আবদুল গফুর হালী

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
আবদুল গফুর হালী
জন্ম (1928-08-06) আগস্ট ৬, ১৯২৮ (বয়স ৯০)
মৃত্যু২১ ডিসেম্বর ২০১৬(2016-12-21) (বয়স ৮৭)
চট্টগ্রাম, বাংলাদেশ
জাতিসত্তাবাঙালি
নাগরিকত্ববাংলাদেশি
পেশা
  • গীতিকার
  • লোকশিল্পী
পিতা-মাতা
  • আবদুস সোবহান (পিতা)
  • গুলতাজ খাতুন (মাতা)

আবদুল গফুর হালী (জন্ম: ৬ আগস্ট, ১৯২৯- মৃত্যু: ২১ ডিসেম্বর, ২০১৬) একজন বাংলাদেশী গীতিকার, সুরকার ও লোকশিল্পী। তিনি চট্টগ্রামের আঞ্চলিক, মাইজভাণ্ডারী, মুর্শিদি, মারফতি প্রভৃতি ধারায় প্রায় দুই হাজারের অধিক গান রচনা করেছেন। ২০১০ সালে তাকে নিয়ে নির্মিত হয়েছে প্রামাণ্য চলচ্চিত্র মেঠোপথের গান[১]

হালী নিজের রচিত অধিকাংশ গানে সুরারোপ করেন। এছাড়াও রচনা করেছেন একাধিক আঞ্চলিক নাটক। আস্কর আলী পণ্ডিতের ভাবশিষ্য হালী যদিও নাটক রচনা ও সুর সৃষ্টি করেন। তার গান নিয়ে দুটি গ্রন্থ তত্ত্ববিধি ও জ্ঞানজ্যোতি।[২]

প্রাথমিক জীবন[সম্পাদনা]

আবদুল গফুর হালীর হস্তাক্ষর


গফুর হালীকে লেখা ড. হানস্ হারডারের চিঠি

আবদুল গফুর হালী ১৯২৮ সালের ৬ আগস্ট চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার রশিদাবাদে জন্ম নেন। তার পিতা আবদুস সোবহান এবং মাতা গুলতাজ খাতুন। রশিদাবাদ প্রাথমিক বিদ্যালয় ও জোয়ারা বিশ্বম্বর চৌধুরী উচ্চবিদ্যালয় থেকে তিনি শিক্ষা গ্রহণ করেন।[৩][৪][৫] তবে ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত একাডেমিক শিক্ষা অর্জনের পর ইস্তফা দেন।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]

সঙ্গীতজীবন[সম্পাদনা]

সোনাবন্ধু তুই আমারে করলি রে দিওয়ানা, রসিক তেল কাজলা কোন অই লাল কোর্তা অলা, মনের বাগানে ফুটিল ফুলরে, তুঁই যাইবা সোনাদিয়া বন্ধু মাছ মারিবার লাই, অ শ্যাম রেঙ্গুম ন যাইও, ঢোল বাজের আর মাইক বাজের, বানুরে অ বানু আঁই যাইয়ুম গই চাটগাঁ শরত তোঁয়ার লাই আইন্যম কী, কিংবা মাইজভান্ডারী গান- দেখে যারে মাইজভাণ্ডারে, কতো খেলা জানরে মাওলা, মাইজভাণ্ডারে কি ধন আছে এবং মোহছেন আউলিয়া গান- চল যাই জিয়ারতে মোহছেন আউলিয়ার দরবারে, আল্লাহর ফকির মরে যদি, হালীর লেখা অন্যতম গান।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]

নাটক[সম্পাদনা]

তিনি ছয়টি আঞ্চলিক নাটক রচনা করেছেন। এর মধ্যে গুলবাহার গীতিনাট্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন অঞ্চলে মঞ্চায়িত ও বেতার-টেলিভিশনে প্রচারিত হয়। নাটকটিতে আস্কর আলী পণ্ডিতের কালজয়ী গান ডালেতে লড়িচড়ি বৈও চাতকি ময়নারে সহ অন্যান্য গান অন্তর্ভুক্ত হয়। তিনি আজব সুন্দরী নামেও একটি নাটক রচনা করেছেন।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন] আঞ্চলিক নাটকগুলো হল:[৩]

  • গুলবাহার
  • নীলমণি
  • কুশল্যা পাহাড়
  • চাটগাঁইয়া সুন্দরী
  • সতী মায়মুনা
  • আশেক বন্ধু

আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি[সম্পাদনা]

শামসুল আরেফীন রচিত বাঙলাদেশের লোককবি ও লোকসাহিত্য ২য়-৪র্থ খণ্ডে প্রকাশিত আবদুল গফুর হালীকে লেখা ড. হানস্ হারডারের চিঠি

জার্মানির হালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারতবর্ষ বিষয়ক দর্শন শাস্ত্রের সহকারী অধ্যাপক হানস হারডার (বর্তমানে হাইডেলবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক) ১৯৮৯ সালের দিকে বাংলাদেশে এসেছিলেন। তিনি চট্টগ্রামের মাইজভান্ডারসহ বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করেন। পরে শিল্পী কল্যাণী ঘোষের মাধ্যমে যোগাযোগ হয় আবদুল গফুর হালীর সঙ্গে। তাঁর জীবন ও গান নিয়ে ২০০৪ ডার ফেরুকটে গফুর, স্প্রিখট (পাগলা গফুর, বলে) নামে একটি গবেষণা গ্রন্থ প্রকাশ করেন। এতে হালীর ৭৬টি গান অন্তর্ভুক্ত হয়। এগুলোকে আবদুল গফুর হালী রচিত পূর্ববাংলার মরমি গান বলে উল্লেখ করেছেন হানস হারডার। তিনি আবদুল গফুর হালী সম্পর্কে লেখেন, ‘আবদুল গফুর হালীর সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চ ডিগ্রি বা উপাধি না থাকলেও নিজের চেষ্টায় তিনি অসাধারণ জ্ঞানের অধিকারী হতে সক্ষম হয়েছেন।[৪]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. নাসির উদ্দিন হায়দার (আগস্ট ৫, ২০১০)। "গফুর হালীকে নিয়ে 'মেঠোপথের গান'"দৈনিক প্রথম আলো। চট্টগ্রাম। সংগ্রহের তারিখ জুলাই ১৬, ২০১৫ 
  2. বাংলাদেশের বিস্মৃতপ্রায় লোকসঙ্গীত, শামসুল আরেফীন। বলাকা প্রকাশন,চট্টগ্রাম।ফেব্রুয়ারি ২০১২। [পৃষ্ঠা ১৩৭]
  3. সাইমন জাকারিয়া (১৪ এপ্রিল ২০১৫)। "মাইজভাণ্ডারি গানের কিংবদন্তি আবদুল গফুর হালী"দৈনিক কালের কণ্ঠ। সংগ্রহের তারিখ জুলাই ২৩, ২০১৫ 
  4. নাসির উদ্দিন হায়দার (জানুয়ারি ২৩, ২০১০)। "গানের সাধক গফুর হালী"দৈনিক প্রথম আলো। চট্টগ্রাম। সংগ্রহের তারিখ জুলাই ১৬, ২০১৫ 
  5. নাসির উদ্দিন হায়দার (নভেম্বর ২৭, ২০১৪)। "সাধক-শিল্পী আবদুল গফুর হালী"দৈনিক আজাদী। চট্টগ্রাম। ২০১৫-০৯-২৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ জুলাই ১৫, ২০১৫