মোহসিনীয়া মাদ্রাসা, চট্টগ্রাম

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
মোহসিনীয়া মাদ্রাসা, চট্টগ্রাম
চট্টগ্রাম মুহসেনীয়া মাদ্রাসা
Minar-of-portuguese-bhaban-5.jpg
পর্তুগীজ ভবন , যা ছিলো চট্টগ্রাম ইন্টারমিডিয়েট কলেজের স্কুল শাখার একাডেমিক ভবন। পরবর্তীতে এটি আদালত ভবন হিসেবে ব্যবহৃত হয় এবং দারুল আদালত নামে পরিচিত লাভ করে
পরবর্তী
সক্রিয়১৮৭৪ (1874)–১৯৭৯ (1979)
অবস্থান
চট্টগ্রাম
,

চট্টগ্রাম মোহসিনীয়া মাদ্রাসা (মুহসেনীয়া বা মুহসিনিয়া মাদ্রাসা নামেও পরিচিত) বা চট্টগ্রাম গভর্ণমেন্ট মাদ্রাসা বাংলাদেশের চট্টগ্রাম অঞ্চলের সর্বপ্রথম সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।[১][২] প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে মাদ্রাসাটি কলকাতা আলিয়া মাদ্রাসার অনুকরণে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিলো। পরবর্তী সময়ে মাদ্রাসাটি থেকে সরকারি মুসলিম উচ্চ বিদ্যালয়, চট্টগ্রাম, হাজী মুহাম্মদ মহসিন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, চট্টগ্রামসরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ, চট্টগ্রাম ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানের জন্ম হয়।[৩][৪]

ইতিহাস[সম্পাদনা]

প্রাথমিক পর্যায়[সম্পাদনা]

মাদ্রাসাটি হাজী মুহাম্মদ মুহসিনের মুহসিন ফান্ডের বরাদ্দকৃত অর্থে নবাব বাহাদুর আব্দুল লতিফের প্রচেষ্টায় তৎকালীন গভর্নমেন্ট অব বেঙ্গল কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত হয়। মুহম্মদ মুহসিন ১৮০৬ সালের এক অছিয়তে বিশাল অংকের একটি অর্থ বরাদ্দ করে একটি ট্রাস্ট গঠন করেন এবং এই টাকা ইসলামি শিক্ষা বিস্তারে ব্যয় করার কথা বলেন। নবাব বাহাদুর আব্দুল লতিফের সুপারিশে জর্জ ক্যাম্পবেল সরকার ১৮৭৩ খ্রিস্টাব্দে সিদ্ধান্ত নেয় যে, ট্রাস্টের আয়ের অর্থের একটি অংশ ঢাকা, রাজশাহী ও চট্টগ্রামে মোহসিনিয়া মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করা হবে। এই মাদ্রাসাগুলোর সমস্ত ব্যয়ও একই ট্রাস্ট বহন করতো। ১৮৭৪ সালে চট্টগ্রাম মোহসিনীয়া মাদ্রাসা নামে মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার পরপরই এ্যাংলো-পারসিয়ান বিভাগ চালু করা হয়।

১৯১৪ সালে মাদ্রাসাটি আবু নসর ওহিদ প্রস্তাবিত নিউ স্কিম মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থায় অংশগ্রহন করে।[৫] নিউ স্কিমে অংশগ্রহন করা মাদ্রাসাসমূহ দ্রুত জনপ্রিয় হতে থাকে, এবং এসব প্রতিষ্ঠানে সাধারণ শিক্ষা গুরুত্ব পেতে শুরু করে, এসব মাদ্রাসার অভ্যন্তরে সাধারণ স্কুলের মত কার্যক্রম পরিচালনা হওয়া শুরু করেছিলো। এর ফলে ১৯৬০ সালের দিকে পাকিস্তান সরকার কর্তৃক গঠিত ১৯৫৯ সালের শরীফ জাতীয় শিক্ষা কমিশন এই নিউ স্কিম মাদ্রাসাগুলোকে স্কুলে পরিণত করার পরামর্শ দেন। এর ফলে অন্যান্য বহু মাদ্রাসার সাথে এই মাদ্রাসাটিও স্কুল এবং কলেজে পরিণত হয়।

সর্বশেষ ১৯৭৯ সালে চট্টগ্রাম মহসীনিয়া মাদ্রাসার বিলুপ্তি ঘটিয়ে গভ. মহসিন কলেজ হাই স্কুল এবং গভ. মহসিন কলেজ স্থাপন করা হয়। ১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠান দুটি হাজী মুহাম্মদ মহসিন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, চট্টগ্রামসরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ, চট্টগ্রাম পরিণত হয়।

শিক্ষা ব্যবস্থা[সম্পাদনা]

এ্যাংলো-পারসিয়ান বিভাগ[সম্পাদনা]

১৮৫৪ সালে কলকাতা মাদ্রাসায় অ্যাংলো-পার্সিয়ান বিভাগ খোলা হলে এই বিভাগটি খুব দ্রুত জনপ্রিয় হতে থাকে। ১৮৭৫ সালে ঢাকা মোহসিনিয়া মাদ্রাসাতেও এই বিভাগ চালু করা হয়। এর আদলে রাজশাহী মাদ্রাসা ও এই মাদ্রাসাতেও চালু করা হয়।[৪] সেই সময় মাদ্রাসার অধ্যক্ষের আন্তরিকতা ও স্থানীয় প্রশাসনের সাহায্যে এ্যাংলো-পার্সিয়ান বিভাগের যাত্রা শুরু হয়। ১৯০৯ সালে এই বিভাগ থেকে একটি পূর্ণাঙ্গ স্কুল তৈরি করে অন্যত্র স্থানান্তর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই হিসেবে কোতোয়ালী এলাকায় পর্তুগিজদের পরিত্যক্ত দো’তলা ভবনে স্থানান্তরিত হয় এবং ১৯১০ খ্রিস্টাব্দে স্কুলটি মুসলিম হাই স্কুল হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়।

পরবর্তীতে এই বিভাগের কার্যক্রম স্বতন্ত্রভাবে চলতেই থাকে, আবার ১৯২৭ সালে "চট্টগ্রাম ইসলামিক ইন্টারমিডিয়েট কলেজ" নামকরণ করে বিভাগের বিলুপ্তি ঘটানো হয়। পরবর্তীতে ১৯৭৯ সালে এই মাদ্রাসা থেকেই সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ, চট্টগ্রামের উৎপত্তি হয়।

উল্লেখযোগ্য ব্যক্তি[সম্পাদনা]

উল্লেখযোগ্য শিক্ষার্থী[সম্পাদনা]

উল্লেখযোগ্য শিক্ষক[সম্পাদনা]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "'হে মহাজীবন' থেকে জানি হাজী মুহম্মদ মুহসীনকে"banglanews24.com। ২০১৫-০২-২৪। সংগ্রহের তারিখ ২০২২-০৭-২৮ 
  2. "মাদ্রাসা - বাংলাপিডিয়া"bn.banglapedia.org। সংগ্রহের তারিখ ২০২২-০৭-২৭ 
  3. "হাজী মুহাম্মদ মহসিন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়"hmmghs.edu.bd (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২২-০৭-২৭ 
  4. Azadi, Dainik (২০২১-০১-২৫)। "সাম্প্রতিক চট্টগ্রাম ও দৈনন্দিন টুকিটাকি"দৈনিক আজাদী (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২২-০৭-২৭ 
  5. "হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ - বাংলাপিডিয়া"bn.banglapedia.org। সংগ্রহের তারিখ ২০২২-০৭-২৮