বিষয়বস্তুতে চলুন

আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস
পালনকারীজাতিসংঘের সকল সদস্য
ধরনআন্তর্জাতিক
তারিখ৮ সেপ্টেম্বর
সংঘটনবার্ষিক

আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস হলো জাতিসংঘ শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা বা ইউনেস্কো-ঘোষিত একটি আন্তর্জাতিক দিবস। ১৯৬৬ সালের ২৬ অক্টোবর ইউনেস্কোর সাধারণ সম্মেলনের ১৪ তম অধিবেশনে ৮ সেপ্টেম্বর তারিখকে “আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস” হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ১৯৬৭ সালে প্রথমবারের মতো দিবসটি উদ্‌যাপিত হয়। দিবসটির লক্ষ্য ব্যক্তি, সম্প্রদায় এবং সমাজের কাছে সাক্ষরতার গুরুত্ব তুলে ধরা। বর্তমানে জাতিসংঘের সকল সদস্য রাষ্ট্র এই দিবসটি উদ্‌যাপন করে থাকে।[]

গুরুত্ব

[সম্পাদনা]

১৯৬৭ সাল থেকে জনসাধারণকে আরও শিক্ষিত, ন্যায়সঙ্গত, শান্তিপূর্ণ এবং টেকসই সমাজ গঠনের জন্য সাক্ষরতার গুরুত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়ার জন্য বিশ্বজুড়ে ৮ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস (ILD) বার্ষিক উদযাপন অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। সাক্ষরতা সকলের জন্য একটি মৌলিক মানবাধিকার। এটি অন্যান্য মানবাধিকার, বৃহত্তর স্বাধীনতা এবং বিশ্বব্যাপী নাগরিকত্ব উপভোগের দ্বার উন্মুক্ত করে। সাক্ষরতা হল মানুষের জন্য বিস্তৃত জ্ঞান, দক্ষতা, মূল্যবোধ, মনোভাব এবং আচরণ অর্জনের একটি ভিত্তি। সাক্ষরতা সমতা, বৈষম্যহীনতা, আইনের শাসন, সংহতি, ন্যায়বিচার, বৈচিত্র্য এবং সহনশীলতার প্রতি আলোকপাত করে। উপযুক্ত সাক্ষরতা স্থায়ী শান্তির সংস্কৃতি গড়ে তোলে। দেখা গেছে ২০২৩ সালে, কমপক্ষে দশজন তরুণ এবং প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে একজনের এখনও মৌলিক সাক্ষরতার দক্ষতার অভাব ( ৭৫৪ মিলিয়ন )। উপরন্তু, লক্ষ লক্ষ শিশু পড়া, লেখা এবং সংখ্যাবিদ্যায় ন্যূনতম দক্ষতা অর্জনের জন্য লড়াই করছে, এখনো ৬-১৮ বছর বয়সী প্রায় ২৫ কোটি শিশু স্কুলের বাইরে রয়েছে। তাই সাক্ষরতা বিষয়ে সচেতন করা এখন খুবই দরকার।[]

দিবস উদ্‌যাপনের যৌক্তিকতা

[সম্পাদনা]

পৃথিবীর প্রায় ৭৭৫ মিলিয়ন অধিবাসীর ন্যূনতম প্রয়োজনীয় অক্ষরজ্ঞানের অভাব রয়েছে। প্রাপ্তবয়স্ক প্রতি পাঁচ জনে একজন এখনও শিক্ষিত নন এবং এই জনগোষ্ঠীর প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই নারী।[] বিশ্বের প্রায় ৬০.৭ মিলিয়ন শিশু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত এবং আরও অনেকের শিক্ষায় অনিয়মিত বা শিক্ষা সমাপ্ত হওয়ার আগেই ঝরে পড়ে।[]

ইউনেস্কোর “সকলের জন্য শিক্ষার বৈশ্বিক নিরীক্ষণ রিপোর্ট (২০০৬)” অনুসারে,[] অঞ্চলভিত্তিতে দক্ষিণ এশিয়ায় প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে সাক্ষরতার হার সবচেয়ে কম (৫৮.৬%); এরপরেই রয়েছে সাব-সাহারান আফ্রিকা অঞ্চলের অবস্থান (৫৯.৭%)। বিশ্বের সবচেয়ে কম সাক্ষরতার হারের দেশগুলো হলো বুর্কিনা ফাসো (১২.৮%), নাইজার (১৪.৪%) ও মালি (১৯%)। প্রতিবেদনে দেশগুলোর নিরক্ষরতার হারের সাথে চরম দারিদ্র‍্য এবং নারীদের সামাজিক অবস্থানের সাথে নিরক্ষতার সুস্পষ্ট সম্পর্ক পরিলক্ষিত হয়।

আরও দেখুন

[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. "International Literacy Day" (ইংরেজি ভাষায়)। ইউনেস্কো। সংগ্রহের তারিখ ২৪ অক্টোবর ২০১৮
  2. "literacy"। unesco। সংগ্রহের তারিখ ২০ মে ২০২৫
  3. "Literacy"। ইউনেস্কো পরিসংখ্যান ইনস্টিটিউট। ২৫ অক্টোবর ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৪ অক্টোবর ২০১৮
  4. "More Than One-Half of Children and Adolescents Are Not Learning Worldwide" (পিডিএফ)। UNSECO Institute for Statistics। ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮ তারিখে মূল থেকে (পিডিএফ) আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৪ অক্টোবর ২০১৮
  5. "Global Education Monitoring Report"। UNESCO। ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৪ এপ্রিল ২০১৭

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]