স্কিটসোফ্রিনিয়া

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
স্কিটসোফ্রিনিয়া
শ্রেণীবিভাগ এবং বহিরাগত রিসোর্স
একজন স্কিটসোফ্রিনিয়া আক্রান্ত রোগীর সূচীকর্ম করা কাপড়
আইসিডি-১০ F20.
আইসিডি- 295
ওএমআইএম 181500
রোগ ডাটাবেস 11890
মেডলাইনপ্লাস 000928
ইঔষধ med/2072 emerg/520
মেএসএইচ F03.700.750

স্কিটসোফ্রিনিয়া (ইংরেজি: Schizophrenia, উচ্চারণ: /[অসমর্থিত ইনপুট]ˌskɪtsɵˈfrɛniə/ বা /ˌskɪtsɵˈfrniə/) একটি মানসিক ব্যাধি; একে প্রায়শঃ সিজোফ্রেনিয়া উচ্চরণ করা হয়৷ এ রোগের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এতে চিন্তাধারা এবং অনুভূতির প্রকাশের মধ্যে সঙ্গতি থাকে না ৷[১] এর লক্ষণগুলো হলোঃ ভুলভাল শোনা, উদ্ভট, বিভ্রান্তিকর বা অলীক কিছু দেখা এবং অসঙ্গতিপূর্ণ কথাবার্তা এবং চিন্তা। এ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি সামাজিক বা কর্মক্ষেত্রে প্রায়শঃই অক্ষমতাজনিত অসুবিধার সম্মুখীন হন৷ স্কিটসোফ্রিনিয়ার লক্ষণগুলি সাধারণত বয়ঃপ্রাপ্তির সময় দেখা দেয়৷ সারাবিশ্বের ০.৩–০.৭% মানুষ এ রোগে আক্রান্ত৷ আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহার পর্যবেক্ষণ ও অতীত কর্মকান্ড পর্যালোচনার মাধ্যমে এই রোগনির্ণয় করা হয়৷

বংশগতি, শৈশবের পরিবেশ, নিউরোবায়োলজি এবং মানসিক ও সামাজিক প্রক্রিয়াসমূহ এ রোগের গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক হিসাবে প্রতিভাত হয়৷ কিছুকিছু উত্তেজক মাদক এবং ওষুধ এরোগের উপসর্গগুলোর আবির্ভাব বা এদের আরও গভীর করে বলে প্রতিয়মান হয়৷ বর্তমানে এ রোগের গবেষণায় নিউরোবায়োলজির ওপর জোর দেয়া হচ্ছে, যদিও এখনো কোন একক জৈব কারন সনাক্ত করা যায়নি৷ এই রোগের সম্ভাব্য বিভিন্ন ধরণের উপসর্গ সমষ্টি এ নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে যে, আদৌ এটি একটি একক ব্যাধী না একাধিক পৃথক উপগর্গের সহাবস্থান৷ স্কিটসোফ্রিনিয়া শব্দটির উৎপত্তি গ্রীক শব্দমূল skhizein (σχίζειν, "to split" বা “দুভাগ করা”) এবং phrēn, phren- (φρήν, φρεν-; "mind" বা “মন”) থেকে৷ এমন নামকরণ সত্ত্বেও স্কিটসোফ্রিনিয়া বলতে আদপে “দ্বিখন্ডিত মন” বুঝায় না; যদিও অনেক সময় সাধারণ মানুষ এটিকে ডিসোসিয়েটিভ আইডেনটিটি ডিজর্ডার (যা মাল্টি পারসনালিটি ডিজর্ডার বা স্প্লিট পারসোনালিটি নামেও পরিচিত) এর সাথে গুলিয়ে ফেলে; প্রকৃতপক্ষে এদুটি ভিন্ন ভিন্ন ব্যাধী৷

আলামত ও ধরন[সম্পাদনা]

আলামত সমূহ এপিসোডিক বা হঠাৎ ঘটে থাকতে পারে।

১. অসংলগ্ন আচরণ

২. এলোমেলো এবং সংযোগবিহীন চিন্তা ও তার বহিঃপ্রকাশ

৩. জীবন এবং তার সংশ্লিষ্ট কাজের প্রতি উৎসাহ হারিয়ে ফেলা

৪. অডিটরি হ্যালুসিনেশন দেখা

নিরাময়[সম্পাদনা]

চিকিৎসার প্রধান মাধ্যম হল এন্টিসাইকোটিক ওষুধ, যা মূলত ডোপামিন (এবং কখনও কখনও স্টেরোটোনিন) গ্রহণ কার্যক্রমকে অবদমিত করে। সেই সাথে মনোচিকিৎসা এবং বৃত্তিমূলক ও সামাজিক পুনর্বাসনও চিকিৎসার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বেশি গুরুতর ক্ষেত্রে, যেখানে নিজের এবং অন্যদের প্রতি ক্ষতির ঝুঁকি থাকে - সেখানে রোগীর অনিচ্ছা থাকলেও হাসপাতালে ভর্তি করা প্রয়োজন হতে পারে, যদিও হাসপাতালে থাকার মেয়াদ এখন আগের থেকে কম হয় এবং হাসপাতালে যেতেও হয় আগের থেকে অনেক কম।

এই ব্যাধি মূলত চেতনাকে আক্রান্ত করে বলে ধারণা করা হয়, কিন্তু এটা একই সাথে প্রায়শই আচরণ এবং আবেগ গত দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা বৃদ্ধি করে।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Schizophrenia" Concise Medical Dictionary. Oxford University Press, 2010. Oxford Reference Online. Maastricht University Library. 29 June 2010 prepaid subscription only

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]