সুখ দেব

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সুখ দেব
জন্ম (1923-06-17) ১৭ জুন ১৯২৩ (বয়স ৯৮)
চকওয়াল, পাঞ্জাব, ব্রিটিশ রাজ
(এখন পাকিস্তান এ)
জাতীয়তাভারতীয়
কর্মক্ষেত্র
প্রতিষ্ঠান
প্রাক্তন ছাত্র
পিএইচডি উপদেষ্টাপ্রফুল্ল চন্দ্র গুহ
জন ডি. রবার্টস
পিএইচডি ছাত্ররাগোবর্ধন মেহতা
পরিচিতির কারণটার্পেনয়েডস এর উপর গবেষণা
গুগলস্টেরন বিকাশে অবদান
উল্লেখযোগ্য
পুরস্কার
পদ্মভূষণ
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জন্য শান্তি স্বরূপ ভাটনাগর পুরস্কার
আইআইএসসি সুদবুরো পদক আইসিএস আচার্য পি. সি. রয় অ্যাওয়ার্ড
আইএনএসএ বিশ্বকর্মা পদক
এসিএস আর্নেস্ট গেন্টার অ্যাওয়ার্ড
আইআইএসসি বিশিষ্ট অ্যালামনাস পুরস্কার
ভিএএসভিআইকে শিল্প গবেষণা পুরস্কার
এফআইসিসিআই পুরস্কার
আইএনএসএ অধ্যাপক টি.আর. শেশাদ্রী সত্তরতম জন্মদিন স্মৃতি পদক
আইএনএসএ মেঘনাদ সাহা পদক
তৃতীয় বিশ্ব বিজ্ঞান একাডেমি পুরস্কার
আইএসসিএ শ্রীনিবাসন রামানুজন জন্মশতবর্ষ পুরস্কার
আইসিএস আজীবন সম্মাননা
সিআরএসআই আজীবন সম্মাননা

সুখ দেব এফএনএ, এফএএসসি (জন্ম ১৯২৩) একজন ভারতীয় জৈব রসায়নবিদ, একাডেমিক, গবেষক এবং লেখক, উদ্ভিদ থেকে প্রাপ্ত স্টেরয়েড ভেষজ এবং পুষ্টি এজেন্ট হিসাবে ব্যবহৃত গুগলস্টেরন বিকাশ ও অবদানের জন্য পরিচিত। [১] তিনি বায়োমেডিকাল বিজ্ঞান এবং প্রাকৃতিক পণ্য রসায়নে উন্নত গবেষণা পরিচালনা করেছেন এবং তার সন্ধানের জন্য ৫৫ টি পেটেন্ট নিয়েছেন।[২]

তিনি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ভারতীয় পুরস্কার শান্তি স্বরূপ ভাটনাগর পুরস্কার সহ একাধিক সম্মান প্রাপক।[৩] ২০০৮ সালে ভারত সরকার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে তাঁর অবদানের জন্য তাঁকে ভারতের তৃতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান পদ্মভূষণ এ ভূষিত করে। [৪]

জীবনী[সম্পাদনা]

সুখ দেবের জন্ম ১৭ জুন ১৯২৩[৩] সালে চকওয়াল এ। এটি তখনকার ব্রিটিশ ভারতপাঞ্জাব প্রদেশ এ অবস্থিত ছিল। তাঁর পিতা হরি চাঁদ লালা এবং মাতা মায়া ভান্তি।[৫][৬] তিনি ১৯৪৩ সালে পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয় এর অন্তর্গত লাহোরের দয়ানন্দ অ্যাংলো বৈদিক কলেজ থেকে অনার্স নিয়ে স্নাতক এবং ১৯৪৫ সালে একই প্রতিষ্ঠান থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি (এমএসসি) অর্জন করেন। [২] এরপরে তিনি ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্স, বেঙ্গালোরে (আইআইএসসি) গবেষণা সহযোগী হিসাবে যোগদান করেন। দেশ ভাগ এর পরে ভারতে পাড়ি জমান। আইআইএসসি-তে প্রখ্যাত প্রাকৃতিক পণ্য রসায়নবিদ প্রফুল্ল চন্দ্র গুহের অধীনে পড়াশোনা করেন এবং ১৯৪৮ সালে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। [৬] ডক্টরেট করার পরে তিনি ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি তে জন ডি. রবার্টস এর সাথে পোস্ট ডক্টরাল গবেষণা পরিচালনা করেন।[৬]

১৯৫১ থেকে ১৯৫৩ সাল পর্যন্ত তিনি আইআইএসসি-র সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ছিলেন। ১৯৫৩ থেকে ১৯৫৯ সাল পর্যন্ত সেখানে জৈব রসায়নে লেকচারার হিসাবে যুক্ত ছিলেন। এলিয়াস জেমস কোরির অধীনে ১৯৫৭-৫৮ সালে ইলিনয় ইউনিভার্সিটি অফ উর্বানা-চ্যাম্পেইন এ একটি সংক্ষিপ্ত যোগদান সহ গবেষণা সহযোগী হিসাবে যুক্ত ছিলেন।[৬] ১৯৬০ সালে আইআইএসসি থেকে ডিএসসি ডিগ্রি অর্জনের পরে তিনি একই বছর জৈব রসায়ন (প্রাকৃতিক পণ্য) বিভাগের প্রধান (সহকারী পরিচালক) হিসাবে পুনের জাতীয় রাসায়নিক পরীক্ষাগার এ যোগদান করেন। একই বছর জৈব রসায়ন (প্রাকৃতিক পণ্য) বিভাগের প্রধান (সহকারী পরিচালক) হিসাবে এবং ১৯৬৮ সালে উপ-পরিচালক পদে পদোন্নতি সহ ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত সেখানেই তিনি অবস্থান করেছিলেন। [৬] ১৯৭৪ সালে তিনি নান্দেসারি-তে মাল্টি-কেম গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক নিযুক্ত হয়ে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত সেখানে কাজ করেছিলেন।[৫][৬] ১৯৮৯ সালে তিনি নয়াদিল্লির ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি আইএনএসএ এস. এন. বোস গবেষণা অধ্যাপক এবং সেখান থেকে ১৯৯৪ সালে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় এর ডা. বি. আর. আম্বেদকর বায়োমেডিকাল রিসার্চের একজন পরিদর্শন অধ্যাপক হিসাবে যুক্ত হন।[২][৬]

উত্তরাধিকার[সম্পাদনা]

সুখ দেব টার্পেনয়েডস এর গবেষণায় জড়িত ছিলেন এবং সেগুলির বেশিরভাগের কাঠামোগত বর্ণনায় তাঁর অবদান রয়েছে বলে জানা যায়। এই অনুসন্ধান চলাকালীনই তিনি সেসকিউ এবং ডাইটার্পেনয়েড এ নতুন ধরনের কাঠামো আবিষ্কার করেছিলেন। [৩] তাঁর গবেষণার ভিত্তিতে তিনি দুটি নিয়মের প্রস্তাব করেছিলেন: পরম স্টেরিওকেমিস্ট্রি জৈব-জেনেটিক নিয়ম এবং সেই বহিরাগত জৈব পদার্থের বহিরাগত গৌণ বিপাক করার ঝোঁক থাকে।[৫] তিনি লাক্ষা, টারপেনটাইন, সিডরাস দেওদারা (দেবদারু) এবং ভারতীয় ওষধি গাছ যেমন গুগুলু কমিফোরা উইঘটির উপর এইচএসআই গবেষণার অংশকে কেন্দ্রীভূত করেছিলেন। এর মধ্যে শেষোক্তটির ফলে গুগলস্টেরন এর বিকাশ ঘটেছিল। এটি একটি স্টেরয়েড যা কোলেস্টেরল - হ্রাস করার জন্য দায়ী এবং যার পুষ্টিমূল্য রয়েছে।[২] তাঁর গবেষণাগুলির মধ্যে ৫৫ টি পেটেন্ট অর্জন করেছে এবং তাঁর কাজের মধ্যে থেকে ২৯০ টিরও বেশি বৈজ্ঞানিক নিবন্ধে নথিভুক্ত করা হয়েছে। তিনি প্রাইম আয়ুর্বেদিক প্ল্যান্ট ড্রাগস সহ ১০ টি বই প্রকাশ করেছেন। তাঁর ২০০৬ এর একটি প্রকাশনা আয়ুর্বেদ এ প্রাচীন ও আধুনিক ঐতিহ্যের অন্বেষণ করা হয়েছে। [৭] তিনি ৯২ জন গবেষকের পরামর্শদাতা ছিলেন [৮] যাঁদের মধ্যে অনেক উল্লেখযোগ্য বিজ্ঞানীও রয়েছেন।[৯][১০]

আরো দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "A Tribute"। ARKAT USA। ২০১৬। সংগ্রহের তারিখ ২১ জুন ২০১৬ 
  2. "Citation" (PDF)। Indian Institute of Technology, Delhi। ২০১৬। সংগ্রহের তারিখ ২১ জুন ২০১৬ 
  3. "A Brief Profile of the Awardee"। Council of Scientific and Industrial Research। ২০১৬। সংগ্রহের তারিখ ২১ জুন ২০১৬ 
  4. "Padma Awards" (PDF)। Ministry of Home Affairs, Government of India। ২০১৬। সংগ্রহের তারিখ ৩ জানুয়ারি ২০১৬ 
  5. Vishwakarma Singh; A. Srikrishna (জানুয়ারি ২০০৩)। "A Tribute to Prof. Sukh Dev"Arkivoc2003 (3): 1–7। ডিওআই:10.3998/ark.5550190.0004.301অবাধে প্রবেশযোগ্য 
  6. Sunil K. Talapatra (অক্টোবর–ডিসেম্বর ১৯৯৮)। "Journal of the Indian Chemical Society: Professor Sukh Dev 75th Birthday Commemorative Issue"। Journal of the Indian Chemical Society75 (10–12): 1–3। 
  7. Sukh Dev (জানুয়ারি ২০০৬)। Prime Ayurvedic Plant Drugs। Anshan। আইএসবিএন 978-1-904798-44-6 
  8. "Pioneering chemist Sukh Dev to be felicitated"। Times of India। ১৯ জানুয়ারি ২০১২। সংগ্রহের তারিখ ২১ জুন ২০১৬ 
  9. "Vishwakarma Singh F.N.A"। IITB। ২০১৬। সংগ্রহের তারিখ ২১ জুন ২০১৬ 
  10. "Dr. S. P. Acharya"। Acharya Group। ২০১৬। ২৭ জুন ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২১ জুন ২০১৬