লালবিহারী দে

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
রেভারেন্ড

লালবিহারী দে
Lal Behari Dey1.jpg
জন্ম
লালবিহারী দে

(১৮২৪-১২-১৮)১৮ ডিসেম্বর ১৮২৪
মৃত্যু২৮ অক্টোবর ১৮৯২(1892-10-28) (বয়স ৬৭)
কলকাতা
পেশাঅধ্যাপনা,

রেভারেন্ড লালবিহারী দে (১৮ ডিসেম্বর ১৮২৪ – ২৮  অক্টোবর ১৮৯২) এক ভারতীয় বাঙালি লেখক,খ্রিস্টান পণ্ডিত ছিলেন। ছাত্রজীবনে ধর্মান্তিরত হয়ে খ্রিস্টান ধর্মযাজক হন।[১]

জীবনী[সম্পাদনা]

লালবিহারী দে বৃটিশ ভারতের বর্ধমান জেলার সোনাপলাশীতে এক সূবর্ণবণিক সম্প্রদায়ের পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। গ্রামের স্কুলের পাঠ শেষ করে পিতা রাধাকান্ত দের সাথে কলকাতায় আসেন এবং ভর্তি হন রেভারেন্ড আলেকজান্ডার ডাফের জেনারাল অ্যাসেমব্লিজ ইন্সটিটিউশনে। ১৯৩৪ খ্রিস্টাব্দ হতে ১৯৪৪ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সেখানে পড়াশোনা করেন। এখানে প্রথম পাঁচ জন ছাত্রের মধ্যে অন্যতম ছিলেন তিনি। ১৮৪৩ খ্রিস্টাব্দের ২-রা জুলাই আলেকজান্ডার ডাফের পৌরহিত্যে আনুষ্ঠানিকভাবে খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করেন। প্রসঙ্গত, ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দে বাপ্তিস্মের এক বছর আগে লালবিহারী ব্যাপটিজিম বিষয়ে একটি ফলশ্রুতি প্রকাশ করেন - দ্য ফলসিটি অফ দ্য হিন্দু রিলিজিন, তথা ‘হিন্দু ধর্মের মিথ্যাচার’। এটি স্থানীয় খ্রিস্টান সমাজ হতে শ্রেষ্ঠ প্রবন্ধের পুরস্কার লাভ করে। ১৮৫১ খ্রিস্টাব্দে তিনি খ্রিষ্ট ধর্মের প্রচারক ও ১৮৫৫ খ্রিস্টাব্দে রেভারেন্ড হন। ১৮৬০ খ্রিস্টাব্দে তিনি সুরাটের পার্সি খ্রিস্টান হরমদজি পেস্টনজির কন্যাকে বিবাহ করেন।

১৮৫৫ খ্রিস্টাব্দ হতে ১৮৬৭ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত লালবিহারী স্কটল্যান্ডের অবৈতনিক চার্চের মিশনারী ও মন্ত্রী ছিলেন।

১৮৬৭ খ্রিস্টাব্দ হতে ১৮৮৯ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বহরমপুর ও হুগলিতে সরকার শাসিত কলেজ সমূহের ইংরাজীর অধ্যাপক ছিলেন। কর্মজীবনের মুখ্য সময়ে বিভিন্ন উপাসনালয়ে কাজ করার পর তিনি ১৮৬৭ খ্রিস্টাব্দে বহরমপুর কলেজিয়েট স্কুলের অধ্যক্ষ হন। পরে ১৮৭২ খ্রিস্টাব্দ হতে ১৮৮৮ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ হুগলি মহসীন কলেজের ইংরাজীর ও মানসিক ও নৈতিক দর্শনের অধ্যাপক ছিলেন। ধর্মপ্রাণ খ্রিস্টান কিন্তু ব্রিটিশপন্থী রাজের অধীন হয়েও স্থানীয়দের উপর শাসকশ্রেণীর কোনরূপ বৈষম্য দেখলে তিনি প্রতিবাদ করতেন।

ইংরাজী ভাষা ও সাহিত্যের অগাধ পাণ্ডিত্যে তিনি ইংরেজীতে দুটি পুস্তক রচনা করেন। ১৮৭৪ খ্রিস্টাব্দে 'গোবিন্দ সামন্ত' (পরে নাম পরিবর্তিত হয় বেঙ্গল পেজেন্টস লাইফ তথা বাঙলার কৃষক জীবন) এবং ১৮৮৩ খ্রিস্টাব্দে 'ফোক-টেলস অব বেঙ্গল' তথা বাংলার লোক-গল্প প্রকাশিত হয় এবং বই দুটি বহু প্রসংশিত হয়। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, প্যারীচাঁদ মিত্রদীনবন্ধু মিত্রের ন্যায় লালবিহারীও বাংলার গরীব ও নিপীড়িত কৃষকদের জন্য অত্যন্ত আবেগ অনুভব করতেন। তার 'গোবিন্দ সামন্ত' উপন্যাস গ্রামীণ বাংলার জনগণের ও শ্রমিকশ্রেণীর মানুষের সামাজিক ও দৈনন্দিন জীবনের পূর্ণাঙ্গ ও প্রামাণিক চিত্র বাংলা ও ইংরাজীতে দুটি ভাষাতেই শ্রেষ্ঠ উপন্যাস হিসাবে বিবেচিত হওয়ায় ১৮৭৪ খ্রিস্টাব্দে তৎকালীন বাংলার বিদ্যোৎসাহী জমিদার হুগলির উত্তরপাড়ার বাবু জয়কৃষ্ণ মুখার্জির কাছ থেকে পাঁচশত টাকার পুরস্কার লাভ করে। ১৮৮১ খ্রিস্টাব্দের ১৮ ই এপ্রিল চার্লস ডারউইন বইটির প্রকাশককে এক চিঠিতে লেখেন -

"আমি দেখলাম, রেভারেন্ডলালবিহারী দে বেঙ্গল ম্যাগাজিনের সম্পাদক এবং আমি কয়েক বছর আগে তার 'গোবিন্দ সামন্ত ' উপন্যাস পড়ে যে আনন্দ এবং নির্দেশনা পেয়েছি তার জন্য তাঁকে অভিনন্দন জানালে আমি খুশী হবো।"

যদিও লালবিহারীর রচনাগুলি বেশিরভাগ ইংরেজী ভাষায় ছিল, তিনি একটি বাংলা মাসিক পত্রিকা অরুনাদয় (১৮৫৭) সম্পাদনা করেছিলেন এবং চন্দ্রমুখী নামে একটি বাংলা উপাখ্যান লিখেছিলেন। তিনি তিনটি ইংরেজি ম্যাগাজিন, ইন্ডিয়ান রিফর্মার (১৮৬১), ফ্রাইডে রিভিয়্যু (১৮৬৬) এবং বেঙ্গল ম্যাগাজিনের (১৮৭২) সম্পাদকও ছিলেন। লালবিহারী এই পত্রিকাগুলিতে লেখার পাশাপাশি কলকাতা রিভিউ এবং হিন্দু প্যাট্রিয়ট-এ নিয়মিত প্রবন্ধাদি লিখতেন। তিনি বেথুন সোসাইটি এবং বেঙ্গল সোশ্যাল সায়েন্স অ্যাসোসিয়েশনের মতো অনেক সংস্থার সদস্য ছিলেন।

১৮৭৭ খ্রিষ্টাব্দে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফেলো নির্বাচিত হন।

লালবিহারী দে ১৮৯২ খ্রিস্টাব্দের ২৮ অক্টোবর ৬৭ বৎসর বয়সে কলকাতায় প্রয়াত হ্নন।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Builders of Bengal" 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]