শেখ জায়েদ গ্র্যান্ড মসজিদ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
শেখ জায়েদ গ্র্যান্ড মসজিদ
শেখ জায়েদ মসজিদ সংযুক্ত আরব আমিরাত-এ অবস্থিত
শেখ জায়েদ মসজিদ
শেখ জায়েদ মসজিদ
সংযুক্ত আরব আমিরাতে এর অবস্থান
স্থানাঙ্ক: ২৪°২৪′৪৩″ উত্তর ৫৪°২৮′২৬″ পূর্ব / ২৪.৪১২° উত্তর ৫৪.৪৭৪° পূর্ব / 24.412; 54.474স্থানাঙ্ক: ২৪°২৪′৪৩″ উত্তর ৫৪°২৮′২৬″ পূর্ব / ২৪.৪১২° উত্তর ৫৪.৪৭৪° পূর্ব / 24.412; 54.474
অবস্থান আবুধাবি,
 সংযুক্ত আরব আমিরাত
শাখা/ঐতিহ্য সুন্নি
মালিকানা সরকার
স্থাপত্য তথ্য
ধারণক্ষমতা ৪০,০০০ হাজারের বেশি
গম্বুজ সাতটি বিভন্ন ভিন্ন ধরনের ৪০টি গম্বুজ
গম্বুজের উচ্চতা (বাহ্যিক) ৮৫ মি (২৭৯ ফু)
গম্বুজের ব্যাস (বাহ্যিক) ৩২.২ মি (১০৬ ফু)
মিনার
মিনারের উচ্চতা ১০৭ মি (৩৫১ ফু)
নির্মাণ খরচ ২ বিলিয়ন দিরহাম
(ইউএসডি $ ৫৪৫ মিলিয়ন)

শেখ জায়েদ গ্র্যান্ড মসজিদ (আরবি: جامع الشيخ زايد الكبير‎) সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতে অবস্থিত[১] ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের অন্যতম একটি উপাসনাল। মসজিদটির নামকরণ করা হয়েছে আরব আমিরাত এর প্রয়াত রাষ্ট্র প্রধান শেখ জায়েদ বিন সুলতান আল নাইয়ানের নামানুসারে।[২]

নির্মান ইতিহাস[সম্পাদনা]

শেখ জায়েদ গ্র্যান্ড মসজিদ, আরব-আমিরাতের সবচেয়ে বড় মসজিদ। এমনকি এ মসজিদ পৃথিবীর অষ্টম বৃহত্তম ও সুন্দরতম। ৩৮ টি প্রখ্যাত ঠিকাদারি কোম্পানির ৩০০০ হাজার দক্ষ কর্মী ইতালি, জার্মানি, মরক্কো, পাকিস্তান, ভারত, তুরস্ক, মালয়েশিয়া, ইরান, চীন, যুক্তরাজ্য, নিউজিল্যান্ড, গ্রিসসংযুক্ত আরব আমিরাত সহ অনেক দেশের কাঁচামালে নির্মাণ করেন এই মসজিদ। শেখ জায়েদ মসজিদের নকশায় পাকিস্থান, ভারত ও মরক্কের প্রভাব স্পষ্ট। সরকারী কোষাগার থেকে নির্মিত এই মসজিদ নির্মাণে খরচ হয়েছে $৫৪৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। সাড়া বিশ্বের পর্যটকদের কাছেও এই মসজিদ অন্যতম জনপ্রিয় একটি জায়গা।

নকশা[সম্পাদনা]

চার কোণে চারটি মিনারে পুষ্পশোভিত নকশা রয়েছে। যার উচ্চতা ৩৫১ ফুট(প্রায় ১০৭ মিটার)। নকশা নির্মাণের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে দীর্ঘস্থায়ী মার্বেল পাথর, মূল্যবান স্ফটিক পাথর,ও মৃৎশিল্প। শেখ জায়েদ মসজিদের নকশায় মুঘল এবং মুরিস মসজিদ, গম্বুজ বিন্যাস ও ফ্লোর বিন্যাসে বাদশাহি লাহোরে মসজিদ, মিনারে দ্বিতীয় হাসান মসজিদ (মরক্কো) এর প্রভাব স্পষ্ট প্রতীয়মান। আরবের ২০০ বছরের ইতিহাস-ঐতিহ্য ও শিল্পচর্চার নমুনা ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে মার্বেল পাথর, সোনা, আধা মূল্যবান পাথর, স্ফটিক ও মৃৎশিল্পের বিভিন্ন উপকরন ব্যবহার করে। সংযুক্ত আর আমিরাতের মোহাম্মদ মান্দি আল তামামি , সিরিয়ার ফারুক হাদ্দাদ এবং জর্দানের মোহাম্মদ আলাম এর ক্যালিওগ্রাফি ও নকশা চোখে পরে মসজিদের সর্বত্র। ডিজাইন ও নির্মাণে ইতালি, জার্মানি, মরক্কো, পাকিস্তান, ভারত, তুরস্ক, মালয়েশিয়া, ইরান, চীন, যুক্তরাজ্য, নিউজিল্যান্ড, গ্রিস ও সংযুক্ত আরব সহ অনেক দেশ থেকে কারীগর ও উপকারণ ব্যবহার করা হয়েছে। মসজিদটিতে আছে ছোট-বড় সাত আকারের ৮২টি গম্বুজ। যা নির্মাণ করা হয়েছে স্বেত মার্বেল দিয়ে। মসজিদের বৃহত্তম গম্বুজের উচ্চতা ২৭৯ ফুট।

মাত্রা ও পরিসংখ্যান[সম্পাদনা]

শেখ জায়েদ গ্র্যান্ড মসজিদ অনেক বিশেষ এবং অনন্য উপাদান আছে: প্রধান প্রার্থনা কক্ষে ইরানের কার্পেট কোম্পানি তৈরি যা ইরানী শিল্পী আলী খালিদির ডিজাইনে বিশ্বের বৃহত্তম গালিচা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই গালিচা ৬০৫৭০ বর্গ ফুট এবং এই কার্পেট এর ওজন ৩৫ টন। নিউজিল্যান্ড এবং ইরানের উল থেকে তৈরি করতে প্রায় দুই বছর সময় লেগেছিল।

স্ফটিক সচ্ছ লক্ষ লক্ষ পাথরের তৈরি পৃথিবীর বৃহত্তম ঝাড়বাতিটি এই মসজিদে। জার্মানির তৈরি ঝাড়বাতিটির ব্যাস ১০ মিটার (৩৩ ফুট) এবং উচ্চতা ১৫ মিটার (৪৯ ফুট) দ্বিতীয়, তৃতীয় বৃহত্তম ঝাড়বাতি ও এই মসজদেরই শ্রী বাড়াচ্ছে। মসজিদটির আঙিনা ১৭ হাজার বর্গমিটার মার্বেল মোজাইকের। এটি পৃথিবীর সর্ববৃহৎ আয়তনের মার্বেল মোজাইক। প্রধান হলের ধারন ক্ষমতা ৭০০০। সাথেই রয়েছে ২টি প্রার্থনা হল এক একটি ১৫০০ ধারন ক্ষমতা সম্পন্ন। যার ১ টি মহিলাদের জন্য। প্রতিটির সঙ্গে দুটি ছোট প্রার্থনা হল ও আছে। প্রার্থনা হল ও আঙ্গিনা মিলিয়ে ৪০,০০০ মানুষ নামাজ পড়তে পারে। জুম্মা ও ঈদে সর্বমোট দেড় থেকে দুই লাখ মুসল্লি নামাজ আদায় করেন।

গ্রন্থাগার[সম্পাদনা]

শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমও এই মসজিদের মাধ্যমে পরিচালনা করা হয়। আধুনিক ও ইসলামী বইয়ের এক অনন্য সংগ্রহশালা রয়েছে মসজিদ লাইব্রেরীতে। ইসলামী বিশ্বের বৈচিত্র্য এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের ঐতিহ্য ফুটিয়ে তুলতে সংগ্রহ করা হয়েছে আরবি, ইংরেজি, ফরাসি, ইতালীয়, স্পেনীয়, জার্মানকোরীয় সহ বিভিন্ন ভাষার বই।

গ্যালারি[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]