বহুমূত্র রোগ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
ডায়াবেটিস ম্যালিটাস
শ্রেণীবিভাগ এবং বহিরাগত রিসোর্স
Universal blue circle symbol for diabetes.[১]
আইসিডি-১০ E10.E14.
আইসিডি- 250
মেডলাইনপ্লাস 001214
ইঔষধ med/546 emerg/134
মেএসএইচ C18.452.394.750

দেহযন্ত্র অগ্ন্যাশয় যদি যথেষ্ট ইনসুলিন তৈরি করতে না পারে অথবা শরীর যদি উৎপন্ন ইনসুলিন ব্যবহারে ব্যর্থ হয়, তাহলে যে রোগ হয় তা হলো ডায়াবেটিস বা বহুমুত্র রোগ। তখন রক্তে চিনি বা শকর্রার উপস্থিতিজনিত অসামঞ্জস্য দেখা দেয়। ইনসুলিনের ঘাটতিই হলো এ রোগের মূল কথা। অগ্ন্যাশয় থেকে নিঃসৃত হরমোন ইনসুলিন, যার সহায়তায় দেহের কোষগুলো রক্ত থেকে গ্লুকোজকে নিতে সমর্থ হয় এবং একে শক্তির জন্য ব্যবহার করতে পারে। ইনসুলিন উৎপাদন বা ইনসুলিনের কাজ করার ক্ষমতা-এর যেকোনো একটি বা দুটোই যদি না হয়, তাহলে রক্তে বাড়তে থাকে গ্লুকোজ। আর একে নিয়ন্ত্রণ না করা গেলে ঘটে নানা রকম জটিলতা, দেহের টিস্যু ও যন্ত্র বিকল হতে থাকে।

রোগ নির্ণয়[সম্পাদনা]

মানুষের রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ সাধারণত ৩.৩ থেকে ৬.৯ মিলি.মোল/লি আর খাবার পর <৭.৮ মিলি.মোল/লি।কিন্তু যদি গ্লুকোজের পরিমাণ অভুক্ত অবস্থায় ৭ মিলি.মোল/লি আর খাবার পর >১১ মিলি.মোল/লি পাওয়া যায়,তবে তার ডায়াবেটিস আছে বলে ধরে নেওয়া হয়।

ধরন[সম্পাদনা]

বহুমূত্র রোগ বা ডায়াবেটিস বললে সাধারাণতঃ ডায়াবেটিস মেলাইটাস বোঝায়। তবে ডায়াবেটিস ইনসিপিডাস নামে আরেকটি রোগ আছে যাতে মূত্র উৎপাদন বেশী হয় কিন্তু তা ADH নামে অন্য একটি হর্মোনের উৎপাদনের অভাব বা ক্রিয়ার অভাবে হয়ে থাকে এবং মূত্রাধিক্য এবং তার জন্য অতিতৃষ্ণা এই দুটি উপসর্গের মিল ছাড়া এই রোগটির সঙ্গে "ডায়াবেটিস মেলাইটাস"-এর কোন সম্পর্ক নেই। এ দুটির মধ্যে ডায়াবেটিস মেলাইটাসের প্রকোপ অনেক বেশী। ডায়াবেটিস মেলাইটাস আবার দু'রকম হতে পারে। যথাঃ টাইপ-১ বা ইনস্যুলিন নির্ভরশীল এবং টাইপ-২ বা ইনস্যুলিন নিরপেক্ষ ডায়াবেটিস।

টাইপ-১[সম্পাদনা]

টাইপ-১[২] বহুমুত্র হলো অটোইম্যুন রোগ। এ রোগে অগ্ন্যাশয়ের ইনসুলিন নিঃসরণকারী কোষগুলো ধ্বংস হয়ে যায়। তাই যাদের টাইপ-১ হয়, এদের দেহে ইনসুলিন উৎপাদিত হয় খুবই কম। এ জন্য রোগীকে বেঁচে থাকার জন্য ইনসুলিন ইনজেকশন বা ইনসুলিন পাম্প নিতে হয়। শিশু ও তরুণদের মধ্যে এ ধরনের বহুমুত্র হয় বেশি। ১০-৩০ বছরের মধ্যে দেখা দেয়।ইহা মূলত জেনেটিক কারনে হয়ে থাকে।এর জন্য দ্বায়ী হল HLADR 3 এবং HLADR 4

টাইপ-১ কে আবার দুই ভাগে ভাগ করা যায়[সম্পাদনা]

  • টাইপ-১-এ অটোইমিউনিটির জন্য বিটা কোষের ধংসের কারনে এই টাইপ-১-এ ডায়াবেটিস হয়ে থাকে ।
  • টাইপ-১-বি ইহা ও বিটা কোষের ধংসের করনে হয়ে থাকে, কিন্তু এর সঠিক কারন জানা যায়নি ।

টাইপ-২[সম্পাদনা]

টাইপ-২ বহুমুত্র রোগের পেছনে থাকেsfsdf মূলত ‘ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স’। টাইপ-২ রোগীরা শরীরে যে ইনসুলিন উৎপন্ন হয়, একে ব্যবহার করতে পারে না। ব্যায়াম ও খাদ্যবিধির সাহায্যে একে প্রথমে মোকাবিলা করা হয়। তবে অনেক সময় প্রয়োজন হয় মুখে খাওয়ার ঔষুধ, এমনকিsdfsdfsdf ইনসুলিন ইনজেকশন। ৪০ বছর বা তারপরে এ ধরনের বহুমুত্র রোগ দেখা দেয়।

বিশ্বজুড়ে ২৪৬ মিলিয়ন ডায়াবেটিস রোগীর ৯০ শতাংশের বেশি হলো টাইপ-২ ডায়াবেটিস। দুই ধরনের ডায়াবেটিসই গুরুতর এবং হতে পারে শিশু ও তরুণদেরও। এ জন্য ডায়াবেটিসের বিপদ-চিহ্নগুলো জানা খুবই প্রয়োজন। ‘মৃদু ডায়াবেটিস’ বলে কিন্তু কিছু নেই।

অন্যান্য ধরণ[সম্পাদনা]

নারীদের ক্ষেত্রে গর্ভাবস্থায় তৃতীয় এক প্রকার ডায়াবেটিস হয়ে থাকে। ইহা জ্যেষ্টেশানেল ডায়াবেটিস নামেও পরিচিত।

সাধারণ লক্ষণাদি[সম্পাদনা]

  • ঘন ঘন প্রস্রাব। এ কারণে এ রোগটির নাম বহুমূত্র রোগ ;
  • অধিক তৃষ্ণা এবং মুখ শুকিয়ে যাওয়া ;
  • অতিশয় দুর্বলতা ;
  • সার্বক্ষণিক ক্ষুধা ;
  • স্বল্প সময়ে দেহের ওজন হ্রাস ;
  • চোখে ঝাপসা দেখা।ৱ ;
  • ঘন ঘন সংক্রমণ।

বৈশিষ্ট্য ও বিভিন্ন জটিলতা[সম্পাদনা]

  • অতিরিক্ত মেদ এ রোগের অনত্যম কারণ ;
  • উপসর্গহীনতা বা অসচেতনতার কারণে চিকিৎসার অভাব ;
  • কিডনি বা বৃক্কের অক্ষমতার অন্যতম মূল কারণ ডায়াবেটিস ;
  • অন্ধত্ব বা দৃষ্টিবিচ্যূতির অন্যতম মূল কারণ ডায়াবেটিস ;
  • বিনা দুর্ঘটনায় অঙ্গেচ্ছেদের অন্যতম মূল কারণ ডায়াবেটিস।

ডায়াবেটিসের চিকিৎসা[সম্পাদনা]

  • ইনসুলিন
  • অ্যন্টিডায়াবেটিক ঔষধ ( মুখে খাওয়ার ঔষধ )
  • জীবন ধারার পরিবর্তনঃ নিয়মিত ব্যায়াম, খাদ্য গ্রহনে সচেতনতা, অসুখ সম্বন্ধে রোগীর প্রয়োজনীয় ধারনা।

জাতিসংঘের ঘোষণা[সম্পাদনা]

২০০৬ খ্রিস্টাব্দের ২০ ডিসেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ এর ৬১/২২৫ নম্বর ঘোষণায় ডায়াবেটিসকে দীর্ঘমেয়াদী,অবক্ষয়ী ও ব্যয়বহুল ব্যাধি হিসাবে বর্ণনা করে যা মানব দেহে মারাত্মক জটিলতার সৃষ্টি করতে পারে।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Diabetes Blue Circle Symbol"। International Diabetes Federation। 17 March 2006। 
  2. Johns Hopkins Medical Institutions

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]