বিষয়বস্তুতে চলুন

হুসনা বাঈ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

হুস্না জান বা হুস্না বাই ঊনবিংশ শতাকের শেষদিক থেকে বিংশ শতকের গোড়ার দিকের সময়ে বারাণসীর একজন তাওয়াইফ এবং ঠুমরি গায়িকা ছিলেন। তিনি উত্তরপ্রদেশে খেয়াল, ঠুমরিটপ্পা গায়কির বিশেষজ্ঞ হিসাবে পরিচিত ছিলেন।[১] ১৯০০ এর দশকের গোড়ার দিকে গানের ঐতিহ্যকে নতুন করে সংজ্ঞায়িত ও বিপ্লব ঘটানো, দেশাত্মবোধক গান গেয়ে এবং অন্যান্য গায়কদের কেতা অনুসরণ করতে অনুপ্রাণিত করার কৃতিত্ব তার। তিনি ঠাকুর প্রসাদ মিশ্র এবং বিখ্যাত সারেঙ্গি বাদক পণ্ডিত শম্ভুনাথ মিশ্রর কাছে গানের দীক্ষা নেন এবং তাঁর টপ্পা গান (হিন্দুস্তানি শাস্ত্রীয় সংগীত) তিনি বারাণসীর কিংবদন্তি ছোট রামদাস জি-র অধীনে আয়ত্ত করেছিলেন।

কর্মজীবন[সম্পাদনা]

হুস্না বাই ভারতেণ্ডু হরিশচন্দ্রের সমসাময়িক ছিলেন এবং তাঁর সাথে পত্রবিনিময়ের মাধ্যমে যোগাযোগ ছিল এবং কবিতাসম্বন্ধীয় অভিব্যক্তির বিষয়ে তাঁর পরামর্শ ও মতামত নিয়েছেন। তার ঠুমরি এবং ঠুমরির অন্যান্য উপধারা মধু তারং (শর্মা, ২০১২) হিসাবে প্রকাশিত হয়েছিল। হরিশচন্দ্র তাঁর জন্য জয়দেব রচিত গীত গোবিন্দ এর সুর রচনাও করতে পেরেছিলেন। তিনি ঠুমরিটপ্পা শিল্পের গুরু হিসাবে পরিচিত বিদ্যাবাড়ী এবং বদি মতি বাই এর সাথে সমপর্যায়ের হিসেবে বিবেচিত হন। কর্ম জীবনে তিনি অনেক উঁচুতে পৌঁছে যাওয়ায় হুস্না বাইকে ‘সরকার’ বা সর্দার হিসাবে অভিহিত করা হয়।

রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা[সম্পাদনা]

অসহযোগ আন্দোলনের (১৯২০-২২) সময় যখন এম. কে. গান্ধি কাশী (বর্তমান সময়ের বারাণসীর একটি বিশেষ প্রতিবেশী) এবং নৈনিতাল দিয়ে ভ্রমণ করেছিলেন, তখন বাই এমন একটি আন্দোলনকে উৎসাহিত করেছিলেন যার ফলে ভজন এবং দেশাত্মবোধক গান গাওয়ার মাধ্যমে মহিলা গায়কদের জীবিকা নির্বাহ করার জন্য তাঁর প্রভাব ছিল। এই গায়কদের মর্যাদা বাড়ানোও তাঁর লক্ষ্য ছিল, যাদের কাজ প্রায়শই পেশা হিসাবে যৌন কাজের সাথে সমান হতো। এই গায়কদের অনেকেই পরবর্তীকালে চরকা আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন। গান্ধীর অনুসারীরা অমৃতসরে যৌনকর্মীদের বাড়ির বাইরে পিকেটিং করছে এবং তাওয়াইফ এবং একই ধরনের যৌন পেশাগুলির বিরুদ্ধে যৌন কাজের উপলব্ধি হিসাবে বিবেচিত সেই পেশাগুলির বিরুদ্ধে জনমত পোষণ করছে। বাই জাতীয় আন্দোলনকে সমর্থন ও তাওয়াইফদের জীবনযাপনের ধরন সংস্কার করার দুটি উদ্দেশ্য নিয়ে ‘তাওয়াইফ সভা’ (কাশির বারাঙ্গনা ফেডারেশন) গঠন করেছিলেন। সভার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সময় বাইয়ের সভাপতির ভাষণ বারবধু বিবেকান-এ পাওয়া যায়, (সাহিত্য সদন, অমৃতসর, ১৯২৯) তিনি একটি জাতীয়তাবাদী কবিতা আবৃত্তি করেছিলেন।

বাই সহযোগী তাওয়াইফদের জোয়ান অব আর্ক এবং চিতোরগড়ের মহিলাদের জীবন থেকে শিখতে, সোনার অলংকারের পরিবর্তে লোহার শেকল পরতে এবং সম্মানজনক জীবন থেকে দূরে থাকতে অনুরোধ করেছিলেন। তাওয়াইফরা তাদের পেশা সম্পূর্ণরূপে পরিবর্তন করতে না পারায় বাই তাদের জাতীয়তাবাদী বা দেশপ্রেমিক রচনা দিয়ে তাদের আবৃত্তি শুরু করার পরামর্শ দিয়েছিলেন। তিনি তাওয়াইফদের বানারসের আরেক বিখ্যাত তাওয়াইফ গায়িকা বিদ্যাধারী বাইয়ের কাছ থেকে এই গানগুলি সংগ্রহ করার পরামর্শ দিয়েছিলেন। বাই এটিকে তাওয়াইফদের জন্য সামাজিক অবস্থান ও মর্যাদা অর্জনের একটি পদক্ষেপ হিসাবে দেখেছিলেন। অন্যান্য তাওয়াইফদের সাথে তিনি অ-ভারতীয় পণ্য বর্জনে অংশ নিয়েছিলেন এবং স্বদেশী আন্দোলনকে গ্রহণ করেছিলেন।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "The Surprising Role Courtesans Played In Our Freedom Struggle"HuffPost India (ইংরেজি ভাষায়)। ২০১৯-০৭-২৭। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৩-০৬