুসলিম বিশ্ব (২০১৪)
  • স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস (২০১৪)

যৌথভাবে রচিত গ্রন্থ[সম্পাদনা]

  • মুক্তিযুদ্ধে শহীদ আইনজীবী (১৯৯৮)
  • বাংলাদেশের অভ্যুদয় (২০০৩)
  • সভ্যতার ইতিহাস প্রাচীন ও মধ্যযুগ (২০০৪)
  • আফ্রিকার ইতিহাস (২০১১)
  • সামাজিক ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা (২০১৪)

সম্পাদিত গ্রন্থ[সম্পাদনা]

  • বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ: নানা প্রসঙ্গ (১৯৯৬)
  • বাংলাদেশের রাজনীতিতে ধর্ম ও ধর্মনিরপেক্ষতা (১৯৯৮)
  • মুক্তিযুদ্ধের আঞ্চলিক ইতিহাস (৩ খণ্ড- ১৯৯৪, ২০০০, ২০০৫)
  • ভাষা আন্দোলনের আঞ্চলিক ইতিহাস (২০০০)
  • মুক্তিযুদ্ধে ঢাকা ১৯৭১ (২০১০)
  • বীরাঙ্গনা বীরমাতাদের জবানীতে একাত্তরের ভয়াল স্মৃতি (২০১২)
  • বঙ্গবন্ধুর মানবাধিকার দর্শন (২০১৩)
  • আগরতলা মামলার অনুচ্চারিত ইতিহাস ও শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক (২০১৫)

পুরস্কার ও সম্মাননা[সম্পাদনা]

দেলোয়ার হোসেন শিক্ষা ও গবেষণাক্ষেত্রে অবদানের জন্য বিভিন্ন পুরস্কার ও সম্মাননা লাভ করেছেন। তিনি শিক্ষা ক্ষেত্রে অবদানের জন্য রোটারি ক্লাব সম্মাননা ২০০৮ এবং মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরষ্কার ২০১৪ লাভ করেন।[১][৩]

সদস্যপদ[সম্পাদনা]

আবু মো. দেলোয়ার হোসেন বাংলাদেশ ইতিহাস সমিতি, বাংলাদেশ ইতিহাস পরিষদ, পশ্চিমবঙ্গ ইতিহাস সংসদ (ভারত), বাংলা একাডেমি এবং বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটিসহ বিভিন্ন গবেষণাধর্মী ও পেশাজীবী সংগঠনের সক্রিয় সদস্য।

তিনি বাংলাদেশ ইতিহাস সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।[৩]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০১৪ ঘোষণা"বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম। ২৯ জানুয়ারি ২০১৫। সংগ্রহের তারিখ ২১ জুলাই ২০২১ 
  2. "ঢাবির ডিন নির্বাচন: ১০ অনুষদের ৯টিতে নীল দলের জয়"প্রথম আলো। ২৯ এপ্রিল ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ২১ জুলাই ২০২১ 
  3. "Profile of Dr. Abu Md. Delwar Hossain" [ড. আবু মো. দেলোয়ার হোসেনের জীবনবৃত্তান্ত]। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ইংরেজি ভাষায়)। ২০ জুলাই ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২১ জুলাই ২০২১ 
  4. "মুক্তিযুদ্ধ গবেষণায় দুর্বল বিশ্ববিদ্যালয়গুলো"দেশ রূপান্তর। ১ মার্চ ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ২১ জুলাই ২০২১ 
  5. হোসেন, আবু মো. দেলোয়ার (১৯ জুলাই ২০২১)। "স্মরণ: প্রেরণাদাতা আপদামস্তক এক শিক্ষক মোহসীন স্যার"বহুমাত্রিক.কম। সংগ্রহের তারিখ ২১ জুলাই ২০২১ 
  6. হোসেন, আবু মো. দেলোয়ার (২০১৪)। স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস। ঢাকা: বিশ্ববিদ্যালয় প্রকাশনী। আইএসবিএন 9789843367976 
  7. "ঢাবি-এ নির্বাচিত ডিনের দায়িত্ব গ্রহণ"ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। সংগ্রহের তারিখ ২১ জুলাই ২০২১ 
  8. হোসেইন, মোস্তফা (১৬ ডিসেম্বর ২০১৩)। "বীরাঙ্গনাদের পাশে দেলোয়ার হোসেন"কালের কণ্ঠ। সংগ্রহের তারিখ ২১ জুলাই ২০২১ 
  9. হোসেন, আবু মো. দেলোয়ার (২০১৪)। বঙ্গবন্ধু বিষয়ক গ্রন্থপঞ্জি। ঢাকা: বাংলা একাডেমি। আইএসবিএন 9840752537