হলদেঠুঁটি মানিকজোড়

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

হলদেঠুঁটি মানিকজোড়
Birds18092009b.jpg
হলদেঠুঁটি মানিকজোড়, বেলজিয়াম
বৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
জগৎ: Animalia
পর্ব: কর্ডাটা
শ্রেণী: পক্ষী
বর্গ: Ciconiiformes
পরিবার: Ciconiidae
গণ: Mycteria
প্রজাতি: M. ibis
দ্বিপদী নাম
Mycteria ibis
(Linnaeus, 1766)
Mycteria ibis

হলদেঠুঁটি মানিকজোড় (বৈজ্ঞানিক নাম: Mycteria ibis) Ciconiidae (সিকোনিডাই) গোত্র বা পরিবারের অন্তর্গত Mycteria (মাইক্টেরিয়া) গণের অন্তর্গত এক প্রজাতির বড় আকারের জলচর পাখি। হলদেঠুঁটি মানিকজোড়ের বৈজ্ঞানিক নামের অর্থ পেটরা সারস (গ্রিক mukter = পেটরা; লাতিন: ibis = সারস)। পাখিটি আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে দেখা যায়। সারা পৃথিবীতে ১ কোটি ৮১ লক্ষ বর্গ কিলোমিটার জুড়ে এদের আবাস।[১] বিগত কয়েক দশক ধরে এদের সংখ্যা কমেনি, বরং বেড়েছে। সেকারণে আই. ইউ. সি. এন. এই প্রজাতিটিকে ন্যূনতম বিপদগ্রস্ত বলে ঘোষণা করেছে।[২]

বিবরণ[সম্পাদনা]

Nimmersatt (Mycteria ibis) - Weltvogelpark Walsrode 2011-03.jpg

হলদেঠুঁটি মানিকজোড় বেশ বড়সড় সাদা জলচর পাখি। এর দৈর্ঘ্য কমবেশি ৯৭ সেন্টিমিটার। প্রাপ্তবয়স্ক পাখির মুখ পালকহীন ও চামড়া লালচে। এ চামড়া প্রজনন মৌসুমে গাঢ় লাল রঙ ধারণ করে। ঘাড়, গলা ও পিঠ দুধসাদা। দেহতলও সাদা। ডানার প্রান্ত-পালক কালো। ডানার কালো পালক-ঢাকনিতে সাদা ডোরা দেখা যায়। লেজের পালক কালচে। চোখের রঙ কালচে। লম্বা ঠোঁটের গোড়া কমলা-হলুদ। নিম্নমুখী ঠোঁটের আগা গাঢ় হলুদ। পা ও পায়ের পাতা লালচে। স্ত্রী ও পুরুষ মানিকজোড় দেখতে একই রকম। অপ্রাপ্তবয়স্ক পাখি মলিন সাদা।

স্বভাব[সম্পাদনা]

উড়ন্ত মানিকজোড়

হলদেঠুঁটি মানিকজোড় নদীর পাড়, জলমগ্ন মাঠ, হ্রদ, কাদাচর, লবণ চাষের জমিতে ও নদীর মোহনায় বিচরণ করে। সচরাচর জোড়ায় কিংবা ছোট দলে থাকে। অগভীর পানিতে হেঁটে ঠোঁট খুলে কাদায় ঢুকিয়ে এরা খাবার খুঁজে বেড়ায়। ঠোঁটে মাছ বা অন্যান্য খাবারের অস্তিত্ব টের পেলেই এরা সাথে সাথে ঠোঁট বন্ধ করে ফেলে। খাদ্যতালিকায় রয়েছে মাছ, ব্যাঙ, চিংড়ি, কাঁকড়া, জলজ পোকামাকড় ও ছোট সরীসৃপ। পানির ধারে এরা প্রায়ই একপায়ে ঠায় দাঁড়িয়ে বিশ্রাম করে। ওড়ার সময় প্রলম্বিত পা ও গলা কিছুটা নিচের দিকে ঝুঁকে থাকে। বৃত্তাকারে ধীরলয়ে ওড়ে, ক্রমে ওপরে উঠে যায়। গলায় তেমন শব্দ নেই। ভয় পেলে, উত্তেজিত হলে, আনন্দিত হলে বা বিপদে পড়লে দু'ঠোঁটে বাড়ি মেরে ঠক ঠক শব্দ তোলে। প্রজনন ঋতুতে এক গাছে বা পাশাপাশি একাধিক গাছে অনেকগুলো পাখি মিলে কলোনি করে বাসা করে। এসব কলোনিতে বিভিন্ন প্রজাতির পানকৌড়ি ও অন্যান্য বকও বাসা করে।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Mycteria ibis ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১২ তারিখে, BirdLife International এ হলদেঠুঁটি মানিকজোড় বিষয়ক পাতা।
  2. Mycteria ibis ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১২ তারিখে, The IUCN Red List of Threatened Species এ হলদেঠুঁটি মানিকজোড় বিষয়ক পাতা।

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

  • ARKive, হলদেঠুঁটি মানিকজোড় বিষয়ক তথ্য ও আলোকচিত্র।