রাধাবাই সুব্বারায়ণ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
রাধাবাই সুব্বারায়ণ
জন্ম২২শে এপ্রিল ১৮৯১
মৃত্যু২রা জুন ১৯৬০[১]
নতুন দিল্লি, ভারত[১]
জাতীয়তাভারতীয়
দাম্পত্য সঙ্গীপি. সুব্বারায়ণ
সন্তানমোহন কুমারমঙ্গলম পরমশিব প্রভাকর কুমারমঙ্গলপার্বতী কৃষ্ণন
পিতা-মাতা
  • রাও সাহেব কুদমুল রঙ্গা রাও[২] (পিতা)

কৈলাশ রাধাবাই সুব্বারায়ণ, বিবাহপূর্ব নাম কুদমুল (২২শে এপ্রিল ১৮৯১ - ১৯৬০) একজন ভারতীয় রাজনীতিবিদ, নারী অধিকার কর্মী এবং সমাজ সংস্কারক ছিলেন। তিনি ছিলেন ভারতীয় রাজনীতিবিদ পি. সুব্বারায়ণের স্ত্রী এবং মোহন কুমারমঙ্গলম, পরমশিব প্রভাকর কুমারমঙ্গলপার্বতী কৃষ্ণনের মা। তিনি সর্বভারতীয় মহিলা সম্মেলনের সদস্য হিসাবেও কাজ করেছিলেন।[২] তিনি রাজ্যের কাউন্সিলের প্রথম মহিলা সদস্য ছিলেন।

প্রারম্ভিক জীবন ও শিক্ষা[সম্পাদনা]

রাধাবাই সুব্বারায়ণের জন্ম ম্যাঙ্গালোরে। তাঁর বাবার নাম রাও সাহেব কুদমুল রঙ্গা রাও[৩] তিনি চিত্রপুর সারস্বত ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।[৪] তিনি ম্যাঙ্গালোরে বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছিলেন এবং প্রেসিডেন্সী কলেজ, চেন্নাই থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন।[৩] অল্প বয়সে বিধবা হবার পর, ১৯১২ সালে, রাধাবাই কুমারমঙ্গলমের জমিদার পি. সুব্বারায়ণকে নিজ বর্ণের বাইরে গিয়ে পুনর্বিবাহ করেন, তিনি পরে মাদ্রাজের মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন (১৯২৬ - ১৯৩০)।[১] এই দম্পতির তিন ছেলে ও এক মেয়ে ছিল।[৩] এর পরে তিনি অক্সফোর্ডের সোমারভিল কলেজ থেকে স্নাতকোত্তর করেন।[৫]

কর্মজীবন[সম্পাদনা]

রাধাবাই ছিলেন মাদ্রাজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সেনেটের একজন নির্বাচিত সদস্য। তিনি সর্বভারতীয় মহিলা সম্মেলনের সদস্য হিসাবেও কাজ করেছিলেন। ১৯৩০ সালের গোলটেবিল বৈঠকে), তিনি এবং জাহানারা শাহনেওয়াজ, সম্মেলনে মনোনীত নারী সংগঠনের একমাত্র দুই সক্রিয় সদস্য ছিলেন; তাঁরা আইনসভায় মহিলাদের জন্য ৫ শতাংশ সংরক্ষণের পক্ষে সওয়াল দিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁরা ব্যর্থ হন।[৬][৭]তিনি দ্বিতীয় গোলটেবিল সম্মেলনেও অংশ নিয়েছিলেন। সেখানেও তিনি মহিলাদের জন্য পাঁচ শতাংশ সংরক্ষণ দাবি করেন।[২] সংরক্ষণের বিষয়ে জনমত যাচাই করার জন্য লোথিয়ান কমিটি নিযুক্ত করা হয়েছিল। রাধাবাই সেই কমিটির একটি অংশ ছিলেন।[৮]

১৯৩৭ সালে, রাধাবাই ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে একটি সাধারণ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চেয়েছিলেন।[৯] কিন্তু মাদ্রাজ প্রাদেশিক অভ্যর্থনা কমিটির চেয়ারম্যান তাঁকে সমর্থন করতে অস্বীকার করেন।[৯] যখন সুব্বারায়ণ চক্রবর্তী রাজাগোপালাচারীকে এই বিষয়ে প্রশ্ন করেছিলেন, তিনি উত্তর দেন:

আমি বিশ্বাস করি না যে অগ্রগামী নারী প্রার্থীরা শুধুমাত্র নারী হওয়ার কারণে রাজনৈতিক সুবিধা চান।[১০]

যাইহোক, রাধাবাই ১৯৩৮ সালে একটি সাধারণ নির্বাচনী এলাকা থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাজ্যসভায় নির্বাচিত হন। এইভাবে তিনি রাজ্যের কাউন্সিলের প্রথম মহিলা সদস্য হন।[১১]

টীকা[সম্পাদনা]

  1. "Conferencing the International"। সংগ্রহের তারিখ ১ মার্চ ২০২২ 
  2. "Radhabai Subbarayan Biography and Interesting Facts"। সংগ্রহের তারিখ ১ মার্চ ২০২২ 
  3. The Who's who in Madras: A pictorial who's who of distinguished personages, princes, zemindars and noblemen in the Madras Presidency। Pearl Press। ১৯৩৭। পৃষ্ঠা 83। 
  4. "All India Chitrapur Defence Souvenir Fund Souvenir and Directory" (PDF)Kanara Saraswat: A Monthly Journal of the Kanara Saraswat Association85 (11): 5। ২০০৪। ২৩ জুলাই ২০১১ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৮ নভেম্বর ২০০৯ 
  5. Pauline Adams (১৯৯৬)। Somerville for women: an Oxford college, 1879-1993। Oxford University Press। পৃষ্ঠা 118। আইএসবিএন 978-0199201792 
  6. Partha S. Ghosh (২৩ মে ২০১২)। The Politics of Personal Law in South Asia: Identity, Nationalism and the Uniform Civil Code। Routledge। পৃষ্ঠা 234–। আইএসবিএন 978-1-136-70512-0 
  7. Anupama Roy (২০০৫)। Gendered citizenship: historical and conceptual explorationsOrient Blackswan। পৃষ্ঠা 139। আইএসবিএন 978-8125027973 
  8. Anupama Roy (২০০৫)। Gendered citizenship: historical and conceptual explorationsOrient Blackswan। পৃষ্ঠা 140। আইএসবিএন 978-8125027973 
  9. Anup Taneja (২০০৫)। Gandhi, women, and the National Movement, 1920-47। Har Anand Publications। পৃষ্ঠা 179। আইএসবিএন 978-8124110768 
  10. Anup Taneja (২০০৫)। Gandhi, women, and the National Movement, 1920-47। Har Anand Publications। পৃষ্ঠা 180। আইএসবিএন 978-8124110768 
  11. Lakshmi N. Menon (১৯৪৪)। The position of women। Oxford University Press। পৃষ্ঠা 28।