ঢেঁড়শ
উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
| Abelmoschus esculentus | ||||||||||||||||
|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|
Unpicked okra
|
||||||||||||||||
| বৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস | ||||||||||||||||
|
||||||||||||||||
| দ্বিপদ নাম | ||||||||||||||||
| Abelmoschus esculentus (L.) Moench |
ঢেঁড়শ (অন্য নাম ভেন্ডি) Malvaceae পরিবারের এক প্রকারের সপুষ্পক উদ্ভিদ। এটি তুলা, কোকো ও হিবিস্কাসের সাথে সম্পর্কিত। ঢেঁড়শ গাছের কাঁচা ফলকে সবজি হিসাবে খাওয়া হয়। ঢেঁড়শের বৈজ্ঞানিক নাম Abelmoschus esculentus; অথবা Hibiscus esculentus L।
ঢেঁড়শ গাছ একটি বর্ষজীবী উদ্ভিদ, যা ২ মিটার পর্যন্ত লম্বা হয়। এর পাতা ১০-২০ সেমি দীর্ঘ এবং চোড়া। পাতায় ৫-৭টি অংশ হাকে। ফুল হয় ৪-৮ সেমি চওড়া, পাঁপড়ির রঙ সাদাটে হলুদ, ৫টি পাঁপড়ি থাকে। প্রতিটি পাঁপড়ির কেন্দ্রে লাল বা গোলাপী বিন্দু থাকে। ঢেঁড়শ ফল ক্যাপসুল আকারের, প্রায় ১৮ সেমি দীর্ঘ, এবং এর ভেতরে অসংখ্য বিচি থাকে।
সূচিপত্র |
[সম্পাদনা] উৎস, নাম ও বিস্তৃতি
ঢেড়শকে ইংরেজিতে বলা হয় ওকরা (Okra)। আমেরিকার বাইরের ইংরেজিভাষী স্থানে এটি লেডিজ ফিঙ্গার (Lady's Fingers) নামেও পরিচিত [১],। কোনো কোনো স্থানে, যেমন আমেরিকার কিছু অংশ এবং ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জে এটি গাম্বো (gumbo) নামেও খ্যাত, যা এসেছে এর পর্তুগীজ নাম "quingombo," থেকে, যার আদি উৎস হলো পূর্ব আফ্রিকীয় শব্দ "quillobo,"[২]
ওকরা নামটি পশ্চিম আফ্রিকা থেকে এসেছে।[৩] আফ্রিকার বান্টু ভাষায় এটাকে বলা হয় কিঙ্গুম্বো। আরবি ভাষায় এর নাম বামিয়া । দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে এটিকে ভেন্ডি বা ভিন্ডি বলা হয়।
ঢেঁড়শের আদি নিবাস ইথিওপিয়ার উচ্চভূমি এলাকায়। সেখান থেকে কীভাবে এটি অন্যত্র ছড়িয়ে যায়, তা জানা যায় না। মিশরীয় ও মূর জাতির বিভিন্ন রচনায় ১২শ ও ১৩শ শতকে আরবী ভাষায় ঢেঁড়শের কথা উল্লেখ রয়েছে। এতে ধারণা করা যায় যে, প্রাচ্য হতেই এটি সেখানে এসেছে। সম্ভবত ইথিওপিয়া হতে লোহিত সাগর বা আরব উপদ্বীপের নিকটবর্তী বাব-আল-মান্দিব প্রণালী পেরিয়ে এটি আরবে ও পরে ইউরোপে যায়। ১২১৬ সালে এক স্পেনীয় মূর জাতির ব্যক্তির লেখায় এর উল্লেখ রয়েছে। মিশর ভ্রমণকালে এই মূর তার রচনায় উল্লেখ করেন, স্থানীয় ব্যক্তিরা ঢেঁড়শের ফল আটার সাথে মিশিয়ে খেতো। [২]
আরব থেকে ঢেঁড়শ ভূমধ্যসাগরের তীরবর্তী দেশগুলোতে, ও পরে পূর্বদিকে ছড়িয়ে পড়ে। ভারতবর্ষের প্রাচীন ভাষাগুলোতে এই গাছটির নামের উল্লেখ নেই, তা থেকে ধারণা করা যায়, খ্রিস্টের জন্মের পরেই কেবল এই গাছটি ভারতবর্ষে আসে। আটলান্টিক মহাসাগরের দাস বাণিজ্যের অংশ হিসেবে যাতায়াতকারী জাহাজগুলোর মাধ্যমে ঢেঁড়শ আমেরিকা মহাদেশে আসে। [৪]। ১৬৫৮ সাল নাগাদ ব্রাজিলে এর উপস্থিতির উল্লেখ পাওয়া গেছে। ১৬৮৬ সাল নাগাদ এটি সুরিনামে পৌছে যায়।
উত্তর আমেরিকাতে, বিশেষত দক্ষিণ-পূর্বাংশে ঢেঁড়শের আগমণ ঘটে ১৮শ শতকের শুরুর দিকে। ১৭৪৮ সালে এটি উত্তরে ফিলাডেলফিয়া এলাকাতেও চাষ করা হতো। টমাস জেফারসনের রচনায় উল্লেখ রয়েছে, ১৭৮১ সালে ভার্জিনিয়াতে ব্যাপকভাবে ঢেঁড়শের চাষ করা হতো। [২]
[সম্পাদনা] ব্যবহার
| Okra Nutritional value per 100 g (3.5 oz) |
||||||||||||||||
|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|
| Energy 30 kcal 150 kJ | ||||||||||||||||
|
||||||||||||||||
| Vitamin A (660 IU) Percentages are relative to US recommendations for adults. |
||||||||||||||||
ঢেঁড়শের ফল সবজি হিসাবে ব্যবহার করা হয়। কাঁচা অবস্থাতেই ফল পেড়ে নেয়া হয়।
[সম্পাদনা] চাষাবাদ
চাষ করার সময়ে প্রথমে এক রাত ধরে ১-২ সেমি পানির মধ্যে ঢেঁড়শের বিচি ভিজিয়ে রাখা হয়। ৬ দিন থেকে ৩ সপ্তাহের মধ্যে অংকুরোদগম হয়। ঢেঁড়শের চারার প্রচুর পানির দরকার হয়। পরাগায়ণের ১ সপ্তাহের মধ্যেই ঢেড়শের ফল পেড়ে নিতে হয়, নতুবা এটি আঁশযুক্ত হয়ে পড়ে। [২]
যেসব সবজি সবচেয়ে বেশি খরা ও তাপ সহ্য করতে পারে, তাদের ঢেঁড়শ অন্যতম। শুকনো শক্ত মাটিতেও এটা টিকে থাকে।
ঢেঁড়শের ফলের ভেতরে পিচ্ছিল পদার্থ থাকে, ফলে রান্না করার পরে পিচ্ছিল তরল বেরিয়ে আসে। এটা এড়ানোর জন্য ঢেঁড়শকে ভাজা হয়।
[সম্পাদনা] তথ্যসূত্র
| উইকিমিডিয়া কমন্সে নিচের বিষয় সংক্রান্ত চিত্র বা অডিও রয়েছে: Abelmoschus esculentus |
| উইকিবইয়ের রান্নার বইগুলোতে নিম্নের বস্তুটির ওপর রেসিপি রয়েছে: |
- ↑ "Alternative Cold Remedies: Lady's Fingers Plant", curing-colds.com (accessed 3 June 2009)
- ↑ ২.০ ২.১ ২.২ ২.৩ "Okra, or 'Gumbo,' from Africa, tamu.edu
- ↑ McWhorter, John H. (2000)। The Missing Spanish Creoles: Recovering the Birth of Plantation Contact Languages। University of California Press প্রকাশিত। 77। ISBN 0-520-21999-6। Retrieved on 2008-11-29।
- ↑ " Okra gumbo and rice" by Sheila S. Walker, The News Courier, unknown date