মেহার নজর মামুদ হাজী বাড়ি জামে মসজিদ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
মেহার নজর মামুদ হাজী বাড়ি জামে মসজিদ
তিন গুম্বজ জামে মসজিদ.jpg
মেহার নজর মামুদ হাজী বাড়ি জামে মসজিদ
ধর্ম
জেলাকুমিল্লা জেলা
অবস্থাসক্রিয়
অবস্থান
অবস্থানবাংলাদেশকুমিল্লা জেলা,চান্দিনা উপজেলা
দেশবাংলাদেশ
স্থাপত্য
প্রতিষ্ঠাতানজর মামুদ
উপাদানসমূহচিনামাটি

ব্রিটিশ সরকারের আমলে নির্মিত কুমিল্লা জেলার চান্দিনা উপজেলা সদর হতে ১০কিলো দক্ষিণ পশ্চিমে ৯নং মাইজখার ইউনিয়ন-এর মেহার গ্রামে অবস্থিত।[১][২][৩][৪][৫]

নির্মাণ ও নামকরণ[সম্পাদনা]

১৯২৫ ইংরেজি, ১৩৩১ বাংলা সনে মেহার গ্রামের বিশিষ্ট দানবীর ও ধর্মানুরাগী ব্যক্তি জনাব আলহাজ্ব নজর মামুদ মসজিদটি নির্মাণ করেন। মসজিদের গায়ের শিলালিপি অনুযায়ী। মসজিদটির নাম দেন মেহার নজর মামুদ হাজী বাড়ি জামে মসজিদ।[৬][৭][৮][৯]

ইতিহাস[সম্পাদনা]

এলাকার বয়োজ্যেষ্ঠ লোকজন ও হাজী সাহেবের নাতিদের সাথে কথা বলে জানা গেছে ব্রিটিশ আমলে ত্রীপুরার রাজা বীর বিক্রম মাণিক্যর শাসনকালে চান্দিনার মহিচাইল গ্রামের জমিদার বাবু ভৈরব চন্দ্র সিংহের জমিদারিত্ব কালে জমিদারের অনুমতিক্রমে এলাকার মুসলমাদের নামাজ পড়ার সুবিধার্থে হাজী সাহেব ১০শতক জায়গার ওপর মসজিদটি নির্মাণ করেন।তখন জমিদার হাতী চড়ে এসে মসজিদের নির্মাণ কাজের শুভ উদ্ভোধন করেন।[১০]

বিবরণ[সম্পাদনা]

মসজিদটি আয়তন ৪০ফুট দৈর্ঘ্য ২০ ফুট প্রস্থ। ৩৫ফুট উঁচু। উচ্চতার চাঁদের ওপর নির্মিত হয়েছে ভিতরের অংশ খোলা তিনটি বড় আকারের গুম্বজ। মুসুল্লিদের মসজিদের ভিতরে প্রবেশ করার জন্য পূর্বদিকে তিনটি দরজা।আর দক্ষিণ ও উত্তর দিকে রয়েছে দুটি জানালা। মসজিদের মুসল্লিদের ওযু ও গোসলের জন্য দক্ষিণ পাশে ১২০ শতক জায়গার খনন করা হয়েছে একটি পুকুর। যাতে রয়েছে পাকা শানবাঁধানো ঘাট।রমজান মাসের কদরের রাত্রিতে মুসল্লিের খাওয়ানোর জন্য এবং মসজিদের ইমাম ও ময়াজিনের খরচ ভার বহন করার জন্য মসজিদের নামে হাজী সাহেব ২৬৪ শতাংশ জায়গা মসজিদের নামে ওয়াকফ করে দিয়ে যান। ঐ সময়ে হাজী সাহেবে পায়ে হেটে মক্কা শরীফ গিয়ে হজ্ব করেন। মসজিদটি চুন ও শুরকি দ্বারা নির্মাণ করা হয়েছে। প্রতিটি দেয়ালের পুরুত্ব ৩-৪ ফুট। যার কারণে শীতকালে গরম আর গরমকালে ভীতরে ঠাণ্ডা অনুভব হয়।মসজিদের সামনে রয়েছ ধর্মীয় আলোচনার জন্য খোলা জায়গা। বর্তমানে মসজিদটি তে মুসল্লিদের স্থান সংকুলান না হওয়ায় সামনের খোলা জায়গাটি হাজী সাহেবের নাতিরা মসজিদের সাথে সংযুক্ত করে সম্প্রসারণ করেন।

নকশা ও কারুকাজ[সম্পাদনা]

মসজিদটির চার দেয়ালের মধ্যে সামনের দেয়ালটির পুরোটি চিনা মাটির প্লেট ভাঙ্গা দ্বারা অতি সুণিপূণ হাতে বিভিন্ন ডিজাইনে কারুকাজ করা। ভিতরের মিম্বরটিতে রয়েছে মনোরম কারুকাজ। যা একবার কেউ দেখলে তার মন ভরে যায়।

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. থেকে, মুন্সী কামাল আতাতুর্ক মিসেল, চান্দিনা (কুমিল্লা)। "চান্দিনায় তিন গম্বুজ মসজিদ"DailyInqilabOnline। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০৯-২৭ 
  2. ajker-comilla.com। "চান্দিনায় কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ঐতিহ্যবাহী তিন গম্বুজ মসজিদ | Ajker Comilla"। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০৯-২৭ 
  3. বাংলাদেশ, আজকের (২০১৯-০৩-১৫)। "কুমিল্লার চান্দিনার সেই ঐতিহ্যবাহী জামে মসজিদ | Ajker Bangladesh" (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০৯-২৭ 
  4. laray, Muktir। "কালের সাক্ষী ব্রিটিশ আমলে নির্মিত কুমিল্লার চান্দিনার ঐতিহ্যবাহী তিন গুম্বজ মসজিদ। | মুক্তির লড়াই" (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০৯-২৭ [স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  5. "চান্দিনা উপজেলা" |ইউআরএল= এর মান পরীক্ষা করুন (সাহায্য)http (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-১০-২৩ [স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  6. "প্রাচীন শিল্পকর্মের স্থাপত্য নিদর্শন চান্দিনার ঐতিহ্যবাহী তিন গুম্বজ মসজিদ"amarnewsbd (ইংরেজি ভাষায়)। ২০১৯-০৯-২৬। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০৯-২৭ 
  7. line 146
    ,
    Notice: Undefined variable: sAuthor in /var/www/etv_docs/public_html/details php on। "কালের সাক্ষী কুমিল্লার 'তিন গম্বুজ' মসজিদ"Ekushey TV (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০২-২৮
     
  8. "কালের সাক্ষী চান্দিনার ঐতিহ্যবাহী তিন গম্বুজ মসজিদ"মুক্তকন্ঠ২৪.কম (ইংরেজি ভাষায়)। ২০২০-০১-৩১। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০২-২৮ 
  9. Hossain, Amir। "কালের সাক্ষী কুমিল্লার তিন গম্বুজ মসজিদ | বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)" (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০২-০৮ 
  10. চান্দিনায় তিন গম্বুজ মসজিদ