সু ফেলজ, সাউথ ডাকোটা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

সু ফেলজ (লাকুটা:ইনিয়ান ওকাবলেকা ওতুনওয়াহে[১],বা পাথর চূর্ণকারী নগরী) জনসংখ্যায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ডাকোটা অঙ্গরাজ্যের বৃহত্তম শহর। জনসংখ্যায় এটি সমগ্র যুক্তরাষ্ট্রের ১৪০-তম বৃহত্তম শহর। শহরটি মিনেহাহা কাউন্টির সদর দপ্তর। এছাড়াও আইওয়া অঙ্গরাজ্যের সীমান্তবর্তী লিংকন কাউন্টিতে শহরটির সম্প্রসারণ ঘটেছে।

২০১৯ সালের হিসাব অনুযায়ী, সু ফেলজের জনসংখ্যা ১,৮৩,৭৯৩।[২] ১৮৫৬ সালে বিগ সু নদীর তীরে শহরটি প্রতিষ্ঠিত হয়। ২৯ ও ৯০ নং আন্তঃরাজ্য সড়কের সংযোগস্থলে পার্বত্য এলাকায় শহরটি গড়ে ওঠেছে।

বেস্ট লাইফ ম্যাগাজিনের তথ্যানুসারে, সু ফেলজ যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে স্বাস্থ্যসম্মত শহর। অনেক সংস্থা ও বিশ্লেষকের মতে, স্বাস্থ্য পরিস্থিতি বিবেচনায় সু ফেলজ যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ শহর।[৩][৪]

ইতিহাস[সম্পাদনা]

বিগ সু নদী থেকে সৃষ্ট জলপ্রপাতগুলোর সাথে সু ফেলজের ইতিহাস ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ১৪০০০ বছর পূর্বে সর্বশেষ বরফ যুগে জলপ্রপাতগুলো সৃষ্টি হয়। ইউরোপীয়দের আগমনের পূর্বে হো-চাঙ্ক, আইউয়ে, উটোয়ে,মিজুরি, ওমাহা, কোয়াপাউ, কানসা, ওসেজ, আরিকিরা, ডাকোটা ও চেয়েন জাতির লোক এখানে বসবাস করত। বিগ সু নদীর তীরে উঁচু খাঁড়িতে এখনো আদিবাসীদের টিলাকৃতির কবরস্থান পরিলক্ষিত হয়। তারা এখানে কৃষিভিত্তিক সমাজ গড়ে তুলে। লাকুটা ও ডাকোটা জাতির অনেক লোক আজও সু ফেলজ শহরে বসবাস করছে।[৫]

অষ্টাদশ শতাব্দীতে ফ্রেঞ্চ অভিযাত্রীরা সু ফেলজ পরিদর্শন করেন। ফিল্যান্ডার প্রেসকট প্রথম ইউরোপীয় বংশোদ্ভূত আমেরিকান হিসেবে সু ফেলজ ভ্রমণ করেন। ১৮৩২ সালের ডিসেম্বরে তিনি জলপ্রপাতের নিকটে ক্যাম্প স্থাপন করেন। ১৮৪৪ সালে ক্যাপ্টেন জেমস অ্যালেন এখানে সামরিক অভিযান পরিচালনা করেন। জ্যাকব ফেরিস ১৮৬৫ সালে পশ্চিমের রাজ্য ও ভূখণ্ড বইয়ে জলপ্রপাতগুলোর বর্ণনা দিয়েছেন।[৬]

সেন্ট পলের ডাকোটা ভূমি কোম্পানি ও আইওয়া অঙ্গরাজ্যের দুবুকে শহরের ওয়েস্টার্ন টাউন কোম্পানি ১৮৫৬ সালে জলপ্রপাতের আশপাশে ভূমি নিজেদের মালিকানার আওতাভুক্ত শুরু করে। উভয় প্রতিষ্ঠান ৩২০ একর ভূমি দাবি করে এবং পরস্পরকে সুরক্ষাদানে সম্মত হয়। আদিবাসীরা ভূমির অধিকার ছাড়তে অসম্মত হলে তারা ফোর্ট সড নামক তৃণ-নির্মিত সুরক্ষাপ্রাচীর গঠন করে। সতেরোজন ১৮৫৬ সালের শীতকালে সু ফেলজে বসতি স্থাপন করে। পরবর্তী বছরে সু ফেলজের জনসংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৪০।

মিনেহাহা কাউন্টিতে বসবাসরত আদিবাসী আমেরিকান ও শ্বেতাঙ্গদের মধ্যে শুরুতে বিরোধ না থাকলেও ১৮৬২ সালের ডাকোটা যুদ্ধের ফলে সংঘাত তীব্র হয়ে ওঠে। ঐ বছর আগস্টে দুইজন বসতি স্থাপনকারী মৃত্যুবরণ করলে শহর ছেড়ে ইউরোপীয়রা পালিয়ে যান। তখন এখানে ব্যাপক লুটতরাজ ও অগ্নিকাণ্ড সংঘটিত হয়েছিল।

১৮৬৫ সালের মে মাসে সু ফেলজ শহরে ডাকোটা দুর্গ প্রতিষ্ঠিত হয়।[৭] এখানে নতুন করে বসতি স্থাপন শুরু হয়। ১৮৭৩ সালে এর জনসংখ্যা বেড়ে হয় ৫৯৩। ১৮৭৬ সালে সু ফেলজ গ্রাম স্থানীয় শাসনের আওতাভুক্ত করা হয়। ডাকোটা আইনসভা ১৮৮৩ সালের ৩ মার্চ একে শহর হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।[৮]

রেলসড়ক নির্মাণ এর জনসংখ্যা বৃদ্ধির ধারাকে আরো বেগবান করে। ১৮৮০ সালে সু ফেলজের জনসংখ্যা ছিল ২,১৬৭। ১৮৮০-র দশকের শেষভাগে জনসংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১০,১৬৭। কিন্তু ঘাসফড়িং-সৃষ্ট প্লেগ মহামারি ও মহামন্দার ফলে এর জনসংখ্যা বৃদ্ধির গতি শ্লথ হয়ে পড়ে। পরবর্তী দশ বছরে জনসংখ্যা মাত্র ৮৯ বৃদ্ধি পায়।

১৯০৯ সালে জন মোরেল এখানে মাংস বাজারজাতকরণ কেন্দ্র খুললে শহরটি অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি লাভ করে। ১৯৪২ সালে এখানে একটি বিমানঘাঁটি এবং সামরিক রেডিও ও যোগাযোগ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপিত হয়। ১৯৬০ সালে আন্তঃরাজ্য সড়ক নির্মাণের ফলে অর্থনৈতিক উন্নতি অব্যাহত থাকে।

১৯৫৫ সালে দক্ষিণ সু ফেল ও সু ফেল শহর একীভূত করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ১৯৫০ এর আদমশুমারি অনুযায়ী,দক্ষিণ সু ফেল শহরের জনসংখ্যা ছিল ১,৬০০। ১৯৫৫ সালের ১৮ অক্টোবর ৭০৪-২২৭ ভোটে দক্ষিণ সু ফেলের বাসিন্দারা একীভূতকরণের পক্ষে রায় দেয়। ১৫ নভেম্বর ২৭১৪-৪৫০ ভোটে সু ফেলের বাসিন্দারা একীভূতকরণ প্রক্রিয়া অনুমোদন করে।

ঋণ নীতিমালা শিথিল করায় ১৯৮১ সালে সিটিব্যাংক নিউ ইয়র্ক থেকে সু ফেলজ শহরে ক্রেডিট কার্ড কেন্দ্র স্থানান্তরিত করে। অনেকেই বলেন, সিটিব্যাংকের কার্যালয় স্থানান্তরের ফলে এখানে অভাবনীয় উন্নতি সাধিত হয়েছে।[৯]

১৯৮০ সালে সু ফেলজে ৮১,০০০ বাসিন্দা ছিলেন। ২০১৮ সালে এর জনসংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১,৮৩,২০০।

২০১৯ সালে তিনটি ই-এফ মাত্রার ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড় সু ফেলজকে আঘাত করে। এতে ৩৭টি ভবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় ও সাতজন আহত হন। এর ফলে কমপক্ষে ৫০ লক্ষ ডলারের আর্থিক ক্ষতি সাধিত হয়।[১০]

ভূগোল[সম্পাদনা]

আদমশুমারি ব্যুরোর তথ্যানুযায়ী, সু ফেলজ শহরের আয়তন ৭৩.৪৭ বর্গমাইল। এর ৭২.৯৬ বর্গমাইল স্থল ও ০.৫১ বর্গমাইল জল।[১১] শহরটি মিনেসোটা সীমান্তের ১৫ মাইল পশ্চিমে অবস্থিত।

সু ফেলজ শহরে ৭০টির বেশি পার্ক ও উদ্যান রয়েছে। ফেলজ পার্ক এর সবচেয়ে বিখ্যাত বিনোদনকেন্দ্র।

শহরটির জলবায়ু আর্দ্র মহাদেশীয় ধরনের। জানুয়ারি মাসে ১৬.৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট ও জুলাই মাসে ৭৩ ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপমাত্রা বিরাজ করে। শহরে প্রতি বছর গড়ে ৪৪.৬ ইঞ্চি তুষারপাত ও ২৬.৩৩ ইঞ্চি বৃষ্টিপাত হয়।

জনমিতি[সম্পাদনা]

২০১০ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী সু ফেলজের জনসংখ্যা ১,৫৩,৮৮৮। এখানে ৩৭,৪৬২টি পরিবার বসবাস করে। জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গকিলোমিটারে ৮১৪.৪ জন। বাসিন্দাদের ৮৬.৮% শ্বেতাঙ্গ,৪.২% আফ্রিকান আমেরিকান, ২.৭% আদিবাসী আমেরিকান, ১.৮% এশীয় ও ০.১% প্রশান্ত মহাসাগরীয়। বাসিন্দাদের ৪.৪% হিস্পানিক অথবা লাতিনো।

২০১৫ সালে শহরের পরিবারগুলোর মাথাপিছু আয় ছিল ৭৪,৬৩২ ডলার। পুরুষদের গড় আয় ৪০,১৮৭ ডলার ও নারীদের গড় আয় ৩১,৫১৭ ডলার। শহরের মাথাপিছু আয় ২৬,৩৯২ ডলার। ১১.৮% বাসিন্দা ও ৮.৫% পরিবার দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করে। এদের ১৬.৮% এর বয়স ১৮ এর নিচে ও ৮.৮% এর বয়স ৬৫ এর সমান বা বেশি।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "NLD Online v.3.0"web.archive.org। ২০১৬-১০-১৮। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৯-২৭ 
  2. Sneve, Joe। "City Hall: 4,000 more moved to Sioux Falls in 2018"Argus Leader (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৯-২৭ 
  3. August 15, Alex Daniel; 2017 (২০১৭-০৮-১৫)। "The 50 Healthiest Cities in America"Best Life (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৯-২৭ 
  4. Journal, Sioux Falls Business। "Sioux Falls ranked among healthiest cities"Argus Leader (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৯-২৭ 
  5. "American Indian Services Inc - WELCOME -"web.archive.org। ২০০৮-০৩-০৪। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৯-২৭ 
  6. "siouxfalls.org: History of Sioux Falls"web.archive.org। ২০০৮-০৭-০৫। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৯-২৭ 
  7. "Ft. Dakota Virtual Tour"www.angelfire.com। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৯-২৭ 
  8. "Sioux Falls | FactMonster"www.factmonster.com। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৯-২৭ 
  9. "Sioux Falls 25 years after Citibank's arrival"MPR News। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৯-২৭ 
  10. Press, the Associated; Staff। "Powerful storm strikes Sioux Falls with three confirmed EF-2 tornadoes"KCRG News। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৯-২৭ 
  11. "WebCite query result"www.webcitation.org। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৯-২৭