রাজকুমারী দুবে

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
রাজকুমারী দুবে
রাজকুমারী দুবে.jpg
প্রাথমিক তথ্য
জন্ম নামরাজকুমারী দুবে
জন্ম১৯২৪
বারাণসী, বারাণসী রাজ্য, সংযুক্ত প্রদেশ, ব্রিটিশ ভারত (বর্তমানে বারাণসী, উত্তর প্রদেশ, ভারত)
মৃত্যু২০০০(2000-00-00) (বয়স ৭৫–৭৬)
ভারত
ধরননেপথ্য সঙ্গীত
পেশাগায়িকা
বাদ্যযন্ত্রসমূহকণ্ঠ
কার্যকাল১৯৩৪–১৯৭৭

রাজকুমারী দুবে (১৯২৪ – ২০০০) যিনি তাঁর প্রথম নাম রাজকুমারী দিয়ে বেশি পরিচিত) একজন ভারতীয় নেপথ্য সঙ্গীতশিল্পী ছিলেন, যিনি ১৯৩০ এবং ১৯৪০-এর দশকের বেশ কয়েকটি হিন্দি চলচ্চিত্রের গান গেয়েছেন। বাওরে নয়ন (১৯৫০) নামক চলচ্চিত্রের "সুন বৈরি বলম সাচ বল রে", মহল (১৯৪৯) নামক চলচ্চিত্রের "ঘাবরা কে জো হাম সর কো টাকরায়েঁ" এবং পাকীজা (১৯৭২) নামক চলচ্চিত্রের "নজরিয়া কি মারি"র মতো গানের জন্য সর্বাধিক পরিচিত।

প্রারম্ভিক জীবন[সম্পাদনা]

রাজকুমারী দুবে ১৯২৪ সালে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের সংযুক্ত প্রদেশের বারাণসী রাজ্যের বারাণসীতে (বর্তমানে ভারতের উত্তর প্রদেশের বারাণসী) জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তিনি মাত্র ১১ বছর বয়সে রাধে শ্যাম অর জুলমি হন্স নামক হিন্দি চলচ্চিত্রে একজন শিশুশিল্পী হিসেবে কাজ করার মাধ্যমে চলচ্চিত্র জগতে প্রবেশ করেছিলেন। তারপরে তিনি কয়েক বছর ধরে মঞ্চ নাটকে কাজ করেছিলেন। চলচ্চিত্র জগতে ফিরে আসার পূর্বে, তিনি একজন অভিনেত্রী এবং গায়িকা হিসেবে প্রকাশ পিকাচার্সে যোগদান করেছিলেন। সে সময়ের শীর্ষস্থানীয় সঙ্গীতশিল্পী জোহরাবাঈ আম্বালেওয়ালী, আমিরবাই কর্ণটকিশমশাদ বেগমের সাথে তিনি কাজ করেছেন। পরের দুই দশকে তিনি ১৯৫০-এর দশকের গোড়া পর্যন্ত ১০০টি চলচ্চিত্রের জন্য গান গেয়েছিলেন, যার পরে লতা মঙ্গেশকর ভারতের নেপথ্য সঙ্গীতের দৃশ্যে পরিবর্তন এনেছিলেন।[১][২]

কর্মজীবন[সম্পাদনা]

তিনি যখন মাত্র ১০ বছর বয়সী ছিলেন, ১৯৩৪ সালে এইচএমভি-র জন্য তাঁর প্রথম গানটি রেকর্ড করেছিলেন এবং মঞ্চ শিল্পী হিসাবে তিনি তাঁর জীবন শুরু করেছিলেন। প্রকাশ পিকচার্সের বিজয় ভাট এবং শঙ্কর ভাট তাঁর একটি অনুষ্ঠান চলাকালীন তাঁকে সর্বপ্রথম দেখেছিলেন। তাঁরা তাঁর কণ্ঠ পছন্দ করেছিলেন এবং তাঁকে মঞ্চ নাটকে অভিনয় বন্ধ করতে রাজি করান; কারণ এটি তাঁর কন্ঠকে নষ্ট করে দেবে (সেই দিনগুলোতে কোনও মাইক্রোফোন ছিল না এবং নাটকে সংলাপ বলার জন্য শিল্পীদের চিৎকার করতে হত)। তাই তিনি মঞ্চ নাটক ছেড়ে দিয়েছিলেন এবং অভিনেত্রী ও গায়িকা হিসাবে প্রকাশ পিকচার্সের সাথে কাজ করা শুরু করে দিয়েছিলেন।[১]

প্রকাশ পিকচার্সের সাথে রাজকুমারীর প্রথম চলচ্চিত্রটি হিন্দি-গুজরাটি দ্বিভাষিক ছিল, যার নাম ছিল সংসার লীলা নয়ী দুনিয়া। তিনি আঁখ কা তারা এবং তুর্কি শের (১৯৩৩)-এর মতো চলচ্চিত্রে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। তিনি ভক্ত কে ভগবান এবং ইনসাফ কি টোপি (১৯৩৩) নামক চলচ্চিত্রের নায়িকা ছিলেন। উক্ত দিনগুলোতে তিনি প্রায়শই জাকারিয়া খানের বিপরীতে অভিনয় করতেন (যিনি প্রয়াত অভিনেতা আমজাদ খানের বাবা, যাঁর মঞ্চ নাম জয়ন্ত)। তিনি জনপ্রিয় সংগীত পরিচালক লল্লুভাইয়ের জন্যও গান করতেন। তিনি রাজকুমারী জি অভিনীত নয়ী দুনিয়া, বা স্যাক্রেড স্ক্যান্ডাল (১৯৩৪) (গুজরাতি সংস্করণে সংসার লীলা), লাল চিঠি বা রেড লেটার (১৯৩৫), বোম্বে মেইল (১৯৩৩), বমবাই কি শেঠানী (১৯৩৫) এবং শমশের-এ-আরব (১৯৩৫) নামক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। তিনি তাঁর অভিনীত চলচ্চিত্র দেখে বিরক্ত হতে শুরু করলেন এবং সিদ্ধান্ত নিলেন যে তিনি কেবল গানের মাধ্যমেই তাঁর জীবন গড়ে তুলবেন। প্রকাশ পিকচার্স ছেড়ে যাওয়ার পরে, তিনি রত্নমালা, শোভনা সমর্থ ইত্যাদির মতো অভিনেত্রীর জন্য নেপথ্য সঙ্গীতশিল্পী হিসেবে গান গাইতে শুরু করেছিলেন এবং এরপরেই তিনি ভারতীয় চলচ্চিত্রের প্রথম নেপথ্য সঙ্গীতশিল্পী (গায়িকা) হয়ে উঠেছিলেন।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Zohrabai, Amirbai and Rajkumari profiles"। Women On Record website। ১৬ আগস্ট ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০ 
  2. Anantharaman 2008, পৃ. 7।

গ্রন্থ-পঁজী[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]