অফসাইড (২০০৬-এর ইরানি চলচ্চিত্র)

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
অফসাইড
অফসাইড (২০০৬-এর ইরানি চলচ্চিত্র) পোস্টার.jpg
পরিচালকজাফর পানাহি
রচয়িতাজাফর পানাহি
শাদ্মেহর রাস্তিন
শ্রেষ্ঠাংশেশিমা মোবারক-শাহী
সাফার সমন্দর
শায়স্তাহ ইরানী - আয়দা সাদেকী
গোলনাজ ফরমানী
মোহসেন তানাবন্দে
সুরকারযুবাল বড়জানি
কোরোশ বোজর্গপুর
চিত্রগ্রাহকরামি আগামী
মাহমুদ কালারি
সম্পাদকজাফর পানাহি
পরিবেশকসনি পিকচার্স ক্লাসিকস
মুক্তি
  • ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০০৬ (2006-02-17)
দৈর্ঘ্য৯৩ মিনিট
দেশইরান
ভাষাফারসি
নির্মাণব্যয়$ ২,৫০০ (আনুমানিক)

অফসাইড ( ফার্সি: آفساید‎‎) জাফর পানাহি পরিচালিত একটি ২০০৬ সালের ইরানি চলচ্চিত্র, এমন মেয়ে সম্পর্কে যে বিশ্বকাপের বাছাই পর্বের ম্যাচ দেখার চেষ্টা করে, যা তার লিঙ্গের কারণে আইনত নিষিদ্ধ। সহিংসতা বা মৌখিক নির্যাতনের উচ্চ ঝুঁকির কারণে মহিলা ভক্তদের ইরানের ফুটবল স্টেডিয়ামগুলিতে প্রবেশের অনুমতি নেই। ছবিটির পরিচালক তার কন্যার দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন, যে কিনা যে কোনও উপায়ে খেলা দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। ছবিটির শুটিং ইরানে করা হয়েছিল [১] তবে সেখানে এর প্রদর্শনী নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। [২]

পটভূমি[সম্পাদনা]

ছবিটির বেশিরভাগ চরিত্রেরই নাম নেই।

ইরানবাহরাইনের মধ্যে ২০০৬ বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচে দেখতে একটি মেয়ে ছেলের ছদ্মবেশ ধারণ করে। তিনি একদল পুরুষ ভক্তের সাথে বাসে ভ্রমণ করেন, যাদের মধ্যে কেউ কেউ তার লিঙ্গ পরিচয় লক্ষ্য করে, কিন্তু কাউকে বলে না। আজাদী স্টেডিয়ামে পৌঁছে সে টিকিট বিক্রি করতে অনিচ্ছুক টিকিট বিক্রেতাকে রাজি করায়; অনেক উচ্চ মূল্য দিতে রাজি হয়ে। মেয়েটি সুরক্ষার জন্য লুকিয়ে খেলা দেখার অনেক চেষ্টা করে, তবে তাকে সনাক্ত করে পুলিশ ধরে ফেলে। স্টেডিয়ামের ছাদে তাকে একটি খোঁয়াড়ে রাখা হয় অন্য বেশ কয়েকজন মহিলাদের সাথে, তারাও একইভাবে ধরা পড়েছিল; খোঁয়াড়টা একটি জানালার কাছাকাছি, তবে একটি ভুল কোণে হওয়ার দরুন তারা খেলা দেখতে পারে না।

মহিলারা বেশ কয়েকজন সৈন্য দ্বারা রক্ষিত, যাদের প্রত্যেকে কেবল তাদের জাতীয় সেবা করছে; বিশেষত একজন হলেন তাবরিজের এক ইরানি আজারি ছেলে, যিনি কেবল তার খামারে ফিরে যেতে চান। সৈন্যরা বিরক্ত এবং বিশেষত মহিলাদের যত্ন নেয় না; যাইহোক, তারা তাদের "প্রধানদের" ভয়ে মহিলাদের সাবধানে রক্ষা করে, যারা যে কোনও মুহুর্তে আসতে পারে। তারা মাঝে মধ্যে মহিলাদের জন্য খেলার ধারাবর্ণনা দেয়।

কনিষ্ঠ একটি মেয়েকে টয়লেটে যেতে হবে, তবে স্টেডিয়ামে অবশ্যই কোনও মহিলাদের টয়লেট নেই। একজন সৈনিক তাকে পুরুষদের টয়লেটে নিয়ে যাওয়ার জন্য নিযুক্ত করা হয়, যিনি প্রথমে একটি ফুটবল তারকার পোস্টারের সাহায্যে মেয়েটার মুখ ছদ্মবেশ করে, তারপর বেশ কয়েকজন রাগান্বিত পুরুষকে টয়লেটের বাইরে রেখে মহিলাটিকে টয়লেটে প্রবেশ করিয়ে দেয়। বিশৃঙ্খলা চলাকালীন, মেয়েটি স্টেডিয়ামে পালিয়ে যায়, যদিও তাবরিজ থেকে আসা সৈন্যদের অসুবিধা হতে পারে ভেবে কিছুক্ষণ পরেই তিনি খোঁয়াড়ে ফিরে আসেন।

খেলার দ্বিতীয়ার্ধে, মহিলাদের একটি বাসে তোলা হয়, সাথে আতশবাজি বহন করার জন্য গ্রেপ্তার করা একটি ছেলেকেও এবং সৈন্যদেরকে এদেরকে নিয়ে ভাইস স্কোয়াড সদর দফতরে নিয়ে যাবার নির্দেশ দেয়া হয়। তেহরান দিয়ে বাস চলার সময় তাবরিজ থেকে আসা সৈনিকটি ম্যাচের ধারাভাষ্য রেডিওতে বাজায়। ইরান বাহরাইনকে ১-০ গোলে পরাজিত করে। মোহাম্মদ নসরাতি মধ্যাহ্ন বিরতির পরেই একমাত্র গোলটি করে এবং বাসে বন্য উদযাপন শুরু করে, মহিলারা ও সৈন্যরা উল্লসিত ও আনন্দে গান গায়। যে মেয়েটির গল্প দিয়ে চলচ্চিত্রটি শুরু হয়েছিল কেবল তিনিই খুশি নন। কেন জিজ্ঞাসা করা হলে, তিনি ব্যাখ্যা করেছেন যে তিনি ফুটবলে সত্যই আগ্রহী নন; তিনি এই ম্যাচটি দেখতে চেয়েছিলেন কারণ তার এক বন্ধু সাম্প্রতিক ইরান- জাপান ম্যাচ চলাকালীন ধস্তাধস্তিতে মারা যাওয়া সাতজনে মধ্যে একজন ছিল এবং সে তার স্মৃতিতে ম্যাচটি দেখতে চেয়েছিলেন।

তেহরান শহর উৎসবে মেতে উঠেছিল এবং স্বতঃস্ফূর্ত রাস্তার পার্টি শুরু হওয়ার সাথে সাথে বাসটি ট্র্যাফিক জ্যামে আটকে পড়ে। আতশবাজি নিয়ে ধরা পরা ছেলের কাছ থেকে সাতটি হাতে ধরা বাজি ধার করে, মহিলারা এবং সৈন্যরা বাস ছেড়ে পার্টিতে যোগ দেয়, তাদের হাতের বাজি উপরে তুলে ধরে।

ছবিটি ইরান জাতীয় দলের জন্য বাছাইপর্বের সময় একটি আসল স্টেডিয়ামে চিত্রধারন করা হয়েছিল। পানাহির ম্যাচের ফলাফলের উপর নির্ভর করে ছবিটির দুটি পৃথক সমাপ্তি আগে থেকেই প্রস্তুত ছিল। [৩]

অভিনয়ে[সম্পাদনা]

  • প্রথম মেয়ে হিসাবে সিমা মোবারক-শাহী
  • ধূমপানের মেয়ে হিসাবে শায়স্তেহ ইরানী
  • ফুটবল মেয়ে হিসাবে আয়দা সাদেকি
  • চাদরের মেয়ে হিসাবে গোলনাজ ফারমণি
  • মহিলা সৈনিক হিসাবে মাহনাজ জাবিহি
  • অল্প বয়সী মেয়ে হিসাবে নাজনীন সিদ্দিক-জাদেহ
  • সৈনিক হিসাবে হাদি সাঈদী
  • টিকিট বিক্রেতা হিসাবে মহসিন তানাবন্দে

সমালোচকদের অভ্যর্থনা[সম্পাদনা]

চলচ্চিত্রটি সমালোচকদের কাছ থেকে খুব ইতিবাচক পর্যালোচনা পেয়েছিল। পর্যালোচনা সমষ্টিবিদ রোটেন টমেটোসের রিপোর্ট করেছেন যে ৭৬টি পর্যালোচনার ভিত্তিতে দেখা গেছে যে ৯৭% সমালোচক ছবিটিকে ইতিবাচক পর্যালোচনা দিয়েছেন। [৪] মেটাক্রিটিক রিপোর্ট করেছেন যে, ২৫টি পর্যালোচনার ভিত্তিতে চলচ্চিত্রটির স্কোর ছিল ১০০ এর মধ্যে ৮৫। [৫]

শীর্ষ দশ তালিকা[সম্পাদনা]

২০০৭ সালের সেরা চলচ্চিত্রগুলির বেশ কয়েকটি সমালোচকদের শীর্ষ দশ তালিকায় এই চলচ্চিত্রটি উপস্থিত হয়েছিল [৬]

পুরস্কার[সম্পাদনা]

২০০৬ সালে বার্লিন আন্তর্জাতিক ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে চলচ্চিত্রটি সিলভার বিয়ার জিতেছিল এবং ২০০৬ সালে নিউইয়র্ক চলচ্চিত্র উৎসব এবং টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে দাপ্তরিক নির্বাচনে ছিল।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Offside (2006/I)
  2. Offside (2006/I) - Trivia
  3. Bradshaw, Peter, "Offside", in "The Guardian", June 8, 2006.
  4. "Offside - Rotten Tomatoes"Rotten Tomatoes। সংগ্রহের তারিখ ২০০৮-০১-০৫ 
  5. "Offside (2007): Reviews"Metacritic। সংগ্রহের তারিখ ২০০৮-০১-০৫ 
  6. "Metacritic: 2007 Film Critic Top Ten Lists"Metacritic। ২০০৮-০১-০২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০০৮-০১-০৫ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]