বীর্য

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
অন্য ব্যবহারের জন্য, দেখুন বীর্য (দ্ব্যর্থতা নিরসন)
Spermatozoa, in this case human, are a primary component in normal semen, and the agents of fertilization of the female ova

বীর্য (ইংরেজি: Semen) যা বীর্যরস নামেও পরিচিত, হচ্ছে এক প্রকার জৈব তরল যা spermatozoa পারে ধারণ করে। বীর্য পেলভিসের ভেতরে সেমিনাল ভেসিকল থেকে তৈরি হয়। যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বীর্য বের হয় তাকে বীর্যপাত বলে।

শারীরবিত্তিও দিক[সম্পাদনা]

অন্তঃ ও বহিঃ নিষেক[সম্পাদনা]

মানব বীর্যের উপাদান[সম্পাদনা]

গবেষকরা ল্যাবরেটরিতে টেস্টটিউবে কাচের মধ্যে গবেষণা করে দেখেছেন যে, শুক্র ব্যতীত অন্যান্য যেসব উপাদান বীর্যে পাওয়া যায় তার ৯০ শতাংশই তরল জল জাতীয় উপাদান। এছাড়াও বীর্যে থাকে সুগার বা গ্লুকোজ যা কি না শুক্রাণুর কার্যকারিতা ও বলিষ্ঠতারজ্বালানিস্বরূপ। বীর্যে আরো থাকে ক্ষারীয় উপাদান। প্রোস্টেট গ্ল্যান্ডের কিছু পরিমাণএনজাইম ও কিছুমাত্রায় ভিটামিন সি, কিঙ্ক এবং থাকে কোলেস্টেরল। দেহের বীর্য সংশ্লেষণ প্রক্রিয়াটি অন্যান্য দশবারোটা শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ার মতোই সাধারণ।এটি তৈরিতে বিশেষ রকমের খাদ্য উপাদানের সরবরাহেরপ্রয়োজন হয় না। আসল কথা হল বীর্যের সাথে খাবারের কোনো প্রত্যক্ষ বা ডাইরেক্ট সম্পর্ক নেই। যদি এ জাতীয় কোনো ধরনের সম্পর্ক থাকতো, তবে ডাক্তারগন প্রজনন বা সন্তান উৎপাদনে অক্ষম পুরুষদেরকে বেশি বেশি খাদ্য খেতে উপদেশ দিতেন।আমাদের দেহে প্রতিনিয়ত দিনরাত চব্বিশঘন্টা বীর্য তৈরি হচ্ছে আর তা সাময়িকভাবে সেমিনাল ভেসিক্যালে জমা থাকছে। ধারণক্ষমতা পূর্ণহবার পরে এর বাড়তি অংশ যৌন সঙ্গম বা মাস্টারবেশন প্রক্রিয়া ওস্বপ্নদোষের মাধ্যমে তা বেরিয়ে যায়। একটা কথা সবারই মনে রাখা দরকার যে,দেহের মাঝে বিরতিহীনভাবেবীর্য সংশ্লেষণ ঘটছে স্খলনের উদ্দেশ্যে, জমা বা সঞ্চিত থাকার জন্য নয়।বীর্য নির্গমন যে প্রক্রিয়াই ঘটুক না কেন, তা মানব দেহের উৎপাদন কর্মকান্ডকে সচল, সবল আর গতিশীল রাখে।কাজেই স্বাভাবিক সেক্স সঙ্গম বা নিদ্রার মধ্যবর্তী স্বপ্নদোষ বা যে কোনোভাবেই হোক না কেন, বীর্যস্খলন বা বীর্যপাত ক্ষতিকারক নয় বরঞ্চ স্বাস্থ্যসম্মত।

মানব বাহ্যিক রূপ ও ধারাবাহিকতা বজায়[সম্পাদনা]

বীর্য সাধারণত দেখতে মেঘলা সাদা অথবা কিছুটা ধুসর তরল। বীর্যপাতের সাথে সাথে এটি দেখতে গাঢ় এবং জেলীর মত ইষৎ শক্ত। তবে পরবর্তী ১৫-৩০ মিনিটের মধ্যে বীর্য তরল এবং জলের মত পাতলা হয়ে যায়। জমে যাওয়ার কারণে বীর্য যোনিতে লেগে থাকে আর তরলীকরণ প্রক্রিয়া বীর্যকে ডিম্বাণু পর্যন্ত ভ্রমণের জন্য মুক্ত করে দেয়।

বীর্যের পরিমাণ[সম্পাদনা]

বীর্যপাতে উৎপাদিত বীর্যের পরিমাণ ভিন্ন ভিন্ন হয়। ৩০ টি গবেষণায় থেকে দেখা গেছে তা গড়ে ৩.৪ মিলিলিটার এবং সর্বোচ্চ ৪.৯৯ মিলি থেকে সর্বোনিম্ন ২.৩ মিলি হয়।

বীর্যের পরিমাণ বাড়ানো[সম্পাদনা]

কিছু সম্পূরক খাবার বীর্যের পরিমাণ বাড়ায় বলে দাবি করা হয়েছে। তথাকথিত হারবাল ভায়াগ্রাসহ অন্যান্য সম্পূরক খাবারকে ওষুধ পরিচালনা বিভাগ অনুমতি দেয়নি এবং এসবের কোনোটাই বৈজ্ঞানিক ভাবে স্বীকৃত নয়।

বীর্য সংরক্ষণ[সম্পাদনা]

স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব[সম্পাদনা]

প্রজনন এর কেন্দ্রিয় ভূমিকা ছাড়াও, কিছু সমীক্ষায় বীর্য মানব স্বাস্থ্যের বিশেষ উপকারী প্রভাব থাকতে পারে দাবী করা হয়েছে :

  • বিষণ্নতারোধী : একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে যোনির মাধ্যমে বীর্য শোষণ নারীদের বিষণ্নতারোধী হিসাবে কাজ করতে পারে ; গবেষণাটি মহিলাদের দুটি দলের মধ্যে করা হয় যাদের একদল কনডম ব্যবহার করেছিল আর অপর দল কি কনডম ব্যবহার করেনি।
  • স্তনক্যান্সার প্রতিরোধ: গবেষণায় দেখা গেছে সেমিনাল রক্তরস "কমপক্ষে ৫০ শতাংশ" স্তন ক্যান্সার কমিয়ে দিতে পারে। এই প্রভাব apoptosis এর মাধ্যমে উদ্ভূত TGF -beta দ্বারা glycoprotein ও সেলেনিয়ামের উপর আরোপিত হয়। বিভিন্ন শহুরে কিংবদন্তি এই তথ্যচিত্র অভিনয় করে দেখান এবং প্রতি সপ্তাহে কমপক্ষে তিনবার মুখমৈথুন করলে স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমে বলে দাবি করেন।
  • খিচুনি প্রতিরোধ: বীর্যের শুক্রাণু মধ্যেকার পদার্থ মায়ের রোগপ্রতিরোধী সংবহনতন্ত্র, ভ্রূণ এবং গর্ভফুল বা প্ল্যাসেন্টাকে "বিদেশী" আমিষ গ্রহণের অবস্থা তৈরি করে, যা রক্ত চাপ কমিয়ে দেয়। ফলে মায়ের খিচুনি ঝুঁকি হ্রাস পায় বলে সত্যতা পাওয়া গেছে। একটি গবেষণা দেখা যায় যে, ওরাল সেক্স এবং বীর্য খাওয়ার মাধ্যমে একজন মহিলার গর্ভাবস্থা নিরাপদ এবং সফল করার জন্য সাহায্য করতে পারে কারণ সে এর মাধ্যমে তার সঙ্গী এর এন্টিজেন শুষে নেন।
  • কামেচ্ছা বৃদ্ধি : যৌন মিলনের সময় একটি মহিলার যোনি দেয়াল দিয়ে শোষিত (এমনকি খাওয়ার মাধ্যমে গ্রহীত বীর্য) টেসটোসটেরন তার কামেচ্ছা বৃদ্ধি করতে পারে বলে সত্যতা পাওয়া গেছে।

অন্যান্য গবেষণায় বিরূপ প্রভাব দাবি:

  • ক্যান্সার অবনতি : সেমিনাল রক্তরসে থাকা প্রস্টাগ্লান্ডিনের মাধ্যমে আগে থেকেই হওয়া সার্ভিকাল ক্যান্সার ত্বরান্বিত হতে পারে।

মানুষিক দিক[সম্পাদনা]

সাম্প্রতিক একটি গবেষণা সুপারিশ করেছে যে, বীর্য মহিলাদের বিষণ্নতারোধী হিসাবে কাজ করে, তাই শারীরিকভাবে বীর্য গ্রহণ নারীদের বিষণ্নতা ভোগার সম্ভাবনা কমে যায়। আগে ধারণা করা হতো এটা ঘটে কারণ বীর্যের জটিল রাসায়নিক গঠন যাতে মেজাজ-পরিবর্তনকারী হরমোন (টেসটোসটেরন, ইস্ট্রজেন, গুটিকা-উত্তেজক হরমোন, লুটিনাইজিং হরমোন, প্রলাক্টিন এবং বিভিন্ন প্রস্টাগ্লান্ডিন)।

সাংস্কৃতিক দিক[সম্পাদনা]

বীর্য খাওয়া[সম্পাদনা]

মানুষের বীর্য খাওয়ার কিছু কারণ হচ্ছে প্রেমমূলক পরিতৃপ্তি, শারীরিক সুবিধা এবং আধ্যাত্মিক।

স্বাস্থ্য ঝুঁকি[সম্পাদনা]

একজন সুস্থ পুরুষের বীর্য খাওয়ায় নারীদের কোন ঝুঁকি নেই। মুখমৈথুনের মাধ্যমে আসা ঝুঁকি ছাড়া বীর্য খাওয়ায় অন্যকোনো ঝুঁকি নেই। মুখমৈথুন কিছু যৌনবাহিত সংক্রমণ যেমনঃ এইচপিভি অথবা হার্পিসের ঝুঁকি বহন করে বিশেষত মুখমৈথুনকারীর মাড়ির রক্তপাত, মুখে খোলা ক্ষত জনিত রোগ থাকলে।

দৈহিক সুবিধা[সম্পাদনা]

গড় বীর্যপাত (৩.৪ মিলি) অনেক পুষ্টি উপাদান যেমন দস্তা, ক্যালসিয়াম এবং পটাসিয়াম সেই সাথে ভিটামিন বি১২ রয়েছে। সীমিত গবেষণায় দেখা গেছে বীর্য খাওয়ার স্বাস্থ্য উপকারিতা ইতিবাচক।

কিছু মহিলার দেহে অ্যান্টিবডির কারণে বন্ধ্যাত্ব, খিচুনি এবং মৃত সন্তান হয়। ওরাল সেক্স এবং বীর্য খাওয়ার মাধ্যমে মহিলারা তার সঙ্গীর এন্টিজেন খেয়ে নেয় যা অধিকতর নিরাপদ ও সফল গর্ভধারণে সাহায্য করে।

বীর্য খাওয়ায় মহিলাদের হতাশা দূর হয় এমন কোনো প্রভাব আছে কিনা তা নিয়ে কোন বৈজ্ঞানিক গবেষণা চালানো হয়নি। কিন্তু বীর্যে মহিলাদের মনচাংগা করার বেশ কিছু যৌগ যেমনঃ এন্ডোফ্রিন, এস্ট্রন, প্রলাক্টিন, অক্সিটসিন, থাইরোট্রপিন-রিলিজিং হরমোন এবং সেরোটোনিন আছে। তবে মহিলাদের যোনির মাধ্যমে বীর্য গ্রহণে এই হরমোনগুলোর প্রভাব শুধুমাত্র লক্ষনীয় তা নিয়ে যথেষ্ট গবেষণা হয়েছে।

সাংস্কৃতিক চর্চা[সম্পাদনা]

আধ্যাত্মিক দিক[সম্পাদনা]

যৌন চর্চা[সম্পাদনা]

গালি[সম্পাদনা]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]