বিষয়বস্তুতে চলুন

শহরিসবজ

শহরিসবজ
Шаҳрисабз
শহর
বামে: আক-সরাই প্রাসাদে আমির তেমুরের মূর্তি ও ঐতিহ্যবাহী যমজ ভবন , জাহাঙ্গীর সমাধিসৌধ, শাহরিসাবজ কোক-গুনবাজ মসজিদ, আক-সরাই প্রাসাদ থেকে শাহরিসাবজের প্যানোরামিক দৃশ্য।

ডানে: শাহরিসাবজ প্রাচীন চোরসু, শাহরিসাবজ প্রাচীর, শাহরিসাবজ মসজিদ

(সবগুলো উপর থেকে নিচে দেখানো হয়েছে)
লুয়া ত্রুটি মডিউল:অবস্থান_মানচিত্ এর 480 নং লাইনে: নির্দিষ্ট অবস্থান মানচিত্রের সংজ্ঞা খুঁজে পাওয়া যায়নি। "মডিউল:অবস্থান মানচিত্র/উপাত্ত/West Asia" বা "টেমপ্লেট:অবস্থান মানচিত্র West Asia" দুটির একটিও বিদ্যমান নয়।
স্থানাঙ্ক: ৩৯°০৩′ উত্তর ৬৬°৫০′ পূর্ব / ৩৯.০৫০° উত্তর ৬৬.৮৩৩° পূর্ব / 39.050; 66.833
CountryUzbekistan
RegionQashqadaryo Region
জনসংখ্যা (2022)[]
  মোট১,৪২,৭০০
প্রাতিষ্ঠানিক নামHistoric Centre of Shakhrisyabz
মানদণ্ডসাংস্কৃতিক: (iii), (iv)
মনোনীত2000 (24th session)
সূত্র নং885
Endangered2016–
Area২৪০ ha (৫৯০ একর)
Buffer zone৮২ ha (২০০ একর)
শাহরিসব্জের সুজানি কাপড় যা ১৯ শতকের প্রথমার্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

সবুজ শহর বা শহরিসবজ (উজবেক: Шаҳрисабз Shahrisabz; তাজিক: Шаҳрисабз; ফার্সি: شهر سبز shahr-e সাবজ (সবুজ / শ্যামল শহর); রুশ: Шахрисабз) হচ্ছে দক্ষিণ উজবেকিস্তান এর কাশকাদার্য অঞ্চলে অবস্থিত। সমরকন্দ প্রায় কিলোমিটার দক্ষিণ অবস্থিত। ২০১৪ সালে এখানকার জনসংখ্যা ছিলো ১০০,৩০০ জন।[] এটি ৬২২ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত মধ্য এশিয়ার একটি প্রধান শহর। আজকের দিনে স্থানটি ১৪ শতকের বিখ্যাত তুর্ক-মোংল বিজেতা তৈমুর লং জন্মস্থান হিসেবে সুবিখ্যাত।[]

ইতিহাস

[সম্পাদনা]
শাখরিসিবজ ঐতিহাসিক কেন্দ্র
ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান
কক-গুম্বাজ মসজিদ
মানদণ্ডসাংস্কৃতিক: iii, iv
সূত্র885
তালিকাভুক্তকরণ২০০০ (২৪তম সভা)
স্থানাঙ্ক৩৯°০৩′ উত্তর ৬৬°৫০′ পূর্ব / ৩৯.০৫০° উত্তর ৬৬.৮৩৩° পূর্ব / 39.050; 66.833
শহরিসবজ উজবেকিস্তান-এ অবস্থিত
শহরিসবজ
Location in Uzbekistan

পূর্বে কেশ বা কিশ (“হৃদয়-প্রীতিকর”) নামে পরিচিত এবং প্রাচীন নউতাকার সঙ্গে সাময়িকভাবে অভিন্ন বলে বিবেচিত শাহরিসাবজ মধ্য এশিয়ার অন্যতম প্রাচীন শহর। এটি ২,৭০০ বছরেরও বেশি আগে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং খ্রিস্টপূর্ব ৬ষ্ঠ থেকে ৪র্থ শতাব্দী পর্যন্ত আকেমেনিড সাম্রাজ্য বা পারস্যের অন্তর্ভুক্ত ছিল। এই সময়জুড়ে কেশ সোগদিয়ানা নামের সাম্রাজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রদেশের প্রধান নগরকেন্দ্র ছিল। আকেমেনিড যুগের শেষভাগের নথিপত্র থেকে শহরের প্রতিরক্ষা প্রাচীর সংস্কারের তথ্য পাওয়া যায়।[] তৈমুরীয় যুগ থেকে শহরটি শাহরিসাবজ নামে পরিচিত।[]

মহামতি আলেকজান্ডারের সেনাপতি টলেমি নউতাকায় ব্যাকট্রিয়ার শাসক এবং পারস্য সিংহাসনের দাবিদার বেসাসকে বন্দী করেন, যার ফলে একসময়ের শক্তিশালী আকেমেনিড সাম্রাজ্যর পতন ঘটে। মহামতি আলেকজান্ডার আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ৩২৮–৩২৭ অব্দে শীতকাল কাটানোর জন্য এই অঞ্চল বেছে নেন এবং এখানেই তিনি তাঁর স্ত্রী রোক্সানার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ৫৬৭ থেকে ৬৫৮ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে কেশের শাসকেরা তুর্কি খাগানাত এবং পশ্চিম তুর্কি খাগানাতের খাগানদের কর প্রদান করতেন। ৭১০ খ্রিস্টাব্দে শহরটি আরবদের দ্বারা বিজিত হয়। পরে ত্রয়োদশ শতাব্দীতে খোয়ারাজমীয় সাম্রাজ্যে মোঙ্গল বিজয়ের পর অঞ্চলটি বারলাস গোত্রের নিয়ন্ত্রণে আসে। এই গোত্রের অধিকাংশ বংশধারার সম্পর্কই এই অঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত বলে মনে করা হয়।[]

তুর্কি কাগানেটের অংশ হিসেবে

[সম্পাদনা]

ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শতাব্দী পর্যন্ত কেশ তুর্কি খাগানাত এবং পশ্চিম তুর্কি খাগানাতের অন্তর্ভুক্ত ছিল। অষ্টম শতাব্দীতে খুজার (কেশ)-এর শাসক ছিলেন তুর্কি সুবুগ্রা। টন ইয়াবগু খাগানের (৬১৮–৬৩০) শাসনামলে সোগদিয়ানা অঞ্চলে তুর্কিদের প্রভাব বৃদ্ধি পায়। তোখারিস্তানআফগানিস্তানে নতুন অভিযান পরিচালনার ফলে রাজ্যের সীমানা উত্তর-পশ্চিম ভারত পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। টন ইয়াবগু খাগান প্রশাসনিক সংস্কার করেন এবং কর সংগ্রহ তদারক ও নিয়ন্ত্রণের জন্য সোগদিয়ানাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে তাঁর প্রতিনিধি তুদুন নিয়োগ করেন। ধারণা করা হয়, তিনি “টন ইয়াবগু খাগান” লিপিযুক্ত মুদ্রা প্রচলন করেছিলেন।

খালাজ জনগোষ্ঠী ছিল একটি প্রাচীন তুর্কি উপজাতি, যারা প্রারম্ভিক মধ্যযুগে তোখারিস্তান অঞ্চলে বসবাস করত। এই অঞ্চল বর্তমানে উজবেকিস্তানের দক্ষিণাংশ, তাজিকিস্তান এবং আফগানিস্তানের উত্তরাঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।

মধ্য এশিয়ার তুর্কিরা বিভিন্ন দেব-দেবীর উপাসনা করত। এর মধ্যে তেংরি (আকাশ), উমাই (মাতৃদেবী), ইয়ের-সুব (ভূমি ও জল) এবং এরক্লিগ (পাতাললোকের অধিপতি) উল্লেখযোগ্য। এদের মধ্যে তেংরি সর্বোচ্চ মর্যাদা লাভ করতেন এবং প্রধান দেবতা হিসেবে বিবেচিত হতেন।[]

আরব বিজয়

[সম্পাদনা]

অষ্টম শতাব্দীতে আরবরা কেশ জয় করে। আরব আক্রমণের সময় কাশকাদারিয়া উপত্যকা এবং বিশেষ করে কেশ, আল-মুকান্নার নেতৃত্বে আরব ও ইসলামবিরোধী একটি মুক্তি আন্দোলনের কেন্দ্র হয়ে ওঠে। ইতিহাসে এই আন্দোলন শ্বেতবস্ত্রধারীদের বিদ্রোহ নামে পরিচিত।

এই প্রতিরোধের পর শেষ পর্যন্ত রাজধানী শহরের পতন ঘটে। আনুমানিক ৭০১ থেকে ৭০৪ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে নেসেফ ও কেশ অঞ্চলে তুর্কি ও আরবদের মধ্যে যুদ্ধ সংঘটিত হয়।[]

সামানীয় রাজবংশের শাসনামলে নগরজীবন ধীরে ধীরে পুরোনো কেশের দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত বার্কনন নামের একটি বৃহৎ গ্রামের স্থানে স্থানান্তরিত হয়।

কারাখানীয় যুগ

[সম্পাদনা]

১০৩৮ সালে ইব্রাহিম ইবনে নাসর, যিনি বোরিতিগিন নামেও পরিচিত ছিলেন এবং ট্রান্সঅক্সিয়ানার বিজয়ীর পুত্র ছিলেন, চাঘানিয়ান দখল করেন। সেখান থেকে তিনি মধ্য ট্রান্সঅক্সিয়ানা অঞ্চলে অভিযান পরিচালনা করেন। ১০৪০ সালে তিনি কেশ জয় করেন। দশম শতাব্দীতে কারাখানীয় খানাতে একটি সাহিত্যিক ভাষার বিকাশ ঘটে, যা প্রাচীন তুর্কি লিখিত সাহিত্যের ঐতিহ্যকে অব্যাহত রাখে। দশম শতাব্দীর সরকারি কারাখানীয় ভাষা প্রাচীন কার্লুক উপভাষার ব্যাকরণগত কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছিল। কারাখানীয় শাসক ও তাঁদের তুর্কি প্রজাদের ইসলাম গ্রহণ তুর্কি সংস্কৃতির সাংস্কৃতিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দশম শতাব্দীর শেষভাগ ও একাদশ শতাব্দীর শুরুতে তুর্কি জনগণের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কুরআনের ভাষ্য তাফসির তুর্কি ভাষায় অনূদিত হয়। একাদশ শতাব্দীর পণ্ডিত মাহমুদ আল-কাশগরী তুর্কি ভাষাবিজ্ঞানের ভিত্তি স্থাপন করেন। তিনি মধ্য এশিয়ার বহু তুর্কি উপজাতির নাম তালিকাভুক্ত করেন।

বিখ্যাত পণ্ডিতদের মধ্যে একজন ছিলেন ঐতিহাসিক মজিদ আল-দিন আল-সুরহাকাতি। তিনি “তুর্কেস্তানের ইতিহাস” গ্রন্থ রচনা করেন, যেখানে কারাখানীয় রাজবংশের ইতিহাস বর্ণিত হয়েছে।[]

কারাখানীয়দের শাসনামলে মধ্যযুগীয় কেশের নতুন রাজধানী গড়ে ওঠে। খোয়ারাজম শাহদের আধিপত্যের সময়, অর্থাৎ ত্রয়োদশ শতাব্দীর শুরুর দিকে, কেশ-শাহরিসাবজ শহরকে প্রথমবারের মতো প্রতিরক্ষামূলক প্রাচীর দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়।

আধুনিক ইতিহাস

[সম্পাদনা]

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে ১৯৪২ সালে পোলিশ আন্দার্স সেনাবাহিনীর ৬ষ্ঠ পদাতিক ডিভিশন শাহরিসাবজে মোতায়েন ও সংগঠিত করা হয়।[১০] পরে নাৎসি জার্মানির বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নেওয়ার জন্য তাদের উজবেকিস্তান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। শহরটিতে একটি পোলিশ সামরিক কবরস্থান রয়েছে।

তৈমুরের জন্মস্থান

[সম্পাদনা]

১৩২০-এর দশকের শেষভাগ থেকে ১৩৩৬ সালের মধ্যে কেশ ছিল তৈমুরের জন্মস্থান। তিনি স্থানীয় বারলাস সংঘের প্রধান এবং ক্ষুদ্র অভিজাত পরিবারের সদস্য তারাগাই বারলাসের পুত্র ছিলেন। তৈমুরীয় রাজবংশের প্রাথমিক বছরগুলোতে শহরটি তাঁর উল্লেখযোগ্য পৃষ্ঠপোষকতা লাভ করে। তৈমুর কেশকে তাঁর “নিজ শহর” হিসেবে বিবেচনা করতেন এবং শেষ পর্যন্ত এটিকে নিজের সমাধিস্থল হিসেবে নির্ধারণ করেছিলেন। তবে তাঁর শাসনামলে কার্যক্রমের প্রধান কেন্দ্র সমরকন্দে স্থানান্তরিত হয়। তৈমুরের যুগে বিশ্ব স্থাপত্যের কয়েকটি শ্রেষ্ঠ নিদর্শন নির্মিত হয়, যার মধ্যে আক-সরাই প্রাসাদ এবং দোরুসিওদাত স্মৃতিসৌধ কমপ্লেক্স উল্লেখযোগ্য।[১১]

শহরটি বুখারা খানাতের শাসনের অধীনে স্বায়ত্তশাসনের জন্য সংগ্রাম করে। ১৮৭০ সালে রুশ সাম্রাজ্য শহরটি দখল করার জন্য বুখারার আমিরকে সহায়তা করে।

== ঐতিহাসিক স্থান ==

আক সারে রাজপ্রাসাদের অংশ

তৈমুরীয় রাজবংশের বেশ কয়েকটি চিত্তাকর্ষক স্থাপত্য নিদর্শন শহরের পুরোনো অংশকে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে সহায়তা করেছে। তবে ২০১৫ সালে একটি উদ্যান ও পর্যটন অবকাঠামো নির্মাণের উদ্দেশ্যে মধ্যযুগীয় শহরের বিস্তীর্ণ এলাকা ধ্বংস করা হলে ইউনেস্কো উদ্বেগ প্রকাশ করে। এর ফলে তালিকা থেকে স্থানটির মর্যাদা হারানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়।[১২]

  • আক-সরাই প্রাসাদ

তৈমুরের গ্রীষ্মকালীন প্রাসাদ আক-সরাই প্রাসাদ (“শ্বেত প্রাসাদ”) তাঁর সব স্থাপত্যকীর্তির মধ্যে সবচেয়ে জাঁকজমকপূর্ণ হিসেবে নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। ১৩৮০ সালে তৈমুরের নির্দেশে সদ্য বিজিত খোয়ারাজম থেকে নিয়ে আসা কারিগরদের মাধ্যমে এর নির্মাণকাজ শুরু হয়। দুর্ভাগ্যবশত, প্রাসাদের বিশাল ৬৫ মিটার উঁচু প্রবেশদ্বারের কেবল কিছু অংশ টিকে আছে। এসব অংশে নীল, সাদা ও সোনালি রঙের মোজাইক অলংকরণ রয়েছে। আক-সরাইয়ের প্রবেশদ্বারের ওপর বড় অক্ষরে লেখা রয়েছে: “যদি আমাদের শক্তিকে চ্যালেঞ্জ করো—আমাদের দালানগুলোর দিকে তাকাও!”

  • কোক গুম্বাজ মসজিদ / দোরুত তিলাওয়াত কমপ্লেক্স

১৪৩৭ সালে উলুঘ বেগ তাঁর পিতা শাহরুখ মির্জার সম্মানে একটি জুমার মসজিদ নির্মাণ করেন, যার নামের অর্থ “নীল গম্বুজ”। কোক গুম্বাজ মসজিদের ঠিক পেছনে অবস্থিত তথাকথিত “ধ্যানের ঘর” হলো উলুঘ বেগ নির্মিত একটি সমাধিসৌধ, যা ১৪৩৮ সালে নির্মিত হয়েছিল। তবে ধারণা করা হয়, এটি কখনো সমাধিস্থল হিসেবে ব্যবহৃত হয়নি।

  • হযরত-ই ইমাম কমপ্লেক্স

কোক গুম্বাজের পূর্ব দিকে দোরুস সাওদাত (“ক্ষমতা ও শক্তির কেন্দ্র”) নামে আরেকটি সমাধিসৌধ কমপ্লেক্স রয়েছে। এখানে তৈমুরের জ্যেষ্ঠ ও প্রিয় পুত্র জাহাঙ্গীর মির্জার সমাধি অবস্থিত। কথিত আছে, সংলগ্ন মসজিদে অষ্টম শতাব্দীর সম্মানিত ইমাম আমির কুলালের সমাধি রয়েছে।

  • তৈমুরের সমাধি

হযরত-ই ইমাম স্থাপত্যের পেছনে একটি ভূগর্ভস্থ কক্ষ রয়েছে, যার প্রবেশপথ একটি বাঙ্কারের মতো স্থাপনার মধ্য দিয়ে। ১৯৪৩ সালে প্রত্নতাত্ত্বিকেরা কক্ষটি আবিষ্কার করেন। কক্ষটি প্রায় সম্পূর্ণভাবে একটি পাথরের কফিনে পূর্ণ ছিল। কফিনের খোদাই করা লিপি থেকে ধারণা করা হয়, এটি তৈমুরের জন্য নির্মিত হয়েছিল। তবে তৈমুরকে শাহরিসাবজে নয়, সমরকন্দে সমাধিস্থ করা হয়। রহস্যজনকভাবে শাহরিসাবজের এই সমাধিতে দুটি অজ্ঞাতপরিচয় মৃতদেহ পাওয়া যায়।

  • এছাড়া মধ্যযুগীয় স্নানাগার এবং অষ্টাদশ শতাব্দীর একটি বাজারও শহরের উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান।
  • শাহরিসাবজ ইতিহাস ও বস্তুগত সংস্কৃতি জাদুঘর

আরও বাহ্যিক স্থান

[সম্পাদনা]

কাশকাদারিয়া অঞ্চলের কিতাব জেলার কুমিরতেপা নামের ছোট গ্রামের উত্তরে, জারাফশান পর্বতমালা থেকে উৎপন্ন স্বল্প প্রবাহের অগভীর শুরাবসায় নদীর বাম তীরে উত্তর থেকে দক্ষিণে বিস্তৃত বিভিন্ন আকৃতির তিনটি পাহাড় রয়েছে। সম্মিলিতভাবে এগুলো প্রাচীন রাজধানী নউতাকার তিনটি অংশ—পাদায়াকতেপা, উজুনকির এবং সাঙ্গিরতেপা—গঠন করে।[১৩][১৪]

১৯৮০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে কেশ প্রত্নতাত্ত্বিক ও স্থানিক অভিযানের সদস্য এন. আই. ক্রাশেনিনিকোভা প্রথমবারের মতো শুরাবসায় ক্ষুদ্র মরূদ্যান অঞ্চলের প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানগুলো জরিপ করেন। এসব স্থান একে অপর থেকে ৫ কিলোমিটারের মধ্যে ছড়িয়ে রয়েছে। সে সময় এই তিনটি পাহাড়কে যথাক্রমে একটি দুর্গ, প্রকৃত শহর এবং নউতাকার মন্দির হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল।

  • পাদায়াক্তেপা

শহরের দুর্গটি ২৭০ × ৭৪ মিটার আয়তনের এবং এটি শুরাবসায় নদীর উত্তর অংশে অবস্থিত একটি উঁচু ও দুর্গম তীরে নির্মিত হয়েছিল[১৫]। এই স্থানে প্রত্নতাত্ত্বিক অনুসন্ধানের মাধ্যমে চারটি নির্মাণ স্তর শনাক্ত করা হয়েছে। বসতির প্রাচীনতম সাংস্কৃতিক স্তরগুলো খ্রিস্টপূর্ব নবম থেকে অষ্টম শতাব্দীর বলে নির্ধারণ করা হয়েছে। পাদায়াক্তেপার পশ্চিম অংশে পরিচালিত খননকাজে আকেমেনিডহেলেনীয় যুগে নির্মিত একটি প্রতিরক্ষা প্রাচীরের অংশ পাওয়া যায়। এসব প্রাচীর থেকে ধারণা করা হয়, নউতাকা নগরে একটি অভিজাত এলাকা ছিল, যা অ্যাক্রোপলিস নামে পরিচিত পৃথক প্রাচীরঘেরা স্থাপনা দ্বারা সুরক্ষিত ছিল। এর সঙ্গে সমরকন্দের আফ্রাসিয়াব প্রাচীন নগরস্থলের মিল রয়েছে।

মহামতি আলেকজান্ডারের শাসনের অবসানের পর শহরটি পরিত্যক্ত হয় এবং কেবল পাদায়াক্তেপার অ্যাক্রোপলিস অংশে জনবসতি অব্যাহত থাকে। পরে আকসু নদীর উঁচু ডান তীরে কালান্দারতেপা বসতির স্থানে একটি নতুন শহর গড়ে ওঠে, যা বর্তমানে কিতাব শহরের সীমানার অন্তর্ভুক্ত।

  • উজুনকির

কুমিরতেপা গ্রামের কাছে শহরের দুর্গপ্রাচীরের অবশেষ দেখা যায়। এটি বর্তমানে ৬৫০ মিটারের বেশি দীর্ঘ এবং ২০ মিটার প্রশস্ত একটি নিচু ঢিবির আকারে রয়েছে। একসময় এই প্রাচীর ৭০ হেক্টরেরও বেশি এলাকা ঘিরে পুরো শহরকে সুরক্ষিত করত। বসতির প্রাচীন মূল প্রাচীরটি খ্রিস্টপূর্ব দশম থেকে নবম শতাব্দীর কাঁচা ইট দিয়ে নির্মিত হয়েছিল, যা সোগদ অঞ্চলের প্রাচীন শহর যেমন কোকতেপাকেশের স্থাপত্য বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। পরবর্তী সময়ে আকেমেনিড সাম্রাজ্য, সেলিউসিড সাম্রাজ্য এবং গ্রেকো-ব্যাকট্রিয়ান রাজ্যের শাসনামলে শহরের দুর্গপ্রাচীর ব্যাপকভাবে সংস্কার করা হয়।

  • সাঙ্গিরতেপা

উজুনকিরের প্রায় ৬৫০ মিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে শহরের প্রাচীরের বাইরে একটি স্বতন্ত্র পাহাড় অবস্থিত। এটি ৮৪ × ৬২ মিটার পরিমাপের এবং প্রায় ৮ মিটার উঁচু একটি কেন্দ্রীয় ঢিবি নিয়ে গঠিত। এর চারপাশের প্রাচীর প্রায় ৩ হেক্টর এলাকা ঘিরে রয়েছে। ১৯৮৩ সাল থেকে তাশখন্দ রাষ্ট্র বিশ্ববিদ্যালয়ের (বর্তমানে উজবেকিস্তানের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়) প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ এই স্থানে প্রত্নতাত্ত্বিক খনন পরিচালনা করে আসছে। সাঙ্গিরতেপায় পরিচালিত খননের ফলে একটি অনন্য জরথুস্ত্রীয় মন্দির আবিষ্কৃত হয়। এতে একটি কেন্দ্রীয় হল, একটি বেদি এবং সহায়ক কক্ষ রয়েছে। এই মন্দিরকে মধ্য এশিয়ার প্রাচীনতম ধর্মীয় স্থাপনাগুলোর অন্যতম হিসেবে বিবেচনা করা হয়।[১৬]

অর্থনীতি

[সম্পাদনা]

শহরটির অর্থনীতি প্রধানত কৃষিজ কাঁচামাল প্রক্রিয়াজাতকরণের ওপর নির্ভরশীল। এর মধ্যে তুলা পরিষ্কার ও টিনজাতকরণসহ বিভিন্ন কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়া এই অঞ্চলে ঐতিহ্যবাহী ও কুটির শিল্পেরও উল্লেখযোগ্য বিকাশ ঘটেছে।

জলবায়ু

[সম্পাদনা]

শাহরিসাবজের জলবায়ু ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু ধরনের (কোপেন শ্রেণিবিন্যাস: Csa)। এখানকার শীতকাল শীতল এবং গ্রীষ্মকাল অত্যন্ত উষ্ণ ও শুষ্ক।[১৭]

Shahrisabz (1991–2020)-এর আবহাওয়া সংক্রান্ত তথ্য
মাস জানু ফেব্রু মার্চ এপ্রিল মে জুন জুলাই আগস্ট সেপ্টে অক্টো নভে ডিসে বছর
সর্বোচ্চ গড় °সে (°ফা) ৯.০
(৪৮.২)
১১.৪
(৫২.৫)
১৬.৯
(৬২.৪)
২২.৯
(৭৩.২)
২৮.৮
(৮৩.৮)
৩৪.৮
(৯৪.৬)
৩৬.৯
(৯৮.৪)
৩৫.৫
(৯৫.৯)
৩০.৬
(৮৭.১)
২৩.৬
(৭৪.৫)
১৬.১
(৬১.০)
১০.৯
(৫১.৬)
২৩.১
(৭৩.৬)
দৈনিক গড় °সে (°ফা) ৩.৬
(৩৮.৫)
৫.৫
(৪১.৯)
১০.৮
(৫১.৪)
১৬.৫
(৬১.৭)
২১.৯
(৭১.৪)
২৭.৩
(৮১.১)
২৯.৪
(৮৪.৯)
২৭.৫
(৮১.৫)
২২.১
(৭১.৮)
১৫.৪
(৫৯.৭)
৯.৩
(৪৮.৭)
৫.১
(৪১.২)
১৬.২
(৬১.২)
সর্বনিম্ন গড় °সে (°ফা) −০.২
(৩১.৬)
১.১
(৩৪.০)
৬.১
(৪৩.০)
১১.০
(৫১.৮)
১৫.৫
(৫৯.৯)
১৯.৭
(৬৭.৫)
২১.৭
(৭১.১)
১৯.৬
(৬৭.৩)
১৪.৫
(৫৮.১)
৯.০
(৪৮.২)
৪.৫
(৪০.১)
১.১
(৩৪.০)
১০.৩
(৫০.৫)
অধঃক্ষেপণের গড় মিমি (ইঞ্চি) ৭১.৮
(২.৮৩)
৮৬.০
(৩.৩৯)
৯৮.২
(৩.৮৭)
৮০.৮
(৩.১৮)
৪৫.০
(১.৭৭)
৭.২
(০.২৮)
১.১
(০.০৪)
১.২
(০.০৫)
২.৭
(০.১১)
১৮.৪
(০.৭২)
৬০.২
(২.৩৭)
৬২.২
(২.৪৫)
৫৩৪.৮
(২১.০৬)
অধঃক্ষেপণ দিনগুলির গড় (≥ ১.০ mm) ১৪ ১৩ ১৫ ১২ ১০ ১২ ৯৯
মাসিক সূর্যালোক ঘণ্টার গড় ১১৫.১ ১৩৩.৩ ১৭০.১ ২৩২.০ ৩০৫.১ ৩৪৯.৯ ৩৭৭.১ ৩৬১.৮ ৩০৮.৭ ২৪৩.২ ১৫৪.৩ ১২০.১ ২,৮৭০.৭
উৎস: NOAA[১৮]

সঙ্গীত

[সম্পাদনা]

ফাররুখ জোকিরভের সুর এবং ইয়েভজেনি বেরেজিকভের কথায় উজবেকিস্তানের সঙ্গীতদল ইয়াল্লার একই নামের জনপ্রিয় গানে শাহরিসাবজের প্রশংসা করা হয়েছে।[১৯][২০]

চিত্রশালা

[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ বৈধ নয়; "qashstat" নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  2. "Статистический буклет «О населении языком цифр»"। ১৪ অক্টোবর ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৪ মে ২০১৭
  3. Pickett, James (২০১৮)। "Written into Submission: Reassessing Sovereignty through a Forgotten Eurasian Dynasty"। The American Historical Review১২৩ (3): ৮১৯। ডিওআই:10.1093/ahr/123.3.817Now a provincial city in the modern state of Uzbekistan, Shahrisabz is remembered primarily as the birthplace of Timur—if it is remembered at all.
  4. Pavel Lurje, (2009), 'KEŠ' Encyclopaedia Iranica (online)
  5. "Shahrisabz Travel Guide"Caravanistan (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। ১৩ এপ্রিল ২০২১। সংগ্রহের তারিখ ১৩ এপ্রিল ২০২১
  6. B.F. Manz, The rise and rule of Tamerlan, Cambridge University Press, Cambridge 1989, p. 156–7
  7. Стеблева И. В. К реконструкции древнетюркской религиозно-мифологической системы // Тюркологический сборник 1971 года. М., 1972
  8. Табари. История. — Т., 1987 год, с. 85
  9. Introduction to The Jawami u’l-hikayat wa Lawami’ur-riwayat of Sadidu’u-din Muhammad al-Awfi by Muhammad Nizamu’d-din. London: Luzac & Co, 1929
  10. Ziółkowska, Ewa (২০০২)। "Polskie groby w Uzbekistanie i Kazachstanie. W 60. rocznicę polskiego wychodźstwa z ZSRR"। Wspólnota Polska (পোলিশ ভাষায়)। নং 3–4 (116–117)। পৃ. ৬৫। আইএসএসএন 1429-8457
  11. Golombek, L. Wilber, D. The Timurid Architecture of Iran and Turan. Vol 1. Princeton, N.J.: Princeton University Press. 1988
  12. Synovitz, Ron (২৮ মার্চ ২০১৭)। "Bulldozing History"Radio Free Europe/Radio Liberty। সংগ্রহের তারিখ ১৬ নভেম্বর ২০১৯
  13. "Ожившая легенда о соколе"tugan.uz। ১ নভেম্বর ২০২৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২ নভেম্বর ২০২৩
  14. "Oʻzbekistonning Ipak yoʻli shaharlari"www.uzreport.news। সংগ্রহের তারিখ ২ নভেম্বর ২০২৩
  15. "Падаятактепа - цитадель города."silkadv.com। সংগ্রহের তারিখ ২ নভেম্বর ২০২৩
  16. "O rabotax na gorodishche Sangirtepa v 2012 gody (Travaux sur le site de Sangir-tepe en 2012)"www.researchgate.net। সংগ্রহের তারিখ ২ নভেম্বর ২০২৩
  17. "Table 1 Overview of the Köppen-Geiger climate classes including the defining criteria."Nature: Scientific Data (ইংরেজি ভাষায়)। ২৩ অক্টোবর ২০২৩।
  18. "World Meteorological Organization Climate Normals for 1991-2020 — Shahrisabz"। National Oceanic and Atmospheric Administration। সংগ্রহের তারিখ ২০ জানুয়ারি ২০২৪
  19. "Zakirov Farrux Karimovich"arboblar.uz। সংগ্রহের তারিখ ২ নভেম্বর ২০২৩
  20. "Prezident 50 yilligini nishonlayotgan "Yalla" ansamblini taqdirladi"www.gazeta.uz। সংগ্রহের তারিখ ২ নভেম্বর ২০২৩