বিষয়বস্তুতে চলুন

বানৌটা পশুর

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
ইতিহাস
বাংলাদেশ
নাম: বানৌটা পশুর
নির্মাণাদেশ: ১৬ জুন, ২০১৫
নির্মাতা:
নির্মাণের সময়: ২২ জুন, ২০১৫
অভিষেক: ১৫ মার্চ, ২০১৭
কমিশন লাভ: ৮ নভেম্বর, ২০১৭
মাতৃ বন্দর: চট্টগ্রাম বন্দর
শনাক্তকরণ: এ৭২৬
অবস্থা: সক্রিয়
সাধারণ বৈশিষ্ট্য
প্রকার ও শ্রেণী: হালদা-শ্রেণীর টাগবোট
প্রকার: সাবমেরিন হ্যান্ডলিং টাগবোট
ওজন: ৮৬০ টন
দৈর্ঘ্য: ৩২ মিটার (১০৫ ফুট)
প্রস্থ: ১১.৬০ মিটার (৩৮.১ ফুট)
ড্রাফট: ২.২ মিটার (৭.২ ফুট)
গভীরতা: ৫.৩৬ মিটার (১৭.৬ ফুট)
প্রচালনশক্তি:
  • ২ × ২,৫০০ অশ্বশক্তি (১,৯০০ কিলোওয়াট) কামিন্স কিউএসকে৬০ ডিজেল ইঞ্জিন (যুক্তরাজ্য)
  • ২ × এএসডি রোলস রয়েস প্রপালশন
  • ২ × ৮৬ কিলোওয়াট ক্যাটারপিলার জেনারেটর (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র)
গতিবেগ: ১২ নট (২২ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা; ১৪ মাইল প্রতি ঘণ্টা)
সীমা: ১,২০০ নটিক্যাল মাইল (২,২০০ কিলোমিটার; ১,৪০০ মাইল)
সহনশীলতা: ৭দিন
নৌকা ও অবতরণ
নৈপুণ্য বহন করে:
১টি
সেন্সর এবং
কার্যপদ্ধতি:
  • ১ × ফুরুনো ডিআরএস৪ডব্লিউ র‍্যাডার (জাপান)
  • ১ × ফুরুনো এফএআর-৩৩২০ চার্ট র‍্যাডার (জাপান)
  • ১ × ফুরুনো নেভিগেশনাল ইকো সাউন্ডার এফই-৭০০
  • ১ × সাউন্ড ভেলোসিটি প্রোফাইলার (যুক্তরাজ্য)
  • ১ × চৌম্বকীয় কম্পাস (জাপান)
  • ১ × জিপিএস রিসিভার (ফুরুনো)
  • ১ × ইকো সাউন্ডার (কোডেন)
  • ১ × রাডার অ্যাঙ্গেল ইন্ডিকেটর
  • ১ × ভিএইচএফ সেট (আইকম)
  • ৫ × ভিএইচএফ ওয়াকিটকি সেট (আইকম/মটোরোলা)
টীকা:
  • ১ × ডেক ক্রেন
  • বুলার্ড পুল = সম্মুখ ৬০ টন, পশ্চাৎ ৫৫ টন

বাংলাদেশ নৌবাহিনী টাগ (সংক্ষেপেঃ বানৌটা) পশুর হালদা-শ্রেণীর একটি অত্যাধুনিক সাবমেরিন হ্যান্ডলিং টাগবোট। রবার্ট অ্যালান লিমিটেড, কানাডা এর প্রযুক্তিগত সহায়তায় খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেড কর্তৃক নির্মিত জাহাজটি নৌবাহিনীর বহুমুখী কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বানৌটা হালদা নির্মাণ, নৌবাহিনীর সামগ্রিক কার্যক্রম পরিচালনায় এর গুরুত্ব এবং অন্তর্নিহিত কৌশলগত কারণসমূহের গভীরে প্রবেশ করে। এটি কেবল একটি সহায়ক জাহাজ নয়, বরং নৌবাহিনীর কারিগরি সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং অপারেশনাল সামর্থ্যকে সুসংহত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক।

নির্মাণের উদ্দেশ্য: অপারেশনাল দক্ষতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ

বানৌটা পশুর এর মূল উদ্দেশ্য সুনির্দিষ্টভাবে নৌবাহিনীর জাহাজগুলোর নিরাপদ ও কার্যকর চলাচল নিশ্চিত করা। এর প্রধান কার্যাবলী নিম্নরূপ:

  • জাহাজ চালনায় সহায়তা: বৃহৎ যুদ্ধজাহাজ, সাবমেরিন এবং অন্যান্য সামরিক নৌযানগুলোকে জেটি, নোঙরস্থল এবং সংকীর্ণ জলপথে সঠিক অবস্থান নিশ্চিতকরণে সহায়তা প্রদান করা। এর মাধ্যমে জাহাজগুলোর দ্রুত ও নিরাপদ প্রবেশ এবং প্রস্থান নিশ্চিত করা হয়।
  • জরুরি উদ্ধার ও সহায়ক কার্যক্রম: যান্ত্রিক ত্রুটি বা অন্য কোনো কারণে অচল হয়ে পড়া জাহাজসমূহকে প্রয়োজনীয় টোয়িং সহায়তা প্রদান করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে আসা। এটি নৌবাহিনীর ক্ষিপ্র উদ্ধার অভিযান এবং জরুরি মেরামত কার্যক্রমের জন্য অপরিহার্য।
  • রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতে সমর্থন: নৌবাহিনীর জাহাজসমূহের নিয়মিত মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রমে স্থানান্তরিতকরণ এবং স্থিতিশীলতা প্রদানে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
  • অগ্নি নির্বাপণ ও পরিবেশ সুরক্ষা: অত্যাধুনিক অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা এবং সামুদ্রিক দূষণ নিয়ন্ত্রণ সরঞ্জাম দ্বারা সজ্জিত হওয়ায়, বানৌটা পশুর সমুদ্রে যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানাতে সক্ষম।
  • সাধারণ টাগিং ও পরিবহন: সামরিক সরঞ্জাম, বার্জ এবং অন্যান্য সহায়ক প্ল্যাটফর্ম পরিবহনে এটি কার্যকরভাবে ব্যবহৃত হয়, যা নৌবাহিনীর লজিস্টিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করে।

নির্মাণের কারণ: কৌশলগত প্রয়োজনীয়তা ও আত্মনির্ভরশীলতা অর্জন

বানৌটা পশুর নির্মাণ কেবল একটি কার্যনির্বাহী প্রয়োজন মেটায়নি, বরং এর পেছনে রয়েছে সুদূরপ্রসারী কৌশলগত কারণ:

  • নিরাপত্তা ও ঝুঁকি হ্রাস: নৌবাহিনীর মূল্যবান জাহাজগুলোর নিরাপদ চলাচল এবং পোতাশ্রয়ে অবস্থান নিশ্চিত করার জন্য শক্তিশালী ও নির্ভরযোগ্য টাগবোটের অপরিহার্যতা অনস্বীকার্য। এটি দুর্ঘটনার ঝুঁকি হ্রাস করে এবং সম্পদের সুরক্ষা নিশ্চিত করে।
  • অপারেশনাল দক্ষতা বৃদ্ধি: পোতাশ্রয় এবং নোঙরস্থলে দ্রুত ও সুচারুভাবে জাহাজ পরিচালনার সক্ষমতা নৌবাহিনীর সামগ্রিক অপারেশনাল দক্ষতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করে।
  • আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ: আধুনিক বিশ্বের প্রায় সকল উন্নত নৌবাহিনী তাদের বহরে অত্যাধুনিক টাগবোট অন্তর্ভুক্ত রাখে। বাংলাদেশ নৌবাহিনীও আন্তর্জাতিক নৌমানদণ্ড বজায় রাখতে এবং উন্নত সামুদ্রিক সক্ষমতা প্রদর্শনে এই ধরনের সরঞ্জাম অত্যাবশ্যক মনে করে।
  • দেশীয় সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আত্মনির্ভরশীলতা: দেশের অভ্যন্তরে বানৌটা পশুর জাহাজের সফল নির্মাণ বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নিজস্ব জাহাজ নির্মাণ শিল্পের সক্ষমতা প্রমাণ করে। এটি কেবল বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করেনি, বরং ভবিষ্যতে আরও বড় এবং জটিল নৌযান নির্মাণে আত্মনির্ভরশীলতার পথ প্রশস্ত করেছে।
  • ভবিষ্যৎ নৌবহরের চাহিদা পূরণ: বাংলাদেশ নৌবাহিনীর বহর প্রতিনিয়ত সম্প্রসারিত হচ্ছে এবং নতুন নতুন অত্যাধুনিক জাহাজ যুক্ত হচ্ছে। এই ক্রমবর্ধমান নৌবহরের কার্যকর পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক ও উন্নত মানের সহায়ক জাহাজের প্রয়োজন। বানৌটা হালদা এই ভবিষ্যৎ চাহিদা পূরণে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।

সর্বোপরি, বানৌটা পশুর বাংলাদেশ নৌবাহিনীর অপারেশনাল স্বায়ত্তশাসন এবং প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের একটি জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত। এটি নৌবাহিনীর সক্ষমতাকে সুসংহত করে এবং দেশের সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।[][][][][][][][][][১০][১১][১২][১৩][১৪][১৫][১৬]

ইতিহাস

[সম্পাদনা]

বাংলাদেশ নৌবাহিনীর টাগবোট পশুর নির্মাণ একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক, কারণ এটি খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেড-এ নির্মিত সাবমেরিন হ্যান্ডলিং প্রযুক্তি সমৃদ্ধ প্রথম জাহাজ। এর নির্মাণ ইতিহাস নিম্নরূপ:

বানৌটা পশুর নির্মাণের প্রেক্ষাপট:

  • বাংলাদেশ সরকার সশস্ত্র বাহিনীর দীর্ঘমেয়াদী আধুনিকায়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেশীয় ও বৈদেশিক উৎস থেকে সমর সরঞ্জাম সংগ্রহ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এর ফলস্বরূপ, বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সামুদ্রিক ও উপকূলীয় অঞ্চলে বহিঃনোঙ্গরে ও পোতাশ্রয়ে সাবমেরিনের নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি নৌবাহিনীর অন্যান্য জাহাজ এবং বাণিজ্যিক জাহাজকে টোয়িং সহযোগিতা প্রদান, পোতাশ্রয়ে ও সমুদ্রে অগ্নিনির্বাপণ এবং উদ্ধারকারী জাহাজ হিসেবে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে নৌবাহিনীর সার্বিক অপারেশনাল কার্যক্রমে সহায়তার জন্য এসকল টাগবোটের প্রয়োজনীয়তা অনুধাবন করা হয়।

নির্মাণ প্রক্রিয়া ও সময়রেখা:

  • নির্মাণাদেশ: ১৬ জুন, ২০১৫ সালে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জন্য ২টি সাবমেরিন হ্যান্ডলিং টাগবোট তৈরী এবং সরবরাহের লক্ষ্যে প্রতিরক্ষা ক্রয় মহাপরিদপ্তর এবং খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেড এর মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
  • ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন (কিল লেয়িং): ২২ জুন, ২০১৫ সালে খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেড এর তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর এস ইরশাদ আহমেদ, এনডিইউ, এনডিসি, এএফডব্লিউসি, পিএসসি খুলনা শিপইয়ার্ড প্রাঙ্গনে এক অনুষ্ঠানে কিল লেয়িং এর মাধ্যমে নির্মাণ কাজের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানটির মহাব্যবস্থাপকবৃন্দ ছাড়াও উর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
  • নির্মাতা: বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সাবমেরিন হ্যান্ডলিং টাগবোট বানৌটা পশুর জাহাজটি বৈদেশিক প্রযুক্তিগত সহায়তায় খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেড কর্তৃক নির্মাণ করা হয়।
  • নকশা ও প্রযুক্তি সরবরাহ: জাহাজ নির্মাণে প্রয়োজনীয় নকশা ও প্রযুক্তি সরবরাহ করে রবার্ট অ্যালান লিমিটেড, কানাডা। রামপার্টস ৩২০০-সিএল হার্বর টাগ এর নকশার উপর ভিত্তি করে বানৌটা পশুর নির্মিত হয়।
  • পরামর্শদাতা: জাহাজটি নির্মাণে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও উপকরণ সরবরাহ করে গ্রেড ওয়ান মেরিন শিপইয়ার্ড, মালয়েশিয়া।
  • তদারকি ও মান নিশ্চিতকরণ: সম্পূর্ণ প্রকল্প পরিকল্পনা, সংস্থান এবং সরবরাহ ব্যবস্থাপনা সম্পন্ন করে দেশীয় প্রতিষ্ঠান গোল্ডেন মেরিটাইম টেকনোলজি, ঢাকা।
  • নামকরণ: বাংলাদেশ নৌবাহিনীর টাগবোট বানৌটা পশুর এর নামকরণ করা হয়েছে দেশের গুরুত্বপূর্ণ পশুর নদীর নামে। এই নামকরণের পেছনে রয়েছে এর ভৌগোলিক গুরুত্ব—পশুর নদী মোংলা বন্দরে প্রবেশের প্রধান পথ। টাগবোটটি জাহাজ চালনায় সহায়তা, টোয়িং, উদ্ধার, অগ্নিনির্বাপণ ও পরিবেশ সুরক্ষার মতো বহুমুখী কাজ করে, যা নদীর নাব্যতার মতোই গুরুত্বপূর্ণ। দেশের বিভিন্ন নদী ও স্থানের নামে নৌযানের নামকরণের ঐতিহ্য বজায় রেখে এবং খুলনা শিপইয়ার্ডে নির্মিত প্রথম সাবমেরিন হ্যান্ডলিং টাগবোট হিসেবে এর নামকরণ দেশের কৌশলগত ও কারিগরি সক্ষমতাকে তুলে ধরে।
  • নির্মাণ মান: আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ফ্রান্স ভিত্তিক ক্লাসিফিকেশন সোসাইটি ব্যুরো ভেরিটাস (বিভি) এর নীতিমালা অনুসরণ করে জাহাজটি নির্মিত হয়।
  • অভিষেক: নির্মাণকাজ শেষে ১৫ মার্চ, ২০১৭ সালে খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেড (খুশিলি)- এ নির্মিত বানৌজা নিশান (এলপিসি-2) ও বানৌটা পশুর লঞ্চিং করেন তৎকালীন নৌবাহিনী প্রধান ও চেয়ারম্যান - বিওডি, খুশিলি এডমিরাল মোহাম্মদ নিজামউদ্দিন আহমেদ, ওএসপি, বিসিজিএম, এনডিসি, পিএসসি।
  • কমিশন লাভ: ৮ নভেম্বর, ২০১৭ তারিখে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ আব্দুল হামিদ বানৌটা পশুর জাহাজটিকে নৌবাহিনীতে কমিশন করেন। এই ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে জাহাজের অধিনায়কদের হাতে কমিশনিং ফরমান তুলে দেন এবং নৌবাহিনীর ঐতিহ্যবাহী রীতি অনুযায়ী আনুষ্ঠানিকভাবে নামফলক উন্মোচন করেন। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সক্ষমতায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে তৎকালীন মন্ত্রী পরিষদের সদস্য, তৎকালীন উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, তৎকালীন সংসদ সদস্যবৃন্দ, কূটনৈতিক মিশনের সম্মানিত সদস্যবৃন্দ, তৎকালীন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক সহ সরকারের উচ্চ পদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

কর্মজীবন

[সম্পাদনা]

অগ্নিনির্বাপণ সক্ষমতা ও ঘটনা:

  • তেলবাহী জাহাজ এমটি বাংলার জ্যোতি অগ্নিকাণ্ড: গত ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ তারিখে আনুমানিক ১০৫০ ঘটিকায় ইস্টার্ন রিফাইনারির ডলফিন জেটিতে থাকা ক্রুড ওয়েল বহনকারী সরকারি জাহাজ 'বাংলার জ্যোতি'র দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডের সময় জাহাজের ফক্সল এর পেইন্ট স্টোরে ব্যাপক বিস্ফোরণ হয়। বিস্ফোরণের পরে জাহাজের সম্মুখ দিকে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়। তাৎক্ষণিক আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য নৌবাহিনীর বানৌটা পশুর সহ অত্যাধুনিক পাঁচটি টাগ বোট, ফায়ার ট্রাক ও স্পেশাল বোট ঘটনাস্থলে প্রেরণ করা হয়। অত্যন্ত দ্রুততার সাথে নৌবাহিনীর টাগ বোটসমূহ ও ফায়ার ট্রাক 'ফোম টাইপ ফায়ার এক্সটিঙ্গুইসার' এর দারা আগুন নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম শুরু করে। এছাড়াও নৌবাহিনীর সাথে দ্রুততম সময়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে যোগদান করে কোস্টগার্ড ও চট্টগ্রাম বন্দরের টাগ বোট ও সিভিল ফায়ার ব্রিগেডের ফায়ার ট্রাক। উক্ত দুর্ঘটনাস্থলে কমান্ডার চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চল-সহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত হয়ে অগ্নি নির্বাপণী কার্যক্রমে দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। অতঃপর ১৩৪০ ঘটিকায় সম্পূর্ণভাবে আগুন নির্বাপণ করা হয়। প্রায় ১২ হাজার টন ক্রুড ওয়েল ভর্তি জাহাজটির আগুন দ্রুততার সাথে নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হলে নদীতে তেল ছড়িয়ে পড়ে একটি ভয়াবহ জাতীয় সংকট তৈরি হতো বলে ধারণা করা যায়।
  • এমটি বাংলার সৌরভ অগ্নিকাণ্ড: চট্টগ্রাম বন্দরের বহিঃনোঙ্গরে শুক্রবার (০৪-১০-২০২৪) দিবাগত রাতে বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের (বিএসসি) মালিকানাধীন ‘এমটি বাংলার সৌরভ’ নামে আরো একটি তেলবাহী জাহাজে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। প্রায় চার ঘণ্টার চেষ্টায় নৌবাহিনীর ০৩ টি বিশেষায়িত টাগশীপ, কোস্টগার্ড ও বন্দর কর্তৃপক্ষের ০৪ টাগশীপ মিলে অত্যন্ত দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সাথে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ সময় জাহাজটিতে থাকা ৪৮ নাবিকের মধ্যে ৪৭ জনকে জীবিত উদ্ধার করা গেলেও ০১ জন মৃত্যুবরণ করেন। এর মধ্যে আহত কয়েকজনকে নৌবাহিনী হাসপাতাল বানৌজা পতেঙ্গায় চিকিৎসা প্রদান করা হয়। এর ঠিক পাঁচ দিন আগে বন্দরের ৭ নম্বর ডলফিন জেটিতে প্রথমে বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত হয় বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের (বিএসসি) মালিকানাধীন আরেকটি জাহাজ ‘এমটি বাংলার জ্যোতি’। এ ঘটনায় ০৩ জন মৃত্যুবরণ করেন। অগ্নিকান্ডের সংবাদ পাওয়ার সাথে সাথেই ঘটনাস্থলে ছুটে যায় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর একাধিক বিশেষ অগ্নীনির্বাপন ক্ষমতা সম্পন্ন টাগশীপ। সাথে যুক্ত হয় কোস্টগার্ড ও চট্টগ্রাম বন্দরের একাধিক টাগশীপসহ ফায়ার সার্ভিসের বেশ কয়েকটি দল। মাননীয় নৌবাহিনী প্রধানের নির্দেশনায় কমান্ডার চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চলসহ চট্টগ্রামের নৌবাহিনী কর্মকর্তাগণ সাথে সাথে ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং আগুন নিয়ন্ত্রণের দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। বাংলাদেশ নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড, ফায়ার সার্ভিস, চট্টগ্রাম বন্দর ও বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে দ্রæত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পাশাপাশি অন্যান্য নাবিকদের জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দ্রæত পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে বড় রকমের ক্ষতি ও প্রাণহানি থেকে রক্ষা পেয়েছে দেশ। ডলফিন জেটিতে অবস্থানরত ‘এমটি বাংলার জ্যোতি’ জাহাজটির আগুন নিয়ন্ত্রণ ও বড় ধরনের বিস্ফোরণ প্রতিরোধ করা না গেলে হুমকির মুখে পড়তে হতো দুর্ঘটনাস্থলের কাছাকাছি থাকা রাষ্ট্রীয় তেল বিপণনকারী সংস্থা পদ্মা, মেঘনা, যমুনা ও তেল পরিশোধনকারী প্রতিষ্ঠান ইস্টার্ন রিফাইনারি, চট্টগ্রাম শাহ্ আমানত বিমানবন্দর। স্থবির হয়ে পড়তো দেশের প্রধান বাণিজ্যিক বন্দর, চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম। আগুন লাগার আগে বাংলার জ্যোতি জাহাজে ১১ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন এবং বাংলার সৌরভ জাহাজে ১১ হাজার মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল ছিলো। জাহাজগুলোতে থাকা বিপুল পরিমাণ এই তেল পানিতে ছড়িয়ে পড়লে হুমকির মুখে পড়তে হতো কর্ণফুলী নদীসহ বঙ্গোপসাগরে জীব বৈচিত্র্য। এছাড়া বিশাল আকারের এই জাহাজ দুটি বিস্ফোরণে ডুবে গেলে বন্ধ হয়ে যেত চট্টগ্রাম বন্দরের জাহাজ আসা-যাওয়া, স্থাবির হয়ে পড়তো দেশের আমদানি ও রপ্তানি কার্যক্রম। নৌবাহিনীর সফলভাবে অগ্নিনির্বাপণ এর কারণে অর্থনীতির বিরূপ প্রভাব সৃষ্টির হাত থেকে রক্ষা পেল দেশ। মূলত এটি সম্ভব হয়েছে মেরিটাইম সেক্টরের ঊধর্¡তন পর্যায়ে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর দক্ষ কর্মকর্তাদের পদায়নের ফলে। তাদের দক্ষ নেতৃত্বে সমন্বিত প্রচেষ্টার ফলেই বড় রকমের বিপর্যয় থেকে রক্ষা পেল দেশ এবং বেঁচে গেলো হাজারো মানুষের প্রাণ। বাংলাদেশ নৌবাহিনী দেশের যেকোনো বিপর্যয় মোকাবেলায় আস্থা ও সফলতার সর্বদা তার দায়িত্ব পালন করে আসছে। ভবিষ্যতেও বাংলাদেশ নৌবাহিনীর এ ধরণের কার্যক্রম চলমান থাকবে।

বৈশিষ্ট্য ও যান্ত্রিক কাঠামো

[সম্পাদনা]

বানৌটা পশুর তার আধুনিক অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। এটি এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যাতে সমুদ্র বা পোতাশ্রয়ে অগ্নিকাণ্ডের মতো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত এবং কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে।

জাহাজটি তার কর্মজীবনের শুরু থেকেই অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধারকারী জাহাজ হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। এর আধুনিক সরঞ্জাম এবং প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ক্রু যেকোনো অগ্নিকাণ্ড মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকে। এর অগ্নিনির্বাপণ সক্ষমতা এটিকে কেবল নৌবাহিনীর নিজস্ব জাহাজ নয়, বরং যেকোনো বাণিজ্যিক জাহাজের অগ্নিকাণ্ড মোকাবিলায়ও সহায়তাকারী হিসেবে তৈরি করেছে। এর মূল বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:

  • দৈর্ঘ্য: ৩২ মিটার (১০৫ ফুট)
  • প্রস্থ: ১১.৬ মিটার (৩৮ ফুট)
  • গভীরতা: ৫.৩৬ মিটার (১৭.৬ ফুট)
  • ড্রাফট: ৪.৩০ মিটার (১৪.১ ফুট) (গ্রীষ্মকালীন), ৫.৮১ মিটার (১৯.১ ফুট) (নৌ-পরিবহন সর্বোচ্চ)
  • ওজন: ৮৬০ টন
  • সদস্য:
  • গতিবেগ: ১২ নট (২২ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা; ১৪ মাইল প্রতি ঘণ্টা)
  • অভিযান পরিচালনা সক্ষমতা: ৭ দিন
  • পরিসীমা: ১,২০০ নটিক্যাল মাইল (২,২০০ কিলোমিটার; ১,৪০০ মাইল)

প্রপালশন সিস্টেম:

  • ২টি ২,৫০০ অশ্বশক্তি (১,৯০০ কিলোওয়াট) কামিন্স কিউএসকে৬০ ডিজেল ইঞ্জিন (যুক্তরাজ্য)
  • ২টি ১১৫ অশ্বশক্তি (৮৬ কিলোওয়াট) ক্যাটারপিলার ডিজেল জেনারেটর (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র)
  • ২টি এএসডি রোলস রয়েস প্রপালশন

সেন্সর এবং কার্যপদ্ধতি:

  • ১টি ফুরুনো ডিআরএস৪ডব্লিউ র‍্যাডার (জাপান)
  • ১টি ফুরুনো এফএআর-৩৩২০ চার্ট র‍্যাডার (জাপান)
  • ১টি ফুরুনো নেভিগেশনাল ইকো সাউন্ডার এফই-৭০০
  • ১টি সাউন্ড ভেলোসিটি প্রোফাইলার (যুক্তরাজ্য)
  • ১টি চৌম্বকীয় কম্পাস (জাপান)
  • ১টি জিপিএস রিসিভার (ফুরুনো)
  • ১টি ইকো সাউন্ডার (কোডেন)
  • ১টি রাডার অ্যাঙ্গেল ইন্ডিকেটর
  • ১টি ভিএইচএফ সেট (আইকম)
  • ৫টি ভিএইচএফ ওয়াকিটকি সেট (আইকম/মটোরোলা)।
  • অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা: জাহাজটিতে অত্যাধুনিক ফায়ার মনিটর, পাম্প এবং ফোম সিস্টেম রয়েছে যা দ্রুত আগুন নিভিয়ে ফেলতে সক্ষম।
  • প্রশিক্ষিত ক্রু: বানৌটা পশুর জাহাজের ক্রুরা অগ্নিনির্বাপণ এবং উদ্ধার কার্যক্রমে বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত, যা তাদের যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত এবং কার্যকরভাবে পদক্ষেপ নিতে সহায়তা করে।
  • দ্রুত প্রতিক্রিয়া: জাহাজটির গতি এবং চালনাযোগ্যতা এটিকে অগ্নিকাণ্ডের স্থানে দ্রুত পৌঁছাতে এবং কাজ শুরু করতে সাহায্য করে।

সামুদ্রিক পরিবেশে অগ্নিকাণ্ড একটি গুরুতর বিপদ, এবং বানৌটা হালদার মতো বিশেষায়িত টাগবোটের উপস্থিতি বাংলাদেশ নৌবাহিনী এবং দেশের সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য। এটি শুধু আগুন নেভানোর কাজই করে না, বরং সম্ভাব্য সামুদ্রিক দূষণ নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রেও ভূমিকা রাখে।

সংক্ষেপে, বানৌটা পশুর বাংলাদেশ নৌবাহিনীর একটি বহুমুখী টাগবোট, যা জাহাজ চালনায় সহায়তা, টোয়িং অপারেশন, উদ্ধারকার্য এবং বিশেষ করে অগ্নিনির্বাপণ ও পরিবেশ সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. "মহামান্য রাষ্ট্রপতি খুলনা শীপইয়ার্ডে নির্মিত সর্ববৃহৎ যুদ্ধজাহাজ দুর্গম ও নিশান এবং সাবমেরিন টাগ পশুর ও হালদা নৌবহরে কমিশনিং করলেন"আইএসপিআর। ২৮ নভেম্বর ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৮ নভেম্বর ২০২১
  2. "2 X SUBMARINE TUG"web.archive.org। সংগ্রহের তারিখ ১৬ নভেম্বর ২০২২
  3. "দেশেই তৈরী হলো নৌ-বাহিনীর জন্য বড় ২টি যুদ্ধ জাহাজ"। ২৭ নভেম্বর ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৫ সেপ্টেম্বর ২০২২
  4. "2 × Submarine Handling Tug for Bangladesh Navy"www.facebook.com। ১৪ জুলাই ২০২৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৭ জুন ২০২২
  5. "Bangladesh its first station submarine base . cox bazer pekua bns sheik hasina naval"। ২ এপ্রিল ২০২৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৯ জুন ২০২৩
  6. eschneider (২৭ জুন ২০২২)। "Designing Tugs for Navies"Robert Allan Ltd. (কানাডীয় ইংরেজি ভাষায়)। ২৩ জুন ২০২৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৩ জুন ২০২৩
  7. "বাংলাদেশের দুটি সাবমেরিন এবং নৌঘাটি"
  8. "বাংলাদেশ নৌ বাহিনীর জন্য 02 টি সাবমেরিন টাগ বোট তৈরী এবং সরবরাহের লক্ষ্যে ডিজিডিপি এবং খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেড এর মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়"www.khulna shipyard ltd facebook.com। সংগ্রহের তারিখ ২৮ নভেম্বর ২০২১
  9. "খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেড এ বাংলাদেশ নৌ বাহিনীর জন্য 02 টি সাবমেরিন টাগ বোট এর কীল লে করলেন মাননীয় এমডি মহোদয় ও জিএম গন"www.khulna shipyard ltd facebook.com। সংগ্রহের তারিখ ২৮ নভেম্বর ২০২১
  10. "খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেড এ বাংলাদেশ নৌ বাহিনীর জন্য 02 টি সাবমেরিন টাগ বোট এর কীল লে অনুষ্ঠানে Classification Society এর সনদ প্রদান"www.khulna shipyard ltd facebook.com। সংগ্রহের তারিখ ২৮ নভেম্বর ২০২১
  11. "খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেড (খুশিলি)- এ নির্মিত বানৌজা নিশান (এলপিসি-2) ও বানৌটা পশুর লঞ্চিং করলেন মাননীয় নৌবাহিনী প্রধান ও চেয়ারম্যান - বিওডি, খুশিলি এডমিরাল নিজামউদ্দিন আহমেদ, ওএসপি, বিসিজিএম, এনডিসি, পিএসসি"www.khulna shipyard ltd facebook.com। সংগ্রহের তারিখ ২৮ নভেম্বর ২০২১
  12. "TECNICAL SPECIFICATION OF SPARES" (পিডিএফ)www.nsdcgt.navy.mil.bd.com (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২৮ নভেম্বর ২০২১[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  13. "নৌবাহিনীর ২ সাবমেরিন টাগ বোট ও সার্ভে ভেসেল উদ্বোধন"banglanews24.com। ৩১ অক্টোবর ২০১৬। সংগ্রহের তারিখ ১৬ জুলাই ২০২৫
  14. "বাংলাদেশ নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও বিএসসি এর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় তেলবাহী জাহাজ 'বাংলার জ্যোতি'তে বিস্ফোরণ পরবর্তী আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে"www.Bangladesh Navy facebook.com। সংগ্রহের তারিখ ২৮ নভেম্বর ২০২১
  15. Fire Bird (৫ সেপ্টেম্বর ২০২২)। "বাংলাদেশ নৌবাহিনীর অত্যাধুনিক টাগবোট || PASSUR||"
  16. "এমটি বাংলার জ্যোতি' ও 'এমটি বাংলার সৌরভের' আগুন নিয়ন্ত্রণে | সংবাদ সারাক্ষণ" (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১৬ জুলাই ২০২৫