শুক্তিবাক্য

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

প্যানগ্রাম বা শুক্তিবাক্য হল এমন একটি বাক্য যেখানে বর্ণমালার সবগুলো বর্ণ অন্তত একবার করে আছে। ফন্ট কিংবা কী-বোর্ড ঠিক আছে কিনা তা পরীক্ষা করার জন্য প্যানগ্রাম ব্যবহৃত হয়। যেমনঃ ইংরেজি "The quick brown fox jumps over the lazy dog" বাক্যটিতে ইংরেজি বর্ণমালার ২৬ টি বর্ণই কমপক্ষে একবার করে আছে। বাক্যটি কীবোর্ডে টাইপ করতে গেলে ইংরেজি বর্ণমালার প্রত্যেকটি বর্ণের বাটন প্রেস করতে হবে।

বাংলা শুক্তি[সম্পাদনা]

বাংলায় প্যানগ্রাম তৈরির প্রচেষ্টা তেমন একটা পরিলক্ষিত হয়নি। প্রথমবারের মতো এ প্রচেষ্টা দেখা যায় ১৯৯৩ সালে, পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি, কলকাতা থেকে প্রকাশিত 'প্রসঙ্গ বাংলাভাষা' বইয়ে ভারতীয় ভাষাবিদ মনোজকুমার দ. গিরিশের লেখা 'বাংলা ইঞ্জিনিয়ারিং বর্ণমালা' প্রবন্ধে।

বিষণ্ণ ঔদাসীন্যে ঊষাবৌদি বাংলাভাষায় প্রচলিত ঈশপের নিখুঁত গল্পটির অর্ধেক বলতেই ঋতু ভুঁইঞা আর ঐন্দ্রিলা দারুণ হৈ-হৈ করে উঠল—ওঃ, ব্যাস্ এবার থামো বুঝেছি বড্ডো পুরানো ঢঙের কেমন এক গল্প যার নীতি বাক্য হল--"মূঢ় আড়ম্বর ও আত্মশ্লাঘার ফল জীবনে বিঘ্ন ও বৃহৎ ক্ষতি"—তাই না, এ্যাঁ?

আন্তর্জাল থেকে পাওয়া ব্লগার জিকোর তৈরি একটি বাংলা প্যানগ্রাম যেখানে বাংলা ৫০টি বর্ণই বিদ্যমান

বর্ষামুখর দিন শেষে, ঊর্দ্ধপানে চেয়ে যখন আষাঢ়ে গল্প শোনাতে বসে ওসমান ভুঁইঞা, ঈষান কোণে তখন অন্ধকার মেঘের আড়ম্বর, সবুজে ঋদ্ধ বনভূমির নির্জনতা চিরে থেকে থেকে ঐরাবতের ডাক, মাটির উপর শুকনো পাতা ঝরে পড়ে ঔদাসীন্যে, এবং তারই ফাঁকে জমে থাকা ঢের পুরোনো গভীর দুঃখ হঠাৎ যেন বৃষ্টিতে ধুয়ে মুছে ধূসর জীবনে রঙধনু এনে দেয়।

আন্তর্জাতিক বাংলা ভাষা ও সাহিত্য পরিষদ কর্তৃক সংগৃহীত ও কিছুটা সংস্কারকৃত আরেকটি প্যানগ্রাম যা মূলত সাধুভাষায় রচিত-

মহারাজ ঊষাকালে বৃহৎ ঐরাবতে রাজপথের অর্ধেক প্রদক্ষিণ করতঃ হঠাত্‍ উক্তি করিলেন, “এই ঢোল‌ পাখোয়াজ, শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের ঝংকার ও সৌরভ মন্দ্রিত আড়ম্বরপূর্ন রঙিন জীবনের ছত্রতলে যে বিষণ্ণ দারিদ্র তাহা কি ঈষৎ ঔদাসীন্য, অপ্রচলিত বৈদেশিক নীতি নাকি বারভুঁইঞার সহিত পুরাণো এবং আত্মঘাতী ডামাডোলের ফসল?”

মূল অনুচ্ছেদে ঢ়,, ইত্যাদি বর্ণ অনুপস্থিত থাকায় তা একটি লিপোগ্রাম ছিলো।

শুক্তি সাহিত্য[সম্পাদনা]

শ্যামল চন্দ্র দাসের লেখা একটি প্যানগ্রাম কবিতা। [১][২] মূল কবিতাটিতে বর্ণটি অনুপস্থিত ছিলো কিন্তু পরবর্তীতে সাকিব নূর আশরাফ সেখানে বর্ণটি যুক্ত করেন।

হৃদয়ের চঞ্চলতা বন্ধে ব্রতী হলে

জীবন পরিপূর্ণ হবে নানা রঙের ফুলে।
কুঞ্ঝটিকা প্রভঞ্জন শঙ্কার কারণ
লণ্ডভণ্ড করে যায় ধরার অঙ্গন।
ক্ষিপ্ত হলে সাঙ্গ হবে বিজ্ঞজনে বলে
শান্ত হলে এ ব্রহ্মাণ্ডে বাঞ্ছিতফল মেলে।
আষাঢ়ে ঈশান কোনে হঠাৎ ঝড় উঠে
গগন মেঘেতে ঢাকে বৃষ্টি নামে মাঠে
ঊষার আকাশে নামে সন্ধ্যার ছায়া
ঐ দেখো থেমে গেছে পারাপারে খেয়া।
শরৎ ঋতুতে চাঁদ আলোয় অংশুমান
সুখ দুঃখ পাশা পাশি সহ অবস্থান।
যে জলেতে ঈশ্বর তৃষ্ণা মেটায়
সেই জলেতে জীবকুলে বিনাশ ঘটায়।
রোগ যদি দেহ ছেড়ে মনে গিয়ে ধরে
ঔষধের সাধ্য কি বা তারে সুস্থ করে?

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "এক সাথে সব বাংলা অক্ষর ও যুক্তাক্ষর অনুশীলন | blog.bdnews24.com - pioneer blog for citizen journalism in bangladesh"blog.bdnews24.com। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০৯-১৪ 
  2. "Daftar pangram - Wikiwand"www.wikiwand.com। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০৯-১৪