লীলা ওমচেরি

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে


লীলা ওমচেরি
A portrait of Leela Omchery who will be presented with the Sangeet Natak Akademi Award for Traditional & Folk Music - Kerala by the President Dr. A.P.J Abdul Kalam in New Delhi on October 26, 2004.jpg
জন্ম১৯২৯
তিরুভাত্তর, কন্যাকুমারী, ভারত
পেশাসঙ্গীতশিল্পী, সঙীত গবেষ\ক, লেখক
দাম্পত্য সঙ্গীওমচেরি এন এন পিল্লাই
পুরস্কারপদ্মশ্রী
সঙ্গীত নাটক অকাদেমী পুরস্কার
মরুনন্দন মালায়ালি পুরস্কার
ফেলো– কেরালা সঙ্গীত নাটক অকাদেমী
সঙ্গীত কুলপতি
সঙ্গীত কোবিদ
কলাচার্য্য
সঙ্গীত সার্বভৌম
ওয়েবসাইটhttp://leelaomchery.org

লীলা ওমচেরি একজন শাস্ত্রীয় সঙ্গীতশিল্পী, সঙ্গীত বিশেষজ্ঞ এবং লেখক। তিনি শাস্ত্রীয় সঙ্গীতে তাঁর অবদানের জন্য পরিচিত এবং ভারতীয় শাস্ত্রীয় নৃত্য ও সঙ্গীতে তাঁর অবদানের জন্য ভারত সরকার দ্বারা পদ্মশ্রী পুরস্কার প্রাপ্ত।[১]

শৈশব এবং ব্যক্তিগত জীবন[সম্পাদনা]

লীলা ওমচেরি ১৯২৮ সালে তামিলনাড়ুর কন্যাকুমারী জেলার তিরুভাত্তরের মানকয়িক্কাল থারাভদুতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তিনি ছোট বেলা থেকেই কর্ণাটকী সঙ্গীতের গুরু, তিরুবত্তর আরুমুগাম পিল্লাই ভাগবতারের অধীনে সঙ্গীত প্রশিক্ষণ শুরু করেন। তাঁর ছোট ভাই, প্রয়াত কামুকারা পুরুষোত্তম, যিনি একজন সুপরিচিত শাস্ত্রীয় সঙ্গীত শিল্পী এবং মালয়ালম কন্ঠশিল্পী ছিলেন, তিনিও তাঁর সঙ্গেই প্রশিক্ষণ নিতেন।[২] সঙ্গীতপ্রেমী বংশে জন্মগ্রহণ করায় ছোট থেকেই তার এদিকে আগ্রহ ছিল এবং দিদিমা এবং মায়ের অধীনে সঙ্গীত চর্চা শুরু হয় তার।

কন্যাকুমারীতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পড়াশোনা করার পরে, তিনি তিরুবনন্তপুরম মহিলা কলেজ থেকে কর্ণাটকী সঙ্গীতে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন এবং পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ে হিন্দুস্তানি সঙ্গীত নিয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যান এবং আরও একটি স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। মীরাট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি তাঁর স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন এবং তিনি দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সঙ্গীতে পিএইচডি অর্জন করেছিলেন।[৩]

তিনি বিখ্যাত লেখক ওমচেরি এন এন পিল্লাইয়ের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন এবং নয়াদিল্লিতে থাকেন। এই দম্পতির দুটি সন্তান এস.ডি. ওমচেরি ও দীপ্তি ওমচেরি ভাল্লা। এঁদের মধ্যে দীপ্তি একজন প্রখ্যাত শাস্ত্রীয় নৃত্যশিল্পী।

কর্মজীবন[সম্পাদনা]

ঐতিহ্যবাহী সঙ্গীতের ক্ষেত্রে, শ্রীমতী ওমচেরি কেরালার প্রাচীন সোপান-সঙ্গীত (মন্দিরের সিড়িতে বসে যে গান গাওয়া হত), ভক্তি থেবারামের গান, অষ্টপাদিসের পাশাপাশি কৃষ্ণত্তম ও কথাকলির মতো ঐতিহ্যবাহী নৃত্য ও নাটকের জন্য মনোনিবেশ করেছেন। তিনি দক্ষিণ কেরালার বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় ঘরানার যেমন ওনম এবং অন্যান্য উৎসবগুলির গানগুলিও অধ্যয়ন করেছেন। লোকচর্চা ও ঐতিহ্যবাহী সঙ্গীতে তাঁর অনুশীলন এবং তাঁর লেখার মাধ্যমে, তিনি কেরালার বাইরের বিশ্বের কাছে কেরালার ঐতিহ্যের পরিচয় করিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছেন [৪]

লীলা ওমচেরি বর্তমানে কেরালার তিরুবনন্তপুরমের কামুকারা স্কুল অফ মিউজিক, ডান্স অ্যান্ড রিসার্চ স্টাডিজের অধ্যাপক এবং দিল্লির ত্রিকাল গুরুকুলামের অধ্যক্ষ হিসাবে কর্মরত আছেন।[৫]

তিনি 'দক্ষিণ ভারতী'র (দক্ষিণ ভারতীয় মহিলা সংগঠন) অধ্যক্ষা এবং দিল্লির স্বরালয়ের সহসভাপতি।

তিনি দিল্লি, কেরালা, ক্যালিকট, বরোদা, নালন্দা এবং মুম্বাই সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি এবং এম ফিলের একজন স্বীকৃত তত্ত্বাবধায়ক এবং প্রদর্শক। তিনি অল ইন্ডিয়া রেডিও, দূরদর্শন, আইসিসিআর, আইজিএনসিএ, এসএনএ (দিল্লি), সংস্কৃতি মন্ত্রক এবং ইন্দিরা গান্ধী জাতীয় মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় বাছাই বোর্ডের সদস্যও রয়েছেন।

তিনি দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গীত ও চারুকলা অনুষদের অধীন কর্ণাটকী সঙ্গীত বিভাগের, অধ্যাপক (১৯৬৪-১৯৯৪) এবং বিভাগীয় প্রধান রূপে কর্মরত ছিলেন। তিনি ভারতীয় সংগীত জার্নাল, বাগেশ্বরীর সম্পাদক হিসাবেও (১৯৭৫-১৯৯৪) দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

সাহিত্যকর্ম[সম্পাদনা]

ইংরেজি[সম্পাদনা]

শিরোনাম প্রকাশক বছর
ভারতীয় সঙ্গীত এবং আনুষঙ্গিক কলা (৫ খন্ড) সন্দীপ প্রকাশন, দিল্লি ১৯৯০
গ্লিনিংস ইন ইন্ডিয়ান মিউসিক সন্দীপ প্রকাশন, দিল্লি ১৯৯১
ইমমর্টালস অফ ইন্ডিয়ান মিউসিক জ্ঞান বুকস দিল্লি ১৯৯৮

মালায়ালম[সম্পাদনা]

শিরোনাম প্রকাশক বছর
অভিনয় সঙ্গীতম ভাষা ইনস্টিটিউট, কেরালা ১৯৮১
পাড়াভুম পদাভূম ডি. সি, বুকস, কেরালা
কেরালাতিলে লাস্য রচনাকাল ডি. সি, বুকস, কেরালা ২০০৩
চিনাক্কারা কুতু পাট্টুকাল মুদ্রা বুকস, দিল্লি ২০০৮
লীলা ওচেরিউডে পতঙ্গল পূর্ণা বুকস, কেরালা ২০০৯
করুণা চেয়ভানেন্তু তমসন কৃষ্ণ ডি. সি, বুকস, কেরালা ২০১১
ভেত্তাম মাঙ্গিয়া কোভিল পাট্টুকাল পূর্ণা বুকস, কেরালা

অন্যান্য বিষয়[সম্পাদনা]

  • লীলাঞ্জলি(ছোট গল্প)
  • জীবিতাম (নাটক)
  • পার্থিবাম কানাভু – তামিল থেকে অনুবাদ
  • কাঠ ভারতী – তামিল থেকে অনুবাদ
  • আহারাবুম আরোগ্যাভুম

এছাড়াও তাঁর ঝুলিতে রয়েছে ২০০-এর বেশি প্রবন্ধ প্রকাশের গরিমা।

পুরস্কার ও স্বীকৃতি[সম্পাদনা]

  • ভারত সরকার কর্তৃক পদ্মশ্রী- ২০০৯ সালে
  • সঙ্গীত নাটক অকাদেমী পুরস্কার - ২০০৩ সালে
  • সনাতন সঙ্গীত এবং কলা, দিল্লি, দ্বারা 'মরুনন্দন মালয়ালি পুরস্কার' -২০০৮ সালে। ঐতিহ্যবাহী সঙ্গীত এবং কলায় তার অবদানের জন্যে
  • কেরালা সঙ্গীত নাতক অকাদেমীর ফেলো-১৯৯১
  • কেরালা কলাড়াপ্পান্মের পক্ষ থেকে সঙ্গীত কুলপতি পুরস্কার - ২০০৩ সালে
  • গায়ত্রী ফাইন আর্টস, দিল্লী দ্বারা প্রদত্ত সঙ্গীত কোবিদ পুরস্কার - ২০০৩ সালে
  • অখিল কেরালা মারার মহাসভা দ্বারা ১৯৯০ সালে প্রদত্ত কলাচার্য্য
  • দিল্লির অষ্টক সমাজ দ্বারা প্রদত্ত সঙ্গীত সার্বভৌম পুরস্কার-২০০৬ সালে

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Padma Awards" (PDF)। Ministry of Home Affairs, Government of India। ২০১৫। ১৫ নভেম্বর ২০১৪ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ জুলাই ২১, ২০১৫ 
  2. "Archived copy"। ২ মে ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২ মে ২০১৪ 
  3. "Archived copy"। ২০ জানুয়ারি ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২ মে ২০১৪ 
  4. "সংরক্ষণাগারভুক্ত অনুলিপি"। ১০ আগস্ট ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১ মার্চ ২০২০ 
  5. "Archived copy"। ২০ মে ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২ মে ২০১৪ 

আরও পড়ুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]