শিল্পসংক্রান্ত প্রকৌশল

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

শিল্পসংক্রান্ত প্রকৌশল হল প্রকৌশলবিদ্যার একটি শাখা, যেখানে জনবল, অর্থ, জ্ঞান, সরঞ্জাম, শক্তি ও উপকরণের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করে কোনো শিল্পকারখানার উৎপাদন, কাঠামো বা সংগঠন সম্পর্কে আলোকপাত করে থাকে।[১]

শিল্পসংক্রান্ত প্রকৌশলীরা তাদের গাণিতিক, শারীরিক ও সমাজবিজ্ঞান সংক্রান্ত বিশেষ জ্ঞান ব্যবহার করে থেকে প্রকৌশল ক্ষেত্রে। যার দরুন তারা কোনো কারখানায় কি পরিমাণ দ্রব্য উৎপন্ন হতে পারে সেটি নির্ধারণ, মূল্যায়ন ও ভবিষ্যদ্বাণী করতে পারে।[১] ফলশ্রুতিতে তারা নতুন কাঠামো ও পদ্ধতির সৃষ্টি করতে পারে। যার দরুন শ্রমিক, যন্ত্র ও উৎপাদিত বস্তুর মান ও উৎপাদন বৃদ্ধি পায়।[২][৩] শিল্পসংক্রান্ত প্রকৌশল উৎপাদন গবেষণা, কাঠামো প্রকৌশল, উৎপাদন প্রকৌশল, কাঠামো বিদ্যা, আর্থিক প্রকৌশল, কর্মদক্ষতা অথবা মানব সংক্রান্ত প্রকৌশল, সুরক্ষা প্রকৌশল ছাড়াও অন্যান্য বিষয়ের সাথে সম্পর্কযুক্ত।

উৎপাদন ব্যবস্থার সাথে সম্পর্কযুক্ত প্রকৌশল বিদ্যার এই শাখা। এটি উৎপাদন ব্যবস্থার সাথে সম্পর্কযুক্ত হলেও এটি পেশাগত প্রকৌশলের একটি অঙ্গ।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

উৎপত্তি[সম্পাদনা]

শিল্প বিপ্লব[সম্পাদনা]

এই বিষয়ে ইতিহাসবিদগণ একমত যে, শিপ্লবিপ্লবের পর শিল্পসংক্রান্ত প্রকৌশল যাত্রা শুরু করে। ফ্লাইং শাটল, স্পিনিং জেনি ও বাষ্পীয় ইঞ্জিনের আগমনের দরুন তা কাপড়শিল্পে অবদান রাখে ও কাপড় উৎপাদন খরচ হ্রাস করতে অবদান রাখে। বাষ্পীয় ইঞ্জিন আসার দরুন প্রথমবারের মত একটি জায়গায় অধিকতর উৎপাদন সম্পন্ন হয়। এসব জিনিস আবিষ্কারের ফলে জন্ম নেয় উৎপাদন পদ্ধতির ধারণা।[৪]

শ্রমে গুরুত্বারোপ[সম্পাদনা]

ওয়াটের বাষ্পীয় ইঞ্জিন (মাদ্রিদ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়)

অ্যাডাম স্মিথের দ্য ওয়েলথ অব ন্যাশন্স প্রবন্ধে শ্রমবিভাগ ও পুঁজিবাদের "অদৃশ্য হাত" এর ধারণা শিল্প বিপ্লবের বিভিন্ন প্রযুক্তি আবিষ্কারককে কারখানা কাঠামো সৃষ্টি এবং এর প্রয়োগ ঘটাতে উদ্বুদ্ধ করে। জেমস ওয়াট ও ম্যাথ বৌল্টনের প্রচেষ্টার ফলে দুনিয়ার প্রথম বৃহৎ মেশিন উৎপাদন ব্যবস্থার সূত্রপাত ঘটে, যেখানে খরচ কমানোর পদ্ধতি, বর্জ্য কমানো ও উৎপাদন বাড়ানোর পদ্ধতি, কারিগরদের দক্ষতা বাড়ানোর প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান আবির্ভূত হয়। চার্লস ব্যাবেজ শিল্পসংক্রান্ত প্রকৌশলের সাথে যুক্ত ছিলেন। তিনি তার অন দ্য ইকোনমি অব মেশিনারি অ্যান্ড ম্যানুফ্যাকচারার্স গ্রন্থটি অষ্টাদশ শতাব্দীর শুরু দিকে ইংল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্রের কারখানা ভ্রমণ থেকে লব্ধ অভিজ্ঞতার আলোকে রচনা করেছিলেন। বইটিতে কোন নির্দিষ্ট কাজ সংঘটনের জন্য প্রয়োজনীয় সময়, কাজকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ভাগে ভাগ করার দরুন সৃষ্ট প্রভাব ও উৎপাদন ব্যবস্থায় একই কাজ বার বার করার সুবিধা সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে।[৪]

বিনিময়যোগ্য অংশ[সম্পাদনা]

এলি হুইটনি ও সিমিওন নর্থ মার্কিন সরকারের জন্য নির্মিত বন্দুক ও পিস্তলের বিনিময়যোগ্য অংশ সম্পর্কে সম্ভাব্যতা প্রমাণ করেন। এই ধারণানুযায়ী এসব বস্তুর প্রতিটা প্রয়োজনীয় অংশই প্রচুর পরিমাণে উৎপাদন করা হয় যেকোন সম্পন্ন বস্তুতে এর অবাধ ব্যবহারের জন্য। এই কাজের দরুন বিশেষ কাজ করা শ্রমিকদের দক্ষতার প্রয়োজন হ্রাস পায়। ফলশ্রুতিতে সৃষ্টি হয় নতুন এক শিল্প পরিবেশের, যা নিয়ে পরবর্তীকালে গবেষণা করা হয়।[৪]

অগ্রদূত[সম্পাদনা]

ফ্রেডারিক উইন্সলো টেলর (১৮৫৬ – ১৯১৫) শিল্পসংক্রান্ত প্রকৌশলের জনক হিসেবে পরিগণিত হয়ে থাকেন। তিনি স্টিভেন্স বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যন্ত্রকৌশলে ডিগ্রি লাভ করেছিলেন। তার আবিষ্কারের জন্য তিনি কিছু পেটেন্ট লাভ করেছিলেন। ঊনবিংশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে তার রচিত শপ ম্যানেজমেন্ট এবং দ্য প্রিন্সিপালস অব সাইন্টিফিক ম্যানেজমেন্ট বই দুইটি শিল্পসংক্রান্ত প্রকৌশলের সূচনা বলে পরিগণিত হয়ে থাকে।[৫] তার মতানুসারে কর্মপদ্ধতির উন্নয়ন, কাজের মানের উন্নয়ন, কোন কিছু তৈরিতে প্রয়োজনীয় সময়কালের ভিত্তিতে কর্মদক্ষতা বাড়ানো সম্ভব। বৈজ্ঞানিক কর্মপদ্ধতিতে দৃঢ় বিশ্বাস রেখে টেলরের "সময় বিদ্যা" জড়িত উচ্চ স্তরের স্পষ্টতা এবং কোন কাজ করতে প্রয়োজনীয় সময় গণনা করার সাথে।[৪]

ফ্রাঙ্ক গিলব্রেথ ( ১৮৬৮– ১৯২৪) এবং তার স্ত্রী লিলিয়ান গিলব্রেথ (১৮৭৮ – ১৯৭২) অন্যান্য প্রকৌশলীদের সাথে শিল্পসংক্রান্ত প্রকৌশল আন্দোলনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। তাদের কাজ পারডু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল বিভাগে সংরক্ষিত আছে। তারা মানব চলাচলের উপাদানগুলোকে ১৮ টি প্রধান ভাগে ভাগ করেছিলেন, যেগুলো থেরব্লিগস নামে পরিচিত। তাদের এই কর্মকাণ্ড বিশ্লেষণকারীদের কাজ সম্পাদনে সময় জানা ব্যতিরেকে কাজ বিশ্লেষণ করার সুযোগ এনে দিয়েছিল। তাদের এই কাজ কর্ম ক্ষেত্রে মানব সংক্রান্ত বিষয় বা কর্মদক্ষতার প্রভাব সংক্রান্ত জ্ঞানের নতুন শাখার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিল।[৪]

১৯০৮ সালে পেনসিলভানিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি ঐচ্ছিক বিষয় হিসেবে শিল্পসংক্রান্ত প্রকৌশলকে অন্তর্ভুক্ত করেছিল। ১৯০৯ সালে হুগো ডিয়েমারের প্রচেষ্টায় বিষয়টা পূর্ণাঙ্গ বিষয় হিসেবে যাত্রা শুরু করে। ১৯৩৩ সালে কর্নেল ইউনিভার্সিটি প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে শিল্পসংক্রান্ত প্রকৌশলে ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করে।

১৯১২ সালে হেনরি লরেন্স গ্যান্ট গ্যান্ট তালিকার উন্নয়ন করেন সংগঠনের সাথে এর পারিপার্শ্বিক বিষয়ের সাথে সম্পর্ক নিয়ে আলোকপাত করেছে। পরবর্তীকালে ওয়ালেস ক্লার্ক তালিকাটির আরো উন্নয়ন করেন।

অ্যাসেম্বলি লাইনের উন্নয়নের মাধ্যমে হেনরি ফোর্ডের প্রতিষ্ঠানের উৎপাদনে ১৯১৩ সালে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসে। তিনি গাড়ির অ্যাসেম্বলি টাইমের পরিমাণ ৭০০ ঘণ্টা থেকে হ্রাস করে দেড় ঘণ্টায় আনেন। তিনি কল্যাণধর্মী পুঁজিবাদী অর্থনীতির অগ্রদূত ছিলেন। তিনি তার অধীনে কাজ করা কর্মীদের আর্থিক প্রণোদনা প্রদানের মাধ্যমে তার প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন বাড়াতে পেরেছিলেন।

সর্বাঙ্গীণ দক্ষতা ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি (সমগ্র দক্ষতা ব্যবস্থাপজা বা টিকিউএম) চল্লিশের দশকে যাত্রা শুরু করেছিল। এটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যুদ্ধবিধ্বস্ত জাপানের উন্নয়নে অবদান রেখেছিল।

১৯৪৮ সালে মার্কিন শিল্পসংক্রান্ত প্রকৌশলী প্রতিষ্ঠান যাত্রা শুরু করে। এফ. ডব্লিউ. টেলর এবং গিলবার্থদের শুরুর দিকের কর্মকাণ্ড সংক্রান্ত পেপার যখন উপস্থাপিত হত, তখন মার্কিন যন্ত্রকৌশলী সমাজকে উৎপাদন ব্যবস্থায় উৎপাদক যন্ত্র ও উৎপাদন ব্যবস্থাপনার প্রভাবের বিষয়টা আকৃষ্ট করেছিল। হেনরি আর. টাওনের (১৮৪৪–১৯২৪) দ্য ইঞ্জিনিয়ার অ্যাজ অ্যান ইকোনমিস্ট পেপারটি তাদের শিল্পসংক্রান্ত প্রকৌশলের ব্যাপারে সবচেয়ে বেশি আকৃষ্ট করেছিল।[৬]

আধুনিক যুগে শিল্পসংক্রান্ত প্রকৌশল[সম্পাদনা]

১৯৬০ সাল থেকে ১৯৭৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে কাঁচামাল সরবরাহ প্রক্রিয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণে ব্যাপক উন্নতি ঘটে। প্রয়োজনীয় কাঁচামাল পরিকল্পনায় সংগঠনের সময়সংক্রান্ত বিষয়ে (উদ্ভাবন, উৎপাদন, মিশ্রিত করা, পরিবহন ইত্যাদি) গুরুত্বারোপ করা হয়। ইসরাইলি বিজ্ঞানী জ্যাকব রুবিনোভিৎজ উৎপাদন ব্যবস্থায় আইএআই ও ইসরাইলেত কন্ট্রোল ডাটার সিএমএমএস নামের এক কম্পিউটার প্রোগ্রামের উন্নয়ন ঘটান যা পরবর্তীতে দক্ষিণ আফ্রিকা এবং বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে।

সত্তরের দশকে কাইজেন এবং কানবানের মত জাপানি ব্যবস্থাপনা তত্ত্বের প্রবেশ ঘটে। এসব তত্ত্বে উচ্চমান এবং বিপুল উৎপাদনের দিকে আলোকপায় করা হয়েছিল। এছাড়া, এসব তত্ত্বে পণ্যের মান, উৎপাদন সময় এবং সামাজিক অবস্থার পরিবর্তন — এই বিষয়সংক্রান্ত ধারণার উন্নয়ন সাধিত হয়েছিল। পশ্চিমা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো কাইজেনের গুরুত্ব বুঝতে পেরেছিল এবং তাদের নিজস্ব চলমান উন্নয়ন প্রক্রিয়া হাতে নিয়েছিল।

নব্বইয়ের দশকে বৈশ্বিক শিল্পের বিশ্বায়নের প্প্র কাঁচামাল সরবরাহ এবং ক্রেতা সংক্রান্ত ব্যবসায়িক পরিকল্পনার দিকে গুরুত্বারোপ করা হয়। ১৯৮৫ সালে ইসরাইলি বিজ্ঞানী ইলিয়াহু এম. গোল্ডরাটের উন্নয়নকৃত "সীমাবদ্ধতা তত্ত্ব" এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

প্রকৌশলবিদ্যার অন্যান্য শাখার সাথে শিল্পসংক্রান্ত প্রকৌশলের তুলনা[সম্পাদনা]

প্রকৌশলবিদ্যা ঐতিহ্যগতভাবে জ্ঞানের বিশাল অংশ অধিকার করে আছে। প্রকৌশলবিদ্যা বুঝতে হলে এর অন্তঃস্থ জ্ঞান হৃদয়াঙ্গম করতে হবে। যদি কেউ প্রকৌশলবিদ্যার অন্তঃস্থ জ্ঞান হৃদয়াঙ্গম করতে সক্ষম হয়, তবে সে প্রকৌশলবিদ্যায় দক্ষ হয়ে উঠতে পারবে।

শিল্পসংক্রান্ত প্রকৌশল এটি থেকে আলাদা। উৎপাদন ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে ভালো ধারণা না থাকলে প্রকৌশবিদ্যার এই শাখায় দক্ষ হওয়া অসম্ভব। আর, শিল্পসংক্রান্ত প্রকৌশলের কোনো একটি বিষয় সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা না থাকলে অন্যান্য ধারণা হৃদয়াঙ্গম করতে কষ্ট হয়। প্রকৌশলবিদ্যার অন্যান্য শাখায় পুরো বিষয় সম্পর্কে হালকা ধারণা নিয়ে জ্ঞানার্জন আরম্ভ করলেও শিল্পসংক্রান্ত প্রকৌশলে পুরো বিষয় সম্পর্কে গভীর ধারণা নেবার পর কোন অংশের কি কাজ, সে সম্পর্কে জ্ঞান আহরণ করে।

শিল্পসংক্রান্ত প্রকৌশলে উৎপাদন ব্যবস্থায় কর্মদক্ষতা, প্রযুক্তি ও অন্যান্য বিষয়ের প্রভাব নিয়ে আলোচনা করে থাকে।[৩] অন্যদিকে প্রকৌশলবিদ্যার অন্যান্য শাখায় কোনো কিছুর নকশা তৈরির কোনো কিছু উদ্ভাবনের বিষয় নিয়ে বিশদ আলোচনা করে।

"শিল্পসংক্রান্ত প্রকৌশলীরা কর্মদক্ষতা, তথ্য, বস্তু, বস্তু তৈরিতে প্রয়োজনীয় সামগ্রী ও কার্যকর সংগঠন নিয়ে জ্ঞান আহরণ করেন। উপরন্তু, পণ্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে শিল্পসংক্রান্ত প্রকৌশলীরা প্রতিটি ক্ষেত্রে যেমন, হাসপাতাল, যোগাযোগ, ই-কমার্স, বিনোদন, জনস্বার্থ, অর্থ, খাদ্য, ওষুধ, বিদ্যুৎ, ক্রীড়া, বীমা, বিপণন, হিসাবরক্ষণ, ব্যাংকিং, ভ্রমণ, পরিবহন ক্ষেত্রে কাজ করে থাকেন ও পরামর্শ প্রদান করেন।"[৭]

"শিল্পসংক্রান্ত প্রকৌশল হল প্রকৌশলবিদ্যার এমন শাখা যেখানে মানবসম্পদ নিয়ে আলোচনা করা ছাড়াও উৎপাদন ব্যবস্থার সাথে সম্পৃক্ত সকল ধরনের ব্যক্তি যেমন প্রকৌশলী, বিপণনকারী, ব্যবস্থাপকসহ সবাইকে নিয়ে বিশদ আলোচনা করে থাকে। শিল্পসংক্রান্ত প্রকৌশলীদের অন্যতম মূল লক্ষ্য হল কারখানায় শ্রমিকদের কাজের পরিবেশ বদলানো – শ্রমিকদের বদলানো নয় কিন্তু কাজের পরিবেশ বদলানো।"[৭]

"শিল্পসংক্রান্ত প্রকৌশলীসহ সব ধরনের প্রকৌশলীরা ক্যালকুলাস ও ব্যবকলনীয় সমীকরণের মাধ্যমে গাণিতিক সমস্যার সমাধান করে থাকেন। শিল্পসংক্রান্ত প্রকৌশল একটি আলাদা কেননা এখানে বিচ্ছিন্ন অধ্রুব গণিতকে ভিত্তি করে গড়ে উঠলেও প্রকৌশলবিদ্যার অন্যান্য ক্ষেত্রে অবিচ্ছিন্ন অধ্রুব গণিতকে ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। এখানে রৈখিক বীজগণিত ও প্রভেদ সমীকরণে গুরুত্ব দেওয়া হলেও ব্যবকলনীয় সমীকরণ ব্যবহারে নিরুৎসাহিত করা হয় সেটি প্রকৌশলবিদ্যার অন্যান্য শাখার অপরিহার্য অংশ। প্রকৌশলবিদ্যার অন্যান্য শাখার সাথে থাকা এই পার্থক্য উৎপাদনের পরিমাণ নিরূপণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং উৎপাদন ক্রম, ব্যাচের সময়তালিকা, হ্যান্ডলিং ইউনিটে উৎপাদিত বস্তুর সংখ্যা নির্ণয়, উৎপাদন পরিকল্পনা সাজানো ইত্যাদিতেও অবদান রাখে। শিল্পসংক্রান্ত প্রকৌশলীরা বিশেষভাবে উৎপাদন ব্যবস্থার সাথে সংযুক্ত স্বতন্ত্র উপাদান দ্বারা গঠিত কাঠামো নিয়ে কাজ করে থাকে।"[৭]

ব্যুৎপত্তি[সম্পাদনা]

পণ্য উৎপাদনের দিকে গুরুত্ব দেওয়া হলেও "শিল্পসংক্রান্ত প্রকৌশল" শব্দে "শিল্প" এর ব্যবহার প্রকৌশলবিদ্যার ধারণাকে ভুলপথে পরিচালনা করতে পারে। শিল্পসংক্রান্ত প্রকৌশল গড়ে উঠেছে প্রক্রিয়া, পদ্ধতি বা সংগঠনের সুশৃঙ্খল ও গাণিতিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা করে থাকে। প্রকৃতপক্ষে, "শিল্পসংক্রান্ত প্রকৌশল" শব্দে "শিল্পসংক্রান্ত" শব্দের ব্যবহার বৃহৎ অর্থে "শিল্প" কেই নির্দেশ করে।[৮] মানুষজন "শিল্পসংক্রান্ত" শব্দটি বৃহৎ অর্থে ব্যবহার করার জন্য পরিবর্তন করে নিয়েছে। যেমন, শিল্পসংক্রান্ত ও উৎপাদন প্রকৌশল, শিল্পসংক্রান্ত ও ব্যবস্থাপনা প্রকৌশল, শিল্পসংক্রান্ত প্রকৌশল ও ক্রিয়াপ্রণালী গবেষণা এবং শিল্পসংক্রান্ত প্রকৌশল ও ব্যবস্থাপনা।

উপশাখা[সম্পাদনা]

শিল্পসংক্রান্ত প্রকৌশলের অনেক উপশাখা আছে। এসবের মাঝে সবচেয়ে আলোচিতগুলোর তালিকা নিচে দেওয়া হয়েছে। শিল্পসংক্রান্ত প্রকৌশলীর এসব উপশাখায় দক্ষতা অর্জন করলেও অনেকে বিপণন ব্যবস্থা ও সরবরাহ এবং কারখানার পরিবেশ কৌশল ও শক্তি ব্যবস্থাপনা নিয়েও কাজ করে থাকেন।[৯][১০]

কারখানার পরিবেশ কৌশল ও শক্তি ব্যবস্থাপনা

আর্থিক কৌশল

কর্মদক্ষতা ও নিরাপত্তা কৌশল

তথ্য ধারা প্রকৌশল ও ব্যবস্থাপনা

উৎপাদন প্রকৌশল

ক্রিয়া প্রণালী কৌশল ও ব্যবস্থাপনা

ক্রিয়া প্রণালী গবেষণা ও নির্ধারণ

নীতি প্রণয়ন

উৎপাদন প্রকৌশল

মান ও বিশ্বস্ততা কৌশল

সরবরাহ শৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা ও পণ্য সরবরাহ বিদ্যা

কার্যপদ্ধতি গবেষণা

কার্যপদ্ধতি কৌশল

কার্যপদ্ধতি পুনরাবৃত্তি

সম্পর্কিত শাখা

সংগঠন উন্নয়ন ও পরিবর্তন ব্যবস্থাপনা

আচরণগত অর্থনীতি

শিক্ষা[সম্পাদনা]

শিল্পসংক্রান্ত প্রকৌশলে মানুষের সাথে যন্ত্র, বস্তু, তথ্য, প্রক্রিয়া, কারখানার পরিবেশ ও কারখানার প্রযুক্তিগত কাঠামো নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে উৎপাদন ব্যবস্থার উন্নতির দিকে নজর দেওয়া হয়।[১১]

বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শিল্পসংক্রান্ত প্রকৌশলের উপর স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও ডক্টরেট পর্যায়ে ডিগ্রি প্রদান করে থাকে।

স্নাতক কার্যক্রম[সম্পাদনা]

২০১৮ ইউ. এস. নিউজ স্নাতক র‍্যাংকিং[১২]
বিশ্ববিদ্যালয় র‍্যাংক

জর্জিয়া ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজি
মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়
ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলি
পারডু বিশ্ববিদ্যালয়
স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়
ইউনিভার্সিটি অব উইসকনসিন, ম্যাডিসন
পেনসিলভানিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি
ভার্জিনিয়া টেক
ম্যাসাচুসেটস ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজি
কর্নেল ইউনিভার্সিটি ১০
নর্থওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয় ১০

যুক্তরাষ্ট্রে শিল্পসংক্রান্ত স্নাতক ডিগ্রি দেওয়া হয় ব্যাচেলর অব সাইন্স (বি. এস.) এবং ব্যাচেলর অব সাইন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (বি. এস. ই.) নামে।শিল্পসংক্রান্ত প্রকোশলকে শিল্পসংক্রান্ত ও ক্রিয়াপ্রণালী কৌশল এবং শিল্পসংক্রান্ত ও প্রক্রিয়া কৌশল নামেও ডাকা হয়। ঐতিহ্যগতভাবে এর পাঠদান কার্যক্রমে গণিত ও বিজ্ঞানে গুরুত্ব দেওয়া হয় এবং রসায়ন, পদার্থবিজ্ঞান, বলবিদ্যা (যেমন, স্থিতিবিদ্যা, কাইনম্যাটিকস, ডায়নামিকস), বস্তু বিজ্ঞান, কম্পিউটার বিজ্ঞান, ইলেকট্রনিকস/বর্তনী, প্রকৌশল সংশ্লিষ্ট নকশা, এবং প্রকৌশলীয় গণিতের ধারাও (যেমন, ক্যালকুলাস, রৈখিক বীজগণিত, অন্তরক সমীকরণ, পরিসংখ্যান) পাঠদান কার্যক্রমের অন্তর্গত। যেকোনো প্রকৌশল বিষয়ক স্নাতক কার্যক্রমে এসব বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়ে থাকে। এছাড়া, অন্যান্য এক বা দুইটি দুইটি অতিরিক্ত বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়ে থাকে যা শিক্ষার্থীদের প্রকৌশল হিসেবে কাজ করার অনুমতিপত্র লাভের পরীক্ষায় সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

শিল্পসংক্রান্ত প্রকৌশলের পাঠদান কার্যক্রমে উৎপাদন পরিমাণ গাণিতিকভাবে অনুমানকরণ, ফলিত সম্ভাবনা, সম্ভাবনার সাহায্যে কাঠামোদান, পরীক্ষণ পরিকল্পনা, পরিসংখ্যানিক প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ, কম্পিউটারের সাহায্যে প্রক্রিয়ার পুনরাবৃত্তি, উৎপাদন প্রকৌশল, কর্মদক্ষতা/নিরাপত্তা কৌশল এবং প্রকৌশলীয় অর্থনীতি বিষয়েও পাঠদান করা হয়ে থাকে। শিল্পসংক্রান্ত প্রকৌশলের ঐচ্ছিক বিষয়গুলোতে উৎপাদন, বিপণন ব্যবস্থা ও সরবরাহ, বিশ্লেষণবিদ্যা ও মেশিন লার্নিং, উৎপাদন প্রক্রিয়া, কর্মদক্ষতা ও প্রকৌশলীয় নকশা এবং সেবা ব্যবস্থা নিয়ে ধারণা প্রদান করা হয়ে থাকে।[১৩][১৪][১৫][১৬][১৭]

কিছু ব্যবসায় বিদ্যালয়ে শিল্পসংক্রান্ত প্রকৌশল বিষয়ে কম জোর দিয়ে পঠন কার্যক্রম চালালেও প্রকৌশল পঠন কার্যক্রমে সব দিকেই গুরুত্ব দেওয়া হয়। সব ধরনের প্রকৌশলবিদ্যার পঠন কার্যক্রমে প্রকৌশলীয় বিজ্ঞানে দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি, গণিত ও বিজ্ঞানে দৃঢ় ভিত্তি থাকার দিকে গুরুত্ব আরোপ করা হয়।

স্নাতক পাঠ্যক্রম[সম্পাদনা]

২০১৯ ইউ. এস. নিউজ স্নাতক র‍্যাংকিং[১৮]
বিশ্ববিদ্যালয় র‍্যাংক

জর্জিয়া ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজি
মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়
ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলি
নর্থওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়
কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়
পারডু বিশ্ববিদ্যালয়
ম্যাসাচুসেটস ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজি
পেনসিলভানিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি
ইউনিভার্সিটি অব উইসকনসিন, ম্যাডিসন
ভার্জিনিয়া টেক

শিল্পসংক্রান্ত প্রকৌশলে স্নাতকে পড়া বিষয়গুলোর সাথে স্নাতকোত্তর বিষয়ে পঠিত বিষয়গুলোর নাম সাধারণত একই হয়। শিল্পসংক্রান্ত প্রকৌশল বিষয়ের স্নাতকোত্তর পাঠদান কার্যক্রমে নিম্নলিখিত বিষয়ে বা নিম্নলিখিত বিষয়ের কাছাকাছি শিরোনামের বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়ে থাকে:

  • উৎপাদন কৌশল
  • বিশ্লেষণবিদ্যা ও মেশিন লার্নিং
  • কম্পিউটার সহায়তাকারী উৎপাদন ব্যবস্থা
  • প্রকৌশলীয় অর্থনীতি
  • আর্থিক কৌশল
  • মানব বিষয়ক প্রকৌশল ও কর্মদক্ষতা (নিরাপত্তা কৌশল)
  • লিন সিক্স সিগমা
  • ব্যবস্থাপনা বিজ্ঞান
  • বস্তু ব্যবস্থাপনা
  • প্রক্রিয়া ব্যবস্থাপনা
  • ক্রিয়াপ্রণালী গবেষণা ও আন্দাজকরণ কৌশল
  • পূর্বনির্ধারিত সময়ে পণ্য উৎপাদন ও শিল্পসংক্রান্ত প্রকৌশলে কম্পিউটারের ব্যবহার
  • পণ্য উন্নয়ন
  • উৎপাদন পরিকল্পনা ও নিয়ন্ত্রণ
  • উৎপাদন উন্নয়ন
  • প্রকল্প ব্যবস্থাপনা
  • পণ্যের নির্ভরযোগ্যতা কৌশল ও জীবনকাল পরীক্ষণ
  • রোবোটিকস
  • পরিসংখ্যানিক প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ বা মান নিয়ন্ত্রণ
  • সরবরাহ শৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা ও পণ্য সরবরাহ বিদ্যা
  • অগ্রসরমান প্রক্রিয়া ও নীতি পরিকল্পনা
  • প্রক্রিয়া পুনরাবৃত্তি ও সম্ভব্য প্রক্রিয়া
  • সময় ও ধারা গবেষণা
  • কর্মক্ষেত্রের সুবিধা ও কর্মক্ষেত্র পরিকল্পনা
  • মান পরিকল্পনা
  • প্রক্রিয়া বিশ্লেষণ ও কলাকৌশল

পাঠদানের তারতম্য[সম্পাদনা]

শিল্পসংক্রান্ত প্রকৌশল নিয়ে বিশ্বের নানা দেশে বহুবছর ধরে পাঠদান করা হলেও দেশভেদে বিষয়টির শিক্ষাদান ও গবেষণার কার্যক্রম ভিন্ন। উদাহরণস্বরূপ, তুরস্কে পাঠদান কার্যক্রমদ প্রযুক্তির দিকে জোর দেওয়া হলেও ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড ও যুক্তরাজ্যে পাঠদান কার্যক্রমে জোর দেওয়া হয় ব্যবস্থাপনার দিকে, প্রযুক্তির দিকে কম জোর দেওয়া হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ঘটনা বিশ্লেষণ ও দলবদ্ধভাবে সমস্যা সমাধানের দিকে জোর দেওয়া হয়।[১৯]

শিল্পসংক্রান্ত প্রকৌশলে কর্মরত প্রকৌশলীগণ[সম্পাদনা]

প্রচলিত ধারা অনুযায়ী, শিল্পসংক্রান্ত প্রকৌশলে কারখানার গঠনপ্রণালী পরিকল্পনা, উৎপাদন সমবেশ পরিকল্পনাসহ অন্যান্য উৎপাদন সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা করে থাকে। এবং বর্তমানে ন্যূনতম উৎপাদন ব্যবস্থায় শিল্পসংক্রান্ত প্রকৌশলীরা সময়, অর্থ, বস্তু, শক্তি ও অন্যান্য জিনিসের অপচয় কমানো নিয়ে কাজ করে থাকেন।

শিল্পসংক্রান্ত প্রকৌশলের চার্টকরণ, প্রক্রিয়া বর্ণনাকরণ, ওয়ার্কস্টেশন সমাবেশ নকশাকরণ, বিভিন্ন প্রক্রিয়া পরিচালনার পরিকল্পনাকরণ, দক্ষতা বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরমর্শপ্রদান, নতুন আর্থিক বা ব্যাংকের ঋণপ্রক্রিয়ার সমাধান পদ্ধতির উন্নয়ন, প্রবাহরেখা পরিচালনা, হাসপাতালে জরুরি কক্ষ স্থাপন বা ব্যবহার, পণ্য বা উৎপাদিত বস্তুর জটিল সরবরাহ ব্যবস্থা (যা সরবরাহ শৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা নামে পরিচিত) এমনকি ব্যাংক, হাসপাতাল বা বিনোদনমূলক পার্কে মানুষের সারি (বা বিন্যস্ত জনসমষ্টি) ছোটকরণেও ব্যবহৃত হয়।

আধুনিক শিল্পসংক্রান্ত প্রকৌশলীরা পূবনির্ধারিত সময়ে উৎপাদন, কম্পিউটারের সাহায্যে প্রক্রিয়ার পুনরাবৃত্তি (বিশেষভাবে স্বতন্ত্র ঘটনার পুনরাবৃত্তি), গাণিতিক আন্দাজকরণ, ধারা তত্ত্ব ইত্যাদির ক্ষেত্রে গাণিতিক যন্ত্রের সাহায্যে নকশাকরণ এবং প্রক্রিয়া বিশ্লেষণ, মূল্যায়ন ও আন্দাজকরণের ক্ষেত্রে কম্পিউটারের ব্যবহার নিয়ে কাজ করে থাকেন। শিল্পসংক্রান্ত প্রকৌশলীরা তাদের কার্যক্ষেত্রে তথ্যবিজ্ঞান ও মেশিন লার্নিং সংক্রান্ত যন্ত্র ব্যবহার করা ছাড়াও তাদেরকে তাদের কাজ সম্পন্ন করার জন্য সম্ভাব্যতা তত্ত্ব, রৈখিক বীজগণিত, পরিসংখ্যান ছাড়াও কম্পিউটার প্রোগ্রামিংয়ে দক্ষতা অর্জন করতে হয়, যা তাদের কর্মক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

আরো দেখুন[সম্পাদনা]

টীকা[সম্পাদনা]

  1. Salvendy, Gabriel. Handbook of Industrial Engineering. John Wiley & Sons, Inc; 3rd edition p. 5
  2. "What IEs Do"www.iienet2.org। সংগ্রহের তারিখ সেপ্টেম্বর ২৪, ২০১৫ 
  3. Lehrer, Robert। "The Nature of Industrial Engineering"। The Journal of Industrial Engineering5: 4। 
  4. Maynard & Zandin. Maynard's Industrial Engineering Handbook. McGraw Hill Professional 5th Edition. June 5, 2001. p. 1.4-1.6
  5. All about industrial engineering
  6. Engineer as Economist
  7. Savory, Paul। "DETAILS AND DESCRIPTION OF INDUSTRIAL ENGINEERING" 
  8. Darwish, H; van Dyk, L (২০১৬)। "The industrial engineering identity: from historic skills to modern values, duties, and roles"South African Journal of Industrial Engineering27 (3): 50–63। 
  9. "What is Industrial Engineering?"Wonderful Engineering 
  10. "Industrial Engineering" 
  11. Rahman, Chowdury; Uddin, Syed; Iqbal, Mohammad। "Importance of Human Factors in Industrial Engineering and Design"SEU Journal of Science and Engineering8 – Research Gate-এর মাধ্যমে। 
  12. "Best Undergraduate Industrial / Manufacturing Engineering Program Rankings"U.S. News & World Report। সংগ্রহের তারিখ মার্চ ২, ২০১৭ 
  13. "ISyE Undergraduate Courses"। Georgia Institute of Technology। সংগ্রহের তারিখ ২ মার্চ ২০১৭ 
  14. "Industrial Engineering and Operations Research (IND ENG)"। University of California, Berkeley। সংগ্রহের তারিখ ২ মার্চ ২০১৭ 
  15. "Courses"। University of Michigan, Ann Arbor। ৩ মার্চ ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২ মার্চ ২০১৭ 
  16. "Courses"। Northwestern University। সংগ্রহের তারিখ ২ মার্চ ২০১৭ 
  17. "ISE Electives"। University of Illinois at Urbana–Champaign। সংগ্রহের তারিখ ২ মার্চ ২০১৭ 
  18. "Best Industrial Engineering Programs"U.S. News & World Report। সংগ্রহের তারিখ মার্চ ২, ২০১৭ 
  19. Oanca, Alexandra। "What is Industrial Engineering and Why Should I Study It?" 

আরো পড়ুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]