স্টপ জেনোসাইড

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
স্টপ জেনোসাইড
পরিচালকজহির রায়হান
প্রযোজকবাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী ও কুশলী সহায়ক সমিতি
রচয়িতাআলমগীর কবির
চিত্রনাট্যকারজহির রায়হান
বর্ণনাকারীআলমগীর কবির
সম্পাদকদেবব্রত সেনগুপ্ত
প্রযোজনা
কোম্পানি
চিত্তবর্ধন
মুক্তি
  • ১৯৭১ (1971)
দৈর্ঘ্য২০ মিনিট
দেশবাংলাদেশ
ভাষাইংরেজি

স্টপ জেনোসাইড বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের উপর নির্মিত একটি প্রামাণ্য চলচ্চিত্র। ইংরেজি "স্টপ জেনোসাইড" শব্দগুচ্ছের অর্থ "বন্ধ কর গণহত্যা"। শহীদ বুদ্ধিজীবি ও বিশিষ্ট চলচ্চিত্রকার জহির রায়হান বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দে ২০ মিনিট দৈর্ঘ্যের এই তথ্যচিত্রটি তৈরি করেন। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন ভারতে আশ্রয়গ্রহণকারী বাঙ্গালীদের দুঃখ-দুর্দশা, হানাদার পাকিস্তানী সামরিক বাহিনীর হত্যাযজ্ঞ, ভারতে বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকারের দিনকাল প্রভৃতি এই তথ্যচিত্রে তুলে ধরা হয়েছিল।

জহির রায়হান একাত্তরের এপ্রিল-মে মাসের দিকে এই তথ্যচিত্র তৈরির পরিকল্পনা করেন। তিনি বিশ্বাস করতেন চলমান গণহত্যা ও মানবতার লাঞ্ছনার বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী জনমত তৈরি করার জন্য প্রামাণ্য চলচ্চিত্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সহকারী আলমগীর কবিরকে সাথে নিয়ে তিনি স্টপ জেনোসাইডের কাজ শুরু করেন। মুজিবনগর সরকারের তথ্য ও চলচ্চিত্র বিভাগ আর্থিকভাবে সহায়তা করতে সম্মত হয়। কিন্তু পরে এই ছবিটি নিয়ে প্রবাসী সরকারের মধ্যে মতানৈক্যের সৃষ্টি হয়; কারণ ছবিটির কোথাও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম ছিল না। তথ্যচিত্রে জহির রায়হান চেয়েছিলেন আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে যুদ্ধের রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে পাকিস্তানী সামরিক বাহিনীর ধ্বংসযজ্ঞ, গণহত্যা, শরণার্থীদের দুরবস্থা আর স্বাধীনতা সংগ্রামের দিকটা বেশী করে তুলে ধরতে। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতেন সারাবিশ্বই মুক্তিযুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বদানের বিষয়ে ওয়াকিবহাল, তাই সেটা আর নতুন করে কিছু বলার নেই। পরে প্রয়াত তাজউদ্দীন আহমেদসহ অন্যরা পরিস্থিতি সামাল দেন।[১][২] এর প্রথম প্রদর্শনী হয় এক অজ্ঞাত স্থানে, যেখানে অস্থায়ী রাস্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমেদ, মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রীপরিষদের সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্য বিশ্বব্যাপী জনমত তৈরি করার ক্ষেত্রে 'স্টপ জেনোসাইড' অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রেখেছিলো। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে এখন পর্যন্ত নির্মিত ছবিগুলোর মধ্যে শিল্পগত ও গুণগত সাফল্যের দিক থেকে এই চলচ্চিত্রটিকে শীর্ষে স্থান দেয়া হয়ে থাকে।[৩]

বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর ভারতস্থ অস্থায়ী সরকারের চলচ্চিত্র বিভাগের এক কর্মকর্তা দেশে ফিরে আসার সময় ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্স থেকে ছবিটির ফিল্ম আশ্চর্যজনক ভাবে হারিয়ে ফেলেন। ঐ কর্মকর্তার সব জিনিস পত্র ঠিক মত দেশে ফিরে আসলেও "স্টপ জেনোসাইডের" ফিল্ম যে ব্যাগে ছিল তা হারিয়ে যায়। পরবর্তিতে ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্স ঐ কর্মকর্তাকে এই মহামুল্যবান সম্পদ খোয়া যাবার খেসারত স্বরূপ ৩০০ রূপির একটি ক্ষতিপূরণ পাঠিয়ে দেয়।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. http://www.thedailystar.net/newDesign/victory_day/news10.php
  2. "সংরক্ষণাগারভুক্ত অনুলিপি"। ৫ মে ২০০৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৮ ডিসেম্বর ২০০৯ 
  3. http://arts.bdnews24.com/?p=2263