১৯৪১ ইরাকি অভ্যুত্থান

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
১৯৪১ ইরাকি অভ্যুত্থান
তারিখ১ এপ্রিল ১৯৪১
অবস্থানইরাক ইরাক
ফলাফল সরকার উৎখাত
নতুন সরকার গঠন
ইরাকে ব্রিটিশ হস্তক্ষেপ
যুধ্যমান পক্ষ

ইরাক ইরাকি সরকার সমর্থনদাতা:

 যুক্তরাজ্য

ইরাক গোল্ডেন স্কয়ার সমর্থনদাতা:

 জার্মানি
সেনাধিপতি

ইরাক আবদুল্লাহ বিন আলি
রাজপ্রতিভূ

ইরাক তাহা আল-হাশিমি
ইরাকের প্রধানমন্ত্রী

ইরাক রশিদ আলি আল-কাইলানি
ইরাক কর্নেল সালাহউদ্দিন আল-সাবাগ
৩য় ডিভিশন কমান্ডার
ইরাক কর্নেল কামাল শাবিব
১ম ডিভিশন কমান্ডার
ইরাক কর্নেল ফাহমি সাইদ
ইন্ডিপেন্ডেন্ট মেকানাইজড ব্রিগেড কমান্ডার

ইরাক কর্নেল মাহমুদ সালমান
বিমান বাহিনী প্রধান
জড়িত ইউনিট
রয়েল গার্ড ৩য় পদাতিক ডিভিশন
১ম পদাতিক ডিভিশন
ইন্ডিপেন্ডেন্ট মেকানাইজড ব্রিগেড

১৯৪১ ইরাকি অভ্যুত্থান (আরবি: ثورة رشيد عالي الكيلاني) ১৯৪১ সালের ১ এপ্রিল ইরাকে সংঘটিত হয়।[১][২] অভ্যুত্থানের ফলে তৎকালীন ব্রিটিশপন্থি সরকার উৎখাত হয়। এরপর রশিদ আলি আল-কাইলানি প্রধানমন্ত্রী হন।

চারজন জাতীয়তাবাদি সামরিক অফিসার এই অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তারা গোল্ডেন স্কয়ার নামে পরিচিত ছিলেন। তারা ইরাকের পূর্ণ স্বাধীনতা অর্জনের জন্য বিশ্বযুদ্ধকে ব্যবহার করতে চেয়েছিলেন। পরে তারা জার্মান গোয়েন্দাদের সাথে কাজ করেন এবং জার্মান ও ইতালীয় সামরিক সহায়তা গ্রহণ করেন। অভ্যুত্থানের ধারাবাহিকতায় ব্রিটেন ইরাকে হামলা চালায়।

অভ্যুত্থান[সম্পাদনা]

১৯৩৯ থেকে ১৯৪১ সাল পর্যন্ত ইরাকে ব্রিটিশপন্থি আবদুল্লাহ বিন আলি ও প্রধানমন্ত্রী নুরি আল-সাইদের সরকার ক্ষমতায় ছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর জার্মানির সাথে ইরাকের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। তবে নুরি আল-সাইদ ব্রিটেন ও মন্ত্রীসভায় জার্মানপন্থি সেনা অফিসারদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রক্ষা করে চলছিলেন।[২] ফিলিস্তিনি আরব বিদ্রোহের ব্যর্থতার ফলে ফিলিস্তিন থেকে বিতাড়িত নেতারা এসময় ইরাকে আশ্রয় নেন। তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন জেরুজালেমের প্রধান মুফতি মুহাম্মদ আমিন আল-হুসাইনি

১৯৪১ সালের ১ এপ্রিল অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়।[২] এর মাধ্যমে রশিদ আলি আল-কাইলানি নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতায় আসেন। মুহাম্মদ আমিন আল-হুসাইনি তার প্রতি সমর্থন দিয়েছিলেন।[৩]

ব্রিটিশ প্রতিক্রিয়া[সম্পাদনা]

ব্রিটিশ পদক্ষেপ[সম্পাদনা]

১৮ এপ্রিল ব্রিটেন ১০ম ভারতীয় পদাতিক ডিভিশনকে বসরায় প্রেরণ করে।। ব্রিটেনের দাবি ছিল যে ইরাকের সাথে সম্পাদিত প্রতিরক্ষা চুক্তি অনুযায়ী তারা এই পদক্ষেপ নেয়ার অধিকার রাখে। ইরাকের স্বাধীনতার পূর্বে ব্রিটিশরা এই চুক্তি ইরাকের উপর চাপিয়ে দেয়। এর মাধ্যমে ব্রিটেন ইরাকি সরকারের পূর্ব অনুমতি ছাড়াই দেশব্যপী সেনা মোতায়েনের অধিকার পায়।

হাব্বানিয়া অবরোধ[সম্পাদনা]

পরবর্তীতে ইরাকের সরকার হাব্বানিয়ার ব্রিটিশ বিমানঘাটিতে ইরাকি সেনাদের প্রেরণ করে।[৪] ইরাকি সেনারা সেখানে উপস্থিত হওয়ার পর ঘাটির কর্মকাণ্ড বন্ধের দাবি জানায়। ব্রিটিশরা তাদের উপর হামলা চালিয়ে জবাব দেয়। ঘাটিতে এসময় ৯৬টি হালকা অস্ত্র সজ্জিত বিমান ছিল। এর মধ্যে অধিকাংশ ছিল প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত। এছাড়াও তাদের কিছু সৈনিক কর্তব্যরত ছিল।[৫] ইরাকি বিমানবাহিনী ব্রিটিশদের পরাজিত করতে ব্যর্থ হয়েছিল। ৩ মে চারটি ব্লেনহাইম বোমারু বিমান এসে পৌছায়।[৬] ব্রিটিশদের হামলার মুখে ইরাকিরা পিছু হটে। এরপর ব্রিটিশ বিমানবাহিনী মসুল ও রশিদের ইরাকি বিমানঘাটিতে হামলা চালায়। শেষপর্যন্ত হাব্বানিয়ার অবরোধ অপসারিত হয়।

দুই দিক থেকে ব্রিটিশদের অতিরিক্ত সৈনিক এসেছিল। ব্রিটিশ ও আরব লিজিওন বাহিনী ফিলিস্তিন ও ট্রান্সজর্ডানের মধ্য দিয়ে এসে পৌছায়। অন্যদিকে ভারতীয় সেনারা বসরায় এসে পৌছায়।[৫]

কয়েক সপ্তাহ পর বাগদাদের পতন হয়। এর ফলে আবদুল্লাহ বিন আলি এবং ব্রিটিশপন্থি সরকার পুনপ্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত ইরাকে ব্রিটিশ সামরিক আধিপত্য কায়েম ছিল।

জার্মান ও ইতালীয় সমর্থন[সম্পাদনা]

একটি বিধ্বস্ত জার্মান বিমান

জার্মানি ও ইতালি থেকে জাতীয়তাবাদিরা কিছু মাত্রায় সহায়তা পেয়েছিল। জার্মান ও ইতালীয়রা বিমান সহায়তা দিয়েছিল। তবে এতে ফলাফলে বেশি প্রভাব পড়েনি।

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Ehrlich, Sarah (১ জুন ২০১১)। "Farhud memories: Baghdad's 1941 slaughter of the Jews"। BBC। 
  2. Scott, James C (৯ আগস্ট ২০০১)। "The Coup"Iraqi CoupCalifornia State University, Sacramento। ২৪ অক্টোবর ২০০৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। 
  3. Patterson, David (২০১০)। A Genealogy of Evil: Anti-Semitism from Nazism to Islamic Jihad। Cambridge: Cambridge University Press। পৃষ্ঠা 114। আইএসবিএন 978-0-521-13261-9 
  4. Kiwarkis, Gabriel। "The Battle for Habbaniya 1941"Assyrian RAF Levies 
  5. "The Battle for Habbaniya – The forgotten war RAF"History (Campaign Histories)। Royal Air Force। জুন ৭, ২০০৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। 
  6. "History Section"। Royal Air Force। মার্চ ৩০, ২০০৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। 

উৎস[সম্পাদনা]

  • de Chair, Somerset (১৯৪৪)। The Golden Carpet। London: Faber and Faber 
  • Dudgeon, Anthony G (২০০০)। Hidden Victory: The Battle of Habbaniya, May 1941। Stroud and Charleston: Tempus Publishingআইএসবিএন 0-7524-2001-1 
  • "The Battle for Habbaniya – The forgotten war RAF"History (Campaign Histories)। Royal Air Force। জুন ৭, ২০০৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। 
  • Dunford Wood, Colin। "Habbaniya Campaign, Iraq 1941"A Story of War  — an RAF pupil pilot's diary of the Habbaniya campaign
  • Dunford Wood, Colin। "RAF Habbaniya Daily Intelligence Bulletins"A Story of War 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

  • "Near East: Trouble in Paradise"Time। ২১ এপ্রিল ১৯৪১। সংগ্রহের তারিখ ১৫ জুলাই ২০০৯ 
  • "May 12 — U.S.S.R. recognizes pro-Nazi Government of Iraq."Time। ৩০ জুন ১৯৪১। সংগ্রহের তারিখ ৫ জুলাই ২০০৯