বিষয়বস্তুতে চলুন

হালদা-শ্রেণীর টাগবোট

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
শ্রেণি'র সারাংশ
নাম: হালদা-শ্রেণী
নির্মাতা:
ব্যবহারকারী:  বাংলাদেশ নৌবাহিনী
নির্মিত: ২০১৫-বর্তমান
অনুমোদন লাভ: ২০১৭-বর্তমান
সম্পন্ন: ২টি
সক্রিয়: ২টি
সাধারণ বৈশিষ্ট্য
প্রকার: সাবমেরিন হ্যান্ডলিং টাগবোট
ওজন: ৮৬০ টন
দৈর্ঘ্য: ৩২ মিটার (১০৫ ফুট)
প্রস্থ: ১১.৬০ মিটার (৩৮.১ ফুট)
গভীরতা: ৫.৩৬ মিটার (১৭.৬ ফুট)
প্রচালনশক্তি:
  • ২ × ২,৫০০ অশ্বশক্তি (১,৯০০ কিলোওয়াট) কামিন্স কিউএসকে৬০ ডিজেল ইঞ্জিন (যুক্তরাজ্য)
  • ২ × এএসডি রোলস রয়েস প্রপালশন
  • ২ × ৮৬ কিলোওয়াট ক্যাটারপিলার ডিজেল জেনারেটর (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র)
গতিবেগ: ১২ নট (২২ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা; ১৪ মাইল প্রতি ঘণ্টা)
সীমা: ১,২০০ নটিক্যাল মাইল (২,২০০ কিলোমিটার; ১,৪০০ মাইল)
সহনশীলতা: ৭দিন
নৌকা ও অবতরণ
নৈপুণ্য বহন করে:
১টি
সেন্সর এবং
কার্যপদ্ধতি:
  • ১ × ফুরুনো ডিআরএস৪ডব্লিউ র‍্যাডার (জাপান)
  • ১ × ফুরুনো এফএআর-৩৩২০ চার্ট র‍্যাডার (জাপান)
  • ১ × ফুরুনো নেভিগেশনাল ইকো সাউন্ডার এফই-৭০০
  • ১ × সাউন্ড ভেলোসিটি প্রোফাইলার (যুক্তরাজ্য)
  • ১ × চৌম্বকীয় কম্পাস (জাপান)
  • ১ × জিপিএস রিসিভার (ফুরুনো)
  • ১ × ইকো সাউন্ডার (কোডেন)
  • ১ × রাডার অ্যাঙ্গেল ইন্ডিকেটর
  • ১ × ভিএইচএফ সেট (আইকম)
  • ৫ × ভিএইচএফ ওয়াকিটকি সেট (আইকম/মটোরোলা)
টীকা:
  • ১ × ডেক ক্রেন
  • বুলার্ড পুল = সম্মুখ ৬০ টন, পশ্চাৎ ৫৫ টন

হালদা-শ্রেণী হলো বাংলাদেশে নির্মিত টাগবোট জাহাজের শ্রেণী যা বাংলাদেশ নৌবাহিনী কর্তৃক ব্যবহৃত হয়। এই জাহাজগুলো রবার্ট অ্যালান লিমিটেড, কানাডা এর প্রযুক্তিগত সহায়তায় খুলনা শিপইয়ার্ডে নির্মাণ করা হয়। র‍‍্যামপার্টস ৩২০০ সিরিজের উপর ভিত্তি করে নির্মিত টাগবোট দুটি বহিঃনোঙ্গরে ও পোতাশ্রয়ে সাবমেরিনের নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি নৌবাহিনীর অন্যান্য জাহাজ এবং বাণিজ্যিক জাহাজকে টোয়িং সহযোগিতা প্রদান, পোতাশ্রয়ে ও সমুদ্রে অগ্নিনির্বাপণ এবং উদ্ধারকারী জাহাজ হিসেবে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে।[][][][][][][][][][১০][১১][১২][১৩][১৪]

ইতিহাস

[সম্পাদনা]

বাংলাদেশ নৌবাহিনীর হালদা-শ্রেণীর টাগবোট নির্মাণ একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক, কারণ এটি খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেড-এ নির্মিত সাবমেরিন হ্যান্ডলিং প্রযুক্তি সমৃদ্ধ প্রথম জাহাজ। এর নির্মাণ ইতিহাস নিম্নরূপ:

হালদা-শ্রেণীর টাগবোট নির্মাণের প্রেক্ষাপট:

  • বাংলাদেশ সরকার সশস্ত্র বাহিনীর দীর্ঘমেয়াদী আধুনিকায়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেশীয় ও বৈদেশিক উৎস থেকে সমর সরঞ্জাম সংগ্রহ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এর ফলস্বরূপ, বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সামুদ্রিক ও উপকূলীয় অঞ্চলে বহিঃনোঙ্গরে ও পোতাশ্রয়ে সাবমেরিনের নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি নৌবাহিনীর অন্যান্য জাহাজ এবং বাণিজ্যিক জাহাজকে টোয়িং সহযোগিতা প্রদান, পোতাশ্রয়ে ও সমুদ্রে অগ্নিনির্বাপণ এবং উদ্ধারকারী জাহাজ হিসেবে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে নৌবাহিনীর সার্বিক অপারেশনাল কার্যক্রমে সহায়তার জন্য এসকল টাগবোটের প্রয়োজনীয়তা অনুধাবন করা হয়।

নির্মাণ প্রক্রিয়া ও সময়রেখা:

  • নির্মাণাদেশ: ১৬ জুন, ২০১৫ সালে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জন্য ২টি সাবমেরিন হ্যান্ডলিং টাগবোট তৈরী এবং সরবরাহের লক্ষ্যে প্রতিরক্ষা ক্রয় মহাপরিদপ্তর এবং খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেড এর মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
  • ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন (কিল লেয়িং): ২২ জুন, ২০১৫ সালে খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেড এর তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর এস ইরশাদ আহমেদ, এনডিইউ, এনডিসি, এএফডব্লিউসি, পিএসসি খুলনা শিপইয়ার্ড প্রাঙ্গনে এক অনুষ্ঠানে কিল লেয়িং এর মাধ্যমে নির্মাণ কাজের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানটির মহাব্যবস্থাপকবৃন্দ ছাড়াও উর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
  • নির্মাতা: বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সাবমেরিন হ্যান্ডলিং টাগবোট বানৌটা পশুর জাহাজটি বৈদেশিক প্রযুক্তিগত সহায়তায় খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেড কর্তৃক নির্মাণ করা হয়।
  • নকশা ও প্রযুক্তি সরবরাহ: জাহাজ নির্মাণে প্রয়োজনীয় নকশা ও প্রযুক্তি সরবরাহ করে রবার্ট অ্যালান লিমিটেড, কানাডা। রামপার্টস ৩২০০-সিএল হার্বর টাগ এর নকশার উপর ভিত্তি করে বানৌটা পশুর নির্মিত হয়।
  • পরামর্শদাতা: জাহাজটি নির্মাণে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও উপকরণ সরবরাহ করে গ্রেড ওয়ান মেরিন শিপইয়ার্ড, মালয়েশিয়া।
  • তদারকি ও মান নিশ্চিতকরণ: সম্পূর্ণ প্রকল্প পরিকল্পনা, সংস্থান এবং সরবরাহ ব্যবস্থাপনা সম্পন্ন করে দেশীয় প্রতিষ্ঠান গোল্ডেন মেরিটাইম টেকনোলজি, ঢাকা।
  • নামকরণ: বাংলাদেশ নৌবাহিনীর টাগবোট বানৌটা পশুর এর নামকরণ করা হয়েছে দেশের গুরুত্বপূর্ণ পশুর নদীর নামে। এই নামকরণের পেছনে রয়েছে এর ভৌগোলিক গুরুত্ব—পশুর নদী মোংলা বন্দরে প্রবেশের প্রধান পথ। টাগবোটটি জাহাজ চালনায় সহায়তা, টোয়িং, উদ্ধার, অগ্নিনির্বাপণ ও পরিবেশ সুরক্ষার মতো বহুমুখী কাজ করে, যা নদীর নাব্যতার মতোই গুরুত্বপূর্ণ। দেশের বিভিন্ন নদী ও স্থানের নামে নৌযানের নামকরণের ঐতিহ্য বজায় রেখে এবং খুলনা শিপইয়ার্ডে নির্মিত প্রথম সাবমেরিন হ্যান্ডলিং টাগবোট হিসেবে এর নামকরণ দেশের কৌশলগত ও কারিগরি সক্ষমতাকে তুলে ধরে।
  • নামকরণ: বানৌটা হালদা বাংলাদেশ নৌবাহিনীর একটি টাগবোট, যার নামকরণ করা হয়েছে বাংলাদেশের হালদা নদীর নামে। হালদা নদী দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন কেন্দ্র এবং এটি রুই, কাতলা, মৃগেলসহ কার্প জাতীয় মাছের ডিম ছাড়ার জন্য বিখ্যাত। এর ফলে বাংলাদেশের মৎস্য শিল্প ও অর্থনীতিতে নদীটির অসামান্য অবদান রয়েছে। নৌবাহিনীর জাহাজ নামকরণে দেশের গুরুত্বপূর্ণ নদ-নদী, স্থান বা ব্যক্তিত্বের নাম ব্যবহারের ঐতিহ্য রয়েছে। বানৌটা হালদা নামটি হালদা নদীর পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক গুরুত্বের প্রতি সম্মান এবং দেশের প্রাকৃতিক সম্পদের প্রতি নৌবাহিনীর শ্রদ্ধার প্রতীক। টাগবোট হিসেবে বানৌটা হালদা বহিঃনোঙ্গরে ও পোতাশ্রয়ে সাবমেরিনের নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি নৌবাহিনীর অন্যান্য জাহাজ এবং বাণিজ্যিক জাহাজকে টোয়িং সহযোগিতা প্রদান, পোতাশ্রয়ে ও সমুদ্রে অগ্নিনির্বাপণ এবং উদ্ধারকারী জাহাজ হিসেবে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। সংক্ষেপে, এটি শুধু একটি জাহাজের নাম নয়, বরং বাংলাদেশের প্রাকৃতিক ঐতিহ্য ও মৎস্য শিল্পের অবিচ্ছেদ্য অংশকে স্মরণ করিয়ে দেয়।
  • নির্মাণ মান: আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ফ্রান্স ভিত্তিক ক্লাসিফিকেশন সোসাইটি ব্যুরো ভেরিটাস (বিভি) এর নীতিমালা অনুসরণ করে জাহাজটি নির্মিত হয়।
  • অভিষেক: নির্মাণকাজ শেষে ৩১ অক্টোবর, ২০১৬ সালে বানৌটা হালদা জাহাজটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে পানিতে ভাষানো হয়।
  • অভিষেক: নির্মাণকাজ শেষে ১৫ মার্চ, ২০১৭ সালে খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেড (খুশিলি)- এ নির্মিত বানৌজা নিশান (এলপিসি-2) ও বানৌটা পশুর লঞ্চিং করেন তৎকালীন নৌবাহিনী প্রধান ও চেয়ারম্যান - বিওডি, খুশিলি এডমিরাল মোহাম্মদ নিজামউদ্দিন আহমেদ, ওএসপি, বিসিজিএম, এনডিসি, পিএসসি।
  • কমিশন লাভ: ৮ নভেম্বর, ২০১৭ তারিখে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ আব্দুল হামিদ বানৌটা হালদা এবং বানৌটা পশুর জাহাজ দুটি নৌবাহিনীতে কমিশন করেন। এই ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে জাহাজের অধিনায়কদের হাতে কমিশনিং ফরমান তুলে দেন এবং নৌবাহিনীর ঐতিহ্যবাহী রীতি অনুযায়ী আনুষ্ঠানিকভাবে নামফলক উন্মোচন করেন। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সক্ষমতায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে তৎকালীন মন্ত্রী পরিষদের সদস্য, তৎকালীন উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, তৎকালীন সংসদ সদস্যবৃন্দ, কূটনৈতিক মিশনের সম্মানিত সদস্যবৃন্দ, তৎকালীন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক সহ সরকারের উচ্চ পদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

বৈশিষ্ট্য ও যান্ত্রিক কাঠামো

[সম্পাদনা]

হালদা-শ্রেণীর টাগবোট সমূহ আধুনিক অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। এটি এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যাতে সমুদ্র বা পোতাশ্রয়ে অগ্নিকাণ্ডের মতো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত এবং কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে।

জাহাজ দুটি কর্মজীবনের শুরু থেকেই অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধারকারী জাহাজ হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। এর আধুনিক সরঞ্জাম এবং প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ক্রু যেকোনো অগ্নিকাণ্ড মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকে। এর অগ্নিনির্বাপণ সক্ষমতা এটিকে কেবল নৌবাহিনীর নিজস্ব জাহাজ নয়, বরং যেকোনো বাণিজ্যিক জাহাজের অগ্নিকাণ্ড মোকাবিলায়ও সহায়তাকারী হিসেবে তৈরি করেছে। এর মূল বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:

  • দৈর্ঘ্য: ৩২ মিটার (১০৫ ফুট)
  • প্রস্থ: ১১.৬ মিটার (৩৮ ফুট)
  • গভীরতা: ৫.৩৬ মিটার (১৭.৬ ফুট)
  • ড্রাফট: ৪.৩০ মিটার (১৪.১ ফুট) (গ্রীষ্মকালীন), ৫.৮১ মিটার (১৯.১ ফুট) (নৌ-পরিবহন সর্বোচ্চ)
  • ওজন: ৮৬০ টন
  • সদস্য:
  • গতিবেগ: ১২ নট (২২ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা; ১৪ মাইল প্রতি ঘণ্টা)
  • অভিযান পরিচালনা সক্ষমতা: ৭ দিন
  • পরিসীমা: ১,২০০ নটিক্যাল মাইল (২,২০০ কিলোমিটার; ১,৪০০ মাইল)

প্রপালশন সিস্টেম:

  • ২টি ২,৫০০ অশ্বশক্তি (১,৯০০ কিলোওয়াট) কামিন্স কিউএসকে৬০ ডিজেল ইঞ্জিন (যুক্তরাজ্য)
  • ২টি ১১৫ অশ্বশক্তি (৮৬ কিলোওয়াট) ক্যাটারপিলার ডিজেল জেনারেটর (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র)
  • ২টি এএসডি রোলস রয়েস প্রপালশন

সেন্সর এবং কার্যপদ্ধতি:

  • ১টি ফুরুনো ডিআরএস৪ডব্লিউ র‍্যাডার (জাপান)
  • ১টি ফুরুনো এফএআর-৩৩২০ চার্ট র‍্যাডার (জাপান)
  • ১টি ফুরুনো নেভিগেশনাল ইকো সাউন্ডার এফই-৭০০
  • ১টি সাউন্ড ভেলোসিটি প্রোফাইলার (যুক্তরাজ্য)
  • ১টি চৌম্বকীয় কম্পাস (জাপান)
  • ১টি জিপিএস রিসিভার (ফুরুনো)
  • ১টি ইকো সাউন্ডার (কোডেন)
  • ১টি রাডার অ্যাঙ্গেল ইন্ডিকেটর
  • ১টি ভিএইচএফ সেট (আইকম)
  • ৫টি ভিএইচএফ ওয়াকিটকি সেট (আইকম/মটোরোলা)।
  • অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা: প্রতিটি জাহাজে অত্যাধুনিক ফায়ার মনিটর, পাম্প এবং ফোম সিস্টেম রয়েছে যা দ্রুত আগুন নিভিয়ে ফেলতে সক্ষম।
  • প্রশিক্ষিত ক্রু: হালদা-শ্রেণীর টাগবোট জাহাজের ক্রুরা অগ্নিনির্বাপণ এবং উদ্ধার কার্যক্রমে বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত, যা তাদের যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত এবং কার্যকরভাবে পদক্ষেপ নিতে সহায়তা করে।
  • দ্রুত প্রতিক্রিয়া: প্রতিটি জাহাজের গতি এবং চালনাযোগ্যতা এটিকে অগ্নিকাণ্ডের স্থানে দ্রুত পৌঁছাতে এবং কাজ শুরু করতে সাহায্য করে।

সামুদ্রিক পরিবেশে অগ্নিকাণ্ড একটি গুরুতর বিপদ, এবং হালদা-শ্রেণীর মতো বিশেষায়িত টাগবোটের উপস্থিতি বাংলাদেশ নৌবাহিনী এবং দেশের সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য। এটি শুধু আগুন নেভানোর কাজই করে না, বরং সম্ভাব্য সামুদ্রিক দূষণ নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রেও ভূমিকা রাখে।

সংক্ষেপে, হালদা-শ্রেণী বাংলাদেশ নৌবাহিনীর একটি বহুমুখী টাগবোট, যা জাহাজ চালনায় সহায়তা, টোয়িং অপারেশন, উদ্ধারকার্য এবং বিশেষ করে অগ্নিনির্বাপণ ও পরিবেশ সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।

জাহাজসমূহ

[সম্পাদনা]
 বাংলাদেশ নৌবাহিনী
 পরিচিতি সংখ্যা   নাম   নির্মাতা   নির্মাণ শুরু   হস্তান্তর   কমিশন   অবস্থা 
এ৭২৫ বানৌটা হালদা খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেড ২২ জুন, ২০১৫ - ৮ নভেম্বর, ২০১৭ সক্রিয়
এ৭২৬ বানৌটা পশুর

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. "মহামান্য রাষ্ট্রপতি খুলনা শীপইয়ার্ডে নির্মিত সর্ববৃহৎ যুদ্ধজাহাজ দুর্গম ও নিশান এবং সাবমেরিন টাগ পশুর ও হালদা নৌবহরে কমিশনিং করলেন"আইএসপিআর। ২৮ নভেম্বর ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৮ নভেম্বর ২০২১
  2. "2 X SUBMARINE TUG"web.archive.org। সংগ্রহের তারিখ ১৬ নভেম্বর ২০২২
  3. "দেশেই তৈরী হলো নৌ-বাহিনীর জন্য বড় ২টি যুদ্ধ জাহাজ"। ২৭ নভেম্বর ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৫ সেপ্টেম্বর ২০২২
  4. "2 × Submarine Handling Tug for Bangladesh Navy"www.facebook.com। ১৪ জুলাই ২০২৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৭ জুন ২০২২
  5. "Bangladesh its first station submarine base . cox bazer pekua bns sheik hasina naval"। ২ এপ্রিল ২০২৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৯ জুন ২০২৩
  6. eschneider (২৭ জুন ২০২২)। "Designing Tugs for Navies"Robert Allan Ltd. (কানাডীয় ইংরেজি ভাষায়)। ২৩ জুন ২০২৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৩ জুন ২০২৩
  7. "বাংলাদেশের দুটি সাবমেরিন এবং নৌঘাটি"
  8. "বাংলাদেশ নৌ বাহিনীর জন্য 02 টি সাবমেরিন টাগ বোট তৈরী এবং সরবরাহের লক্ষ্যে ডিজিডিপি এবং খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেড এর মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়"www.khulna shipyard ltd facebook.com। সংগ্রহের তারিখ ২৮ নভেম্বর ২০২১
  9. "খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেড এ বাংলাদেশ নৌ বাহিনীর জন্য 02 টি সাবমেরিন টাগ বোট এর কীল লে করলেন মাননীয় এমডি মহোদয় ও জিএম গন"www.khulna shipyard ltd facebook.com। সংগ্রহের তারিখ ২৮ নভেম্বর ২০২১
  10. "খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেড এ বাংলাদেশ নৌ বাহিনীর জন্য 02 টি সাবমেরিন টাগ বোট এর কীল লে অনুষ্ঠানে Classification Society এর সনদ প্রদান"www.khulna shipyard ltd facebook.com। সংগ্রহের তারিখ ২৮ নভেম্বর ২০২১
  11. "খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেড (খুশিলি)- এ নির্মিত বানৌজা নিশান (এলপিসি-2) ও বানৌটা পশুর লঞ্চিং করলেন মাননীয় নৌবাহিনী প্রধান ও চেয়ারম্যান - বিওডি, খুশিলি এডমিরাল নিজামউদ্দিন আহমেদ, ওএসপি, বিসিজিএম, এনডিসি, পিএসসি"www.khulna shipyard ltd facebook.com। সংগ্রহের তারিখ ২৮ নভেম্বর ২০২১
  12. "TECNICAL SPECIFICATION OF SPARES" (পিডিএফ)www.nsdcgt.navy.mil.bd.com (British English ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২৮ নভেম্বর ২০২১[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  13. "নৌবাহিনীর ২ সাবমেরিন টাগ বোট ও সার্ভে ভেসেল উদ্বোধন"banglanews24.com। ৩১ অক্টোবর ২০১৬। সংগ্রহের তারিখ ১৬ জুলাই ২০২৫
  14. "বাংলাদেশ নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও বিএসসি এর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় তেলবাহী জাহাজ 'বাংলার জ্যোতি'তে বিস্ফোরণ পরবর্তী আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে"www.Bangladesh Navy facebook.com। সংগ্রহের তারিখ ২৮ নভেম্বর ২০২১