ব্রতাইন

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
ব্রতাইন
Bretagne/Breizh
ফ্রান্সের অঞ্চল

Flag
Official logo of ব্রতাইন
Logo
দেশ  ফ্রান্স
দপ্তর রেন
বিভাগ
সরকার
 • প্রেসিডেন্ট Jean-Yves Le Drian (PS)
আয়তন
 • মোট ২৭,২০৮
জনসংখ্যা (২০০৮-০১-০১)
 • মোট ৩১,৩৯,০০০
সময় অঞ্চল সিইটি (ইউটিসি+১)
 • গ্রীষ্মকাল (ডিএসটি) সিইডিটি (ইউটিসি+২)
জিডিপি/নামমাত্র € ৭৮ বিলিয়ন (২০০৬)[১]
জিডিপি মাথাপিছু € ২৫,২০০ (২০০৬)[১]
এনইউটিএস অঞ্চল FR5
ওয়েবসাইট bretagne.fr

ব্রতাইন (ফরাসি: Bretagne; ব্রেটন ভাষায়: Breizh ব্রেইস;ইংরেজি ভাষায়: Brittany ব্রিটানি) ফ্রান্সের উত্তর-পশ্চিম কোনায় অবস্থিত একটি প্রশাসনিক অঞ্চল বা রেজিওঁ। এটি একটি উপদ্বীপ যার একপাশে ইংলিশ চ্যানেল ও অন্যপাশে পশ্চিমে বিস্কে উপসাগর

বর্তমান ব্রতাইন রেজিওঁ বা প্রশাসনিক অঞ্চলটি ঐতিহাসিক ব্রতাইন অঞ্চলের পশ্চিমের ৮০% অংশ নিয়ে গঠিত। রেন (Renne) শহর এই অঞ্চলের রাজধানী। ২য় বিশ্বযুদ্ধ শেষে ঐতিহাসিক ব্রতাইনের বাকী ২০% এবং আরও কিছু কিছু ঐতিহাসিক অঞ্চল নিয়ে আরেকটি প্রশাসনিক অঞ্চল পেই-দ্য-লা-লোয়ার অঞ্চলটি গঠন করা হয়, যার রাজধানী নঁত, ঐতিহাসিক ব্রতাইনেরই একটি বন্দর শহর। মূলত রেন ও নঁতের মধ্যে রেষারেষি থামাতে এই দুইটি প্রদেশ গঠন করা হয়েছিল। নঁত ছিল ১৬শ শতক পর্যন্ত ব্রতাইনের রাজধানী। এরপর থেকে রেন শহর প্রশাসনিক কাজে প্রাধান্য পায়।

রেন বাদে ব্রতাইনের সমস্ত প্রধান শহরই গুরুত্বপূর্ণ বন্দর। এদের মধ্যে আছে সাঁ-নাজের, ব্রেস্ত, সাঁ-মালো, লোরিয়াঁ।

জুলিয়াস সিজার ৫৬ খ্রিস্টপূর্বাব্দে অঞ্চলটি বিজয় করেন। রোমান শাসনের শেষের দিকে ও তার পরে অ্যাংলো-স্যাক্সনদের অত্যাচারে ব্রিটেনের আদি কেল্টীয় জাতিগুলি, যারা ব্রাইটন নামে পরিচিত, উত্তরে ওয়েল্‌স, পশ্চিমে কর্নওয়াল অঞ্চলে সরে যায় এবং এদেরই একাংশ ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে ইউরোপীয় মূল ভূখণ্ডে বর্তমান ব্রতাইনে এসে বসতি গাড়ে। ব্রতাইন নামটি (মূল ব্রেটন ভাষাতে: Breizh ব্রেইস) এখান থেকেই এসেছে। এই ব্রাইটনেরা ব্রেটন ভাষাতে কথা বলত, এবং এদের ভাষার সাথে ওয়েল্‌শ ভাষাকর্নিশ ভাষার মিল আছে। ব্রিটেনের অধিবাসীরা নিজেদের দেশকে ডাকত The Great Britain বা বড় ব্রিটেন আর ব্রতাইনকে ডাকত The Little Britain অর্থাৎ ছোট ব্রিটেন। তখন এটি ছিল একটি স্বাধীন ডিউকশাসিত অঞ্চল। ৯ম শতকে ফ্রান্স এই অঞ্চলটি দখলের চেষ্টা চালায়, কিন্তু প্রতিবারই এখানকার অধিবাসীদের সাথে যুদ্ধে পরাজিত হয়। পরবর্তীতে ১২শ শতকে ইংল্যান্ডের রাজা ২য় হেনরি অঞ্চলটিকে ইংল্যান্ডের অন্তর্ভুক্ত করলে সে চেষ্টাও ব্রতাইনবাসী ব্যর্থ করে দেয়। এতে নেতৃত্ব দেন হেনরিরই নিজের ছেলে ব্রতাইনের ভবিষ্যৎ ডিউক ২য় জেফরি। ১১৯৬ সালে জেফরির ছেলে ১ম আর্থার ছিলেন ব্রতাইনের পরবর্তী ডিউক। তিনিও একইভাবে ইংল্যান্ডের আগ্রাসন প্রতিরোধ করেন। শেষ পর্যন্ত ১৫শ শতকের শেষে এসে ফ্রান্সের সেনাবাহিনী ব্রতাইনকে পদানত করতে সক্ষম হয় এবং ব্রতাইনের ডিউকের বংশধর ১২ বছর বয়সী ডিউককন্যা আন-কে ফ্রান্সের রাজা দ্বাদশ লুইকে বিয়ে করতে বাধ্য করা হয়। এরই রেশ ধরে ১৫৩২ সালে এসে ব্রতাইন ফ্রান্সের অংশে পরিণত হয়। ১৯শ শতকে এখানে জাতীয়তাবাদের উন্মেষ ঘটে, তবে ফ্রান্সের থেকে বিচ্ছিন্ন হবার প্রচেষ্টা প্রতিহত করা হয়। ফ্রান্সের সাথে বহু শতক ধরে একসাথে বসবাসের ফলে এক ধরনের একীকরণ ঘটলেও এখনও এখানকার জনগণ বহু প্রাচীন রীতিনীতি ও ঐতিহ্য ধরে রেখেছে, যা একান্তই ব্রতাইনের নিজস্ব। তবে ১৯৪০-এর দশকের পর থেকে এখানে ব্রেটন ভাষার ব্যবহার ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে ও ফরাসি ভাষার প্রচলন বৃদ্ধি পায়।

গ্যালারি[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]