সাদত হাসান মান্টো

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সাদত হাসান মান্টো
জন্ম ১১ মে, ১৯১২
পাঞ্জাব, ভারত
মৃত্যু ১৮ জানুয়ারি,১৯৫৫
জীবিকা লেখক, ঔপন্যাসিক
জাতীয়তা পাকিস্তানী
ধরন উপন্যাস, ছোট গল্প
উল্লেখযোগ্য রচনাসমূহ বু, তোবা টেক সিং,তামাশা,ঠাণ্ডা গোস্ত
উল্লেখযোগ্য পুরস্কার নিশান-এ-ইমতিয়াজ

সাদত হাসান মান্টো (উর্দু: سعادت حسن منٹو‎) সাদত হাসান মান্টো জন্মগ্রহণ করেন ১৯১২ এর ১১ মে পাঞ্জাব লুবিয়ানার পাপরউদি গ্রামের ব্যারিস্টার পরিবারে। মান্টোর পূর্ব পুরুষ কাশ্মিরী বংশোদ্ভূত ছিলেন। মান্টোর লেখাপড়ার হাতে খড়ি অমৃতসরের মুসলিম হাই স্কুলে। কিন্তু স্কুলের গন্ডিতে তাঁর মন প্রাণ হাঁপিয়ে উঠতো। পড়ালেখায় অমনোযোগীতার কারণে স্বভাবতই দু’বার এন্ট্রান্স পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে ব্যর্থ হন। কিন্তু স্কুলের পাঠ্য বহির্ভূত গল্প-উপন্যাসের বই পড়ার প্রবল আগ্রহ তাঁকে তরুণ বয়সেই অমৃতসর রেল স্টেশনের বুকস্টল থেকে বই চুরিতে প্রলুব্ধ করেছিলো। ১৯৩১ সালে কলেজে পাঠকালীন অবিভক্ত ভারতে স্বাধীনতা সংগ্রামের অশান্ত পরিবেশে মান্টোর লেখাপড়ার ব্যাঘাত ঘটে। ১৯৩২ সালে পিতার মৃত্যুর পর মান্টো আরো অসহায় হয়ে পড়েন। পরিবারের অর্থ কষ্ট লাঘবের জন্যে তখন থেকেই তিনি আয়-উপার্জনের পথ খুঁজতে থাকেন। সে সময় তার্কিক লেখক আবদুল বারি আলিগের সঙ্গে মান্টোর সাক্ষাৎ ঘটে। এই সাক্ষাৎ সাদত হাসান মান্টোর জীবনে একটি মাইলফলক। আবদুল বারি আলিগ সে সময়ের তরুণ লেখক মান্টোকে রাশিয়ান এবং ফরাসি ভাষা শিখতে উদ্বুদ্ধ করেন।

কয়েক মাসের মধ্যেই মান্টো, ভিক্টর হুগোর “The last Day of a Condemned Man” এর উর্দু অনুবাদ করেন। যা পরবর্তীকালে “সারগুজাস্‌ত-ই-আসির”( এক বন্দীর গল্প) নামে উর্দুতে প্রকাশিত হয়। এভাবে মান্টোর হাতে রাশিয়ান গল্পের উর্দু অনুবাদ “রাশি আফ্‌সানে” প্রকাশিত হয় এর পরেই।

বিদেশী সাহিত্য উর্দ ভাষায় অনুবাদ করতে গিয়ে মান্টো যেন অন্য জগতের সন্ধান পান। কিংবদন্তি লেখক ভিক্টর হুগো, অসকার ওয়াইল্ড এবং রাশিয়ান লেখক আন্তন চেখব, ম্যাক্সিম গোর্কী প্রমুখের সাহিত্য কীর্তির সাথে পরিচিত হন নিবিড়ভাবে। তিনি উর্দু সাহিত্যের একজন জনপ্রিয় ছোটগল্পকার। তাঁর বিখ্যাত গল্পের মধ্যে আছে বু, তোবা টেক সিং,তামাশা,ঠাণ্ডা গোস্ত

তিনি একজন বেতার লিপি লেখক ও সাংবাদিকও ছিলেন। তাঁর ছোট গল্পের সংকলন Kindom's end and other stories , একটি উপন্যাস ,তিনটি প্রবন্ধ সংগ্রহ ও ব্যাক্তিগত স্কেচের দুটি সংগ্রহ প্রকাশিত হয়েছে ।

মান্টো বিরুদ্ধে ছয়বার অশ্লীলতার অভিযোগে মামলা হয় ,কিন্তু কখনই তিনি দোষী সাব্যস্ত হননি । তাঁর অধিকাংশ কাজ পৃথিবীর বহুভাষায় অনূদিত হয়েছে ।সালমান রুশদি মান্টো সম্পর্কে বলেন , " Undisputed master of modern Indian short story" ক্রমাগত নিম্ন মানের সুরা পানে ‘মান্টো “লিভার সিরোসিস”-এ আক্রান্ত হন। বেঁচে থাকার প্রবল আগ্রহ ব্যাধির কাছে আত্মসমর্পণ করে। ১৯৫৫ সালের ১৮ জানুয়ারি তাঁর অকাল প্রয়াণ ঘটে তাঁর দ্বিতীয় আবাস ভূমি লাহারো।

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]